إِذَا زُلۡزِلَتِ ٱلۡأَرۡضُ زِلۡزَالَهَا

ইযা-ঝুলঝিলাতিল আরদুঝিলঝা-লাহা-।উচ্চারণ

যখন পৃথিবীকে প্রবলবেগে ঝাঁকুনি দেয়া হবে। তাফহীমুল কুরআন

যখন পৃথিবীকে আপন কম্পনে ঝাঁকিয়ে দেওয়া হবেমুফতী তাকী উসমানী

পৃথিবী যখন কম্পনে প্রবলভাবে প্রকম্পিত হবে,মুজিবুর রহমান

যখন পৃথিবী তার কম্পনে প্রকম্পিত হবে,মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

পৃথিবী যখন আপন কম্পনে প্রবলভাবে প্রকম্পিত হবে, ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যখন প্রচন্ড কম্পনে যমীন প্রকম্পিত হবে।আল-বায়ান

পৃথিবীকে যখন তার প্রচন্ড কম্পনে কাঁপিয়ে দেয়া হবে,তাইসিরুল

পৃথিবী যখন কম্পিত হবে আপন কম্পনে,মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

মূল শব্দগুলো হচ্ছে, زُلْزِلَتِ الْأَرْضُ زِلْزَالَهَا ‘যালযালাহু’ মানে হচ্ছে, একাদিক্রমে পরপর জোরে জোরে ঝাড়া দেয়া। কাজেই زُلْزِلَتِ الْأَرْضُ বলতে ধাক্কার পর ধাক্কা দিয়ে এবং ভূমিকম্পের পর ভূমিকম্পের মাধ্যমে পৃথিবীকে ভীষণভাবে কাঁপিয়ে দেয়া হবে। আর যেহেতু পৃথিবীকে নাড়া দেবার কথা বলা হয়েছে তাই এ থেকে আপনা-আপনিই এই অর্থ বের হয়ে আসে যে, পৃথিবীর কোন একটি অংশ কোন একটি স্থান বা অঞ্চল নয় বরং সমগ্র পৃথিবীকে কম্পিত করে দেয়া হবে। তারপর এই নাড়া দেবার এই ভূকম্পনের ভয়াবহতা আরো বেশী করে প্রকাশ করার জন্য তার সাথে বাড়তি زِلْزَالَهَا শব্দটিও বসিয়ে দেয়া হয়েছে। এ শব্দটির শাব্দিক মানে হচ্ছে, “কম্পিত হওয়া।” অর্থাৎ তার মতো বিশাল ভূগোলককে যে ভাবে ঝাঁকানি দিলে কাঁপে অথবা যেভাবে ঝাঁকানি দিলে তা চূড়ান্ত পর্যায়ে ভীষণভাবে কাঁপে ঠিক সেভাবে তাকে ঝাঁকানি দেয়া হবে। কোন কোন মুফাসসির এই কম্পনকে প্রথম কম্পন ধরে নিয়েছেন। তাদের মতে কিয়ামতের প্রথম পর্বের সূচনা হবে যে কম্পন থেকে এটি হচ্ছে সেই কম্পন। অর্থাৎ যে কম্পনের পর দুনিয়ার সব সৃষ্টি ধ্বংস হয়ে যাবে এবং তার সমগ্র ব্যবস্থাপনা ওলট-পালট হয়ে যাবে। কিন্তু মুফাসসিরগণের একটি বড় দলের মতে যে কম্পনের মাধ্যমে কিয়ামতের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হবে অর্থাৎ যখন আগের পিছের সমস্ত মানুষ পুনর্বার জীবিত হয়ে উঠবে, এটি সেই কম্পন। এই দ্বিতীয় ব্যাখ্যাটি বেশী নির্ভুল। কারণ পরবর্তী সমস্ত আলোচনায় এই বিষয়টির প্রকাশ ঘটেছে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

১. যখন প্ৰবল কম্পনে যমীন প্ৰকম্পিত করা হবে(১),

(১) ‘যালযালাহু’ মানে হচ্ছে, প্রচণ্ডভাবে জোরে জোরে ঝাড়া দেয়া, ভূকম্পিত হওয়া।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

১। পৃথিবী যখন আপন কম্পনে প্রবলভাবে প্রকম্পিত হবে। (1)

(1) অর্থাৎ, এর অর্থ হল ভূমিকম্পের কারণে সারা পৃথিবী কেঁপে উঠবে। আর সমস্ত বস্তু চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে। এই অবস্থা তখন হবে, যখন শিঙ্গায় প্রথমবার ফুৎকার করা হবে।