أَلَيۡسَ ٱللَّهُ بِأَحۡكَمِ ٱلۡحَٰكِمِينَ

আলাইছাল্লা-হু বিআহকামিল হা-কিমীন।উচ্চারণ

আল্লাহ কি সব শাসকের চাইতে বড় শাসক নন? তাফহীমুল কুরআন

আল্লাহ কি শাসকবৃন্দের মধ্যে শ্রেষ্ঠ শাসক নন? মুফতী তাকী উসমানী

আল্লাহ কি বিচারকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ নন?মুজিবুর রহমান

আল্লাহ কি বিচারকদের মধ্যে শ্রেষ্টতম বিচারক নন?মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আল্লাহ্ কি বিচারকদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ বিচারক নন ?ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আল্লাহ কি বিচারকদের শ্রেষ্ঠ বিচারক নন?আল-বায়ান

আল্লাহ কি বিচারকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম (বিচারক) নন?তাইসিরুল

আল্লাহ্ কি বিচারকদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ বিচারক নন?মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

অর্থাৎ যখন দুনিয়ার ছোট ছোট শাসকদের থেকেও তোমরা চাও এবং আশা করে থাকো যে, তারা ইনসাফ করবে, অপরাধীদেরকে শাস্তি দেবে এবং ভালো কাজ যারা করবে তাদেরকে পুরস্কৃত করবে তখন আল্লাহর ব্যাপারে তোমরা কি মনে করো? তিনি কি সব শাসকের বড় শাসক নন? যদি তোমরা তাঁকে সবচেয়ে বড় শাসক বলে স্বীকার করে থাকো তাহলে কি তাঁর সম্পর্কে তোমরা ধারণা করো যে, তিনি ইনসাফ করবেন না? তাঁর সম্পর্কে কি তোমরা এই ধারণা পোষণ করো যে, তিনি মন্দ ও ভালোকে একই পর্যায়ে ফেলবেন? তোমরা কি মনে করো তাঁর দুনিয়ায় যারা সবচেয়ে খারাপ কাজ করবে আর যারা সবচেয়ে ভালো কাজ করবে তারা সবাই মরে মাটির সাথে মিশে যাবে। কাউকে তার খারাপ কাজের শাস্তি দেয়া হবে না এবং কাউকে তার ভালো কাজের পুরস্কারও দেয়া হবে না?

ইমাম আহমাদ, তিরমিযী, আবু দাউদ, ইবনুল মুনযির, বায়হাকী, হাকেম ও ইবনে মারদুইয়া হযরত আবু হুরাইরা (রা) থেকে একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন “ওয়াত তীনে ওয়ায্যায়তূনে” সূরা পড়তে পড়তে (اَلَيۡسَ اللّٰهُ بِاَحۡكَمِ الۡحٰكِمِيۡنَ ) আয়াতটিতে পৌঁছে তখন যেন সে বলে। (وَاَنًا عاى اج ذالِكَ مِنَ اشَّا هِدِيْنَ ا ) (হ্যাঁ, এবং আমি তার ওপর সাক্ষদানকারীদের একজন)। আবার কোন কোন হাদীসে বলা হয়েছে নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন এই আয়াতটি পড়তেন, তিনি বলতেন, (سُبْحانَكَ فَبَآى) (হে আল্লাহ তুমি পবিত্র! আর তুমি এই যা বলছো তা সত্য।)

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

আবু দাঊদ ও তিরমিযীর এক হাদীস দ্বারা জানা যায়, এ আয়াত পড়ার পরوَاَنَا عَلٰى ذٰلِكَ مَنَ الشَّاهِدِيْنَ বলা মুস্তাহাব। এর অর্থ ‘কেন নয়? আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ সকল শাসকের শ্রেষ্ঠ শাসক’। [এর আরেক অর্থ হতে পারে ‘আল্লাহ কি বিচারকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বিচারক নন?’ অর্থাৎ জ্ঞান ও শক্তিতে পরিপূর্ণ হওয়ার কারণে অপরাধের শাস্তিবিধান ও পারস্পরিক বিরোধের মীমাংসায় আল্লাহ তাআলাই শ্রেষ্ঠতম ন্যায়বিচারক। দুনিয়ায়ও তিনি কারও প্রতি বিন্দুমাত্র জুলুম করেন না এবং আখিরাতের মহাবিচার দিবসেও তার পক্ষ হতে কোনও রকম জুলুমের আশংকা নেই। -অনুবাদক]

তাফসীরে জাকারিয়া

৮. আল্লাহ কি বিচারকদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ বিচারক নন?(১)

(১) আল্লাহ তা'আলা কি সব বিচারকের মহাবিচারক নন? তিনি কি সকল শাসকবর্গের মধ্যে সর্বোত্তম শাসক নন? এই ন্যায় বিচারের অতি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল প্রত্যেক অপরাধীকে তার শাস্তি ও প্রত্যেক সৎকর্মীকে তার উপযুক্ত পুরস্কার প্রদান করা। বিচারকদের শ্রেষ্ঠবিচারক আল্লাহ্ তা'আলা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন, এক পর্যায় থেকে অন্য পর্যায়ে উপনীত করেছেন পরিপূর্ণ ন্যায় ও প্রজ্ঞার সাথে; তবুও কি তিনি মানুষের কৃতকর্মের উপযুক্ত প্রতিদানও দেবেন না? (বাদাইউত তাফসীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

৮। আল্লাহ কি বিচারকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বিচারক নন? (1)

(1) অর্থাৎ, আল্লাহ কারো প্রতি অবিচার করেন না। আর তাঁর সুবিচারের দাবী এই যে, তিনি কিয়ামত সংঘটিত করবেন এবং যাদের উপর দুনিয়ায় যুলুম করা হয়েছে তাদেরকে পূর্ণ বদলা দিয়ে দেওয়া হবে।

প্রকাশ থাকে যে, এই সূরার শেষে ‘বালা অআনা আলা যা-লিকা মিনাশ শাহিদীন’ বলার হাদীস সহীহ নয়। (তিরমিযী)