فَمَا يُكَذِّبُكَ بَعۡدُ بِٱلدِّينِ

ফামা-ইউকাযযি বুকা বা‘দুবিদ্দীন।উচ্চারণ

কাজেই (হে নবী!) এরপর পুরস্কার ও শাস্তির ব্যাপারে কে তোমাকে মিথ্যাবাদী বলতে পারে? তাফহীমুল কুরআন

সুতরাং (হে মানুষ!) এরপর আর কী জিনিস আছে, যা তোমাকে কর্মফল দিবস প্রত্যাখ্যানে উদ্বুদ্ধ করছে?মুফতী তাকী উসমানী

সুতরাং এরপর কিসে তোমাকে কর্মফল সম্বন্ধে অবিশ্বাসী করে?মুজিবুর রহমান

অতঃপর কেন তুমি অবিশ্বাস করছ কেয়ামতকে?মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

সুতরাং এটার পর কিসে তোমাকে কর্মফল সম্বন্ধে অবিশ্বাসী করে ? ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সুতরাং এরপরও কিসে তোমাকে কর্মফল সম্পর্কে অবিশ্বাসী করে তোলে?আল-বায়ান

(ভাল কাজের পুরস্কার দেয়া আর অন্যায় কাজের শাস্তি দেয়াই ইনসাফপূর্ণ কথা) কাজেই শেষ বিচারের দিনকে অস্বীকার করতে কিসে তোমাদেরকে উদ্বুদ্ধ করছে?তাইসিরুল

তবে কী যা এরপরে তোমাকে বিচারসন্বন্ধে মিথ্যারোপ করতে দেয়?মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

এই আয়াতটির আর একটি অনুবাদ এও হতে পারেঃ “কাজেই (হে মানুষ) এরপর কোন্ জিনিসটি তোমাকে শাস্তি ও পুরস্কারের বিষয়টি মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে উদ্বুদ্ধ করে? উভয় অর্থের ক্ষেত্রে লক্ষ্য ও মূল বক্তব্য একই থাকে। অর্থাৎ মানুষের সামাজে প্রকাশ্যে দেখা যায় সর্বোত্তম কাঠামোয় সৃষ্ট মানুষের একটি দল নৈতিক অধপাতে যেতে যেতে একেবারে নীচতমদেরও নীচে পৌঁছে যায় আবার অন্য একটি দল সৎকাজের পথ অবলম্বন করে এই পতনের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করে এবং মানুষকে সর্বোত্তম কাঠামোয় সৃষ্টি করার যে উদ্দেশ্য ছিল তার ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকে। এ অবস্থায় পুরস্কার ও শাস্তিকে কেমন করে মিথ্যা বলা যেতে পারে? বুদ্ধি কি একথা বলে, উভয় ধরনের মানুষের একই পরিণাম হবে? ইনসাফ কি একথাই বলে, অধপাতে যেতে যেতে নীচতমদেরও নীচে যারা পৌঁছে যায় তাদেরকে কোন শাস্তিও দেয়া যাবে না এবং এই অধপতন থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করে যারা পবিত্র জীবন যাপন করে তাদেরকে কোন পুরস্কারও দেয়া যাবে না? এই কথাটিকেই কুরআনের অন্যান্য স্থানে এভাবে বলা হয়েছেঃ

اَفَنَجۡعَلُ الۡمُسۡلِمِيۡنَ كَالۡمُجۡرِمِيۡنَ مَا لَكُمۡ كَيۡفَ تَحۡكُمُوۡنَ‌ۚ

“আমি কি অনুগতদেরকে অপরাধীদের মতো করে দেবো? তোমাদের কি হয়ে গেছে? তোমরা কেমন ফায়সালা করছো? ( আল কলম ৩৫-৩৬ আয়াত)।

اَمۡ حَسِبَ الَّذِيۡنَ اجۡتَرَحُوۡا السَّيِّاٰتِ اَنۡ نَّجۡعَلَهُمۡ كَالَّذِيۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوۡا الصّٰلِحٰتِ ۙ سَوَآءً مَّحۡيَاهُمۡ وَمَمَاتُهُمۡ‌ؕ سَآءَ مَا يَحۡكُمُوۡنَ

“দুষ্কৃতকারীরা কি একথা মনে করেছে, আমি তাদেরকে এমন লোকদের মতো করে দেবো যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে? উভয়ের জীবন ও মৃত্যু এক রকম হবে? খুবই খারাপ সিদ্ধান্ত যা এরা করছে।” (আল জাসিয়া ২১ আয়াত )

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

৭. কাজেই (হে মানুষ!) এরপর কিসে তোমাকে কৰ্মফল দিন সম্পর্কে অবিশ্বাসী করে?(১)

(১) এতে কেয়ামতে অবিশ্বাসীদেরকে হুশিয়ার করা হয়েছে যে, আল্লাহর কুদরাতের উপরোক্ত দৃশ্য ও পরিবর্তন দেখার পরও তোমাদের জন্যে আখেরাত ও কেয়ামতকে মিথ্যা মনে করার কি অবকাশ থাকতে পারে? তোমাদেরকে আল্লাহ তা'আলা সুন্দর করে সৃষ্টি করেছেন, তিনি ইচ্ছা করলে হীনতম ও নিম্নতম পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারেন, তারপরও কেন তোমরা তা অস্বীকার করবে? এর আরেকটি অনুবাদ এও হতে পারে, এসব প্রমাণের পর (হে রাসূল) শাস্তি ও পুরষ্কারের ব্যাপারে কে আপনাকে মিথ্যা বলতে পারে? (কুরতুবী) এই কথাটিকেই কুরআনের অন্যান্য স্থানে এভাবে বলা হয়েছে, “আমি কি অনুগতদেরকে অপরাধীদের মতো করে দেবো? তোমাদের কি হয়ে গেছে? তোমরা কেমন ফয়সালা করছো? (সূরা আল-কলম: ৩৫–৩৬) আরো এসেছে, “দুষ্কৃতকারীরা কি একথা মনে করেছে, আমি তাদেরকে এমন লোকদের মতো করে দেবো যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে? উভয়ের জীবন ও মৃত্যু এক রকম হবে? খুবই খারাপ সিদ্ধান্ত যা এরা করছে। (সূরা আল-জাসিয়াহ: ২১)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

৭। সুতরাং এরপর কিসে তোমাকে (হে মানুষ) কর্মফল দিবস সম্বন্ধে অবিশ্বাসী করে? (1)

(1) এ দিয়ে কিয়ামতের অবিশ্বাসীদেরকে হুমকির সাথে হুঁশিয়ার করা হয়েছে যে, আল্লাহ তোমাকে সুন্দরতম অবয়বে সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি তোমাকে তার বিপরীত হীনতার অতল তলে নিক্ষেপ করতেও সক্ষম। আর তার মানেই হল, তোমাকে পুনর্বার সৃষ্টি করা তাঁর পক্ষে কোন কঠিন কাজ নয়। সুতরাং এরপরেও কি তুমি কিয়ামত ও প্রতিফল দিবসকে অবিশ্বাস করবে?