ওয়া ইযিছতাছক-মূছা- লিকাওমিহী ফাকুলনাদরিব্বি‘আসা-কাল হাজার ফানফাজারত মিনহুছনাতা- ‘আশরতা ‘আইনান কাদ ‘আলিমা কুল্লুউনা-ছিম মাশরবাহুম কুলূওয়াশরবূমির রিঝকিল্লা-হি ওয়ালা-তা‘ছাও ফিল আরদিমুফছিদীন।উচ্চারণ
স্মরণ করো, যখন মূসা তার জাতির জন্য পানির দোয়া করলো, তখন আমরা বললাম, অমুক পাথরের ওপর তোমার লাঠিটি মারো। এর ফলে সেখান থেকে বারোটি ঝর্ণাধারা উৎসারিত হলো। ৭৬ প্রত্যেক গোত্র তার পানি গ্রহণের স্থান জেনে নিল। (সে সময় এ নির্দেশ দেয়া হয়েছিল যে, ) আল্লাহ প্রদত্ত রিযিক খাও, পান করো এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করো না। তাফহীমুল কুরআন
এবং (সেই সময়ের কথাও স্মরণ কর) যখন মূসা নিজ সম্প্রদায়ের জন্য পানি প্রার্থনা করল। তখন আমি বললাম, তোমার লাঠি দ্বারা পাথরে আঘাত কর। সুতরাং তা থেকে বারটি প্রস্রবণ উৎসারিত হল। #%৫১%# প্রত্যেক গোত্র নিজ পানি গ্রহণের স্থান জেনে নিল। (আমি বললাম) আল্লাহ প্রদত্ত রিযক খাও ও পান করো এবং পৃথিবীতে অশান্তি বিস্তার করো না।মুফতী তাকী উসমানী
এবং যখন মূসা স্বীয় সম্প্রদায়ের জন্য পানি প্রার্থনা করেছিল তখন আমি বলেছিলামঃ তুমি স্বীয় লাঠি দ্বারা প্রস্তরে আঘাত কর, অনন্তর তা হতে দ্বাদশ প্রস্রবন বিনিঃসৃত হল, প্রত্যেকেই স্ব স্ব স্থান জেনে নিল, তোমরা আল্লাহর উপজীবিকা হতে আহার কর ও পান কর এবং পৃথিবীতে শান্তি ভঙ্গকারী রূপে বিচরণ করনা।মুজিবুর রহমান
আর মূসা যখন নিজ জাতির জন্য পানি চাইল, তখন আমি বললাম, স্বীয় যষ্ঠির দ্বারা আঘাত কর পাথরের উপরে। অতঃপর তা থেকে প্রবাহিত হয়ে এল বারটি প্রস্রবণ। তাদের সব গোত্রই চিনে নিল নিজ নিজ ঘাট। আল্লাহর দেয়া রিযিক খাও, পান কর আর দুনিয়ার বুকে দাংগা-হাংগামা করে বেড়িও না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
স্মরণ কর, যখন মূসা তার সম্প্রদায়ের জন্যে পানি প্রার্থনা করল, আমি বললাম, ‘তোমার লাঠি দিয়ে পাথরে আঘাত কর।’ ফলে এটি হতে দ্বাদশ প্রস্রবণ প্রবাহিত হল। প্রত্যেক গোত্র নিজ নিজ পান-স্থান চিনে নিল। বললাম, ‘আল্লাহ্-প্রদত্ত জীবিকা হতে তোমরা পানাহার কর এবং দুষ্কৃতিকারীরূপে পৃথিবীতে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে বেড়িও না।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর স্মরণ কর, যখন মূসা তার কওমর জন্য পানি চাইল, তখন আমি বললাম, ‘তুমি তোমার লাঠি দ্বারা পাথরকে আঘাত কর’। ফলে তা থেকে উৎসারিত হল বারটি ঝরনা। প্রতিটি দল তাদের পানি পানের স্থান জেনে নিল। তোমরা আল্লাহর রিয্ক থেকে আহার কর ও পান কর এবং ফাসাদকারী হয়ে যমীনে ঘুরে বেড়িয়ো না।আল-বায়ান
