ইযক-লাল হাওয়া-রিইয়ূনা ইয়া-‘ঈছাবনা মারইয়ামা হাল ইয়াছতাতী‘উ রব্বুকা আইঁ ইউনাঝঝিলা ‘আলাইনা-মাইদাতাম মিনাছছামাই ক-লাত তাকুল্লা-হা ইন কুনতুম মু’মিনীন।উচ্চারণ
- (হাওয়ারীদের ১২৮ প্রসঙ্গে) এ ঘটনাটিও যেন মনে থাকে, যখন হাওয়ারীরা বলেছিল, হে মারয়াম পুত্র ঈসা! আপনার রব কি আমাদের জন্য আকাশ থেকে একটি খাবার পরিপূর্ণ খাঞ্চা নাযিল করতে পারেন? ঈসা বলেছিল, আল্লাহকে ভয় করো, যদি তোমরা মু’মিন হয়ে থাকো। তাফহীমুল কুরআন
(এবং তাদের এ ঘটনার বর্ণনাও শোন যে,) যখন হাওয়ারীগণ বলেছিল, হে ঈসা ইবনে মারয়াম! আপনার প্রতিপালক কি আমাদের জন্য আসমান থেকে (খাদ্যের) একটা খাঞ্চা অবতীর্ণ করতে সক্ষম? ঈসা বলল, আল্লাহকে ভয় কর যদি তোমরা মুমিন হও। #%৮৫%#মুফতী তাকী উসমানী
যখন হাওয়ারীরা বললঃ হে ঈসা ইবনে মারইয়াম! আপনার রাব্ব কি এরূপ করতে পারেন যে, আমাদের জন্য আকাশ হতে কিছু খাদ্য প্রেরণ করেন? ঈসা বললঃ আল্লাহকে ভয় কর যদি তোমরা ঈমানদার হয়ে থাক।মুজিবুর রহমান
যখন হাওয়ারীরা বললঃ হে মরিয়ম তনয় ঈসা, আপনার পালনকর্তা কি এরূপ করতে পারেন যে, আমাদের জন্যে আকাশ থেকে খাদ্যভর্তি খাঞ্চা অবতরণ করে দেবেন? তিনি বললেনঃ যদি তোমরা ঈমানদার হও, তবে আল্লাহকে ভয় কর।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
স্মরণ কর, হাওয়ারীগণ বলেছিল, ‘হে মারইয়াম-তনয় ‘ঈসা ! তোমার প্রতিপালক কি আমাদের জন্যে আসমান হতে খাদ্য-পরিপূর্ণ খাঞ্চা প্রেরণ করতে সক্ষম ?’ সে বলেছিল, ‘আল্লাহ্কে ভয় কর, যদি তোমরা মু’মিন হও।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
যখন হাওয়ারীগণ বলেছিল, ‘হে মারইয়ামের পুত্র ঈসা, তোমার রব কি পারে আমাদের উপর আসমান থেকে খাবারপূর্ণ দস্তরখান নাযিল করতে?’ সে বলেছিল, ‘আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর, যদি তোমরা মুমিন হও’।আল-বায়ান
(স্মরণ কর) যখন হাওয়ারীরা বলেছিল, হে ‘ঈসা ইবনু মারইয়াম! আপনার প্রতিপালক কি আমাদের নিকট আসমান থেকে খাঞ্চা ভর্তি খাদ্য পাঠাতে পারবেন? সে বলেছিল, তোমরা যদি মু’মিন হয়ে থাক তাহলে আল্লাহকে ভয় কর।তাইসিরুল
স্মরণ করো! হাওয়ারিগণ বলেছিল -- "হে মরিয়ম-পুত্র ঈসা! তোমার প্রভু কি আমাদের জন্য আকাশ থেকে খাদ্য-পরিবেশিত টেবিল পাঠাতে রাজি হবেন?" তিনি বলেছিলেন -- "আল্লাহ্কে ভয়-ভক্তি করো যদি তোমরা মুমিন হও।"মাওলানা জহুরুল হক
১২৮
হাওয়ারীদের কথা আগে বলা হয়েছিল তাই এখানে এ আলোচনা প্রসঙ্গের মধ্যেই হাওয়ারীদের সম্পর্কে আর একটি ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। এ থেকে একথা সুস্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয় যে, হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের যেসব শাগরিদ তাঁর কাছ থেকে সরাসরি দীক্ষা লাভ করেছিলেন তারা হযরত মসীহকে একজন মানুষ এবং নিছক আল্লাহর একজন বান্দা মনে করতেন। তাদের পরিচালক ও পথপ্রদর্শক যে আল্লাহ বা আল্লাহর সাথে শরীক অথবা আল্লাহর পুত্র-এই ধরনের কোন কথা মনে করা তাদের চিন্তা ও কল্পনার বাইরে ছিল। তাছাড়া হযরত মসীহ নিজেও তাদের সামনে নিজেকে একজন অক্ষম বান্দা হিসেবে পেশ করেছিলেন।
