ذَٰلِكَ أَن لَّمۡ يَكُن رَّبُّكَ مُهۡلِكَ ٱلۡقُرَىٰ بِظُلۡمٖ وَأَهۡلُهَا غَٰفِلُونَ

যা-লিকা আল লাম ইয়াকুররব্বুকা মুহলিকাল কুর-বিজু লমিওঁ ওয়া আহ লুহা-গা-ফিলূন।উচ্চারণ

(একথা প্রমাণ করার জন্য তাদের কাছ থেকে এ সাক্ষ্য নেয়া হবে যে,) তোমাদের রব জনপদগুলোকে জুলুম সহকারে ধ্বংস করতেন না যখন সেখানকার অধিবাসীরা প্রকৃত সত্য অবগত নয়। ১০০ তাফহীমুল কুরআন

এটা (অর্থাৎ নবী প্রেরণের ধারা) ছিল এজন্য যে, কোনও জনপদকে সীমালংঘনের কারণে এ অবস্থায় ধ্বংস করা তোমার প্রতিপালকের পছন্দ ছিল না যে, তার অধিবাসীগণ অনবহিত থাকবে। #%৭১%#মুফতী তাকী উসমানী

এই রাসূল প্রেরণ এ জন্য যে, তোমার রাব্ব কোন জনপদকে উহার অধিবাসীরা সত্য সম্পর্কে অজ্ঞাত থাকা অবস্থায় অন্যায়ভাবে ধ্বংস করেন না।মুজিবুর রহমান

এটা এ জন্যে যে, আপনার প্রতিপালক কোন জনপদের অধিবাসীদেরকে জুলুমের কারণে ধ্বংস করেন না এমতাবস্থায় যে, তথাকার অধিবাসীরা অজ্ঞ থাকে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এটা একারণে যে, অধিবাসীবৃন্দ যখন অনবহিত, তখন কোন জনপদকে তার অন্যায় আচরণের জন্যে ধ্বংস করা তোমার প্রতিপালকের কাজ নয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তা এই কারণে যে, তোমার রব যুলমের কারণে জনপদসমূহকে ধ্বংস করেন না তার অধিবাসীরা গাফিল থাকা অবস্থায় ।আল-বায়ান

এটা এজন্য যে আল্লাহ কোন জনপদকে ধ্বংস করেন না অন্যায়ভাবে এবং (সত্যপথ কোনটি আর ভুলপথ কোনটি সে সম্পর্কে) যখন তারা থাকে অনবহিত।তাইসিরুল

এটি এজন্য যে কোনো জনপদকে অন্যায়ভাবে ধ্বংস করা তোমার প্রভুর কাজ নয়, যখন তাদের বাসিন্দারা অজ্ঞ থাকে।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১০০

অর্থাৎ আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে তাঁর মোকাবিলায় এ মর্মে প্রতিবাদ জানাবার সুযোগ দিতে চান না যে, আপনি প্রকৃত সত্য সম্পর্কে আমাদের অবগত করেননি এবং আমাদের সঠিক পথ জানাবার কোন ব্যবস্থাও করেননি। ফলে অজ্ঞতাবশত আমরা যখন ভুল পথে চলতে শুরু করেছি অমনি আমাদের পাকড়াও করতে শুরু করেছেন। এ যুক্তি প্রদর্শনের পথ রোধ করার জন্য আল্লাহ নবী পাঠিয়েছেন, কিতাব নাযিল করেছেন। এভাবে জিন ও মানব জাতিকে সত্যপথ সম্পর্কে সুস্পষ্টভাবে অবগত করেছেন। এরপর লোকেরা ভুল পথে চললে এবং আল্লাহ তাদেরকে শাস্তি দিলে এর যাবতীয় দায়-দায়িত্ব তাদের ওপর বর্তায়, আল্লাহর ওপর নয়।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

এর দুই অর্থ হতে পারে (এক) জনপদবাসীদেরকে কোনও সীমালংঘনের কারণে ততক্ষণ পর্যন্ত ধ্বংস করা আল্লাহ তাআলার পছন্দ ছিল না, যতক্ষণ না নবীগণের মাধ্যমে তাদেরকে সতর্ক করা হয়। (দুই) আল্লাহ তাআলা মানুষকে সতর্ক না করেই ধ্বংস করার মত বাড়াবাড়ি করতে পারেন না।

তাফসীরে জাকারিয়া

১৩১. এটা এ জন্যে যে, অধিবাসীরা যখন গাফেল থাকে, তখন জনপদসমূহের অন্যায় আচরনের জন্য তাকে ধ্বংস করা আপনার রব-এর কাজ নয়।(১)

(১) এ আয়াতে বলা হয়েছে যে, রাসূল প্রেরণ করা আল্লাহ্ তা'আলার ন্যায়বিচার ও অনুগ্রহের প্রতীক। তিনি কোন জাতির প্রতি এমনিতেই শাস্তি প্রেরণ করেন না, যে পর্যন্ত না তাদেরকে পূর্বাহ্নে নবীদের মাধ্যমে জাগ্রত করা হয় এবং হিদায়াতের আলো প্রেরণ করা হয়। যতক্ষণ পর্যন্ত তাদেরকে আদেশ-নিষেধ প্রদান না করবে। তাদেরকে আদেশ না মানার পরিণতি ও নিষেধে পতিত হওয়ার ভয়াবহতা সম্পর্কে জাগ্রত না করা হয়। যুলমের শাস্তি সম্পর্কে তাদেরকে সাবধান না করা হয়। (ইবন কাসীর; আইসারুত তাফসীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১৩১) এটি এ কারণে যে, অধিবাসিবৃন্দ (দ্বীন সম্বন্ধে) উদাসীন থাকা অবস্থায় কোন জনপদকে ওর অন্যায় আচরণের জন্য ধ্বংস করা তোমার প্রতিপালকের কাজ নয়। (1)

(1) অর্থাৎ, রসূলদের মাধ্যমে যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের উপর তাঁর হুজ্জত কায়েম না করেন, ততক্ষণ পর্যন্ত তাদেরকে ধ্বংস করেন না। এই কথাটাই সূরা ফাত্বির ২৪নং, নাহল ২৬নং, বানী-ইসরাঈল ১৫নং এবং মুল্ক ৮-৯নং ইত্যাদি আয়াতে বর্ণনা করা হয়েছে।