وَإِذۡ نَجَّيۡنَٰكُم مِّنۡ ءَالِ فِرۡعَوۡنَ يَسُومُونَكُمۡ سُوٓءَ ٱلۡعَذَابِ يُذَبِّحُونَ أَبۡنَآءَكُمۡ وَيَسۡتَحۡيُونَ نِسَآءَكُمۡۚ وَفِي ذَٰلِكُم بَلَآءٞ مِّن رَّبِّكُمۡ عَظِيمٞ

ওয়া ইযনাজ্জাইনা-কুম মিন আ-লি ফির‘আওনা ইয়াছুমূনাকুম ছূআল ‘আযা-বি ইউযাব্বিহুনা আবনাআকুম ওয়াইয়াছতাহইউনা নিছাআকুম ওয়া ফী যা-লিকুম বালাউম মিররব্বিকুম ‘আজীম।উচ্চারণ

স্মরণ করো সেই সময়ের কথা ৬৪ যখন আমরা ফেরাউনী দলের ৬৫ দাসত্ব থেকে তোমাদের মুক্তি দিয়েছিলাম। তারা তোমাদের কঠিন যন্ত্রণায় নিমজ্জিত করে রেখেছিল, তোমাদের পুত্র সন্তানদের যবেহ করতো এবং তোমাদের কন্যা সন্তানদের জীবিত রেখে দিতো। মূলত এ অবস্থায় তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য বড় কঠিন পরীক্ষা ছিল। ৬৬ তাফহীমুল কুরআন

এবং (সেই সময়কেও স্মরণ কর), যখন আমি তোমাদেরকে ফির‘আউনের লোকজন থেকে মুক্তি দেই, যারা তোমাদেরকে কঠিন শাস্তি দিচ্ছিল। তোমাদের পুত্রদেরকে যবাহ করে ফেলছিল এবং তোমাদের নারীদেরকে জীবিত রাখছিল। #%৪৪%# আর এই যাবতীয় পরিস্থিতিতে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে তোমাদের জন্য ছিল মহা পরীক্ষা।মুফতী তাকী উসমানী

এবং যখন আমি তোমাদেরকে ফির‘আউনের সম্প্রদায় হতে বিমুক্ত করেছিলাম - তারা তোমাদেরকে কঠোর শাস্তি প্রদান করত, তোমাদের পুত্রদেরকে হত্যা করত এবং তোমাদের কন্যাদেরকে জীবিত রাখত এবং এতে তোমাদের রাব্ব হতে তোমাদের জন্য মহা পরীক্ষা ছিল।মুজিবুর রহমান

আর (স্মরণ কর) সে সময়ের কথা, যখন আমি তোমাদিগকে মুক্তিদান করেছি ফেরআউনের লোকদের কবল থেকে যারা তোমাদিগকে কঠিন শাস্তি দান করত; তোমাদের পুত্রসন্তানদেরকে জবাই করত এবং তোমাদের স্ত্রীদিগকে অব্যাহতি দিত। বস্তুতঃ তাতে পরীক্ষা ছিল তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে, মহা পরীক্ষা।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

স্মরণ কর, যখন আমি ফির‘আওনী সম্প্রদায় হতে তোমাদেরকে নিষ্কৃতি দিয়েছিলাম, যারা তোমাদের পুত্রগণকে যবেহ্ করে ও তোমাদের নারীগণকে জীবিত রেখে তোমাদেরকে মর্মান্তিক যন্ত্রণা দিত; আর এতে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে এক মহাপরীক্ষা ছিল; ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর স্মরণ কর, যখন আমি তোমাদেরকে ফির‘আউনের দল থেকে রক্ষা করেছিলাম। তারা তোমাদেরকে কঠিন আযাব দিত। তোমাদের পুত্র সন্তানদেরকে যবেহ করত এবং তোমাদের নারীদেরকে বাঁচিয়ে রাখত। আর এতে তোমাদের রবের পক্ষ থেকে ছিল মহা পরীক্ষা।আল-বায়ান