এখানে প্রশ্ন করা যেতে পারে, কিয়ামতের দিনে যে কথাবার্তা হবে সেখানে এ প্রাসঙ্গিক বক্তব্যটির স্থান কোথায়? এর জবাবে বলা যায়, কিয়ামতের দিনে যে কথাবার্তা হবে তার সাথে এ প্রাসঙ্গিক বক্তব্যের সম্পর্ক নেই। বরং এর সম্পর্ক হচ্ছে দুনিয়ায় আগামভাবে যেসব কথাবার্তা হচ্ছে তার সাথে। কিয়ামতের দিনে যেসব কথাবার্তা হবে এখানে তার আলোচনা করার উদ্দেশ্যই হচ্ছে, বর্তমান জীবনে খৃস্টানরা যেন তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে এবং সত্য-সঠিক পথ অবলম্বন করে। কাজেই এ কথাবার্তার মাঝখানে একটি প্রাসঙ্গিক বক্তব্য হিসেবে হাওয়ারীদের ঘটনাটির উল্লেখ মোটেই অবান্তর নয়।
অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলার কাছে কোনও রকম মুজিযার ফরমায়েশ করা একজন মুমিনের পক্ষে কিছুতেই সমীচীন নয়। কেননা সাধারণভাবে এরূপ ফরমায়েশ তো কাফিররাই করত। অবশ্য তারা যখন স্পষ্ট করে দিল যে, ফরমায়েশের কারণ অবিশ্বাস নয়, বরং আল্লাহ তা‘আলার নি‘আমত দেখে পরিপূর্ণ প্রশান্তি লাভ ও তার শোকর আদায় করা, তখন ঈসা আলাইহিস সালাম দোয়া করলেন।
১১২. স্মরণ করুন, যখন হাওয়ারীগণ বলেছিল, হে মারইয়াম-তনয় ঈসা! আপনার রব কি আমাদের জন্য আসমান থেকে খাদ্য পরিপূর্ণ খাঞ্চা পাঠাতে সক্ষম? তিনি বলেছিলেন, ‘আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর, যদি তোমরা মুমিন হও।(১)
(১) যখন হাওয়ারীরা ঈসা আলাইহিস সালামের কাছে আকাশ থেকে পাত্রপূর্ণ খাদ্য অবতারণ দাবী করল, তখন তিনি উত্তরে বললেনঃ যদি তোমরা ঈমানদার হও, তবে আল্লাহকে ভয় কর। এতে বুঝা যায় যে, ঈমানদার বান্দার পক্ষে এ ধরনের আব্দার করে আল্লাহকে পরীক্ষা করা কিংবা তার কাছে অলৌকিক বিষয় দাবী করা একান্ত অনুচিত। বরং ঈমানদার বান্দার পক্ষে আল্লাহর নির্ধারিত পথে চলার ব্যাপারে চেষ্টা চালানো। তবে হাওয়ারীগণ এ সন্দেহ থেকে মুক্ত থেকে বললেন যে, তাদের উদ্দেশ্য শুধু এ দিনকে ঈদ হিসেবে গ্রহণ করা, তাদের ও তাদের পরবর্তীদের জন্য এটি নিদর্শন হিসেবে কাজ করা এবং ঈমান বর্ধিত করা। (ইবন কাসীর)
(১১২) স্মরণ কর, হাওয়ারীগণ বলেছিল, ‘হে মারয়্যাম-তনয় ঈসা! তোমার প্রতিপালক কি আমাদের জন্য আকাশ থেকে খাদ্য পরিপূর্ণ খাঞ্চা প্রেরণ করতে সক্ষম?(1) সে বলেছিল, ‘তোমরা আল্লাহকে ভয় কর; যদি তোমরা বিশ্বাসী হও।’ (2)
(1) مَائِدَة এমন পাত্র (যেমন থালা বা প্লেট বা খাঞ্চা ইত্যাদিকে) বলা হয়, যার মধ্যে খাদ্য থাকবে। এই জন্য এর অনুবাদ দস্তরখানাও করা হয়ে থাকে, কেননা তার মধ্যেও খাদ্য থাকে। আর এই উপলক্ষ্যেই সূরার নামকরণও হয়েছে। এখানে এর উল্লেখ আছে যে, হাওয়ারীগণ আন্তরিক প্রশান্তির জন্য আসমান থেকে খানাভর্তি খাঞ্চা অবতীর্ণ করার আবদার জানায়। যেমন ইবরাহীম (আঃ) (আন্তরিক প্রশান্তির জন্য) মৃতকে জীবিত করা স্বচক্ষে দেখার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।
(2) অর্থাৎ তোমরা এমন জিনিস চেয়ো না, যা তোমাদের জন্য ফিতনার কারণ হয়ে যাবে। যেহেতু দাবী অনুসারে অলৌকিক জিনিস প্রকাশ পাওয়ার পর তাদের মধ্যে যদি দুর্বলতা প্রকাশ পায়, তাহলে সেটা তাদের জন্য আযাবের কারণ হয়ে যাবে। এই জন্যই ঈসা (আঃ) এ ধরনের চাওয়া হতে বিরত থাকতে বললেন এবং তাদেরকে আল্লাহর ভয় দেখালেন।