‘আছা-রব্বুহইন তাল্লাকাকুন্না আইঁ ইউবদিলাহূ আঝওয়া-জান খাইরম মিনকুন্না মুছলিমাতিম মু’মিনা-তিন ক-নিতা-তিন তাইবা-তিন ‘আ-বিদা-তিন ছাইহা-তিন ছাইয়িবাতিওঁ ওয়া আবক-র-।উচ্চারণ
নবী যদি তোমাদের মত সব স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দেন তাহলে অসম্ভব নয় যে, আল্লাহ তা’আলা তোমাদের পরিবর্তে তাঁকে এমন সব স্ত্রী দান করবেন যারা তোমাদের চেয়ে উত্তম হবে। ১০ সত্যিকার মুসলমান, ঈমানদার, ১১ অনুগত, ১২ তাওবাকারিনী, ১৩ ইবাদাত গোজার ১৪ এবং রোযাদার। ১৫ তারা পূর্বে বিবাহিত বা কুমারী যাই হোক না কেন। তাফহীমুল কুরআন
সে যদি তোমাদের সকলকে তালাক দিয়ে দেয়, তবে তার প্রতিপালক তোমাদের পরিবর্তে শীঘ্রই তাকে দিতে পারেন এমন স্ত্রী, যারা হবে তোমাদের চেয়ে উত্তম, মুসলিম, মুমিন, অনুগত, তাওবাকারী, ইবাদতগোজার, রোযাদার, পূর্ববিবাহিতা বা কুমারী।মুফতী তাকী উসমানী
যদি নাবী তোমাদের সকলকে পরিত্যাগ করে তাহলে তার রাব্ব সম্ভবতঃ তাকে দিবেন তোমাদের অপেক্ষা উৎকৃষ্টতর স্ত্রী যারা হবে আত্মসমর্পনকারিণী, বিশ্বাসিনী, আনুগত্যকারিনী, তাওবাহকারিনী, ইবাদাতকারিনী, সিয়াম পালনকারিণী, অকুমারী এবং কুমারী।মুজিবুর রহমান
যদি নবী তোমাদের সকলকে পরিত্যাগ করেন, তবে সম্ভবতঃ তাঁর পালনকর্তা তাঁকে পরিবর্তে দিবেন তোমাদের চাইতে উত্তম স্ত্রী, যারা হবে আজ্ঞাবহ, ঈমানদার, নামাযী তওবাকারিণী, এবাদতকারিণী, রোযাদার, অকুমারী ও কুমারী।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
যদি নবী তোমাদের সকলকে পরিত্যাগ করে তবে তার প্রতিপালক সম্ভবত তোমাদের স্থলে তাকে দিবেন তোমাদের অপেক্ষা উৎকৃষ্টতর স্ত্রী- যারা হবে আত্মসমর্পণকারী, বিশ্বাসী, অনুগত, তওবাকারী, ‘ইবাদতকারী, সিয়াম পালনকারী, অকুমারী এবং কুমারী। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
সে যদি তোমাদেরকে তালাক দেয়, তবে আশা করা যায় তার রব তোমাদের পরিবর্তে তোমাদের চাইতে উত্তম স্ত্রী তাকে দিবেন, যারা মুসলিম, মুমিনা, অনুগত, তাওবাকারী, ‘ইবাদতকারী, সিয়াম পালনকারী, অকুমারী ও কুমারী।আল-বায়ান
নবী যদি তোমাদের সবাইকে তালাক দিয়ে দেয় তবে সম্ভবতঃ তার প্রতিপালক তোমাদের পরিবর্তে তাকে দিবেন তোমাদের চেয়ে উত্তম স্ত্রী- যারা হবে আত্মসমপর্ণকারিণী মু’মিনা অনুগতা, তাওবাহকারিণী, ‘ইবাদাতকারিণী, রোযা পালনকারিণী, অকুমারী ও কুমারী।তাইসিরুল
হতে পারে তাঁর প্রভু, যদি তিনি তোমাদের তালাক দিয়ে দেন, তবে তিনি তাঁকে বদলে দেবেন তোমাদের চাইতেও উৎকৃষ্ট স্ত্রীদের -- আত্মসমর্পিতা, বিশ্বাসিনী, বিনয়াবনতা, অনুতাপকারিণী, উপাসনাকারিণী, রোযাপালনকারিণী, স্বামিঘরকারিণী ও কুমারী।মাওলানা জহুরুল হক
