ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূশাহা-দাতুবাইনিকুম ইযা-হাদার আহাদাকুমুল মাওতু হীনাল ওয়াসিইইয়াতিছনা-নি যাওয়া-‘আদলিম মিনকুম আও আ-খার-নি মিন গাইরিকুম ইন আনতুম দারবতুম ফিল আরদিফাআসা-বাতকুম মুসীবাতুল মাওতি তাহবিছূনাহুমামিম বা‘দিস সালা-তি ফাইউকছিমা-নি বিল্লা-হি ইনিরতাবতুম লা-নাশতারী বিহী ছামানওঁ ওয়া লাও ক-না যা- কুরবা- ওয়ালা-নাকতুমুশাহা-দাতাল্লা-হি ইন্নাইযাল্লা মিনাল আ-ছিমীন।উচ্চারণ
হে ঈমানদারগণ! যখন তোমাদের কারোর মৃত্যুর সময় উপস্থিত হয় এবং সে অসিয়ত করতে থাকে তখন তার জন্য সাক্ষ্য নির্ধারণ করার নিয়ম হচ্ছে এই যে, তোমাদের সমাজ থেকে দু’জন ন্যায়নিষ্ঠ ১২০ ব্যক্তিকে সাক্ষী করতে হবে। অথবা যদি তোমরা সফরের অবস্থায় থাকো এবং সেখানে তোমাদের ওপর মৃত্যু রূপ বিপদ উপস্থিত হয় তাহলে দু’জন অমুসলিমকেই সাক্ষী হিসেবে গ্রহণ করে নেবে। ১২১ তারপর কোন সন্দেহ দেখা দিলে নামাযের পরে উভয় সাক্ষীকে (মসজিদে) অপেক্ষমান রাখবে এবং তারা আল্লাহর কসম খেয়ে বলবেঃ “আমরা কোন ব্যক্তি স্বার্থের বিনিময়ে সাক্ষ্য বিক্রি করবো না, সে কোন আত্মীয় হলেও (আমরা তার প্রতি পক্ষপাতিত্ব করবো না) এবং আল্লাহর ওয়াস্তের সাক্ষ্যকে আমরা গোপনও করবো না। এমনটি করলে আমরা গুনাহগারদের অন্তর্ভুক্ত হবো।” তাফহীমুল কুরআন
হে মুমিনগণ! #%৮০%# যখন তোমাদের কারও মৃত্যুক্ষণ উপস্থিত হয়, তখন ওসিয়ত করার সময় তোমাদের মধ্যে সাক্ষী থাকবে তোমাদের মধ্য হতে দু’জন ন্যায়নিষ্ঠ লোক অথবা তোমাদের ছাড়া অন্যদের (অর্থাৎ অমুসলিদের) মধ্য হতে দু’জন, যদি তোমরা যমীনে সফরে থাক এবং সে অবস্থায় তোমাদের মৃত্যুর মুসিবত এসে যায়। অতঃপর তোমাদের কোনও সন্দেহ দেখা দিলে তোমরা সে দু’জনকে নামাযের পর আটকাতে পার। তারা আল্লাহর নামে কসম খেয়ে বলবে, আমরা এই সাক্ষ্যের বিনিময়ে কোনও আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করতে চাই না, যদিও সে কোনও আত্মীয় হয় এবং আমরা আল্লাহর সাক্ষ্য গোপন করব না। #%৮১%# করলে আমরা গুনাহগারদের মধ্যে গণ্য হব।মুফতী তাকী উসমানী
হে মু’মিনগণ! যখন তোমাদের মধ্যে কারও মৃত্যু আসন্ন হয় তখন অসীয়াত করার সময় তোমাদের মধ্য হতে দু’জন লোক সাক্ষী থাকা সঙ্গত। এই দু’ব্যক্তি হবে দীনদার এবং তোমাদের মধ্য হতে; অথবা ভিন্ন সম্প্রদায় হতে দু’জন হবে, যদি তোমরা সফরে থাক এবং ঐ অবস্থায় মৃত্যু তোমাদের উপর উপস্থিত হয়; যদি তোমাদের সন্দেহ হয় তাহলে ওসীদ্বয়কে সালাতের (জামা‘আতের) পর রুখে নাও, অতঃপর তারা আল্লাহর নামে শপথ করে বলবে, আমরা এই শপথের বিনিময়ে কোন স্বার্থ ভোগ করবনা যদি আত্মীয়ও হয়; আর আল্লাহর সাক্ষ্য প্রমাণকে আমরা গোপন করবনা, (যদি এরূপ করি) এমতাবস্থায় আমরা ভীষণ পাপী হব।মুজিবুর রহমান
