ওয়াছছা-রিকুওয়াছছা-রিকাতুফাকতাউআউদিয়াহুমা-জাঝাআম বিমা-কাছাবা-নাকালাম মিনাল্লা-হি ওয়াল্লা-হু ‘আঝীঝুন হাকীম।উচ্চারণ
চোর-পুরুষ বা নারী যেই হোক না কেন, উভয়ের হাত কেটে দাও। ৬০ এটা তাদের কর্মফল এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। আল্লাহর শক্তি সবার ওপর বিজয়ী এবং তিনি জ্ঞানী ও সর্বজ্ঞ। তাফহীমুল কুরআন
যে পুরুষ ও যে নারী চুরি করে, তাদের উভয়ের হাত কেটে দাও, যাতে তারা নিজেদের কৃতকর্মের প্রতিফল পায় (এবং) আল্লাহর পক্ষ হতে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়। #%৩৪%# আল্লাহ ক্ষমতাবান, প্রজ্ঞাময়।মুফতী তাকী উসমানী
আর যে পুরুষ চুরি করে এবং যে নারী চুরি করে, তোমরা তাদের কৃতকর্মের সাজা হিসাবে তাদের (ডান হাত) কেটে ফেল, এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে শাস্তি, আর আল্লাহ অতিশয় ক্ষমতাবান, মহা প্রজ্ঞাময়।মুজিবুর রহমান
যে পুরুষ চুরি করে এবং যে নারী চুরি করে তাদের হাত কেটে দাও তাদের কৃতকর্মের সাজা হিসেবে। আল্লাহর পক্ষ থেকে হুশিয়ারী। আল্লাহ পরাক্রান্ত, জ্ঞানময়।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
পুরুষ চোর ও নারী চোর, তাদের হস্তচ্ছেদন কর; এটা তাদের কৃতকর্মের ফল এবং আল্লাহ্ র পক্ষ হতে দৃষ্টান্তমূলক দণ্ড; আল্লাহ্ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর পুরুষ চোর ও নারী চোর তাদের উভয়ের হাত কেটে দাও তাদের অর্জনের প্রতিদান ও আল্লাহর পক্ষ থেকে শিক্ষণীয় আযাবস্বরূপ এবং আল্লাহ মহা পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।আল-বায়ান
আর চোর ও চোরনী তাদের হাত কেটে দাও, তাদের কৃতকর্মের ফল স্বরূপ, আল্লাহর পক্ষ থেকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। আল্লাহ হলেন মহাপরাক্রান্ত, মহাবিজ্ঞানী।তাইসিরুল
আর চোরা পুরুষ ও চোরা স্ত্রীলোক -- দুইয়েরই তবে হাত কেটে ফেলো, -- তারা যা করেছে তার প্রতিফলস্বরূপ, -- এটি আল্লাহ্র তরফ থেকে একটি দৃষ্টান্ত-স্থাপনকারী শাস্তি। আর আল্লাহ্ মহাশক্তিশালী, পরমজ্ঞানী।মাওলানা জহুরুল হক
৬০
দু’হাত নয় বরং এক হাত। আর সমগ্র উম্মত এ ব্যাপারেও একমত যে, প্রথমবার চুরি করলে ডান হাত কাটতে হবে। নবী ﷺ বলেছেনঃ وَلاَ قَطْعٌ عَلَى خَائِنٍ “খেয়ানতকারীর হাত কাটা হবে না,” এ থেকে জানা যায়, খেয়ানত বা আত্মসাৎ ইত্যাদি চুরির পর্যায়ভুক্ত নয়। বরং চুরি বলতে এমন কাজ বুঝায় যার মাধ্যমে মানুষ একজনের ধন সম্পদ তার নিয়ন্ত্রণ ও সংরক্ষণ থেকে বের করে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে।
নবী ﷺ এই সাথে এরূপ নির্দেশও দিয়েছেন যে, একটি ঢালের মূল্যের চেয়ে কম পরিমাণ চুরি করলে হাত কাটা যাবে না। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাসের বর্ণনা অনুযায়ী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে একটি ঢালের মূল্য ছিল দশ দিরহাম, ইবনে উমরের বর্ণনা অনুযায়ী তার মূল্য ছিল তিন দিরহাম, আনাস ইবনে মালিকের বর্ণনা অনুযায়ী পাঁচ দিরহাম এবং হযরত আয়েশার বর্ণনা অনুযায়ী ছিল অর্ধ দিনার। সাহাবীদের এ মতবিরোধের কারণে চুরির সর্বনিম্ন নিসাব অর্থাৎ কমপক্ষে কি পরিমাণ চুরি করলে হাত কাটা হবে এ ব্যাপারে ফকীহদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। ইমাম আবু হানীফার মতে এর সর্বনিম্ন পরিমাণ দশ দিরহাম। ইমাম মালেক, ইমাম শাফেঈ ও ইমাম আহমদের মতে এক-চতুর্থাংশ দিনার। (সে যুগের দিরহামে থাকতো ৩ মাসা ১ রতি পরিমাণ রূপা এবং এক-চতুর্থাংশ দিনার হতো ৩ দিরহামের সমান।) আবার এমন অনেক জিনিস আছে যেগুলো চুরি করলে হাত কাটার শাস্তি দেয়া যাবে না। যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশ لَا قَطْعَ فِي ثَمَرٍ وَلَا كَثَرٍ (অর্থাৎ ফল ও সবজী চুরি করলে হাত কাটা যাবে না) لاَ قَطْعَ فِى طَعَام (অর্থাৎ খাদ্যবস্তু চুরি করলে হাত কাটা যাবে না)। হযরত আয়েশা (রা.) একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাতে বলা হয়েছেঃ
