قُلۡ فَلِلَّهِ ٱلۡحُجَّةُ ٱلۡبَٰلِغَةُۖ فَلَوۡ شَآءَ لَهَدَىٰكُمۡ أَجۡمَعِينَ

কুল ফালিল্লা-হিল হুজ্জাতুল বা-লিগাতু ফালাও শাআ লাহাদা-কুম আজমা‘ঈন।উচ্চারণ

তাহলে বলো, (তোমাদের এ যুক্তির মোকাবিলায়) প্রকৃত সত্যে উপনীত অকাট্য যুক্তি তো আল্লাহর কাছে আছে। অবশ্যি যদি আল্লাহ‌ চাইতেন তাহলে তোমাদের সবাইকে সঠিক পথ দেখাতেন। ১২৫ তাফহীমুল কুরআন

(হে নবী! তাদেরকে) বল, চূড়ান্ত প্রমাণ তো আল্লাহরই আছে, সুতরাং তিনি চাইলে তোমাদের সকলকে (জোরপূর্বক) হিদায়াতের উপর নিয়ে আসতেন। #%৯১%#মুফতী তাকী উসমানী

তুমি বলে দাওঃ সত্য ভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ দলীল প্রমাণতো একমাত্র আল্লাহরই রয়েছে, তিনি চাইলে তোমাদের সবাইকে হিদায়াত দান করতেন।মুজিবুর রহমান

আপনি বলে দিনঃ অতএব, পরিপূর্ন যুক্তি আল্লাহরই। তিনি ইচ্ছা করলে তোমাদের সবাইকে পথ প্রদর্শন করতেন।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

বল, ‘চূড়ান্ত প্রমাণ তো আল্লাহ্ র ই; তিনি যদি ইচ্ছা করতেন তবে তোমাদের সকলকে অবশ্যই সৎপথে পরিচালিত করতেন।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বল, ‘চূড়ান্ত প্রমাণ আল্লাহরই। সুতরাং যদি তিনি চান, অবশ্যই তোমাদের সবাইকে হিদায়াত দেবেন।’আল-বায়ান

চূড়ান্ত সত্য-নির্ভর প্রমাণ তো আল্লাহর কাছে আছে, আল্লাহ যদি চাইতেন তাহলে তিনি অবশ্যই তোমাদের সকলকে সত্যপথে পরিচালিত করতেন।তাইসিরুল

বলো -- "তবে চূড়ান্ত যুক্তি-তর্ক আল্লাহ্‌রই, কাজেই তিনি যদি ইচ্ছা করতেন তবে তোমাদের সবাইকে তিনি সৎপথে পরিচালিত করতেন।"মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১২৫

এটি তাদের ওজুহাতের পূর্ণাংগ জওয়াব। এ জওয়াবটি বুঝার জন্য এর যথার্থ বিশ্লেষণ করতে হবেঃ

এখানে প্রথম কথা বলা হয়েছে, নিজেদের অন্যায় কাজ ও গোমরাহীর জন্য আল্লাহর ইচ্ছাকে ওযর হিসেবে পেশ করা এবং এর বাহানা বানিয়ে সঠিক হেদায়াত ও পথনির্দেশ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানানো অপরাধীদের প্রাচীন রীতি হিসেবে চলে আসছে। এর পরিণামে দেখা গেছে অবশেষে তারা ধ্বংস হয়ে গেছে এবং সত্যের বিরুদ্ধে চলার অশুভ পরিণাম তারা স্বচক্ষে দেখে নিয়েছে। তারপর বলা হয়েছে, তোমরা যে ওযরটি পেশ করছো তার পেছনে প্রকৃত জ্ঞানগত ও তথ্যগত কোন ভিত্তি নেই। বরং আন্দাজ-অনুমানের ভিত্তিতে তোমরা এটি পেশ করছো। তোমরা নিছক কোথাও আল্লাহর ইচ্ছার কথা শুনতে পেয়েছো তারপর তার ওপর অনুমানের একটি বিরাট ইমারত দাঁড় করিয়ে দিয়েছো। মানুষের ব্যাপারে আল্লাহর ইচ্ছা কি, একথা বুঝার চেষ্টাই তোমরা করোনি। তোমরা আল্লাহর ইচ্ছা বলতে মনে করছো, চোর যদি আল্লাহর ইচ্ছার অধীনে চুরি করে তাহলে সে অপরাধী নয়। কারণ সে তো আল্লাহর ইচ্ছার আওতাধীনে চুরি করেছে। অথচ মানুষের ব্যাপারে আল্লাহর ইচ্ছা হচ্ছে এই যে, সে কৃতজ্ঞতা ও কুফরী, হেদায়াত ও গোমরাহী এবং আনুগত্য ও অবাধ্যতার মধ্য থেকে যে পথটিই নিজের জন্য নির্বাচিত করবে, আল্লাহ‌ তার জন্য সে পথটিই উন্মুক্ত করে দেবেন। তারপর মানুষ ন্যায়-অন্যায় ও ভুল-নির্ভুল যে কাজটিই করতে চাইবে, আল্লাহর নিজের বিশ্বব্যাপী কার্যক্রমের দৃষ্টিতে যতটুকু সঙ্গত মনে করবেন তাকে সে কাজটি করার অনুমতি ও সুযোগ দান করবেন। কাজেই তোমরা ও তোমাদের বাপ-দাদারা আল্লাহর ইচ্ছার আওতাধীনে যদি শিরক ও পবিত্র জিনিসগুলোকে হারাম গণ্য করার সুযোগ লাভ করে থাকো তাহলে এর অর্থ কখনোই এ নয় যে, তোমরা নিজেদের এসব কাজের জন্য দায়ী নও এবং এর জন্য তোমাদের জওয়াবদিহি করতে হবে না। তোমরা নিজেরাই নিজেদের ভুল পথ নির্বাচন, ভুল সংকল্প গ্রহণ ও ভুল প্রচেষ্টার জন্য দায়ী।

