قُلۡ هَلُمَّ شُهَدَآءَكُمُ ٱلَّذِينَ يَشۡهَدُونَ أَنَّ ٱللَّهَ حَرَّمَ هَٰذَاۖ فَإِن شَهِدُواْ فَلَا تَشۡهَدۡ مَعَهُمۡۚ وَلَا تَتَّبِعۡ أَهۡوَآءَ ٱلَّذِينَ كَذَّبُواْ بِـَٔايَٰتِنَا وَٱلَّذِينَ لَا يُؤۡمِنُونَ بِٱلۡأٓخِرَةِ وَهُم بِرَبِّهِمۡ يَعۡدِلُونَ

কুল হালুম্মা শুহাদাআ কুমুলাযীনা ইয়াশহাদূ না আন্নাল্লা-হা হাররমা হা-যা- ফাইন শাহিদূফালা-তাশহাদ মা‘আহুম ওয়ালা-তাত্তাবি‘ আহওয়াআল্লাযীনা কাযযাবূবিআয়া-তিনা-ওয়াল্লাযীনা লা-ইউ’মিনূনা বিলআ-খিরতি ওয়াহুম বিরব্বিহিম ইয়া‘দিলূন।উচ্চারণ

এদেরকে বলে দাও, “আনো তোমাদের সাক্ষী, যে এ সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহই এ জিনিসগুলো হারাম করেছেন।” তারপর যদি তারা সাক্ষ্য দিয়ে দেয় তাহলে তুমি তাদের সাথে সাক্ষ্য দিয়ো না ১২৬ এবং যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলেছে, যারা আখেরাত অস্বীকারকারী এবং অন্যদেরকে নিজেদের রবের সমকক্ষ দাঁড় করায় কখ্‌খনো তাদের খেয়াল খুশী অনুযায়ী চলো না। তাফহীমুল কুরআন

(তাদেরকে) বল, তোমরা তোমাদের সেই সকল সাক্ষীকে উপস্থিত কর, যারা সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ এসব হারাম করেছেন। যদি তারা সাক্ষ্য দেয়ও, তবুও তুমি তাদের সঙ্গে সাক্ষ্য দিয়ো না। আর তুমি সেই সকল লোকের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করো না, যারা আমার আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান করেছে, যারা আখিরাতের উপর ঈমান রাখে না এবং যারা (অন্যদেরকে) তাদের প্রতিপালকের সমকক্ষ গণ্য করে।মুফতী তাকী উসমানী

তুমি আরও বলঃ আল্লাহ এসব পশু হারাম করেছেন, এর সাক্ষ্য যারা দিবে সেই সাক্ষীদেরকে তোমরা নিয়ে এসো। তারা যদি সাক্ষ্য দেয় তাহলে তুমি তাদের সাথে সাক্ষ্য দিবেনা, তুমি এমন লোকদের খেয়াল খুশির (বাতিল ধ্যান ধারণার) অনুসরণ করনা যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে, পরকালের প্রতি ঈমান আনেনা এবং তারা অন্যান্যদেরকে নিজেদের রবের সমমর্যাদা দান করে।মুজিবুর রহমান

আপনি বলুনঃ তোমাদের সাক্ষীদেরকে আন, যারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ তা’আলা এগুলো হারাম করেছেন। যদি তারা সাক্ষ্য দেয়, তবে আপনি এ সাক্ষ্য গ্রহণ করবেন না এবং তাদের কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করবেন না, যারা আমার নির্দেশাবলীকে মিথ্যা বলে, যারা পরকালে বিশ্বাস করে না এবং যারা স্বীয় প্রতিপালকের সমতুল্য অংশীদার করে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

বল, ‘আল্লাহ্ যে এটা নিষিদ্ধ করেছেন এ সম্বন্ধে যারা সাক্ষ্য দিবে তাদেরকে হাযির কর।’ তারা সাক্ষ্য দিলেও তুমি তাদের সঙ্গে এটা স্বীকার কর না। যারা আমার আয়াতসমূহকে প্রত্যাখ্যান করেছে, যারা পরকালে বিশ্বাস করে না আর তাদের প্রতিপালকের সমকক্ষ দাঁড় করায়, তুমি তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ কর না।ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বল, ‘তোমাদের সাক্ষীদেরকে নিয়ে আস, যারা সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ এটি হারাম করেছেন’। অতএব যদি তারা সাক্ষ্য দেয়, তবে তুমি তাদের সাথে সাক্ষ্য দিয়ো না। আর তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না, যারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে, যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না এবং যারা তাদের রবের সমকক্ষ নির্ধারণ করে।আল-বায়ান