হে, মুমিনগণ, তোমাদের মধ্যে যখন কারও মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন ওছিয়ত করার সময় তোমাদের মধ্য থেকে ধর্মপরায়ন দুজনকে সাক্ষী রেখো। তোমরা সফরে থাকলে এবং সে অবস্থায় তোমাদের মৃত্যু উপস্থিত হলে তোমরা তোমাদের ছাড়াও দু ব্যক্তিকে সাক্ষী রেখো। যদি তোমাদের সন্দেহ হয়, তবে উভয়কে নামাযের পর থাকতে বলবে। অতঃপর উভয়েই আল্লাহর নামে কসম খাবে যে, আমরা এ কসমের বিনিময়ে কোন উপকার গ্রহণ করতে চাই না, যদিও কোন আত্নীয়ও হয় এবং আল্লাহর সাক্ষ্য আমরা গোপন করব না। এমতাবস্থায় কঠোর গোনাহগার হব।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
হে মু’মিনগণ! তোমাদের কারও যখন মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন ওসিয়াত করার সময় তোমাদের মধ্য হতে দু’জন ন্যায়পরায়ণ লোককে সাক্ষী রাখবে; তোমরা সফরে থাকলে এবং তোমাদের মৃত্যুর বিপদ উপস্থিত হলে তোমাদের ছাড়া অন্য লোকদের মধ্য হতে দু’জন সাক্ষী মনোনীত করবে। তোমাদের সন্দেহ হলে সালাতের পর তাদেরকে অপেক্ষমাণ রাখবে। এরপর তারা আল্লাহ্ র নামে শপথ করে বলবে, ‘আমরা এর বিনিময়ে কোন মূল্য গ্রহণ করব না-যদি সে আত্মীয়ও হয় এবং আমরা আল্লাহ্ র সাক্ষ্য গোপন করব না; করলে অবশ্যই পাপীদের অন্তর্ভুক্ত হব।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
হে মুমিনগণ, যখন তোমাদের কারো নিকট মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন ওসিয়তকালে তোমাদের মাঝে তোমাদের মধ্য থেকে দু’জন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি সাক্ষী হবে, অথবা অন্যদের থেকে দু’জন, যদি তোমরা যমীনে সফরে থাক, অতঃপর তোমাদেরকে মৃত্যুর বিপদ পেয়ে বসে। যদি তোমাদের সন্দেহ হয়, তবে উভয়কে সালাতের পর অপেক্ষমাণ রাখবে। অতঃপর তারা উভয়ে আল্লাহর নামে কসম করবে যে, ‘আমরা এর বিনিময়ে কোন মূল্য গ্রহণ করব না, যদিও সে আত্মীয় হয়। আর আল্লাহর সাক্ষ্য আমরা গোপন করব না, করলে অবশ্যই আমরা গুনাহগারদের অন্তর্ভুক্ত হব’।আল-বায়ান
হে বিশ্বাসীগণ! তোমাদের কারো মৃত্যু উপস্থিত হলে যখন ওসিয়াত করবে তখন তোমাদের মধ্য হতে দু’জন ন্যায়পরায়ণ লোককে সাক্ষী করবে, আর সফররত অবস্থায় মৃত্যুর মুসিবত উপস্থিত হলে তোমাদের ছাড়া অন্যদের থেকে দু’জন সাক্ষী রাখবে। (সাক্ষীদের সত্যতা সম্পর্কে) তোমাদের সন্দেহ হলে সলাতের পর তাদেরকে রেখে দেবে আর তারা আল্লাহর নামে শপথ করবে যে, আমরা কোন কিছুর বিনিময়ে সাক্ষ্য বিক্রয় করব না, যদিও সে আমাদের আত্মীয় হয়, আর আল্লাহর ওয়াস্তে কৃত সাক্ষ্য গোপন করব না, করলে পাপীদের মধ্যে গণ্য হয়ে যাব।তাইসিরুল
