وَوَهَبۡنَا لَهُۥٓ إِسۡحَٰقَ وَيَعۡقُوبَۚ كُلًّا هَدَيۡنَاۚ وَنُوحًا هَدَيۡنَا مِن قَبۡلُۖ وَمِن ذُرِّيَّتِهِۦ دَاوُۥدَ وَسُلَيۡمَٰنَ وَأَيُّوبَ وَيُوسُفَ وَمُوسَىٰ وَهَٰرُونَۚ وَكَذَٰلِكَ نَجۡزِي ٱلۡمُحۡسِنِينَ

ওয়া ওয়াহাবনা-লাহূ ইছহাকা ওয়া ইয়া‘কূবা কুল্লান হাদাইনা- ওয়া নূহান হাদাইনা-মিন কাবলুওয়া মিন যুররিইইয়াতিহী দা-ঊদা ওয়া ছুলাইমা-না ওয়া আইয়ূবা ওয়া ইঊছুফা ওয়া মূছা-ওয়া হা-রূনা ওয়া কাযা-লিকা নাজঝিল মুহছিনীন।উচ্চারণ

তারপর আমি ইবরাহীমকে ইসহাক ও ইয়াকূবের মতো সন্তান দিয়েছি এবং সবাইকে সত্য পথ দেখিয়েছি, (সে সত্য পথ যা) ইতিপূর্বে নূহকে দেখিয়েছিলাম। আর তাঁরই বংশধরদের থেকে দাউদ, সুলাইমান, আইউব, ইউসুফ, মূসা ও হারুণকে (হেদায়াত দান করেছি) । এভাবেই আমি সৎকর্মশীলদেরকে তাদের সৎকাজের বদলা দিয়ে থাকি। তাফহীমুল কুরআন

আমি ইবরাহীমকে দান করেছিলাম ইসহাক (-এর মত পুত্র) ও ইয়াকুব (-এর মত পৌত্র)। তাদের প্রত্যেককে আমি হিদায়াত দান করেছিলাম। আর নূহকে আমি আগেই হিদায়াত দিয়েছিলাম এবং তার বংশধরদের মধ্যে দাঊদ, সুলায়মান, আইউব, ইউসুফ, মূসা ও হারুনকেও। এভাবেই আমি সৎকর্মশীলদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি। মুফতী তাকী উসমানী

আমি তাকে ইসহাক ও ইয়াকূবকে দান করেছি এবং উভয়কেই সঠিক পথের সন্ধান দিয়েছি, আর তার পূর্বে নূহকেও সঠিক পথের হিদায়াত দিয়েছি; আর তার (ইবরাহীমের) বংশের মধ্যে দাঊদ, সুলাইমান, আইউব, ইউসুফ, মূসা ও হারূনকে এমনিভাবেই সঠিক পথের সন্ধান দিয়েছি। এমনিভাবেই আমি সৎ ও পুণ্যশীল লোকদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি।মুজিবুর রহমান

আমি তাঁকে দান করেছি ইসহাক এবং এয়াকুব। প্রত্যেককেই আমি পথ প্রদর্শন করেছি এবং পূর্বে আমি নূহকে পথ প্রদর্শন করেছি-তাঁর সন্তানদের মধ্যে দাউদ, সোলায়মান, আইউব, ইউসুফ, মূসা ও হারুনকে। এমনিভাবে আমি সৎকর্মীদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আর আমি তাকে দান করেছিলাম ইসহাক ও ইয়া‘ক‚ব, এদের প্রত্যেককে সৎপথে পরিচালিত করেছিলাম; পূর্বে নূহ্কেও সৎপথে পরিচালিত করেছিলাম এবং তার বংশধর দাঊদ, সুলায়মান ও আইউব, ইউসুফ, মূসা ও হারূনকেও; আর এভাবেই সৎকর্মপরায়ণদের পুরস্কৃত করি; ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর আমি তাকে দান করেছি ইসহাক ও ইয়াকূবকে। প্রত্যেককে আমি হিদায়াত দিয়েছি এবং নূহকে পূর্বে হিদায়াত দিয়েছি। আর তার সন্তানদের মধ্য থেকে দাঊদ, সুলাইমান, আইয়ুব, ইউসুফ, মূসা ও হারূনকে। আর আমি এভাবেই সৎকর্মশীলদেরকে প্রতিদান দেই।আল-বায়ান

