ওয়া ক-লূলাওলা-নুঝঝিলা ‘আলাইহি আ-য়াতুম মির রব্বিহী কুল ইন্নাল্লা-হা কাদিরুন ‘আলাআইঁ ইউনাঝঝিলা আ-য়াতাওঁ ওয়ালা-কিন্না আকছারহুম লা-ইয়া‘লামূন।উচ্চারণ
তারা বলে, এ নবীর ওপর তাঁর রবের পক্ষ থেকে কোন নিদর্শন অবতীর্ণ হয়নি কেন? বলো, আল্লাহ নিদর্শন অবতীর্ণ করার পূর্ণ ক্ষমতা রাখেন কিন্তু তাদের অধিকাংশ লোক অজ্ঞতায় ডুবে আছে। ২৬ তাফহীমুল কুরআন
তারা বলে, (ইনি যদি নবী হন, তবে) তার প্রতি তার প্রতিপালকের পক্ষ হতে কোনও নিদর্শন অবতীর্ণ করা হল না কেন? তুমি (তাদেরকে) বল, নিশ্চয়ই আল্লাহ যে কোনও নিদর্শন অবতীর্ণ করতে সক্ষম, কিন্তু তাদের অধিকাংশ লোক (এর পরিণাম) জানে না। #%১৪%#মুফতী তাকী উসমানী
তারা বলেঃ রবের পক্ষ হতে তার প্রতি কোন নিদর্শন কেন অবতীর্ণ করা হলনা? তুমি বলে দাওঃ নিদর্শন অবতীর্ণ করায় আল্লাহ নিঃসন্দেহে পূর্ণ ক্ষমতাবান, কিন্তু অধিকাংশ লোকই তা জ্ঞাত নয়।মুজিবুর রহমান
তারা বলেঃ তার প্রতি তার পালনকর্তার পক্ষ থেকে কোন নিদর্শন অবতীর্ণ হয়নি কেন? বলে দিনঃ আল্লাহ নিদর্শন অবতরণ করতে পূর্ন সক্ষম; কিন্তু তাদের অধিকাংশই জানে না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
তারা বলে, ‘তার প্রতিপালকের নিকট হতে তার নিকট কোন নিদর্শন অবতীর্ণ হয় না কেন ?’ বল, ‘নিদর্শন নাযিল করতে আল্লাহ্ অবশ্যই সক্ষম,’ কিন্তু তাদের অধিকাংশই জানে না। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর তারা বলে, ‘কেন তার উপর তার রবের পক্ষ থেকে কোন নিদর্শন নাযিল করা হয়নি’? বল, ‘নিশ্চয় আল্লাহ যে কোন নিদর্শন নাযিল করতে সক্ষম। কিন্তু তাদের অধিকাংশ জানে না’।আল-বায়ান
তারা বলে, তার কাছে তার রবের নিকট হতে কোন নিদর্শন নাযিল হয় না কেন? বল, অবশ্যই আল্লাহ নিদর্শন অবতীর্ণ করতে সক্ষম। কিন্তু তাদের অধিকাংশ লোকই অবগত নয়।তাইসিরুল
আর তারা বলাবলি করে -- "কেন তাঁর কাছে তাঁর প্রভুর নিকট থেকে কোনো নিদর্শন অবতীর্ণ হয় না?" তুমি বলো -- "নিঃসন্দেহ আল্লাহ্ নিদর্শন অবতীর্ণ করতে সক্ষম, কিন্ত তাদের অধিকাংশই জানে না।"মাওলানা জহুরুল হক
২৬
নিদর্শন বলতে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য মু’জিযাকে বুঝানো হয়েছে। আল্লাহর এ ব্ক্তব্যের অর্থ হচ্ছে, মু’জিযা না দেখাবার কারণ এ নয় যে, আমি তা দেখাতে অক্ষম বরং এর কারণ অন্য কিছু। নিছক নিজেদের অজ্ঞতার কারণে তারা এটা বুঝতে পারছে না।
এ আয়াতে ফরমায়েশী মুজিযা না দেখানোর আরেকটি কারণের প্রতি ইশারা করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলার শাশ্বত নীতি হল, যখনই কোনও জাতিকে তাদের ইচ্ছানুরূপ মুজিযা দেখানো হয়েছে, তখন তাদেরকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে যে, এর পরও তারা যদি ঈমান না আনে তবে তাদেরকে এ দুনিয়া থেকে সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে। সুতরাং ভূপৃষ্ঠ হতে এভাবে বহু জাতি ধ্বংস হয়ে গেছে। আল্লাহ তাআলা জানেন, মক্কার অধিকাংশ কাফের হঠকারী স্বভাবের। ফরমায়েশী মুজিযা দেখার পরও