স্মরণ কর, আমি যখন তোমাদেরকে ফেরাউন গোষ্ঠী হতে মুক্তি দিয়েছিলাম, যারা তোমাদের পুত্র সন্তানকে হত্যা ক’রে আর তোমাদের নারীদেরকে জীবিত রেখে তোমাদেরকে মর্মান্তিক যাতনা দিত আর এতে তোমাদের প্রভুর পক্ষ হতে ছিল মহাপরীক্ষা।তাইসিরুল

আর স্মরণ করো! তোমাদের আমরা ফিরআউনের লোকদের থেকে মুক্ত করেছিলাম, যারা তোমাদের নির্যাতন করেছিল কঠোর যন্ত্রণায়, তারা হত্যা করত তোমাদের পুত্র সন্তানদের ও বাঁচতে দিত তোমাদের নারীদের। আর এতে তোমাদের জন্যে তোমাদের প্রভুর কাছ থেকে ছিল কঠোর পরীক্ষা।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৬৪

এখান থেকে নিয়ে পরবর্তী কয়েক রুকূ’ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে যেসব ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে সেগুলো সবই বনী ইসরাঈলদের ইতিহাসের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ঘটনা। ইসরাঈল জাতির যুব-বৃদ্ধ-শিশু নির্বেশেষে সবাই সেগুলো জানতো। তাই ঘটনাগুলোর বিস্তারিত আলোচনা না করে এক একটি ঘটনার প্রতি সংক্ষেপে ইঙ্গিত করা হয়েছে মাত্র। এই ঐতিহাসিক বর্ণনার মাধ্যমে মহান আল্লাহ‌ আসলে যে বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরতে চান সেটি হচ্ছে এই যে, একদিকে আল্লাহ‌ তোমাদের প্রতি এসব অনুগ্রহ করেছিলেন আর অন্যদিকে তার জবাবে এসব হচ্ছে তোমাদের কীর্তিকলাপ।

৬৫

‘আলে ফেরাউন’ শব্দের অনুবাদ করেছি আমি “ফেরাউনী দল।” এতে ফেরাউনের বংশ ও মিসরের শাসকশ্রেণী উভয়ই অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

৬৬

যে চুল্লীর মধ্যে তোমাদের নিক্ষেপ করা হয়েছিল তা থেকে তোমরা খাঁটি সোনা হয়ে বের হও, না ভেজাল হয়ে – এরই ছিল পরীক্ষা। এত বড় বিপদের মুখ থেকে অলৌকিকভাবে মুক্তি লাভ করার পরও তোমরা আল্লাহর কৃতজ্ঞ বান্দায় পরিণত হও কি না, এ মর্মেও ছিল পরীক্ষা।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

ফির‘আউন ছিল মিসরের রাজা (আধুনিক গবেষণা অনুযায়ী তার নাম মিনিফতাহ, শাসনকাল খৃ. পূ. ১২৩৫ থেকে ১২২৪। ইনি দ্বিতীয় রেয়েমসীস [খৃ.পূ. ১২৯০-১২৩৫]-এর পুত্র ও স্থলাভিষিক্ত।) মিসরে বিপুল সংখ্যক ইয়াহুদী বাস করত এবং তারা ফির‘আউনের দাসরূপে জীবন যাপন করত। একবার এক জ্যোতিষী ফির‘আউনের সামনে ভবিষ্যদ্বাণী প্রকাশ করল যে, এ বছর বনী ইসরাঈলে একটি শিশুর জন্ম হবে, যার হাতে তার রাজত্ব ধ্বংস হবে। এ ভবিষ্যদ্বাণী শুনে সে ফরমান জারি করল, বনী ইসরাঈলে যত শিশুর জন্ম হবে, সকলকে হত্যা করা হোক, তবে মেয়ে শিশুকে নয়। কেননা বড় হলে তাদের থেকে সেবা নেওয়া যাবে। এভাবে বহু নবজাতককে হত্যা করা হয়। হযরত মূসা আলাইহিস সালামও এ বছরই জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাকে রক্ষা করেন। বিস্তারিত ঘটনা সূরা তোয়াহা ও সূরা কাসাস-এ স্বয়ং কুরআন মাজীদই বর্ণনা করেছে।