আমি তাকে দান করেছিলাম ইসহাক আর ইয়াকূব; তাদের প্রত্যেককে সৎ পথ দেখিয়েছিলাম, আর এর পূর্বে নূহকে সৎ পথ দেখিয়েছিলাম আর তার বংশধর থেকে দাঊদ, সুলাইমান, আইঊব, ইউসুফ, মূসা ও হারূনকে (সৎ পথ দেখিয়েছিলাম), সৎ কর্মশীলদের আমি এভাবেই পুরস্কৃত করে থাকি।তাইসিরুল

আর আমরা তাঁকে দিয়েছিলাম ইসহাক ও ইয়াকুব। প্রত্যেককে আমরা সৎপথ দেখিয়েছিলাম, আর নূহকে পথ দেখিয়েছিলাম এর আগে, আর তাঁর বংশধরদের মধ্য থেকে দাউদ ও সুলাইমান আর আইয়ূব ও ইউসুফ আর মূসা ও হারূন। আর এইভাবে আমরা পুরস্কার প্রদান করি সৎকর্মশীলদের।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

৮৪. আর আমরা তাকে দান করেছিলাম ইসহাক ও ইয়া’কূব, এদের প্রত্যেককে হিদায়াত দিয়েছিলাম; পূর্বে নূহকেও আমরা হিদায়াত দিয়েছিলাম এবং তাঁর বংশধর দাউদ, সুলাইমান, আইউব, ইউসুফ, মূসা ও হারূনকেও; আর এভাবেই মুহসিনদের পুরস্কৃত করি;

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৮৪) এবং তাকে দান করেছিলাম ইসহাক ও ইয়াকুব(1) এবং এদের প্রত্যেককে আমি সৎপথে পরিচালিত করেছিলাম। পূর্বে নূহকেও সৎপথে পরিচালিত করেছিলাম এবং তার বংশধর(2) দাঊদ, সুলাইমান, আইয়ুব, ইউসুফ, মূসা ও হারুনকেও। আর এভাবে সৎকর্মপরায়ণদেরকে আমি পুরস্কৃত করি।

(1) অর্থাৎ, বার্ধক্যে যখন তিনি সন্তান থেকে নিরাশ হয়ে গিয়েছিলেন। যেমন, সূরা হূদের ৭২-৭৩ নং আয়াতে আছে। অতঃপর পুত্রের সাথে সাথে এমন পৌত্র হওয়ারও সুসংবাদ দিলেন যিনি হবেন ইয়াকূবব (আঃ)। আর এর (ইয়াক্বূবের) অর্থে এ কথাও শামিল আছে যে, তাঁর পশ্চাতে তাঁর সন্তানদের ধারাবাহিকতা চলতে থাকবে। কারণ, এটা عَقَب (পশ্চাৎ) ধাতু থেকে গঠিত।

(2) ذُرِّيَّتِهِ তে (তার) সর্বনামের ‘মারজা’ (পূর্বপদ) কোন কোন মুফাসসির নূহ (আঃ)-কে গণ্য করেছেন। কারণ, এটাই নিকটতম বিশেষ্য। অর্থাৎ, নূহ (আঃ)-এর সন্তানদের মধ্যে দাউদ (আঃ) এবং সুলাইমান (আঃ)-কে। আবার কেউ কেউ (সর্বনামের পূর্ববিশেষ্য) ইবরাহীম (আঃ)-কে গণ্য করেছেন। কারণ, সমস্ত আলোচনাটাই হচ্ছে তাঁর সম্বন্ধে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে এই সমস্যা দেখা দেবে যে, (লক্ষ্য যদি ইবরাহীম (আঃ) হন) তাহলে ‘লূত (আঃ)’-এর নাম এই সূচীতে আসা উচিত ছিল না। কারণ, তিনি ইবরাহীম (আঃ)-এর সন্তানদের আওতায় পড়েন না। তিনি হলেন তাঁর (ইবরাহীম (আঃ)-এর) ভাই ‘হারান ইবনে আ-যার’এর ছেলে। অর্থাৎ, ইবরাহীম (আঃ)-এর ভাইপো। আর ইবরাহীম (আঃ) লূত (আঃ)-এর পিতা নন, বরং চাচা। তবে হয়তো অধিকাংশের দিকে লক্ষ্য করে তাঁকেও ইবরাহীম (আঃ)-এর বংশধর বা সন্তানদের মধ্যে গণ্য করে নেওয়া হয়েছে। এর আরো একটি দৃষ্টান্ত কুরআন মাজীদে আছে। যেখানে ইসমাঈল (আঃ)-কে ইয়াক্বূব (আঃ)-এর সন্তানদের পূর্বপুরুষ গণ্য করা হয়েছে। অথচ তিনি তাঁর চাচা ছিলেন। (দ্রষ্টব্যঃ সূরা বাক্বারা ১৩৩নং আয়াত)