وَٱلۡعَٰدِيَٰتِ ضَبۡحٗا

ওয়াল ‘আ-দিয়া-তি দাবহা-।উচ্চারণ

কসম সেই (ঘোড়া) গুলোর যারা হ্রেষারব সহকারে দৌড়ায়। তাফহীমুল কুরআন

শপথ সেই ঘোড়াসমূহের, যারা ঊর্ধ্বশ্বাসে দৌড়ায়মুফতী তাকী উসমানী

শপথ উর্ধ্বশ্বাসে ধাবমান অশ্বরাজীর,মুজিবুর রহমান

শপথ উর্ধ্বশ্বাসে চলমান অশ্বসমূহের,মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

শপথ ঊর্ধ্বশ্বাসে ধাবমান অশ্বরাজির, ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কসম ঊর্ধশ্বাসে ছুটে যাওয়া অশ্বরাজির,আল-বায়ান

শপথ সেই (ঘোড়া) গুলোর যারা ঊর্ধ্বশ্বাসে দৌড়ায়,তাইসিরুল

ভাবো ঊর্ধ্বশ্বাসে ধাবমানদের কথা,মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

দৌড়ায় শব্দের মাধ্যমে যে এখানে ঘোড়া বুঝানো হয়েছে আয়াতে শব্দগুলো থেকে একথা মোটেই স্পষ্ট নয়। বরং এখানে শুধু বলা হয়েছে (وَالۡعٰدِيٰتِ ) অর্থাৎ “কসম তাদের যারা দৌড়ায়।” এ কারণে কারা দৌড়ায় এর ব্যাপারে মুফাসসিরগণের মধ্যে বিভিন্ন মতের সৃষ্টি হয়েছে। সাহাবী ও তাবেঈগণের একটি দল বলেছেন, ঘোড়া এবং অন্য একটি দল বলেছেন উট। কিন্তু যেহেতু দৌড়াবার সময় বিশেষ আওয়াজ, যাকে (ضَبۡح) (হ্রেষারব) বলা হয়, একমাত্র ঘোড়ার মুখ দিয়েই দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস চলার কারণে বের হয় এবং পরের আয়াতগুলোতে অগ্নিষ্ফুলিংগ ঝরাবার, খুব সকালে কোন জনপদে অতর্কিত আক্রমণ চালাবার এবং সেখানে ধূলা উড়াবার কথা বলা হয়েছে, আর এগুলো একমাত্র ঘোড়ার সাথেই খাপ খায়, তাই অধিকাংশ গবেষক একে ঘোড়ার সাথে সংশ্লিষ্ট করেছেন। ইবনে জারীর বলেন, “এ ব্যাপারে যে দু’টি বক্তব্য পাওয়া যায় তার মধ্যে ঘোড়া দৌড়ায় এই বক্তব্যটি অগ্রাধিকার লাভের যোগ্য। কারণ উট হ্রেষারব করে না, ঘোড়া হ্রেষারব করে। আর আল্লাহ‌ বলেছেন, যারা হ্রেষারব করে দৌড়ায় তাদের কসম।” ইমাম রাজী বলেন, “এই আয়াতগুলোর বিভিন্ন শব্দ চিৎকার করে চলছে, এখানে ঘোড়ার কথা বলা হয়েছে। কারণ ঘোড়া ছাড়া আর কেউ হ্রেষারব করে না। আর আগুনের ষ্ফুলিংগ ঝরাবার কাজটিও পাথরের ওপর ঘোড়ার খুরের আঘাতেই সম্পন্ন হয়। এ ছাড়া অন্যকোন ভাবেই তা হতে পারে না। অন্যদিকে খুব সকালে আক্রমণ চালাবার কাজটিও অন্য কোন প্রাণীর তুলনায় ঘোড়ার সাহায্যে সম্পন্ন করাই সহজতর হয়।”

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

১. শপথ উধৰ্বশ্বাসে ধাবমান অশ্বরাজির(১),

(১) الْعَادِيَات শব্দটি عدو থেকে উদ্ভূত। অর্থ দৌড়ানো। ضبح বলা হয় ঘোড়ার দৌড় দেয়ার সময় তার বক্ষ থেকে নিৰ্গত আওয়াজকে। কোন কোন গবেষকের মতে এখানে দৌড়ায় শব্দের মাধ্যমে ঘোড়া বা উট অথবা উভয়টিও উদ্দেশ্য হতে পারে। তবে ইমাম কুরতুবী ঘোড়াকেই প্রাধান্য দিয়েছেন।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

১। শপথ ঊর্ধ্বশ্বাসে ধাবমান অশ্বরাজির। (1)

(1) عاديات হল عادية এর বহুবচন শব্দ। এর মূল ধাতু হল عدو। যেমন غزو ধাতু হতে غازيات। মূল শব্দের و কে ي দ্বারা পরিবর্তন করা হয়েছে। এর অর্থ হল ঊর্ধ্বশ্বাসে ধাবমান অশ্ব বা ঘোড়া। ضَبح শব্দের অর্থ হল হাঁপানো। কারো নিকট এর অর্থ হল, চিঁহি রব করা। উদ্দেশ্য সেই অশ্বরাজি; যেগুলি হাঁপিয়ে হাঁপিয়ে অথবা চিঁহি রব করে (ঊর্ধ্বশ্বাসে) জিহাদে দ্রুত গতিতে শত্রুর দিকে ছুটে যায়।