ওয়া লিরব্বিকা ফাসবির।উচ্চারণ
এবং তোমার রবের জন্য ধৈর্য অবলম্বন করো। ৭ তাফহীমুল কুরআন
এবং প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সবর অবলম্বন কর মুফতী তাকী উসমানী
এবং তোমার রবের উদ্দেশ্যে ধৈর্য ধর।মুজিবুর রহমান
এবং আপনার পালনকর্তার উদ্দেশে সবর করুন।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
এবং তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে ধৈর্য ধারণ কর। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর তোমার রবের জন্যই ধৈর্যধারণ কর।আল-বায়ান
তোমার প্রতিপালকের (সন্তুষ্টির) জন্য ধৈর্য ধর।তাইসিরুল
আর তোমার প্রভুর জন্য তবে অধ্যবসায় চালিয়ে যাও।মাওলানা জহুরুল হক
৭
অর্থাৎ যে কাজ আঞ্জাম দেয়ার দায়িত্ব তোমাকে দেয়া হচ্ছে তা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ও জীবনের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। এ কাজ করতে গিয়ে তোমাকে কঠিন বিপদাপদ ও দুঃখ-কষ্টের মুখোমুখি হতে হবে। তোমার নিজের কওম তোমার শত্রু হয়ে দাঁড়াবে। সমগ্র আরব তোমার বিরুদ্ধে কোমর বেঁধে লাগবে। তবে এ পথে চলতে গিয়ে যে কোন বিপদ-মুসিবতই আসুক না কেন তোমার প্রভুর উদ্দেশ্যে সেসব বিপদের মুখে ধৈর্য অবলম্বন করো এবং অত্যন্ত অটল ও দৃঢ়চিত্ত হয়ে নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে থাকো। এ কাজ থেকে বিরত রাখার জন্য ভয়-ভীতি, লোভ-লালসা, বন্ধুত্ব-শত্রুতা এবং ভালবাসা সব কিছুই তোমার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে। এসবের মোকাবেলা করতে গিয়ে নিজের অবস্থানে স্থির ও অটল থাকবে।
এগুলো ছিল একেবারে প্রাথমিক দিকনির্দেশনা। আল্লাহ তা’আলা তাঁর রসূলকে যে সময় নবুওয়াতের কাজ শুরু করতে আদেশ দিয়েছিলেন সে সময় এ দিকনির্দেশনাগুলো তাঁকে দিয়েছিলেন। কেউ যদি এসব ছোট ছোট বাক্য এবং তার অর্থ সম্পর্কে গভীরভাবে চিন্তা করে তাহলে স্বতস্ফূর্তভাবে তার মন বলে উঠবে যে একজন নবীর নবুওয়াতের কাজ শুরু করার প্রাক্কালে তাঁকে এর চাইতে উত্তম আর কোন দিকনির্দেশনা দেয়া যেতে পারে না। এ নির্দেশনায় তাঁকে কি কাজ করতে হবে একদিকে যেমন তা বলে দেয়া হয়েছে তেমনি এ কাজ করতে গেলে তাঁর জীবন, নৈতিক চরিত্র এবং আচার-আচরণ কেমন হবে তাও তাঁকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। এর সাথে সাথে তাঁকে এ শিক্ষাও দেয়া হয়েছে যে, তাকে কি নিয়ত, কি ধরনের মানসিকতা এবং কিরূপ চিন্তাধারা নিয়ে একাজ আঞ্জাম দিতে হবে আর এতে এ বিষয়েও তাঁকে সাবধান করে দেয়া হয়েছে যে, একাজ করার ক্ষেত্রে কিরূপ পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে এবং তা মোকাবিলা কিভাবে করতে হবে। বর্তমানেও যারা বিদ্বেষের কারণে স্বার্থের মোহে অন্ধ হয়ে বলে যে, (নাউযুবিল্লাহ) মৃগী রোগে আক্রান্ত হওয়ার মুহূর্তে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মুখ থেকে এমন কথা উচ্চারিত হতো, তারা একটু চোখ খুলে এ বাক্যগুলো দেখুক এবং নিজেরাই চিন্তা করুক যে, এগুলো কোন মৃগী রোগে আক্রান্ত মানুষের মুখ থেকে উচ্চারিত কথা না কি মহান আল্লাহর বাণী যা রিসালাতের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের জন্য তিনি তার বান্দাকে দিচ্ছেন?
সর্বপ্রথম মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যখন তাবলীগের হুকুম দেওয়া হয়, তখন এ আশঙ্কা পুরোপুরিই ছিল যে, কাফেরগণ তাঁকে কষ্ট দেবে। তাই আদেশ করা হয়েছে এখন কোন সশস্ত্র সংগ্রাম করা যাবে না; বরং চরম ধৈর্যের পরিচয় দিতে হবে। তারা অত্যাচার-উৎপীড়ন করলে তার শাস্তি তাদেরকে সেই দিন দেওয়া হবে, যে দিন কিয়ামতের জন্য শিঙ্গায় ফুঁ দেওয়া হবে, যার উল্লেখ পরবর্তী আয়াতে করা হয়েছে।
৭. আর আপনার রবের জন্যেই ধৈর্য ধারণ করুন।
(৭) এবং তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে ধৈর্যধারণ কর।