ওহে যারা ঈমান এনেছ! যখন মৃত্যু তোমাদের কারো কাছে হাজির হয় তখন তোমাদের মধ্যে সাক্ষী ডাকো ওছিয়ৎ করবার সময়ে, -- দুইজন ন্যায়পরায়ণ লোক তোমাদের মধ্যে থেকে, অথবা অপর দুইজন তোমাদের বাইরের থেকে -- যদি তোমরা দেশ- ভ্রমণে থাকো আর তোমাদের উপরে মৃত্যুর বিভীষিকা ঘটে। এ দু’জনকে তোমরা ধরে রাখবে নামাযের পরে, আর যদি তোমরা সন্দেহ করো তবে তারা উভয়ে আল্লাহ্র নামে শপথ করুক -- "আমরা এটি বিক্রি করবো না যে কোনো দামে, যদিও বা নিকট-আত্মীয় হয়, আর আমরা সাক্ষ্য লুকাবো না, কেননা তাহলে আমরা নিশ্চয়ই পাপীদের অন্তর্ভুক্ত হবো।"মাওলানা জহুরুল হক
১২০
অর্থাৎ দ্বীনদার, সত্যনিষ্ঠ ও নির্ভরযোগ্য।
১২১
এ থেকে জানা যায়, মুসলমানদের ব্যাপারে অমুসলিমদেরকে কেবলমাত্র তখনই সাক্ষী হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে যখন কোন মুসলমান সাক্ষী পাওয়া যায় না।
একটি বিশেষ ঘটনার প্রেক্ষাপটে এ আয়াত নাযিল হয়েছে। ঘটনাটি এই বুদায়ল নামক এক মুসলিম ব্যবসা উপলক্ষে শাম গিয়েছিলেন। তার সঙ্গে ছিল তামীম ও আদী নামক দু’জন খ্রিস্টান। সেখানে পৌঁছার পর বুদায়ল অসুস্থ হয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে তাঁর অনুমান হয়ে যায় যে, তিনি আর বাঁচবেন না। সুতরাং তিনি সঙ্গীদ্বয়কে ওসিয়ত করলেন, তারা যেন তাঁর মালামাল তার ওয়ারিশদের কাছে পৌঁছিয়ে দেয়। সেই সঙ্গে তিনি এই সতর্কতা অবলম্বন করলেন যে, মালামালের একটা তালিকা তৈরি করে গোপনে সেই মালের মধ্যেই রেখে দিলেন। সে তালিকা সম্পর্কে সঙ্গীদ্বয়ের কোনও খবর ছিল না। তারা বুদায়লের ওয়ারিশদের কাছে তার মালপত্র পৌঁছিয়ে দিল। তার ভেতর সোনার গিল্টি করা একটা রুপার পেয়ালা ছিল, যার মূল্য ছিল এক হাজার দিরহাম। সেই পেয়ালাটি বের করে তারা নিজেদের কাছে রেখে দিয়েছিল। ওয়ারিশগণ যখন বুদায়লের লেখা তালিকাটি হাতে পেল, তখন সেই পেয়ালাটির কথা জানতে পারল। সুতরাং তারা তামীম ও আদীর কাছে সেটি দাবী করল। তারা কসম খেযে বলল, মালামাল থেকে তারা কোনও জিনিস সরায়নি বা গোপন করেনি। কিন্তু কিছুদিন পর ওয়ারিশগণ জানতে পারল, তারা মক্কা মুকাররমায় এক স্বর্ণকারের কাছে পেয়ালাটি বিক্রি করে দিয়েছে। এর ভিত্তিতে যখন তামীম ও আদীকে চাপ দেওয়া হল, তখন তারা কথা ঘুরিয়ে দিল। বলল, আমরা আসলে পেয়ালাটি তার কাছ থেকে কিনে নিয়েছিলাম, কিন্তু ক্রয় সম্পর্কে যেহেতু আমাদের কোনও সাক্ষ্য-প্রমাণ ছিল না, তাই আমরা প্রথমে তার উল্লেখ সমীচীন মনে করিনি। এবার তারা যখন ক্রয় করার দাবীদার হল, তখন নিয়ম অনুসারে সাক্ষী পেশ করা তাদের জন্য অপরিহার্য ছিল, কিন্তু তারা তা পেশ করতে পারল না। ফলে বুদায়লের নিকটাত্মীয়দের মধ্যে থেকে দু’জন কসম করল যে, বুদায়ল পেয়ালটির মালিক ছিল, আর এ দুই খ্রিস্টান ক্রয়ের মিথ্যা দাবী করছে। সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওয়ারিশদের পক্ষে রায় দিলেন। সে অনুযায়ী তামীম ও আদী পেয়ালাটির মূল্য আদায় করতে বাধ্য হল। ফায়সালাটি এই আয়াতের আলোকেই নিষ্পন্ন হয়েছে। আয়াতে এ রকম পরিস্থিতির জন্য একটা সাধারণ বিধানও বাতলে দেওয়া হয়েছে।