১০
এ থেকে জানা যায় যে, হযরত আয়েশা (রাঃ) এবং হাফসাই (রাঃ) শুধু ভুল করেছিলেন না বরং নবীর ﷺ অন্য স্ত্রীগণও কিছু না কিছু ভুল করেছিলেন। এ কারণেই আয়াতে তাঁদের দু’জনকে ছাড়াও নবীর ﷺ অন্যসব স্ত্রীদেরকে সাবধান করে দেয়া হয়েছে। এসব ভুল আচরণের ধরন সম্পর্কে কুরআন মজীদে কোন প্রকার আলোকপাত করা হয়নি। তবে এ সম্পর্কে বিভিন্ন হাদীসে কিছু বিস্তারিত বর্ণনা এসেছে। এখানে আমরা তা উদ্ধৃত করলামঃ
বুখারীতে হযরত আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, হযরত উমর (রাঃ) বলেছেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রীদের পারস্পরিক ঈর্ষা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা নবীকে ﷺ অতিষ্ঠ করে তুলেছিল। হাদীসের মূল ভাষা হচ্ছেঃ اجْتَمَعَ نِسَاءُ النَّبِىِّ صلى الله عليه وسلم فِى الْغَيْرَةِ عَلَيْهِ তাই আমি তাঁদের বললামঃ নবী ﷺ যদি তোমাদের তালাক দিয়ে দেন তাহলে আল্লাহ তা’আলা তাঁকে তোমাদের চেয়ে উত্তম স্ত্রী দান করা অসম্ভব নয়। হযরত আনাসের (রাঃ) বরাত দিয়ে ইবনে আবী হাতেম হযরত উমরের (রাঃ) বর্ণনা নিম্নোক্ত ভাষায় উদ্ধৃত করেছেনঃ আমার কাছে এ মর্মে খবর পৌঁছল যে, নবী ﷺ ও উম্মুল মু’মিনীনদের মধ্যে কিছুটা তিক্ততার সৃষ্টি হয়েছে। এ কথা শুনে আমি তাদের প্রত্যেকের কাছে গিয়ে বললামঃ তোমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অতিষ্ঠ করা থেকে বিরত থাক। তা না হলে আল্লাহ তা’আলা নবীকে ﷺ তোমাদের পরিবর্তে উত্তম স্ত্রী দান করবেন। এমনকি আমি যখন উম্মুল মু’মিনীনদের মধ্যে শেষ জনের কাছে গেলাম [বুখারীর একটি হাদীসের বর্ণনা অনুসারে তিনি ছিলেন হযরত উম্মে সালামা (রাঃ)।] তখন তিনি আমাকে বললেনঃ হে উমর! রসূলুল্লাহ কি স্ত্রীদেরকে উপদেশ দেয়ার জন্য যথেষ্ট নন যে, তুমি তাঁদেরকে উপদেশ দিতে চলেছ? এতে আমি চুপ হয়ে গেলাম। অতঃপর আল্লাহ তা’আলা এই আয়াত নাযিল করলেন।
মুসলিমে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে, হযরত উমর (রাঃ) তাঁর কাছে বর্ণনা করেছেন যে, নবী যখন সাময়িকভাবে তাঁর স্ত্রীদের সাথে মেলামেশা বন্ধ করলেন তখন আমি মসজিদে নববীতে পৌঁছে দেখলাম লোকজন চিন্তাক্লিষ্ট হয়ে বসে নুড়ি পাথর তুলছে এবং নিক্ষেপ করেছে এবং পরস্পর বলাবলি করছে যে, রসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর স্ত্রীদের তালাক দিয়েছেন। এরপর হযরত উমর (রাঃ) হযরত