ওয়ালাও আন্না-কাতাবনা-‘আলাইহিম আনিকতুলূআনফুছাকুম আবিখরুজুমিন দিয়া-রিকুম মা-ফা‘আলূহু ইলা-কালীলুম মিনহুম ওয়ালাও আন্নাহুম ফা‘আলূমা-ইউ‘আজূনা বিহী লাক-না খাইরল্লাহুম ওয়া আশাদ্দা তাছবীতা-।উচ্চারণ
যদি আমি হুকুম দিতাম, তোমরা নিজেদেরকে হত্যা করো অথবা নিজেদের ঘর থেকে বের হয়ে যাও, তাহলে তাদের খুব কম লোকই এটাকে কার্যকর করতো। ৯৬ অথচ তাদেরকে যে নসীহত করা হয় তাকে যদি তারা কার্যকর করতো তাহলে এটি হতো তাদের জন্য অধিকতর ভালো ও অধিকতর দৃঢ়তা ও অবিচলতার প্রমাণ। ৯৭ তাফহীমুল কুরআন
আমি যদি তাদের উপর ফরয করে দিতাম যে, তোমরা নিজেরা নিজেদেরকে হত্যা কর অথবা নিজেদের ঘর-বাড়ি থেকে বের হয়ে যাও, তবে তারা তা করত না তাদের অল্পসংখ্যক লোক ছাড়া। তাদেরকে যে বিষয়ে উপদেশ দেওয়া হচ্ছে, তারা যদি তা পালন করত, তবে তাদের পক্ষে তা বড়ই কল্যাণকর হত এবং তা (তাদের অন্তরে) অবিচলতা সৃষ্টিতে অত্যন্ত সহায়ক হত। #%৫০%#মুফতী তাকী উসমানী
আর আমি যদি তাদের উপর বিধিবদ্ধ করতাম যে, তোমরা নিজেদেরকে হত্যা কর অথবা স্বীয় গৃহ প্রাচীর হতে নিস্ক্রান্ত হও তাহলে তাদের অল্প সংখ্যক ব্যতীত ওটা করতনা এবং যদ্বিষয়ে তাদেরকে উপদেশ দেয়া হয়েছিল তা যদি তারা করত তাহলে নিশ্চয়ই ওটা হত তাদের জন্য কল্যাণকর এবং ধর্মের উপর সুদৃঢ় থাকার জন্যও।মুজিবুর রহমান
আর যদি আমি তাদের নির্দেশ দিতাম যে, নিজেদের প্রাণ ধ্বংস করে দাও কিংবা নিজেদের নগরী ছেড়ে বেরিয়ে যাও, তবে তারা তা করত না; অবশ্য তাদের মধ্যে অল্প কয়েকজন। যদি তারা তাই করে যা তাদের উপদেশ দেয়া হয়, তবে তা অবশ্যই তাদের জন্য উত্তম এং তাদেরকে নিজের ধর্মের উপর সুদৃঢ় রাখার জন্য তা উত্তম হবে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
যদি তাদেরকে আদেশ দিতাম, তোমরা নিজেদেরকে হত্যা কর বা আপন গৃহ ত্যাগ কর তবে তাদের অল্পসংখ্যকই তা করত। যা করতে তাদেরকে উপদেশ দেওয়া হয়েছিল তারা তা করলে তাদের ভাল হত আর চিত্তস্থিরতায় তারা দৃঢ়তর হত। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর যদি আমি তাদের উপর লিখে দিতাম যে, তোমরা নিজদের হত্যা কর কিংবা নিজ গৃহ থেকে বের হয়ে যাও, তাহলে তাদের কম সংখ্যক লোকই তা বাস্তবায়ন করত। আর যে উপদেশ তাদেরকে দেয়া হয় যদি তারা তা বাস্তবায়ন করত, তাহলে সেটি হত তাদের জন্য উত্তম এবং স্থিরতায় সুদৃঢ়।আল-বায়ান