১০৬. হে মুমিনগণ! তোমাদের কারো যখন মৃত্যু উপস্থিত হয় তখন ওসিয়াত করার সময় তোমাদের মধ্য থেকে দুজন ন্যায়পরায়ণ লোককে সাক্ষী রাখবে; অথবা(১) অন্যদের (অমুসলিমদের) থেকে দু’জন সাক্ষী মনোনীত করবে, যদি তোমরা সফরে থাক এবং তোমাদেরকে মৃত্যুর বিপদ পেয়ে বসে। যদি তোমাদের সন্দেহ হয়, তবে উভয়কে সালাতের পর অপেক্ষমান রাখবে। তারপর তারা আল্লাহর নামে শপথ করে বলবে, আমরা তার বিনিময়ে কোন মূল্য গ্রহণ করব না যদি সে আত্মীয়ও হয় এবং আমরা আল্লাহর সাক্ষ্য গোপন করব না, করলে অবশ্যই আমরা পাপীদের অন্তর্ভুক্ত হব।
(১) অর্থাৎ যদি মুসলিম কোন সাক্ষী রাখা সম্ভবপর না হয়। কারণ, সাধারণত: সফর অবস্থায় সবসময় মুসলিমদের সাক্ষী হিসেবে পাওয়া দুস্কর। তাই প্রয়োজনের খাতিরে কাফেরদেরকে সাক্ষী রাখতে বলা হয়েছে। (মুয়াসসার) তবে তাদেরকে সাক্ষী রাখার ক্ষেত্রে কি নিয়মাবলী অনুসরণ করতে হবে তা এ আয়াতে বর্ণনা করা হয়েছে।
(১০৬) হে বিশ্বাসীগণ! তোমাদের কারও যখন মৃত্যুসময় উপস্থিত হয়, তখন অসিয়ত করার সময় তোমাদের মধ্য হতে(1) দু’জন ন্যায়পরায়ণ লোককে সাক্ষী রাখবে, তোমরা সফরে থাকলে এবং তোমাদের মৃত্যুরূপ বিপদ উপস্থিত হলে(2) তোমাদের ছাড়া অন্য লোকদের মধ্য হতে দু’জন সাক্ষী মনোনীত করবে। তোমাদের সন্দেহ হলে নামাযের পর তাদেরকে অপেক্ষমাণ রাখবে। অতঃপর তারা আল্লাহর নামে শপথ করে বলবে, ‘আমরা ওর বিনিময়ে কোন মূল্য গ্রহণ করব না;(3) যদি সে আত্মীয়ও হয় এবং আমরা আল্লাহর সাক্ষ্য গোপন করব না, করলে আমরা নিশ্চয় পাপীদের অন্তর্ভুক্ত হব।’
(1) ‘তোমাদের মধ্য হতে’ এর ব্যাখ্যায় কেউ কেউ বলেন, ‘মুসলমানদের মধ্য হতে’, আবার কেউ বলেন, অসিয়তকারীর গোত্রের মধ্য হতে। অনুরূপ ‘তোমাদের ছাড়া অন্য লোকদের মধ্য হতে’ এরও দুটি ভাবার্থ হতে পারে, অর্থাৎ অমুসলিম (আহলে কিতাব) হতে পারে অথবা অসিয়তকারীর গোত্র ব্যতীত অন্য গোত্রের লোক উদ্দেশ্য হতে পারে।
(2) কেউ যদি সফরকালে কঠিন রোগ বা দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয়, যাতে তার বাঁচার আশা না থাকে, তাহলে এমতাবস্থায় সফরে দু’জন ব্যক্তিকে ন্যায়পরায়ণ সাক্ষী রেখে যা অসিয়ত করতে চায় করবে।
(3) অর্থাৎ, (মৃত ব্যক্তি) অসিয়তকারীর ওয়ারেসগণের মধ্যে যদি সন্দেহের সৃষ্টি হয় যে, যাদেরকে অসিয়ত করা হয়েছে তারা খেয়ানত অথবা পরিবর্তন করতে পারে, তাহলে এমতাবস্থায় নামাযের পর সমস্ত মানুষের সামনে তাদেরকে (আল্লাহর নামে) শপথ করানো হবে; তারা বলবে, ‘আমরা শপথের বিনিময়ে এই নশ্বর জগতের সামান্য স্বার্থ উদ্ধার করছি না; অর্থাৎ মিথ্যা শপথ করছি না।’