يَوۡمَ يُكۡشَفُ عَن سَاقٖ وَيُدۡعَوۡنَ إِلَى ٱلسُّجُودِ فَلَا يَسۡتَطِيعُونَ

ইয়াওমা ইউকশাফূ‘আন ছা-কিওঁ ওয়াইউদ‘আওনা ইলাছছুজূদি ফালা-ইয়াছতাতী‘ঊন।উচ্চারণ

যেদিন কঠিন সময় এসে পড়বে ২৪ এবং সিজদা করার জন্য লোকদেরকে ডাকা হবে। কিন্তু তারা সিজদা করতে সক্ষম হবে না। তাফহীমুল কুরআন

যে দিন ‘সাক’ খুলে দেওয়া হবে এবং তাদেরকে সিজদার জন্য ডাকা হবে, তখন তারা (সিজদা করতে) সক্ষম হবে না। #%১৬%#মুফতী তাকী উসমানী

স্মরণ কর, গোছা পর্যন্ত পা খোলার দিনের কথা, সেদিন তাদেরকে আহবান করা হবে সাজদাহ করার জন্য, কিন্তু তারা তা করতে সক্ষম হবেনা।মুজিবুর রহমান

গোছা পর্যন্ত পা খোলার দিনের কথা স্মরণ কর, সেদিন তাদেরকে সেজদা করতে আহবান জানানো হবে, অতঃপর তারা সক্ষম হবে না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

স্মরণ কর সেই দিনের কথা, যেদিন পায়ের গোছা উন্মোচিত করা হবে, সেই দিন এদেরকে আহ্বান করা হবে সিজ্দা করার জন্যে কিন্তু এরা সক্ষম হবে না; ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে দিন পায়ের গোছা* উন্মোচন করা হবে। আর তাদেরকে সিজদা করার জন্য আহবান জানানো হবে, কিন্তু তারা সক্ষম হবে না।আল-বায়ান

যেদিন (ক্বিয়ামতে) পায়ের গোছা (হাঁটুর নিম্নভাগ) উন্মোচিত হবে আর তাদেরকে ডাকা হবে সেজদা করার জন্য, কিন্তু তারা সেজদা করতে সক্ষম হবে না।তাইসিরুল

একদিন চরম সংকট দেখা দেবে, আর তাদের ডাকা হবে সিজদা করতে, কিন্তু তারা সক্ষম হবে না।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

২৪

মূল আয়াতে আছে يَوْمَ يُكْشَفُ عَنْ سَاقٍ “যেদিন পায়ের গোছা অনাবৃত করা হবে” সাহাবা ও তাবেয়ীনগণের এক দলের মতে একথাটি প্রচলিত প্রবাদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। আরবী প্রবাদে দুর্দিনের আগমনকে “পায়ের গোছা অনাবৃত করা” বলে বুঝানো হয়। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাসও কথাটির একই অর্থ বর্ণনা করেছেন। আরবী ভাষা থেকে তিনি এর স্বপক্ষে প্রমাণও পেশ করেছেন। হযরত আবুদুল্লাহ ইবনে আব্বাস এবং রাবী ইবনে আনাছ থেকে বর্ণিত অপর একটি ব্যাখ্যায় পায়ের গোছা অনাবৃত করার অর্থ করা হয়েছে সত্যকে আবরণ মুক্ত করা। এ ব্যাখ্যা অনুসারে অর্থ হবে, যেদিন সব সত্য উন্মুক্ত হবে এবং মানুষের সব কাজ কর্ম স্পষ্ট হয়ে সামনে আসবে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

‘সাক’ (ساق) অর্থ পায়ের গোছা। কোন কোন মুফাসসির সাক বা পায়ের গোছা খোলার ব্যাখ্যা করেন যে, এটা একটা আরবী বাগধারা। কঠিন কোন সঙ্কট দেখা দিলে এ কথাটি ব্যবহৃত হয়। সুতরাং এর অর্থ হল, যখন কিয়ামতের কঠিন সঙ্কট সামনে এসে যাবে, তখন কাফেরদের এ রকম অবস্থা হবে। আবার অনেক মুফাসসির বলেন, সে দিন আল্লাহ তাআলা নিজের গোছা খুলে দেবেন। তবে তাঁর গোছা মানুষের গোছার মত নয়; বরং এটা আল্লাহ তাআলার এক বিশেষ গুণের নাম, যার প্রকৃত অবস্থা আল্লাহ তাআলাই জানেন। তো আল্লাহ তাআলা তাঁর সেই গুণ প্রকাশ করবেন এবং মানুষকে সিজদার জন্য ডাকা হবে কিন্তু কাফেরগণ সিজদা করতে পারবে না। কেননা সিজদা করার ক্ষমতা যখন ছিল, তখন তারা সিজদা করতে অস্বীকার করেছিল। সহীহ হাদীস দ্বারাও এ ব্যাখ্যার সমর্থন মেলে।