আয়েশা ও হাফসার কাছে তাঁর যাওয়ার এবং তাঁদের উপদেশ দেয়ার কথা উল্লেখ করলেন। তারপর বললেনঃ আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খেদমতে হাজির হয়ে আরজ করলাম, স্ত্রীদের ব্যাপারে আপনি চিন্তিত হচ্ছেন কেন? আপনি যদি তাঁদের তালাক দেন তাহলে আল্লাহ তা’আলা আপনার সাথে আছেন, সমস্ত ফেরেশতা, জিবরাঈল ও মিকাঈল আপনার সাথে আছেন, আর আমি, আবু বকর এবং সমস্ত ঈমানদার আপনার সাথে আছি। আমি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি। কারণ খুব কমই এ রকম হয়েছে যে, আমি কোন কথা বলেছি এবং আল্লাহ তা’আলা তা সত্যয়ন ও সমর্থন করবেন বলে আশা করি নাই। বস্তুত এরপর সূরা তাহরীমের এ আয়াতগুলো নাযিল হয়। এরপর আমি নবীকে ﷺ জিজ্ঞেস করলাম। আপনি স্ত্রীদের তালাক দিয়েছেন? তিনি বললেন, না। এ কথা শুনে মসজিদে নববীর দরজায় দাঁড়িয়ে উচ্চস্বরে ঘোষণা করলাম যে, নবী ﷺ তাঁর স্ত্রীদের তালাক দেন নাই।
বুখারীতে হযরত আনাস (রাঃ) থেকে এবং মুসনাদে আহমাদে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ), হযরত আয়েশা (রাঃ) এবং হযরত আবু হুরাইরা থেকে এ বিষয়ে বহু সংখ্যক হাদীস বর্ণিত হয়েছে যে, নবী ﷺ এক মাস পর্যন্ত তাঁর স্ত্রীদের থেকে আলাদা থাকার প্রতিজ্ঞা করেছিলেন এবং নিজের কুঠরিতে অবস্থান করতে শুরু করেছিলেন। ২৯ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর জিবরাঈল আলাইহিস সালাম এসে বললেনঃ আপনার কসম পূরণ হয়েছে, মাস পূর্ণ হয়ে গিয়েছে।
হাফেজ বদরুদ্দীন আইনী উমদাতুল কারী গ্রন্থে হযরত আয়েশা (রাঃ) বরাত দিয়ে বর্ণনা করেছেন যে, নবীর ﷺ পবিত্র স্ত্রীগণের মধ্যে দু’টি দলের সৃষ্টি হয়েছিল। একটিতে ছিলেন হযরত আয়েশা (রাঃ), হযরত হাফসা (রাঃ), হযরত সাওদা (রাঃ) ও হযরত সাফিয়া (রাঃ)। আর অপরটিতে ছিলেন হযরত যয়নাব (রাঃ), হযরত উম্মে সালামা (রাঃ) এবং অবশিষ্ট উম্মুল মু’মিনীনগণ।
ঐ সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পারিবারিক জীবনে কি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল এসব বর্ণনা থেকে তা কিছুটা আন্দাজ করা যেতে পারে। তাই আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে হস্তক্ষেপ করে নবীর ﷺ স্ত্রীদের কর্মপদ্ধতি ও আচরণ সংশোধন করা জরুরী হয়ে পড়েছিল। নবীর ﷺ স্ত্রীগণ যদিও সমাজের মহিলাদের মধ্যে সর্বোত্তম মহিলা ছিলেন, তথাপি তাঁরা ছিলেন মানুষ। তাই তাঁরা মানসিক চাহিদা ও দুর্বলতা থেকে মুক্ত ছিলেন না। নিরবচ্ছিন্নভাবে কষ্টকর জীবন যাপন কোন কোন সময় তাঁদের জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়াত। তাই তাঁরা অধৈর্য হয়ে নবীর ﷺ কাছে খোরপোষের দাবী করতে শুরু করতেন। এ অবস্থায় সূরা আহযাবের ২৮-২৯ আয়াত নাযিল করে আল্লাহ তা’আলা তাঁদের উপদেশ দিয়েছেন যে, পার্থিব স্বাচ্ছন্দই যদি তোমাদের কাম্য হয়ে থাকে তাহলে আমার রসূল তোমাদেরকে উত্তম পন্থায় বিদায় দিয়ে দেবেন। আর যদি তোমরা আল্লাহ, তাঁর রসূল এবং আখেরাতের জীবন কামনা করো তাহলে রসূলের সাহচর্যে থাকার কারণে যেসব দুঃখ-কষ্ট আসবে তা বরদাশত করো (বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন তাফহীমুল কুরআন, সুরা আল আহযাব, টীকা ৪১ এবং সূরা আহযাবের ভূমিকা)। তাছাড়া কোন কোন সময় নারী প্রকৃতির কারণে তাদের থেকে স্বভাবতই এমনসব বিষয় প্রকাশ পেত যা সাধারণ মানবীয় বৈশিষ্ট্যের পরিপন্থী ছিল না। কিন্তু আল্লাহ তা’আলা তাঁদেরকে যে ঘরের স্ত্রী হওয়ার মর্যাদা দান করেছিলেন তার মর্যাদা ও গৌরব এবং মহান দায়িত্ব ও কর্তব্যের সাথে তা সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। এসব কারণে যখন এ আশঙ্কা দেখা দিল যে, তা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পারিবারিক জীবনকে বিষিয়ে তুলতে পারে এবং আল্লাহ তা’আলা নবীর ﷺ দ্বারা যে মহৎ কাজ আঞ্জাম দিচ্ছিলেন তার ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে, তাই কুরআন মজীদের এ আয়াত নাযিল করে তাঁদের সংশোধন করলেন। যাতে তাঁর পবিত্র স্ত্রীদের মধ্যে সেই মর্যাদা ও দায়িত্বানুভূতি সৃষ্টি হয় যা তাঁরা আল্লাহর সর্বশেষ রসূলের জীবন সঙ্গীনি হওয়ার কারণে লাভ করার সৌভাগ্য অর্জন করেছিলেন। আর তাঁরা যেন নিজেদেরকে সাধারণ নারীদের মত এবং নিজেদের পারিবারকে সাধারণ পরিবারসমূহের মতো মনে করে না বসেন। এ আয়াতের প্রথম অংশটিই এমন যা শুনে হয়তো নবীর ﷺ পবিত্র স্ত্রীদের হৃদয়-মন কেঁপে উঠে থাকবে। তাঁদের জন্য এ কথাটির চেয়ে বড় হুঁশিয়ারী আর কি হবে যে, নবী যদি তোমাদের তালাক দেন তাহলে আল্লাহর তাঁকে তোমাদের পরিবর্তে উত্তম স্ত্রী দান করাটা অসম্ভব নয়। প্রথমত, নবীর ﷺ কাছে থেকে তালাক পাওয়ার চিন্তা বা কল্পনাই তাদের কাছে অসহনীয় ব্যাপার। তাছাড়া আরো বলা হয়েছে যে, উম্মুল মু’মিনীন হওয়ার মর্যাদা তোমাদের হাতছাড়া হয়ে যাবে এবং অন্য যেসব নারীকে আল্লাহ তা’আলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রী হিসেবে আনবেন তারা তোমাদের চেয়ে উত্তম হবেন। এরপরে আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে তিরস্কারযোগ্য হতে পারে এমন কোন কাজ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র স্ত্রীদের দ্বারা সংঘটিত হওয়া সম্ভবই ছিল না। এ কারণে আমরা কুরআন মজীদে শুধু দু’টি জায়গায় এমন দেখতে পাই যেখানে মহা সম্মানিত এই নারীদেরকে হুঁশিয়ারী দেয়া হয়েছে। উক্ত জায়গা দু’টির একটি সূরা আহযাবে এবং অপরটি সূরা তাহরীমে।