যদি আমি তাদের প্রতি ফরয করে দিতাম যে তোমরা নিজেদেরকে হত্যা কর, কিংবা নিজেদের দেশ থেকে বেরিয়ে যাও, তবে স্বল্পসংখ্যক লোক ছাড়া কেউ তা পালন করত না, যা করতে তাদেরকে উপদেশ দেয়া হয় তা যদি তারা পালন করত, তবে তা তাদের পক্ষে কল্যাণকর হত এবং দৃঢ় চিত্ততার কারণ হত।তাইসিরুল
আর আমরা যদি তাদের জন্য বিধান করতাম, যথা -- "তোমাদের প্রাণ বিসর্জন করো", অথবা "তোমাদের বাড়িঘর থেকে বেরিয়ে পড়ো", তারা তা করতো না তাদের মধ্যের অল্প কয়েকজন ছাড়া। আর যদি তারা তাই করতো যে ব্যাপারে তাদের উপদেশ দেয়া হয়েছিল তবে তাদের জন্য তা হতো বহু ভালো ও আরো বেশী শক্তিদায়ক;মাওলানা জহুরুল হক
৯৬
অর্থাৎ যখন তারা শরীয়াত মেনে চলতে গিয়ে সামান্যতম ক্ষতি বা কষ্ট বরদাশত করতে পারে না তখন তাদের কাছ থেকে কোন বড় রকমের ত্যাগ ও কুরবানীর আশা কোনক্রমেই করা যেতে পারে না। তাদের কাছে যদি প্রাণদান বা ঘর বাড়ি পরিত্যাগ করার দাবী করা হয় তাহলে তারা সঙ্গে সঙ্গেই সটকে পড়বে এবং ঈমান ও আনুগত্যের পরিবর্তে কুফরী ও নাফরমানির পথ অবলম্বন করবে।
৯৭
অর্থাৎ যদি এরা সন্দেহ সংশয় ও দ্বিধার পথ পরিহার করে নিষ্ঠা ও একাগ্রতার সাথে রসূলের আনুগত্যের পথে এগিয়ে চলতো এবং কোন অবস্থায় দোদুল্যমান না হতো, তাহলে এদের জীবন অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা মুক্ত হতো। এদের চিন্তা-ভাবনা, নীতি নৈতিকতা, লেনদেন সবকিছুই একটি স্থায়ী ও সুদৃঢ় বুনিয়াদের ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে পারতো। একটি সত্য সরল রাজপথে দৃঢ়তা ও অবিচলতার সাথে এগিয়ে চলার ফলে যে সাফল্য ও সমৃদ্ধি অর্জিত হয় তা তারা অর্জন করতে সক্ষম হতো। যে ব্যক্তি দ্বিধা ও দোদুল্যমান অবস্থার শিকার হয়, কখনো এ পথে কখনো ওপথে চলে এবং কোন একটি পথের নির্ভুলতা সম্পর্কে তার মনে আস্থারভাব জাগে না, তার সারাটা জীবন কাটে কচু পাতায় রাখা পানির মতো অবস্থায় এবং তার সারা জীবনের সমস্ত প্রচেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
অর্থাৎ বনী ইসরাঈলকে বিভিন্ন রকমের কঠিন বিধান দেওয়া হয়েছিল। তার মধ্যে একটা ছিল তাওবা হিসেবে পরস্পরে একে অন্যকে হত্যা করা। সূরা বাকারার (২ : ৫৪) নং আয়াতে তার উল্লেখ রয়েছে। এখন যদি সে রকম কঠিন কোন হুকুম দেওয়া হত, তবে তাদের কেউ তা পালন করত না। এখন তো তাদেরকে অতি সহজ নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। বলা