স্মরণ কর, যখন মূসা (আ.) তার কওমের জন্য পানি প্রার্থনা করল, আমি বললাম, ‘তোমার লাঠি দ্বারা পাথরে আঘাত কর’। ফলে তাথেকে বারটি ঝর্ণা প্রবাহিত হল, প্রত্যেক গোত্র নিজ নিজ পানের জায়গা চিনে নিল,(বললাম) ‘আল্লাহ প্রদত্ত রিয্ক হতে তোমরা পানাহার কর এবং দুষ্কৃতিকারীর মত পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টি করো না’।তাইসিরুল
আর স্মরণ করো! মূসা তাঁর লোকদের জন্য পানি চাইলেন, তাই আমরা বললাম, -- “তোমার লাঠি দিয়ে পাথরে আঘাত করো।” তখন তা থেকে বারোটি প্রস্রবন বেরিয়ে পড়লো। প্রত্যেক উপদল নিজ জলপান-স্থান চিনে নিলো। “আল্লাহ্র রিযেক থেকে খাও ও পান করো, আর ফসাদী হয়ে দুনিয়াতে অন্যায়াচরণ করো না।”মাওলানা জহুরুল হক
৭৬
সে পাথরটি এখনো সিনাই উপদ্বীপে রয়েছে। পর্যটকরা এখনো গিয়ে সেটি দেখেন। পাথরের গায়ে এখনো ঝর্ণার উৎস মুখের গর্তগুলো দেখা যায়। ১২টি ঝর্ণাধারা প্রবাহিত করার কারণ ছিল এই যে, বনী ইসরাঈলদেরও ১২টি গোত্র ছিল। প্রত্যেক গোত্রের জন্য আল্লাহ একটি করে ঝর্ণা প্রবাহিত করেন। তাদের মধ্যে পানি নিয়ে কলহ সৃষ্টি না হয়, এ জন্য এ পদ্ধতি অবলম্বিত হয়েছিল।
এ ঘটনাও সেই সময়ের, যখন বনী ইসরাঈল ‘তীহ’ (সিনাই) মরুভূমিতে আটকে পড়েছিল। সেখানে পানির কোনও ব্যবস্থা ছিল না। আল্লাহ তাআলা একটি অলৌকিক ঘটনা হিসেবে পাথর থেকে বারটি ঝর্নাধারা প্রবাহিত করে দেন। হযরত ইয়াকুব (ইসরাঈল) আলাইহিস সালামের বার পুত্র ছিল। প্রত্যেক পুত্রের সন্তানগণ একটি স্বতন্ত্র গোত্রের রূপ নেয়। এভাবে বনী ইসরাঈল বার গোত্রে বিভক্ত হয়ে যায়। আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক গোত্রের জন্য আলাদা প্রস্রবণ চালু করেছিলেন, যাতে কোনও কলহ সৃষ্টি হতে না পারে।
৬০. আর স্মরণ কর, যখন মূসা তার জাতির জন্য পানি চাইলেন। আমরা বললাম, আপনার লাঠি দ্বারা পাথরে আঘাত করুন। ফলে তা হতে বারোটি প্রস্রবণ প্রবাহিত হল। প্রত্যেক গোত্র নিজ নিজ পানি গ্রহণের স্থান জেনে নিল। (বললাম) আল্লাহর দেয়া জীবিকা হতে তোমরা খাও, পান কর এবং যমীনে ফাসাদ সৃষ্টি করে বেড়িয়ে না।
৬০। আর (স্মরণ কর) যখন মূসা তাঁর সম্প্রদায়ের জন্য পানি প্রার্থনা করল, আমি বললাম, ‘তোমার লাঠি দ্বারা পাথরে আঘাত কর।’ ফলে তা হতে বারোটি প্রস্রবণ প্রবাহিত হল। (1) প্রত্যেক গোত্র নিজ নিজ পান-স্থান (ঘাট) চিনে নিল। (বললাম,) ‘আল্লাহর দেওয়া জীবিকা হতে তোমরা পানাহার কর এবং পৃথিবীর বুকে অনর্থ (শান্তি-ভঙ্গ) করে বেড়িও না।’
(1) এই ঘটনা কারো মতে তীহ্ প্রান্তরের এবং কারো মতে সীনা মরুভূমির। সেখানে পানির প্রয়োজন দেখা দিলে মহান আল্লাহ মূসা (আঃ)-কে বললেন, তোমার লাঠি পাথরে মারো। এইভাবে পাথর থেকে বারোটি ঝরনাধারা প্রবাহিত হয়। গোত্রও বারোটি ছিল। প্রত্যেক গোত্র নিজের নিজের ঝরনা থেকে পানি পান করত। আর এটাও একটি মু’জিযা (অলৌকিক ঘটনা) ছিল যা আল্লাহ তাআলা মূসা (আঃ) দ্বারা প্রদর্শন করেন।