তাফসীরে জাকারিয়া

৪২. স্মরণ করুন, সে দিনের কথা যেদিন পায়ের গোছা উন্মোচিত করা হবে(১), সেদিন তাদেরকে ডাকা হবে সিজদা করার জন্য, কিন্তু তারা সক্ষম হবে না;

(১) আয়াতে বলা হয়েছে, “যেদিন পায়ের গোছা উম্মোচিত করা হবে”। পায়ের গোছা উম্মোচিত করার এক অর্থ অবস্থা কঠিন হওয়াও হয়। আর তখন অর্থ হবে, যেদিন মানুষের অবস্থা অত্যন্ত কঠিন হবে। (বাগভী; ফাতহুল কাদীর) কিন্তু এ আয়াতের তাফসীরে সহীহ হাদীসে স্পষ্ট এসেছে যে, এখানে মহান আল্লাহর “পায়ের গোছা” বোঝানো হয়েছে। আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আমাদের রব তাঁর পায়ের গোছা” অনাবৃত করবেন, ফলে প্রতিটি মুমিন নর ও নারী তাঁর জন্য সিজদাহ করবেন। পক্ষান্তরে যারা দুনিয়াতে প্রদর্শনেচ্ছা কিংবা শুনানোর উদ্দেশ্যে সিজদাহ করেছিল, তারা সিজদাহ করতে সক্ষম হবে না। তারা সিজদাহ করতে যাবে কিন্তু তাদের পিঠ বাঁকা হবে না।” (বুখারী: ৪৯১৯)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৪২) (স্মরণ কর,) যেদিন পদনালী উন্মোচন করা হবে এবং তাদেরকে সিজদা করার জন্য আহবান করা হবে; কিন্তু তারা তা করতে সক্ষম হবে না। (1)

(1) কেউ কেউ পায়ের রলা, গোছা বা পদনালী খোলা থেকে কিয়ামতের দিনের কঠোরতা ও ভয়াবহতা বুঝিয়েছেন। কিন্তু একটি সহীহ হাদীসে এর ব্যাখ্যা এইরূপ বর্ণনা হয়েছে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা নিজ পদনালী উন্মোচন করবেন (যেভাবে উন্মোচন করা তাঁর সত্তার জন্য সামঞ্জস্যপূর্ণ)। তখন প্রতিটি মু’মিন নর-নারী তাঁর সামনে সিজদায় পড়ে যাবে। তবে তারা সিজদা করতে পারবে না, যারা দুনিয়াতে লোক দেখানো বা সুনাম লাভের জন্য সিজদা করত। তারা সিজদা করতে চাইবে; কিন্তু তাদের পিঠ পাটার মত এমন শক্ত হয়ে যাবে যে, তা ঝুঁকানো সম্ভব হবে না। (বুখারীঃ সূরা ক্বালামের ব্যাখ্যা পরিচ্ছেদ) মহান আল্লাহর পায়ের গোছা কেমন? তা কিভাবে তিনি খুলবেন? এর প্রকৃত রূপ আমরা জানিও না এবং এ ব্যাপারে কিছু বলতেও পারব না। কাজেই যেরূপ আমরা কোন ধরন-গঠন ও সাদৃশ্য আরোপ না করে তাঁর হাত, পা ইত্যাদির উপর ঈমান রাখি, অনুরূপ তাঁর পায়ের গোছার কথা যেহেতু কুরআন ও হাদীসে উল্লিখিত হয়েছে, বিধায় কোন অপব্যাখ্যা ও কোন ধরন-গঠন জানার চেষ্টা ছাড়াই তার উপরও ঈমান রাখা আবশ্যক। সালফে স্বালেহীন এবং মুহাদ্দিসগণের এটাই মত ও বিশ্বাস।