ফাইন ‘উছির ‘আলাআন্নাহুমাছ তাহাক্কা ইছমান ফাআ-খার-নি ইয়াকূমা-নি মাকামাহুমা-মিনাল্লাযীনাছতাহাক্কা ‘আলাইহিমুল আওলাইয়া-নি ফাইউকছিমা-নি বিল্লা-হি লাশাহা-দাতুনাআহাককুমিন শাহা-দাতিহিমা-ওয়া মা‘তাদাইনা ইন্নাইযাল্লা মিনাজ্জা-লিমীন।উচ্চারণ
কিন্তু যদি একথা জানা যায় যে, তারা দু’জন নিজেদেরকে গোনাহে লিপ্ত করেছে, তাহলে যাদের স্বার্থহানি ঘটেছে তাদের মধ্য থেকে সাক্ষ্য দেবার ব্যাপারে আরো বেশী যোগ্যতা সম্পন্ন দু’জন লোক তাদের স্থলবর্তী হবে এবং তারা আল্লাহর নামে শপথ করে বলবে “আমাদের সাক্ষ্য তাদের সাক্ষ্যের চাইতে আরো বেশী ন্যায়নিষ্ঠ এবং নিজেদের সাক্ষ্যের ব্যাপারে আমরা কোন বাড়াবাড়ি করিনি। এমনটি করলে আমরা জালেমদের অন্তর্ভুক্ত হবো। তাফহীমুল কুরআন
তারপর যদি জানা যায়, তারা (মিথ্যা বলে) নিশ্চিত গুনাহে লিপ্ত হয়েছে, তবে যাদের বিপরীতে এই প্রথম ব্যক্তিদ্বয় গুনাহে লিপ্ত হয়েছে, তাদের মধ্য হতে দু’ ব্যক্তি এদের স্থানে (সাক্ষ্যদানের জন্য) দাঁড়াবে। #%৮২%# তারা আল্লাহর নামে কসম করে বলবে, ওই প্রথম ব্যক্তিদ্বয় অপেক্ষা আমাদের সাক্ষ্যই বেশি সত্য এবং (এই সাক্ষ্যদানে) আমরা সীমালংঘন করিনি। তা করলে আমরা জালিমদের মধ্যে গণ্য হব।মুফতী তাকী উসমানী
অতঃপর যদি জানা যায় যে, ওসীদ্বয় কোন পাপে জড়িত হয়ে পড়েছিল তাদের মধ্য হতে (মৃতের) সর্বাপেক্ষা নিকটতম অপর দু’ব্যক্তি তাদের স্থলাভিষিক্ত হবে, অতঃপর উভয়ে (এরূপে) আল্লাহর নামে শপথ করে বলবেঃ নিশ্চয়ই আমাদের এই শপথ তাদের শপথ অপেক্ষা অধিক সত্য এবং আমরা বিন্দুমাত্র ব্যতিক্রম করিনি, (যদি করি তাহলে) এমতাবস্থায় যালিমদের অন্তর্ভুক্ত হব।মুজিবুর রহমান
অতঃপর যদি জানা যায় যে, উভয় ওসি কোন গোনাহে জড়িত রয়েছে, তবে যাদের বিরুদ্ধে গোনাহ হয়েছিল, তাদের মধ্য থেকে মৃতু ব্যক্তির নিকটতম দু’ব্যক্তি তাদের স্থলাভিষিক্ত হবে। অতঃপর আল্লাহর নামে কসম খাবে যে, অবশ্যই আমাদের সাক্ষ্য তাদের সাক্ষ্যর চাইতে অধিক সত্য এবং আমরা সীমা অতিক্রম করিনি। এমতাবস্থায় আমরা অবশ্যই অত্যাচারী হব।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
যদি এটা প্রকাশ পায় যে, তারা দু’জন অপরাধে লিপ্ত হয়েছে তবে যাদের স্বার্থহানি ঘটেছে তাদের মধ্য হতে নিকটতম দু’জন তাদের স্থলবর্তী হবে আর আল্লাহ্ র নামে শপথ করে বলবে, ‘আমাদের সাক্ষ্য অবশ্যই তাদের সাক্ষ্য হতে অধিকতর সত্য আর আমরা সীমালংঘন করি নাই- করলে অবশ্যই আমরা জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হব।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
কিন্তু যদি জানা যায় যে, তারা পাপে লিপ্ত হয়েছে, তাহলে তাদের মধ্য থেকে যাদের স্বার্থহানী ঘটেছে- অন্য দু’ব্যক্তি প্রথমোক্ত দু’জনের স্থলাভিষিক্ত হবে। অতঃপর তারা আল্লাহর নামে কসম করে বলবে, ‘অবশ্যই আমাদের সাক্ষ্য তাদের সাক্ষ্য থেকে অধিক সত্য এবং আমরা সীমালঙ্ঘন করিনি; করলে অবশ্যই আমরা যালিমদের অন্তর্ভুক্ত হব’।আল-বায়ান
যদি জানা যায় যে, তারা পাপে জড়িয়ে পড়েছে, তবে তাদের স্থলে অন্য দু’জন সেই লোকেদের মধ্য হতে দাঁড়াবে, যাদের স্বত্ব পূর্বের দু’জন সাক্ষী নষ্ট করতে চেয়েছিল। তারা আল্লাহর নামে শপথ করে বলবে যে, আমাদের সাক্ষ্য অবশ্যই তাদের সাক্ষ্য অপেক্ষা অধিক সত্য (আর আমরা আমাদের সাক্ষ্যদানের ব্যাপারে) সীমালঙ্ঘন করিনি, করলে আমরা অবশ্য যালিমদের মধ্যে গণ্য হয়ে যাব।তাইসিরুল
