فَبَدَّلَ ٱلَّذِينَ ظَلَمُواْ قَوۡلًا غَيۡرَ ٱلَّذِي قِيلَ لَهُمۡ فَأَنزَلۡنَا عَلَى ٱلَّذِينَ ظَلَمُواْ رِجۡزٗا مِّنَ ٱلسَّمَآءِ بِمَا كَانُواْ يَفۡسُقُونَ

ফাবাদ্দালাল্লাযীনা জালামূ কাওলান গাইরল্লাযীকীলা লাহুম ফাআনঝালনা- ‘আলাল্লাযীনা জালামূ রিজঝাম্মিনাছছামাই বিমা- ক-নূইয়াফছুকূন।উচ্চারণ

কিন্তু যে কথা বলা হয়েছিল যালেমরা তাকে বদলে অন্য কিছু করে ফেললো। শেষ পর্যন্ত যুলুমকারীদের ওপর আমরা আকাশ থেকে আযাব নাযিল করলাম। এ ছিল তারা যে নাফরমানি করছিল তার শাস্তি। তাফহীমুল কুরআন

কিন্তু যারা জুলুম করেছিল তাদেরকে যা বলা হয়েছিল, তাকে বদলে ফেলল অন্য কথায়। #%৫০%# ফলে তারা যে নাফরমানী করে আসছিল তার শাস্তিস্বরূপ আমি এ জালিমদের উপর আসমান থেকে শাস্তি অবতীর্ণ করলাম।মুফতী তাকী উসমানী

অনন্তর যারা অত্যাচার করেছিল তাদেরকে যা বলা হয়েছিল, তৎপরিবর্তে তারা সেই কথার পরিবর্তন করল, পরে অত্যাচারীরা যে দুস্কর্ম করেছিল তজ্জন্য আমি তাদের উপর আকাশ হতে শাস্তি অবতীর্ণ করেছিলাম।মুজিবুর রহমান

অতঃপর যালেমরা কথা পাল্টে দিয়েছে, যা কিছু তাদেরকে বলে দেয়া হয়েছিল তা থেকে। তারপর আমি অবতীর্ণ করেছি যালেমদের উপর আযাব, আসমান থেকে, নির্দেশ লংঘন করার কারণে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

কিন্তু যারা অন্যায় করেছিল তারা তাদেরকে যা বলা হয়েছিল তার পরিবর্তে অন্য কথা বলল। সুতরাং অনাচারীদের প্রতি আমি আকাশ হতে শাস্তি প্রেরণ করলাম, কারণ তারা সত্য ত্যাগ করেছিল।ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর যালিমরা পবিবর্তন করে ফেলল সে কথা যা তাদেরকে বলা হয়েছিল, ভিন্ন অন্য কথা দিয়ে। ফলে আমি তাদের উপর আসমান থেকে আযাব নাযিল করলাম, কারণ তারা পাপাচার করত।আল-বায়ান

কিন্তু যারা অত্যাচার করেছিল তারা তাদেরকে যা বলা হয়েছিল তার পরিবর্তে অন্য কথা বলল, কাজেই যালিমদের প্রতি আমি আকাশ হতে শাস্তি প্রেরণ করলাম, কারণ তারা সত্য ত্যাগ করেছিল।তাইসিরুল

কিন্তু যারা অন্যায় করে তারা যা বলা হয়েছিল তার বিপরীত কথায় তা বদলে দিল। তাই যারা অন্যায় করেছিল তাদের উপরে আকাশ থেকে আমরা মহামারী পাঠিয়েছিলাম, কারণ তারা পাপাচার করছিল।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

সিনাই মরুভূমিতে যখন দীর্ঘদিন কেটে গেল এবং মান্ন্ ও সালওয়া খেতে খেতে বিতৃষ্ণা ধরে গেল, তখন বনী ইসরাঈল দাবী জানাল, আমরা একই রকম খাবার খেয়ে থাকতে পারব না। আমরা ভূমিতে উৎপন্ন তরি-তরকারি খেতে চাই। সামনে ৬১নং আয়াতে তাদের এ দাবীর কথা বর্ণিত হয়েছে। বলাবাহুল্য, তাদের এ চাহিদাও পূর্ণ করা হল। ঘোষণা করে দেওয়া হল, এবার তোমাদেরকে মরুভূমির ছন্নছাড়া অবস্থা হতে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। সামনে একটি জনপদ আছে, সেখানে চলে যাও। তবে জনপদটির প্রবেশদ্বার দিয়ে নিজেদের কৃত গুনাহের জন্য লজ্জা প্রকাশার্থে মাথা নত করে ও ক্ষমা প্রার্থনা করতে করতে প্রবেশ কর। সেখানে নিজেদের চাহিদা মত যে-কোনও হালাল খাদ্য খেতে পারবে। কিন্তু সে জালিমরা আবারও টেড়া মানসিকতার প্রমাণ দিল। শহরে প্রবেশকালে মাথা নত করবে কি, উল্টো বুক টান করে প্রবেশ করল এবং ক্ষমা প্রার্থনার জন্য যে ভাষা তাদেরকে শেখানো হয়েছিল তাকে তামাশায় পরিণত করে তার কাছাকাছি এমন স্লোগান দিতে দিতে প্রবেশ করল যার উদ্দেশ্য মশকারা ছাড়া কিছুই ছিল না। ক্ষমা প্রার্থনার জন্য তাদেরকে তো শেখানো হয়েছিল- حِطَّةٌ (হে আল্লাহ! আমাদের পাপ মোচন কর), কিন্তু তারা এর পরিবর্তে স্লোগান দিচ্ছিল حِنْطَةٌ ‘গম চাই, গম’।