لَم يَكُن قَطْعِ السَّارِقِ عَلى عَهدِ رَسُولُ الله صَلَّى الله عَلَيه وسَلَّم فِى الشَّىْءِ التَّافِهِ
“তুচ্ছ ও নগণ্য বস্তু চুরির অপরাধে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আমলে হাত কাটা হতো না।”
হযরত আলী ও হযরত উসমানের ফয়সালা ছিল لاَ قَطْعَ فِى الطَّير (অর্থাৎ পাখি চুরি করলে হাত কাটা যাবে না) এবং সাহাবীগণের মধ্য থেকে কেউ এ ব্যাপারে মতবিরোধ প্রকাশ করেননি। তাছাড়া হযরত উমর ও আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা বাইতুলমাল থেকে কেউ কোন বস্তু চুরি করলে তার হাত কাটেননি। এ বাপারেও কোথাও সাহাবায়ে কেরামের কোন মতবিরোধের উল্লেখ নেই। এসব মৌল উৎসের ভিত্তিতে ফিকাহর বিভিন্ন ইমাম কিছু নির্দিষ্ট বস্তু চুরি করার অপরাধে হাত কাটার দণ্ড না দেবার কথা ঘোষণা করেছেন। ইমাম আবু হানীফার মতে শাক-শবজি, ফল, গোশত রান্না করা খাবার, যে শস্য এখনো স্তূপীকৃত করা হয়নি এবং খেলার সরঞ্জাম ও বাদ্যযন্ত্র চুরি করলে হাত কাটার শাস্তি দেয়া হবে না। এছাড়াও তিনি বনে বিচরণকারী পশু ও বাইতুল-মালের জিনিস চুরি করলে তাতে হাত কাটার শাস্তি নেই বলে ঘোষণা করেছেন। অনুরূপভাবে অন্যান্য ইমামগণও কোন কোন জিনিস চুরির ক্ষেত্রে এ শাস্তি কার্যকর নয় বলে ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু এর অর্থ এ নয় যে, এ চুরিগুলোর অপরাধে আদতে কোন শাস্তিই দেয়া হবে না। বরং এর অর্থ হচ্ছে, এ অপরাধগুলোর কারণে হাত কাটা হবে না।
অর্থাৎ হাত কেটে দেওয়াটা চোরাই মালের বদলা নয়, বরং চুরি করার সাজা এবং এটা এমনই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, যা দেখে অন্যরাও সাবধান হয়ে যাবে, কেউ চুরি করার সাহস করবে না। ফলে মানুষের অর্থ-সম্পদ নিরাপদ থাকবে। আল্লাহ তা‘আলা তাঁর হাকীম (প্রজ্ঞাময়) গুণটির উল্লেখ দ্বারা ইঙ্গিত করছেন, আপাতদৃষ্টিতে এ দ- কঠিন মনে হলেও মানুষের আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তা বিধানের জন্য এরচেয়ে কার্যকর কোন ব্যবস্থা নেই। তাই তিনি তাঁর অপার হিকমতের দৃষ্টিতেই এ বিধান দিয়েছেন। এতে জুলুমের কোন অবকাশ নেই। -অনুবাদক
৩৮. আর পুরুষ চোর ও নারী চোর, তাদের উভয়ের হাত কেটে দাও; তাদের কৃতকর্মের ফল ও আল্লাহর পক্ষ থেকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হিসেবে(১)। আর আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
(১) চুরির শাস্তি হচ্ছে, ডান হাতের কব্জি পর্যন্ত কর্তন করা। তবে কতটুকু চুরি করলে সেটা করা হবে এবং কিভাবে চুরি করলে এ শাস্তি প্রয়োগ করা হবে, এর বিস্তারিত আলোচনা ফিকহ এর কিতাবসমূহ থেকে জেনে নিতে হবে। শর্তপূরণ ও বাস্তবায়নের বাধা অপসারিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে শাস্তি দেয়া যাবে না। (বিস্তারিত জানার জন্য তাফসীরে কুরতুবী দ্রষ্টব্য)
(৩৮) চোর এবং চোরনীর হাত কেটে ফেলো,(1) এ তাদের কৃতকর্মের ফল এবং আল্লাহর তরফ হতে শাস্তি। বস্তুতঃ আল্লাহ পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়।
(1) কতক যাহেরিয়া মযহাবের ফিকহবিদদের অভিমত এই যে, চুরির এই বিধান সকল প্রকার চুরির জন্য ব্যাপক; চাহে তা অল্পই হোক, আর বেশীই হোক এবং সুরক্ষিত জায়গা থেকে চুরি করা হোক অথবা অরক্ষিত জায়গা থেকে চুরি করা হোক, সর্বাবস্থাতেই চোরের হাত কাটা যাবে। অথচ অন্যান্য ফিকহবিদদের অভিমত এই যে, তা সুরক্ষিত জায়গা থেকে এবং নির্দিষ্ট পরিমাণের মাল চুরির শর্ত আছে। পরন্তু সেই নির্দিষ্ট পরিমাণের ব্যাপারে তাঁদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। মুহাদ্দিসগণের অভিমত এই যে, এক চতুর্থাংশ স্বর্ণমুদ্রা (দীনার) অথবা তিনটি রৌপ্যমুদ্রা (দিরহাম) অথবা ঐ পরিমাণ মূল্যের কোন জিনিস চুরি করলে চোরের হাত কাটা যাবে; অন্যথা এর থেকে কম পরিমাণ হলে হাত কাটা যাবে না। অনুরূপভাবে হাত কবজি পর্যন্ত কাটা হবে; কনুই বা কাঁধ পর্যন্ত নয়, যেমন অনেকের অভিমত। (বিস্তারিত জানার জন্য বিভিন্ন হাদীস, ফিকহ ও তফসীর গ্রন্থ দ্রষ্টব্য।)