সবশেষে একটি বাক্যের মধ্যে আসল কথাটি বলে দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ বলা হয়েছেঃ

فَلِلَّهِ الْحُجَّةُ الْبَالِغَةُ فَلَوْ شَاءَ لَهَدَاكُمْ أَجْمَعِينَ

নিজেদের ওযর পেশ করতে গিয়ে তোমরা এ মর্মে যে যুক্তিটির অবতারণা করেছো যে, “আল্লাহ চাইলে আমরা শির্‌ক করতাম না।” এর মাধ্যমে সম্পূর্ণ কথাটি ব্যক্ত হয়নি। সম্পূর্ণ কথাটি বলতে হলে এভাবে বলোঃ “আল্লাহ চাইলে তোমাদের সবাইকে হেদায়াত দান করতেন।” অন্য কথায় তোমরা নিজেরা নিজেদের নির্বাচনের মাধ্যমে সঠিক পথ গ্রহণ করতে প্রস্তুত নও। বরং তোমরা চাও, আল্লাহ‌ যেভাবে ফেরেশতাদেরকে জন্মগতভাবে সত্যানুসারী বানিয়েছেন সেভাবে তোমাদেরকেও বানাতেন। মানুষের ব্যাপারে আল্লাহ‌ এ ইচ্ছা করলে অবশ্যি করতে পারতেন। কিন্তু এটি তাঁর ইচ্ছা নয়। কাজেই নিজেদের জন্য তোমরা নিজেরাই যে গোমরাহীটি পছন্দ করে নিয়েছো আল্লাহ‌ তার মধ্যেই তোমাদের ফেলে রাখবেন।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

অর্থাৎ তোমরা তো কাল্পনিক প্রমাণ পেশ করছ, কিন্তু আল্লাহ তাআলা নবী-রাসূলগণের মাধ্যমে নিজ প্রমাণ চূড়ান্ত করে দিয়েছেন এবং তাঁদের বর্ণিত সে সকল প্রমাণ এমনই বস্তুনিষ্ট, যা হৃদয় পর্যন্ত পৌঁছে যায়। যারা তা প্রত্যাখ্যান করেছে তারা আল্লাহ তাআলার আযাবে নিপতিত হয়েছে। এটা সে সকল প্রমাণের সত্যতারই সাক্ষ্য বহন করে। সুতরাং আল্লাহ তাআলা চাইলে সকলকে জোরপূর্বক হিদায়াত দিতে পারতেন নিশ্চয়ই, কিন্তু তাতে নবীগণআনীত অনস্বীকার্য প্রমাণসমূহকে গ্রহণ করে নিয়ে স্বেচ্ছায় ঈমান আনার যে দায়িত্ব তোমাদের উপর রয়েছে, তা আদায় হত না।

তাফসীরে জাকারিয়া

১৪৯. বলুন, চূড়ান্ত প্রমাণ তো আল্লাহরই(১); সুতরাং তিনি যদি ইচ্ছে করতেন, তবে তোমাদের সবাইকে অবশ্যই হিদায়াত দিতেন।

(১) অর্থাৎ আল্লাহর কাছেই চুড়ান্ত প্রমাণাদি। তাঁর প্রমাণাদি দ্বারা তিনি তোমাদের যাবতীয় ধারণা ও অনুমানের মুলোৎপাটন করতে পারেন। (মুয়াস্‌সার)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১৪৯) বল, ‘চূড়ান্ত প্রমাণ তো আল্লাহরই। তিনি যদি ইচ্ছা করতেন, তাহলে তোমাদের সকলকে সৎপথে পরিচালিত করতেন।’