ওয়া আন্না-লা-নাদরীআশাররুন উরীদা বিমান ফিল আরদিআম আর-দা বিহিম রব্বুহুম রশাদা- ।উচ্চারণ
আর আমাদের বোধগম্য হচ্ছিল না যে, পৃথিবীবাসীদের সাথে কোন খারাপ আচরণ করার সংকল্প করা হয়েছে, নাকি তাদের প্রভু, তাদেরকে সঠিক পথ দেখাতে চান? ১০ তাফহীমুল কুরআন
এবং আমাদের জানা ছিল না জগদ্বাসীর কোন অমঙ্গল করার ইচ্ছা করা হয়েছে, না তাদের প্রতিপালক তাদেরকে সঠিক পথ প্রদর্শনের ইচ্ছা করেছেন। মুফতী তাকী উসমানী
আমরা জানিনা, জগতবাসীর অমংগলই অভিপ্রেত, না কি তাদের রাব্ব তাদের মংগল করার ইচ্ছা রাখেন।মুজিবুর রহমান
আমরা জানি না পৃথিবীবাসীদের অমঙ্গল সাধন করা অভীষ্ট, না তাদের পালনকর্তা তাদের মঙ্গল সাধন করার ইচ্ছা রাখেন।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
‘আমরা জানি না জগদ্বাসীর অমঙ্গলই অভিপ্রেত, না তাদের প্রতিপালক তাদের মঙ্গল চান। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
‘আর নিশ্চয় আমরা জানি না, যমীনে যারা রয়েছে তাদের জন্য অকল্যাণ চাওয়া হয়েছে, নাকি তাদের রব তাদের ব্যাপারে মঙ্গল চেয়েছেন’।আল-বায়ান
আমরা জানি না (এই পরিবর্তিত অবস্থার মাধ্যমে) পৃথিবীবাসীর অকল্যাণই চাওয়া হচ্ছে, না তাদের প্রতিপালক তাদেরকে সরল সঠিক পথ দেখাতে চান।তাইসিরুল
'আর আমরা অবশ্য জানি না -- পৃথিবীতে যারা রয়েছে তাদের জন্য অমঙ্গল কামনা করা হচ্ছে, না এ-সবের দ্বারা তাদের প্রভু সুষ্ঠুপথের দিশা চাইছেন;মাওলানা জহুরুল হক
১০
এ থেকে জানা গেল যে, দু’টি পরিস্থিতিতে ঊর্ধ্ব জগতে এ ধরনের অসাধারণ ব্যবস্থাদি গৃহীত হয়ে থাকে। এক, আল্লাহ যদি পৃথিবী বাসীদের ওপর কোন আযাব নাযিল করার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন এবং চান যে, তা নাযিল হওয়ার আগে জিনরা তার পূর্বাভাস পেয়ে তাদের মানুষ বন্ধুদের সাবধান করে না দিক। দুই, আল্লাহ যদি পৃথিবীতে কোন রসূল পাঠিয়ে থাকেন এবং তাঁর কাছে যেসব হিদায়াত ও বাণী পাঠানো হচ্ছে তাতে শয়তানরা যাতে কোন প্রকার হস্তক্ষেপ করতে না পারে এবং রসূলের কাছে কি কি হিদায়াত বা বানী পাঠানো হচ্ছে তা আগেভাগেই জেনে নিতে না পারে তার নিরাপত্তা ও সংরক্ষণ কাম্য হয় তখন এ ধরনের অসাধারণ ব্যবস্থাটি গ্রহীত হয়। সুতরাং জিনদের একথাটির অর্থ হলো, আমরা যখন আসমানে এরূপ কঠোর প্রহরা দেখলাম এবং অজস্র উল্কা বর্ষণ লক্ষ করলাম তখন এ দু’টি অবস্থার কোনটি সংঘটিত হচ্ছে আমাদের মধ্যে তা জানার উদ্বেগ সৃষ্টি হলো। আল্লাহ তা’আলা কি হঠাৎ করে পৃথিবীর কোন জাতির ওপর আযাব নাযিল করেছেন না কোন এলাকায় কোন রসূল পাঠিয়েছেন? এ বিষয়টি অনুসন্ধানেই আমরা বেরিয়ে