হচ্ছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দেওয়া বিধানাবলী মনে-প্রাণে স্বীকার করে নাও। সুতরাং তাঁর সত্যিকার অনুগত বনে যাওয়াই তাদের জন্য নিরাপদ রাস্তা। কোনও কোনও বর্ণনায় আছে, কতক ইয়াহুদী এই বলে বড়ত্ব দেখাত যে, আমরা তো আল্লাহর এমনই এক অনুগত জাতি, যাদের পূর্ব পুরুষদেরকে পরস্পর একে অন্যকে হত্যা করার নির্দেশ দেওয়া হলে তারা সেই কঠোর নির্দেশকেও মানতে বিলম্ব করেনি। এ আয়াত তাদের সেই কথার দিকে ইশারা করছে।
৬৬. আর যদি আমরা তাদেরকে আদেশ দিতাম যে, তোমরা নিজেদেরকে হত্যা কর বা আপন গৃহ ত্যাগ কর তবে তাদের অল্প সংখ্যকই তা করত(১)। যা করতে তাদেরকে উপদেশ দেয়া হয়েছিল তারা তা করলে তাদের ভাল হত এবং চিত্তস্থিরতায় তারা দৃঢ়তর হত।
(১) কাতাদা বলেন, এখানে ইয়াহুদীদেরকেই বলা হচ্ছে। যেমনিভাবে তাদের পুর্বপুরুষদের তাওবা কবুলের জন্য মূসা আলাইহিস সালাম কর্তৃক তাদের নিজেদের হত্যা করার নির্দেশ ছিল, তেমনি নির্দেশ যদি তাদের জন্যও আসত, তবে তারা তা অবশ্যই অমান্য করত। (আত-তাফসীরুস সহীহ)
(৬৬) আর যদি আমি তাদের জন্য বিধিবদ্ধ করতাম যে, তোমরা নিজেদেরকে হত্যা কর অথবা আপন গৃহত্যাগ কর, তাহলে তাদের অল্পসংখ্যকই তা মান্য করত। আর যা করতে তাদেরকে উপদেশ দেওয়া হয়েছিল, যদি তারা তা পালন করত, তাহলে তা তাদের জন্য নিশ্চয়ই কল্যাণকর হত এবং চিত্তস্থিরতায় দৃঢ়তর হত। (1)
(1) আয়াতে অবাধ্য প্রকৃতির লোকদের প্রত্যাখ্যান করার কু-অভ্যাসের প্রতি ইঙ্গিত করে বলা হচ্ছে যে, এদেরকে যদি নির্দেশ দেওয়া হত যে, তোমরা পরস্পরকে হত্যা কর অথবা নিজেদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাও, তাহলে তারা এই নির্দেশের উপর কিভাবে আমল করতে পারত, অথচ তারা এর থেকেও আসান জিনিসের উপর আমল করতে পারেনি? তাদের ব্যাপারে এটা মহান আল্লাহ নিজ জ্ঞান অনুযায়ী বলেছেন, যা অবশ্যই বাস্তবসম্মত। অর্থাৎ, কঠিন নির্দেশের উপর আমল করা তো অবশ্যই কঠিন। কিন্তু মহান আল্লাহ চরম দয়ালু এবং পরম করুণাময়, তাঁর বিধানাদিও সহজ। কাজেই তারা যদি এই নির্দেশগুলো পালন করে, যা করতে তাদেরকে নসীহত করা হচ্ছে, তাহলে তা তাদের জন্য উত্তম এবং (দ্বীনে) সুদৃঢ় থাকার মাধ্যম সাব্যস্ত হবে। কেননা, ঈমান পুণ্যকর্ম দ্বারা বর্ধিত হয় এবং পাপকর্ম দ্বারা হ্রাস পায়। পুণ্য দ্বারা পুণ্যের পথ আরো খুলে যায় এবং পাপ দ্বারা আরো অনেক পাপের জন্ম হয়। অর্থাৎ, পাপের পথ আরো প্রশস্ত এবং সহজ হয়ে যায়।