তাফসীরে জাকারিয়া

৫৯. কিন্তু যালিমরা তাদেরকে যা বলা হয়েছিল তার পরিবর্তে অন্য কথা বলল কাজেই আমরা যালিমদের প্রতি তাদের অবাধ্যতার কারণে আকাশ হতে শাস্তি নাযিল করলাম(১)।

১. হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “মহামারী এমন একটি রোগ যা বনী ইসরাঈলের উপর অথবা তোমাদের পূর্বের লোকদের উপর আকাশ থেকে প্রেরণ করা হয়েছিল। সুতরাং যখন তোমরা কোথাও এর সংবাদ কোথাও শুনতে পাবে তখন সেখানে যাবে না। আর তোমরা যেখানে থাক সেখানে নাযিল হলে সেখান থেকে পালিয়ে যেও না।” (বুখারী: ৩৪৭৩, মুসলিম: ২২১৮)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

৫৯। কিন্তু যারা অন্যায় করেছিল, তারা তাদেরকে যা বলা হয়েছিল, তার পরিবর্তে অন্য কথা বলল। (1) সুতরাং অনাচারীদের প্রতি আমি আকাশ হতে শাস্তি (2) প্রেরণ করলাম, কারণ তারা সত্যত্যাগ করেছিল।

(1) এর স্পষ্ট বর্ণনা সহীহ বুখারী ও মুসলিম ইত্যাদিতে বর্ণিত একটি হাদীসে এসেছে, নবী করীম (সাঃ) বলেছেন, তাদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে, সিজদানত অবস্থায় প্রবেশ কর, কিন্তু তারা পাছাকে যমীনে হিঁচড়াতে হিঁচড়াতে প্রবেশ করে এবং 'হিত্ত্বাহ' এর পরিবর্তে (হিনত্বাহ) হাববাতুন ফী শারাহ (অর্থাৎ, শীষে গম) বলতে বলতে প্রবেশ করে। তাদের মধ্যে কতই না অবাধ্যতা ও ধৃষ্টতা জন্ম নিয়েছিল এবং আল্লাহর বিধানের সাথে তারা কিভাবে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত এ থেকে তা সহজেই অনুমেয়। বস্তুতঃ যখন কোন জাতি চারিত্রিক ও আচার-আচরণে অধঃপতনের শিকার হয়, তখন আল্লাহর বিধানের সাথেও তাদের কার্যকলাপ অনুরূপ হয়ে যায়।

(2) এই আকাশ হতে আগত শাস্তি বা আসমানী আযাব কি ছিল? কয়েকটি উক্তি এ ব্যাপারে এসেছে। যেমন, আল্লাহর গযব, কঠিন ঠান্ডাজনিত কুয়াশা অথবা প্লেগ রোগ। শেষোক্ত অর্থের সমর্থন হাদীসে পাওয়া যায়। নবী করীম (সাঃ) বলেছেন, এই প্লেগ সেই আযাব ও শাস্তির অংশ যা তোমাদের পূর্বে কোন জাতির উপর নাযিল করা হয়েছিল। তোমাদের উপস্থিতিতে কোন স্থানে যদি এই প্লেগ মহামারী দেখা দেয়, তাহলে সেখান থেকে বের হবে না এবং কোন স্থানে যদি এই মহামারী হয়েছে বলে শোন, তবে সেখানে প্রবেশ করবে না। (সহীহ মুসলিম, অধ্যায়ঃ সালাম, পরিচ্ছেদঃ  প্লেগ, কুলক্ষণ এবং ভবিষ্যদ্বাণী ইত্যাদি ২২১৮নং)