তাফসীরে জাকারিয়া

৪৯. আর স্মরণ কর, যখন আমরা ফিরআউনের বংশ হতে তোমাদেরকে নিস্কৃতি দিয়েছিলাম তারা তোমাদেরকে মর্মান্তিক শাস্তি দিত। তোমাদের পুত্রদের যবেহ করে ও তোমাদের নারীদের বাঁচিয়ে রাখত(১)। আর এতে ছিল তোমাদের রব-এর পক্ষ থেকে এক মহাপরীক্ষা।(২)

১. কোন ব্যক্তি ফিরআউনের নিকট ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল যে, ইসরাঈল বংশে এমন এক ছেলের জন্ম হবে, যার হাতে তোমার রাজ্যের পতন ঘটবে। এজন্য ফিরআউন নবজাত পুত্রসন্তানদের হত্যা করতে আরম্ভ করলো। আর যেহেতু মেয়েদের দিক থেকে কোন রকম আশংকা ছিল না, সুতরাং তাদের সম্পর্কে নিশ্চুপ রইলো। দ্বিতীয়তঃ এতে তার নিজস্ব একটি মতলবও ছিল যে, সে স্ত্রীলোকদেরকে দিয়ে ধাত্রী পরিচারিকার কাজও করানো যাবে। সুতরাং এ অনুকম্পাও ছিল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এখানে উল্লেখিত হত্যাকাণ্ড থেকে অব্যাহতি দানের কথা বুঝানো হয়েছে, যা এক অনুগ্রহ ও নেয়ামত। আর নেয়ামতের ক্ষেত্রেই শুকরিয়া বা কৃতজ্ঞতার পরীক্ষা হয়। এত বড় নে’আমতের শুকরিয়া স্বরূপ নবীগণ কি করেছেন?

হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মদীনা আগমন করলেন, তখন দেখলেন যে, ইয়াহুদীরা মহররমের দশ তারিখের সাওম পালন করছে। তিনি তাদেরকে বললেন, ব্যাপারটি কি? তারা বললঃ এটি একটি ভাল দিন। এ দিনে আল্লাহ বনী ইসরঈলকে তাদের শক্রদের হাত থেকে নাজাত দিয়েছিলেন, ফলে মূসা আলাইহিস সালাম এ দিন সাওম পালন করেছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলাইহি ওয়া সাল্লাম সে দিনের সাওম পালন করলেন এবং লোকদেরকে সেদিনের সাওম রাখার নির্দেশ দিলেন।” (বুখারী: ২০০৪, মুসলিম: ১২৮)

২. অবশ্য ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে সহীহ সনদে بلاء শব্দের অর্থ, নেয়ামত বর্ণিত হয়েছে। তখন উদ্দেশ্য হবে, তাদের নাজাত ছিল এক বড় নেয়ামত। (তাবারী)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

৪৯। স্মরণ কর, যখন আমি ফিরআউনের অনুসারী দল (1) হতে তোমাদেরকে নিষ্কৃতি দিয়েছিলাম, যারা তোমাদের পুত্রগণকে হত্যা করে ও তোমাদের নারীদের জীবিত রেখে তোমাদেরকে মর্মান্তিক যন্ত্রণা দিত এবং ওতে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে এক মহা পরীক্ষা ছিল।

(1) آل فرعون (ফিরআউনের বংশধর) বলতে কেবল ফিরআউনের পরিবারের লোকদেরকেই বুঝানো হয়নি, বরং তার অর্থ ফিরআউনের সকল অনুসারীগণ। যেমন পরের আয়াতে বলা হয়েছে, {اَغْرَقْنَا آلَ فِرْعَوْنَ} ;ফিরআউনের অনুসারীদেরকে (সমুদ্রে) ডুবিয়ে দিলাম। এখানে যারা ডুবেছিল তারা কেবল ফিরআউনের পরিবারেরই লোকজন ছিল না, বরং তার সৈন্য ও অন্যান্য অনুসারীরাও ছিল। অর্থাৎ, ক্বুরআনে আল (বংশ) অনুসারীর অর্থেও ব্যবহার হয়। এর আরো ব্যাখ্যা সূরা আহযাবে (৩৩নং আয়াতে) আসবে- ইন শাআল্লাহ।