পক্ষান্তরে যদি আবিস্কার করা হয় যে তাদের দু’জনই পাপের যোগ্যতা লাভ করেছে তবে তাদের স্থলে দাঁড়াক অপর দুইজন তাদের মধ্যে থেকে যাদের দাবি উল্টানো হয়েছে প্রথম দুইজনের দ্বারা, তখন তারা আল্লাহ্র নামে কসম খাক -- "আমাদের দু’জনের সাক্ষ্য ঐ দুইজনের সাক্ষ্যের চাইতে অধিকতর সত্য, আর আমরা সীমা লঙ্ঘন করি নি, কেননা তবে নিঃসন্দেহ আমরা অন্যায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত হবো।"মাওলানা জহুরুল হক
এ তরজমা করা হয়েছে ইমাম রাযী (রহ.)-এর গৃহীত ব্যাখ্যার ভিত্তিতে। এ হিসেবে الاوليان-এর দ্বারা প্রথম দুই সাক্ষীকে বোঝানো হয়েছে, যারা মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছিল। কিরাআত (অর্থাৎ কুরআনের পাঠরীতি)-এর ইমাম হাফস (রহ.)-এর পাঠ অনুসারে যদি আয়াতের গঠনপ্রণালী চিন্তা করা যায়, তবে এই ব্যাখ্যাই বেশি সঠিক মনে হয়। হাফস (রহ.) استحق ক্রিয়াপদটিকে কর্তৃবাচ্যরূপে পড়েছেন। অপর এক ব্যাখ্যায় الاوليان শব্দটিকে ওয়ারিশদের বিশেষণ ধরা হয়েছে, কিন্তু বাক্যের গঠন প্রণালী হিসেবে তার কারণ অতি অস্পষ্ট। কেননা তখন استحق ক্রিয়াপদটির ‘কর্তা’ খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। দেখুন রূহুল মাআনী; আল-বাহরুল মুহীত ও আত-তাফসীরুল কাবীর। অবশ্য استحق ক্রিয়াপদটি কর্মবাচ্যরূপে পড়া হলে সে তাফসীর সঠিক হয়।
১০৭. অতঃপর যদি এটা প্রকাশ হয় যে, তারা দুজন অপরাধে লিপ্ত হয়েছে তবে যাদের স্বার্থহানি ঘটেছে তাদের মধ্য থেকে নিকটতম দুজন তাদের স্থলবর্তী হবে এবং আল্লাহ্র নামে শপথ করে বলবে, আমাদের সাক্ষ্য অবশ্যই তাদের সাক্ষ্য থেকে অধিকতর সত্য এবং আমরা সীমালঙ্ঘন করিনি, করলে অবশ্যই আমরা যালেমদের অন্তর্ভুক্ত হব।(১)
(১) ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ বনী সাহমের এক লোক তামীম আদ-দারী এবং আদী ইবনে বাদ্দারের সাথে সফরে বের হলেন। পথিমধ্যে সাহমী লোকটি মারা গেল; এমন জায়গায় মারা গেল যেখানে কোন মুসলিম ছিল না। তারা দু’জন তার মীরাস নিয়ে যখন ফিরে আসল, তখন আত্মীয় স্বজনরা সোনা দিয়ে মোড়ানো একটি রুপার পাত্র খুঁজে পেল না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ব্যাপারে তাদের দু’জনকে শপথ করালে তারা এ সম্পর্কে কিছু জানে না বলে জবাব দিল। অপরদিকে এ পাত্রটি মক্কায় পাওয়া গেল এবং তারা বলল যে, আমরা তামীম এবং আদীর নিকট থেকে এ পাত্র খরিদ করেছি। অতঃপর সাহমীর পক্ষ থেকে দু’জন নিকটআত্মীয় দাঁড়িয়ে শপথ করে বলল যে, আমাদের শপথ ঐ দু'জনের শপথের চেয়ে উত্তম। এ পাত্রটি আমাদের লোকের। তখন এ আয়াতটি নাযিল হয়। (বুখারীঃ ২৭৮০, আবু দাউদঃ ৩৬০৬, তিরমিযীঃ ৩০৬০)
(১০৭) তবে যদি এ প্রকাশ পায় যে, তারা দুজন অপরাধে লিপ্ত হয়েছে(1) তবে যাদের স্বার্থহানি ঘটেছে তাদের মধ্য হতে (মৃতের) নিকটতম দু’জন তাদের স্থলবর্তী হবে(2) এবং আল্লাহর নামে শপথ করে বলবে, ‘আমাদের সাক্ষ্য অবশ্যই তাদের হতে অধিকতর সত্য এবং আমরা সীমালংঘন করিনি, করলে আমরা অবশ্যই যালেম (অনাচারী)দের দলভুক্ত হব।’
(1) অর্থাৎ, মিথ্যা শপথ করেছে।
(2) أوليان এটা أولى এর দ্বিবচন। যার অর্থ; অসিয়তকারীর দুই নিকটাত্মীয়। (مِنَ الَّذِيْنَ اسْتَحَقَّ عَلَيْهِم) এর অর্থঃ যাদের স্বার্থহানি ঘটেছে তাদের মধ্য হতে। ‘أوليان ’এটা ‘هما’ ঊহ্য সর্বনাম (উদ্দেশ্য)র খবর (বিধেয়) অথবা يقومان/آخران এর সর্বনামের বদল (পরিবর্ত)। যার ভাবার্থ, এই দুই নিকটাত্মীয় তাদের মিথ্যা কসমের বিরুদ্ধে শপথ করবে।