ইয়াহদীইলাররুশদি ফাআ-মান্না- বিহী ওয়া লান নুশরিকা বিরব্বিনাআহাদা- ।উচ্চারণ
যা সত্য ও সঠিক পথের নির্দেশনা দেয় তাই আমরা তার ওপর ঈমান এনেছি এবং আমরা আর কখনো আমাদের রবের সাথে কাউকে শরীক করবো না।” ৩ তাফহীমুল কুরআন
যা সঠিক পথ প্রদর্শন করে। সুতরাং আমরা তার প্রতি ঈমান এনেছি। এখন আর আমরা আমাদের প্রতিপালকের সাথে (ইবাদতে) কখনও কাউকে শরীক করব না। মুফতী তাকী উসমানী
যা সঠিক পথ নির্দেশ করে; ফলে আমরা এতে বিশ্বাস স্থাপন করেছি। আমরা কখনও আমাদের রবের সাথে কোন শরীক স্থির করবনা।মুজিবুর রহমান
যা সৎপথ প্রদর্শন করে। ফলে আমরা তাতে বিশ্বাস স্থাপন করেছি। আমরা কখনও আমাদের পালনকর্তার সাথে কাউকে শরীক করব না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
‘যা সঠিক পথনির্দেশ করে; ফলে আমরা এতে বিশ্বাস স্থাপন করেছি। আমরা কখনও আমাদের প্রতিপালকের কোন শরীক স্থির করব না, ইসলামিক ফাউন্ডেশন
যা সত্যের দিকে হিদায়াত করে; অতঃপর আমরা তাতে ঈমান এনেছি। আর আমরা কখনো আমাদের রবের সাথে কাউকে শরীক করব না’।আল-বায়ান
যা সত্য-সঠিক পথ প্রদর্শন করে, যার কারণে আমরা তাতে ঈমান এনেছি, আমরা কক্ষনো কাউকে আমাদের প্রতিপালকের অংশীদার গণ্য করব না।তাইসিরুল
'যা সুষ্ঠুপথের দিকে চালনা করে, তাই আমরা তাতে ঈমান এনেছি, আর আমরা কখনো আমাদের প্রভুর সাথে কাউকেও শরিক করব না,মাওলানা জহুরুল হক
৩
এ থেকে কয়েকটি বিষয় জানা গেল। এক, জিনরা আল্লাহর অস্তিত্ব এবং তাঁর “রব” হওয়াকে অস্বীকার করে না। দুই, তাদের মধ্যেও মুশরিক আছে যারা মুশরিক মানুষের মত অন্য জিনিসকে আল্লাহর উলুহিয়াতের মধ্যে শরীক করে। তাই জিনদের যে কওমের সদস্যরা কুরআন মজীদ শোনার পর কওমের কাছে ফিরে গিয়েছিল তারাও ছিল মুশরিক। তিন, নবুওয়াত এবং আসমানী কিতাবসমূহ নাযিল হওয়ার ধারা জিনদের মধ্যে প্রচলিত ছিল না। বরং তাদের মধ্যে যেসব জিন ঈমান আনে তারা মানুষের মধ্যে প্রেরিত নবী এবং তাদের আনীত কিতাবসমূহের ওপর-ই ঈমান আনে। একথাটি সূরা আহকাফের ২৯-৩১ আয়াত থেকেও জানা যায়। ঐ আয়াত গুলোতে বলা হয়েছে, সে সময় যেসব জিন কুরআন শুনেছিল তারা হযরত মূসার অনুসারী ছিল। তারা কুরআন শোনার পর নিজের কওমকে এ মর্মে দাওয়াত দিয়েছিল যে, এখন আল্লাহর পক্ষ থেকে যে বানী এসেছে এবং পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবসমূহের সত্যতা প্রতিপন্ন করছে তার ওপর ঈমান আনো। সূরা আর রহমানও এ বিষয়টিই প্রমাণ করে। কারণ তার পুরা বক্তব্যই স্পষ্ট করে দেয় যে, মানুষ ও জিন শুধু এ দু’টি সৃষ্টিই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দাওয়াতের ক্ষেত্রে ছিল।
মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যেমন মানব জাতির কাছে নবী করে পাঠানো হয়েছিল, তেমনি তিনি জিন জাতিরও নবী ছিলেন। কাজেই তিনি তাদের মধ্যেও দীনের প্রচার করেছিলেন। জিনদের মধ্যে তাঁর দাওয়াতী কার্যক্রম শুরু হয়েছিল এভাবে যে, তাঁর নবুওয়াত প্রাপ্তির আগে জিনেরা আসমান পর্যন্ত যেতে পারত, তাতে তাদেরকে কোন বাধা দেওয়া হত না, কিন্তু মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াত লাভের পর তাদের আসমানের কাছে যাওয়া বন্ধ করে দেওয়া হল। কোন জিন বা শয়তান সেখানে যেতে চাইলে উল্কাপিণ্ড নিক্ষেপের মাধ্যমে তাড়িয়ে দেওয়া শুরু হল, যেমন সূরা হিজর (১৫ : ১৭) ও সূরা সাফফাত (৩৭ : ১০)-এ গত হয়েছে। সহীহ বুখারীর এক বর্ণনায় আছে, জিনরা যখন পরিস্থিতির এই পরিবর্তন লক্ষ করল, তখন তাদেরকে আসমানে যেতে কেন বাধা দেওয়া হচ্ছে, কী এর রহস্য, তা জানার জন্য তাদের অন্তরে কৌতূহল দেখা দিল। এ উদ্দেশ্যে তাদের একটি দল সারা পৃথিবী পরিভ্রমণে বের হল। এটা সেই সময়কার কথা, যখন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তায়েফ থেকে মক্কা মুকাররমায় ফিরে আসছিলেন। পথে তিনি নাখলা নামক স্থানে যখন ফজরের নামায পড়ছিলেন ও তাতে কুরআন মাজীদের তেলাওয়াত করছিলেন, ঠিক সেই সময় জিনদের উল্লেখিত দলটি সেখান দিয়ে যাচ্ছিল। কুরআন তেলাওয়াতের আওয়াজ তাদের কানে পৌঁছলে তাদের আগ্রহ জন্মাল এবং বিষয়টা কী তা জানার লক্ষে তারা সেখানে থেমে গেল। তারা গভীর মনোযোগের সাথে তাঁর তেলাওয়াত শুনতে লাগল। ভোরের শান্ত-স্নিগ্ধ পরিবেশে খোদ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুখে পবিত্র কালামের তিলাওয়াত! স্বাভাবিকভাবেই তারা তাতে চমৎকৃত হল এবং তাদের অন্তরে তা এমনই প্রভাব বিস্তার করল যে, তারা তখনই ইসলাম গ্রহণ করে ফেলল। তারপর তারা নিজ কওমের কাছেও ইসলামের দাওয়াত নিয়ে গেল। তারা তাদের কাছে গিয়ে যা-যা বলেছিল, আল্লাহ তাআলা এখানে তার সার সংক্ষেপ উল্লেখ করেছেন, সূরা আহকাফেও (৪৬ : ৩০) এ ঘটনার দিকে সংক্ষেপে ইশারা করা হয়েছে। এরপর জিনদের কয়েকটি প্রতিনিধি দল মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে সাক্ষাত করে এবং তিনি তাদেরকে দীনের দাওয়াত দেন ও ইসলামের বিধি-বিধান শিক্ষা দান করেন।
২. যা সত্যের দিকে হেদায়াত করে; ফলে আমরা এতে ঈমান এনেছি। আর আমরা কখনো আমাদের রবের সাথে কাউকে শরীক করব না,
(২) যা সঠিক পথ-নির্দেশ করে;(1) ফলে আমরা তাতে বিশ্বাস স্থাপন করেছি।(2) আর আমরা কখনো আমাদের প্রতিপালকের কোন শরীক স্থাপন করব না। (3)
(1) এটা কুরআনের দ্বিতীয় গুণ। তা সঠিক পথ অর্থাৎ, সত্য ও সরল পথ স্পষ্ট করে। অথবা আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞান দান করে।
(2) অর্থাৎ, আমরা তা শুনে সত্য বলে মেনে নিয়েছি যে, বাস্তবিকই তা আল্লাহর কালাম। এটা কোন মানুষের কালাম নয়। এতে কাফেরদের প্রতি ধমক ও তিরস্কার রয়েছে যে, জ্বিনরা তো একবার শুনেই এই কুরআনের প্রতি ঈমান আনল। স্বল্প কিছু সংখ্যক আয়াত শুনেই তাদের অবস্থার পরিবর্তন ঘটল এবং তারা বুঝে নিল যে, এটা কোন মানুষের রচিত কথা নয়। কিন্তু মানুষের, বিশেষ করে তাদের সর্দারদের এই কুরআন দ্বারা কোন লাভ হয়নি। অথচ তারা নবী (সাঃ)-এর মুখে একাধিকবার কুরআন শুনেছে। এ ছাড়া তিনি নিজেও তাদেরই একজন ছিলেন এবং তাদেরই ভাষাতে তিনি তাদেরকে কুরআন পাঠ করে শুনাতেন।
(3) না তাঁর সৃষ্টির কাউকে, আর না অন্য কোন উপাস্যকে। কারণ, তিনি তাঁর প্রতিপালকত্বে একক।