তারা ঈমান আনবে না। ফলে আল্লাহ তাআলার রীতি অনুসারে তারা ধ্বংস হয়ে যাবে। কিন্তু ব্যাপক শাস্তি দ্বারা এখনই তাদেরকে ধ্বংস করে ফেলা আল্লাহ তাআলার ইচ্ছা নয়। এ কারণেই তিনি তাদেরকে তাদের ফরমায়েশী মুজিযা প্রদর্শন করেন না। যারা এরূপ মুজিযা দাবী করছে তারা এর পরিণাম জানে না। হাঁ যারা ঈমান আনবার, তারা এরূপ মুজিযা ছাড়াই অন্যান্য দলীল-প্রমাণ ও নিদর্শনাবলী দেখে স্বেচ্ছায় ঈমান আনবে।
৩৭. আর তারা বলে, তার রব-এর কাছ থেকে তার উপর কোন নিদর্শন আসে না কেন? বলুন, নিদর্শন নাযিল করতে আল্লাহ্ অবশ্যই সক্ষম, কিন্তু তাদের অধিকাংশই জানে না।(১)
(১) মুশরিকরা এমন কোন অলৌকিক নিদর্শন দেখতে চেয়েছিল, যা দেখার পর তারা ঈমান আনবে বলে ওয়াদা করছে। আল্লাহ্ তা'আলা এ আয়াতে এটাই ঘোষণা করছেন যে, তাদের চাহিদা মোতাবেক নিদর্শন দেখানো আল্লাহর পক্ষে অবশ্যই সম্ভব। কিন্তু তারা প্রকৃত অবস্থা জানে না। অন্য আয়াতে তারা কি জানে না সেটাও ব্যক্ত করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে যে, যদি তাদের কথামত নিদর্শন দেয়ার পর তারা ঈমান না আনে, তবে আল্লাহর শাস্তির পথে আর কোন বাধা থাকবে না। যেমনটি সালিহ আলাইহিস সালামের জাতির বেলায় ঘটেছিল। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন, “আর পূর্ববর্তিগণের নিদর্শন অস্বীকার করাই আমাদেরকে নিদর্শন পাঠানো থেকে বিরত রাখে।
আমরা শিক্ষাপ্রদ নিদর্শনস্বরূপ সামূদ জাতিকে উট দিয়েছিলাম, তারপর তারা এর প্রতি যুলুম করেছিল। আমরা শুধু ভয় দেখানোর জন্যই নিদর্শন পাঠিয়ে থাকি।” (সূরা আল-ইসরা: ৫৯) অন্য আয়াতে এটাও বলা হয়েছে যে, কুরআন নাযিল করার পর আর কোন নিদর্শনের প্রয়োজন নেই বিধায় তিনি তা নাযিল করেন না। “এটা কি তাদের জন্য যথেষ্ট নয় যে, আমরা আপনার প্রতি কুরআন নাযিল করেছি, যা তাদের কাছে পাঠ করা হয়। এতে অবশ্যই অনুগ্রহ ও উপদেশ রয়েছে সে সম্প্রদায়ের জন্য, যারা ঈমান আনে।” (সূরা আল-আনকাবুত: ৫১) সুতরাং এর দ্বারা বোঝা যাচ্ছে যে, কুরআনই হচ্ছে সবচেয়ে বড় মু'জিযা বা নিদর্শন। (আদওয়াউল বায়ান)
(৩৭) তারা বলে, ‘তার প্রতিপালকের নিকট হতে তার নিকটে কোন নিদর্শন অবতীর্ণ করা হয় না কেন?’ বল, ‘নিদর্শন অবতীর্ণ করতে আল্লাহ সক্ষম।(1) কিন্তু তাদের অধিকাংশই অজ্ঞ।’ (2)
(1) অর্থাৎ, এমন মু’জিযা যা তাদেরকে ঈমান আনতে বাধ্য করবে। যেমন, তাদের চোখের সামনে ফিরিশতার অবতরণ অথবা পাহাড়কে তাদের মাথার উপর তুলে ধরা; যেভাবে বানী-ইস্রাঈলদের উপর ধরা হয়েছিল। বললেন, মহান আল্লাহ তো অবশ্যই এ রকম করতে পারেন, কিন্তু তা এই জন্য করেন না যে, এ রকম করলে মানুষদের পরীক্ষার বিষয়টা শেষ হয়ে যায়। তাছাড়া তাদের দাবী অনুপাতে যদি কোন মু’জিযা দেখিয়ে দেওয়া যায়, আর তারপরও যদি তারা ঈমান না আনে, তাহলে এই দুনিয়াতেই তাদেরকে অতি সত্বর কঠিন শাস্তি দেওয়া হত। এইভাবে আল্লাহর এই হিকমতেও রয়েছে তাদের পার্থিব লাভ।
(2) যারা আল্লাহর নির্দেশ ও ইচ্ছার পূর্ণ হিকমত (যৌক্তিকতা)-কে অনুধাবন করতে পারে না।