বল, আল্লাহ যে এটা হারাম করেছেন সে ব্যাপারে যারা সাক্ষ্য দেবে তাদেরকে হাজির কর। তারা সাক্ষ্য দিলেও তুমি তাদের সাথে সাক্ষ্য দিও না। যারা আমার আয়াতগুলোকে অমান্য করে, আর যারা আখেরাতে বিশ্বাস করে না আর তাদের প্রতিপালকের সমকক্ষ দাঁড় করায় তুমি কক্ষনো তাদের খেয়ালখুশির অনুসরণ করো না।তাইসিরুল

বলো -- "হাজির করো তোমাদের সাক্ষীদের যারা সাক্ষ্য দিতে পারে যে আল্লাহ্ এ নিষেধ করেছেন।" অতএব যদি তারা সাক্ষ্য দেয় তবে তুমি তাদের সঙ্গে সাক্ষ্য দিতে যেও না, আর তাদের খেয়ালখুশির অনুসরণ করো না যারা আমাদের নির্দেশাবলী প্রত্যাখ্যান করেছে, আর যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, আর তারাই তাদের প্রতিপালকের প্রতি সমকক্ষ ঠাওরায়।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১২৬

অর্থাৎ যদি তারা সাক্ষ্য দানের দায়িত্ব অনুধাবন করে এবং যে বিষয়ের জ্ঞান মানুষের আছে সে বিষয়ের সাক্ষ্যই তার দেয়া উচিত, এ সম্পর্কে অবহিত থাকে, তাহলে তাদের সমাজে পানাহারের ওপর বিধি-নিষেধের যে মনগড়া নিয়ম রীতি প্রচলিত রয়েছে, অমুক জিনিসটি অমুক ব্যক্তি খেতে পারবে না এবং অমুক জিনিসটি অমুক ব্যক্তি স্পর্শ করতে পারবে না, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা যে আল্লাহ কর্তৃক আরোপিত হয়েছে, সেরূপ সাক্ষ্য দেবার সাহসই কখনো তারা করবে না। কিন্তু যদি তারা সাক্ষ্য দানের দায়িত্ব অনুধাবন না করেই আল্লাহর নামে মিথ্যা সাক্ষ্য দেবার মতো নির্লজ্জতার পরিচয় দিতে ইতস্তত না করে, তাহলে তাদের এ মিথ্যাচারে তুমি তাদের সহযোগী হয়ো না। কারণ তাদের কাছ থেকে এ সাক্ষ্য এজন্য চাওয়া হচ্ছে না যে, তারা যদি এ সাক্ষ্য দিয়ে দেয় তাহলে তুমি তাদের কথা মেনে নেবে। বরং এর উদ্দেশ্য হচ্ছে, তাদের মধ্য থেকে যাদের মধ্যে কিছু মাত্র সত্যনিষ্ঠা আছে তাদেরকে যখন জিজ্ঞেস করা হবে, সত্যই কি এ নিয়ম-কানুন ও বিধি-নিষেধগুলো আল্লাহ নির্ধারিত কিনা এবং তোমরা কি যথার্থ ঈমানদারীর সাথে এর সত্যতার সাক্ষ্য দিতে পারো? তখন তারা নিজেদের এ নিয়ম-রীতিগুলোর স্বরূপ সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করবে এবং যখন এগুলোর আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত হবার কোন প্রমাণই পাবে না তখন তারা এ অর্থহীন রীতি-নীতি ও নিয়ম-কানুনগুলোর আনুগত্য পরিহার করবে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

১৫০. বলুন, আল্লাহ যে এটা নিষিদ্ধ করেছেন এ সম্বন্ধে যারা সাক্ষ্য দেবে তাদেরকে হাযির কর। তারা সাক্ষ্য দিলেও আপনি তাদের সাথে সাক্ষ্য দিবেন না। আর আপনি তাদের খেয়াল খুশির অনুসরণ করবেন না, যারা আমাদের আয়াতসমূহে মিথ্যারোপ করে এবং যারা আখেরাতে ঈমান রাখে না। আর তারাই তাদের রব এর সমকক্ষ দাঁড় করায়।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১৫০) বল, ‘তোমরা তোমাদের সাক্ষীদেরকে হাজির কর যারা সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ এ নিষিদ্ধ করেছেন।’(1) অতঃপর তারা সাক্ষ্য দিলেও তুমি তাদের সাথে সাক্ষ্য দিও না।(2) যারা আমার আয়াত (বাক্যাবলী)কে মিথ্যা মনে করেছে, যারা পরকালে বিশ্বাস করে না এবং প্রতিপালকের সমকক্ষ দাঁড় করায়, তুমি তাদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করো না।(3)

(1) অর্থাৎ, যে পশুগুলোকে মুশরিকরা হারাম করে নিয়েছিল।

(2) কারণ, তাদের কাছে মিথ্যা এবং মিথ্যা অপবাদ ছাড়া আর কিছুই নেই।

(3) অর্থাৎ, তাঁর সমতুল্য নির্ধারণ করে শিরক করে।