পড়েছিলাম। এরই এক পর্যায়ে আমরা এ বিস্ময়কর বাণী শুনতে পেলাম যা সত্য ও সঠিক পথের সন্ধান দান করে। এভাবে আমরা জানতে পেরেছি, আল্লাহ কোন আযাব নাযিল করেননি। বরং তাঁর সৃষ্টিকে সত্য ও সঠিক পথ দেখানোর জন্য একজন রসূল পাঠিয়েছেন। (অধিক ব্যাখ্যার জন্য দেখুন, তাফহীমুল কুরআন, সূরা আল হিজর, টীকা ৮ থেকে ১২; সূরা সাফ্ফাত, টীকা ৭ এবং সূরা আল মুলক টীকা ১১)
অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা আকাশকে সংরক্ষিত রাখার যে ব্যবস্থা নিয়েছেন তা দ্বারা তাঁর উদ্দেশ্য কী তা আমরা নিশ্চিতভাবে জানতাম না। তার উদ্দেশ্য কি জগদ্বাসীকে শাস্তি দেওয়া, যাতে তারা আগে থেকে তা আঁচ করতে না পারে, না কি এর পেছনে কোন মহৎ উদ্দেশ্য আছে অর্থাৎ তিনি চান জগদ্বাসীর কোন কল্যাণ সাধন করতে, তাই জিনদেরকে বাধা দিচ্ছেন, যাতে তারা সে কল্যাণে কোন ব্যাঘাত সৃষ্টি করতে না পারে। তো আগে যেহেতু নিশ্চিতভাবে আমাদের জানা ছিল না আল্লাহ তাআলার অভিপ্রায় এ দু’টির মধ্যে কোনটি, তাই আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার জন্য বের হয়েছিলাম। কিন্তু মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুখে কুরআন তেলাওয়াত শোনার পর আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর মাধ্যমে জগদ্বাসীকে কুরআনী হেদায়েতের দ্বারা ধন্য করতে চান এবং সেজন্যই এ ব্যবস্থা।
১০. এও যে, আমরা জানি না যমীনের অধিবাসীদের অমঙ্গলই অভিপ্রেত, না তাদের রব তাদের মঙ্গল চান।(১)
(১) বলা হয়েছে, “আমরা জানি না জগদ্বাসীর অমংগলই অভিপ্ৰেত, না তাদের রব তাদের মংগল চান”। এ আয়াতে একটি বিষয় লক্ষণীয়, তা হলো, যখন অকল্যাণের কথা বলা হয়েছে তখন তার সম্পর্ক সরাসরি আল্লাহর দিকে করা হয় নি, পক্ষান্তরে যখন কল্যাণের কথা বলা হয়েছে তখন তার সম্পর্ক করা হয়েছে সরাসরি আল্লাহর সাথে। এর কারণ হচ্ছে, খারাপ ও অমঙ্গলের সম্পর্ক আল্লাহর দিকে করা বেআদবী। অকল্যাণ আল্লাহর সৃষ্ট বিষয় হলেও তা মানুষের হাতের অর্জন। আর যত কল্যাণ তা আল্লাহর পক্ষ থেকে নিছক অনুগ্রহ। হাদীসেও বলা হয়েছে, “আর যাবতীয় কল্যাণ সবই আপনার হাতে পক্ষান্তরে কোন অকল্যাণকেই আপনার দিকে সম্পর্কযুক্ত করা যায় না”। (মুসলিম: ৭৭১) (ইবন কাসীর)
(১০) আমরা জানি না যে, জগদ্বাসীর অমঙ্গল অভিপ্রেত, না তাদের প্রতিপালক তাদের মঙ্গল চান। (1)
(1) অর্থাৎ, আসমানের এই পাহারার উদ্দেশ্য দুনিয়াবাসীদের জন্য কোন অমঙ্গলকে পূর্ণতা দান করা অর্থাৎ, তাদের উপর আযাব অবতীর্ণ করার ইচ্ছা করা হয়েছে, না তাদের ব্যাপারে মঙ্গলের অর্থাৎ, রসূল প্রেরণের ইচ্ছা করা হয়েছে।