وَهَٰذَا ٱلۡبَلَدِ ٱلۡأَمِينِ

ওয়া হা-যাল বালাদিল আমীন।উচ্চারণ

এবং এই নিরাপদ নগরীর (মক্কা) কসম। তাফহীমুল কুরআন

এবং এই নিরাপদ শহরের মুফতী তাকী উসমানী

এবং শপথ এই নিরাপদ বা শান্তিময় নগরীর –মুজিবুর রহমান

এবং এই নিরাপদ নগরীর।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এবং শপথ এই নিরাপদ নগরীর, ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কসম এই নিরাপদ নগরীর।আল-বায়ান

আর (ইবরাহীম ও ইসমাঈল কর্তৃক নির্মিত কা‘বার) এই নিরাপদ নগরীর শপথ,তাইসিরুল

আর এই নিরাপদ নগরের কথা!মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

ফিলিস্তিন ও শাম এলাকায় আঞ্জির ও যয়তুন বেশি জন্মায়। কাজেই এর দ্বারা ফিলিস্তিন অঞ্চলের দিকে ইশারা করা হয়েছে, যেখানে হযরত ঈসা আলাইহিস সালামকে নবী করে পাঠানো হয়েছিল এবং তাকে ইনজীল কিতাব দেওয়া হয়েছিল। আর সিনাই মরুভূমিস্থ তুর তো সেই পাহাড়, যার উপর হযরত মূসা আলাইহিস সালামকে তাওরাত দেওয়া হয়েছিল। নিরাপদ শহর, বলতে মক্কা মুকাররমাকে বোঝানো হয়েছে, যেখানে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নবী বানিয়ে পাঠানো হয় এবং তার প্রতি কুরআন মাজীদ নাযিল করা হয়। এই তিনটির শপথ করার তাৎপর্য এই যে, এর পর যে কথা বলা হচ্ছে, তা তাওরাত, ইনজিল ও কুরআন এ তিনও কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে এবং তিনও নবী আপন-আপন উম্মতকে তা জানিয়েছেন।

তাফসীরে জাকারিয়া

৩. শপথ এই নিরাপদ নগরীর(১)-

(১) এ সূরায় কয়েকটি বস্তুর শপথ করা হয়েছে। (এক) তীন অর্থাৎ আঞ্জির বা ডুমুর এবং যায়তুন। (দুই) সিনাই প্রান্তরস্থ তুর পর্বত। (তিন) নিরাপদ শহর তথা মক্কা মোকাররমা। এই বিশেষ শপথের কারণ এই হতে পারে যে, তুর পর্বত ও মক্কা নগরীর ন্যায় ডুমুর ও যায়তুন বৃক্ষও বিপুল উপকারী বস্তু। অথবা এটাও সম্ভবপর যে, এখানে তীন ও যায়তুন উল্লেখ করে সে স্থানকে বোঝানো হয়েছে, যেখানে এ বৃক্ষ প্রচুর পরিমাণে উৎপন্ন হয়। আর সে স্থান হচ্ছে সিরিয়া ও ফিলিস্তিন অঞ্চল, যা অগণিত রাসূলগণের আবাসভূমি। বিশেষ করে তা ঈসা আলাইহিস সালামের নবুয়ত-প্ৰাপ্তিস্থান। আর তুর পর্বত মূসা আলাইহিস সালাম-এর আল্লাহর সাথে বাক্যালাপের স্থান। সিনীন অথবা সীনা- তুর পর্বতের অবস্থানস্থলের নাম। পরবর্তীতে উল্লেখ করা নিরাপদ শহর হল পবিত্র মক্কা; যা শেষনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্মস্থান ও নবুয়ত প্ৰাপ্তিস্থান। (বাদাইউত তাফসীর, ইবন কাসীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

৩। এবং শপথ এই নিরাপদ নগরী (মক্কা)র। (1)

(1) এখানে ‘নিরাপদ নগরী’ বলে মক্কা নগরীকে বোঝানো হয়েছে। যেখানে কোন প্রকার যুদ্ধ বা হত্যাকান্ড বৈধ নয়। এ ছাড়াও যে ব্যক্তি এই শহরে প্রবেশ করে যাবে সেও নিরাপত্তার অধিকারী হবে। কিছু ব্যাখ্যাকারীগণ বলেছেন যে, আসলে এখানে আল্লাহ তিনটি জায়গার কসম খেয়েছেন; যে জায়গাগুলিতে সুখ্যাতিসম্পন্ন, শরীয়তপ্রাপ্ত পয়গম্বর প্রেরণ হয়েছেন। ‘তীন’ ও ‘যায়তুন’ থেকে সেই এলাকা বোঝান হয়েছে যেখানে এসব ফল (অধিকাধিক) উৎপন্ন হয়। আর সেটা হল ‘বাইতুল মাকদিস’ এলাকা। যেখানে ঈসা (আঃ) পয়গম্বর হয়ে প্রেরিত হয়েছিলেন। ‘ত্বুরে সীনা’ অথবা সিনাই পর্বতে মূসা (আঃ)-কে নবুঅত দান করা হয়েছিল। আর মক্কা নগরীতে নবীকূল শিরোমণি মুহাম্মাদ (সাঃ)-কে প্রেরণ করা হয়েছিল। (ইবনে কাসীর)