১১
মুসলিম এবং মু’মিন শব্দ এক সাথে ব্যবহৃত হলে মুসলিম শব্দের অর্থ হয় কার্যতঃ আল্লাহর হুকুম আহকাম অনুযায়ী আমলকারী ব্যক্তি এবং মু’মিন অর্থ হয় এমন ব্যক্তি যে সরল মনে ইসলামী আকীদা বিশ্বাসকে গ্রহণ করেছে। অতএব, সর্বোত্তম মুসলমান স্ত্রীর প্রাথমিক বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, সে সরল মনে আল্লাহ, তাঁর রসূল ও তাঁর দ্বীনের প্রতি ঈমান পোষণ করে এবং নিজের চরিত্র, অভ্যাস, স্বভাব ও আচরণে আল্লাহর দ্বীনের অনুসারী হয়।
১২
এর দু’টি অর্থ এবং দু’টি অর্থই এখানে প্রযোজ্য। এক, আল্লাহ ও তাঁর রসূলের অনুগত। দুই, স্বামীর অনুগত।
১৩
تائب তাওবাকারী শব্দটি যখন মানুষের বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয় তখন তা শুধু একবার মাত্র তাওবাকারীকে বুঝায় না। বরং তা এমন ব্যক্তিকে বুঝায়, যে নিজের অপরাধ ও ভুল-ত্রুটির জন্য আল্লাহর কাছে সদাসর্বদা ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে, যার বিবেক জীবন্ত ও সচেতন, যার মধ্যে সবসময় নিজের দুর্বলতা ও ত্রুটি-বিচ্যুতির অনুভূতি জাগ্রত থাকে এবং সেজন্য সে লজ্জিত ও অনুতপ্ত থাকে। এ প্রকৃতির মানুষের মধ্যে কোন সময় গর্ব, অহংকার, অহমিকা বা আত্মতুষ্টির অনুভূতি সৃষ্টি হয় না। স্বভাবগতভাবে সে হয় নম্র মেজাজ এবং সহিষ্ণু ও উদার।
১৪
ইবাদাতকারী ব্যক্তি কোন অবস্থায় কখনো সেই ব্যক্তির মত আল্লাহ সম্পর্কে গাফিল হতে পারে না যে আল্লাহর ইবাদাত করে না। কোন নারীকে উত্তম স্ত্রী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য এ জিনিসটিরও বিরাট ভূমিকা রয়েছে। ইবাদাত গোজার হওয়ার কারণে সে হুদূদুল্লাহ বা আল্লাহর নির্ধারিত সীমাসমূহ মেনে চলে, হকদারদের হক আদায় করে, তার ঈমান সবসময় জীবন্ত ও সতেজ থাকে, সে আল্লাহর হুকুম আহকাম পালন করা থেকে বিরত হবে না-এটাই তার কাছে আশা করা যায়।
১৫
মূল ব্যবহৃত শব্দ হচ্ছে سائحات । কয়েকজন সাহাবী থেকে বহু সংখ্যক তাবেয়ী এর অর্থ বর্ণনা করেছেন صائمات রোযাদার। যে সম্পর্কের কারণে ساحت শব্দ রোযা অর্থে ব্যবহৃত হয় তা হচ্ছে, প্রাচীনকালে পুরোহিত এবং দরবেশরাই বেশী বেশী ভ্রমণ করতো। ভ্রমণের সময় তাদের কাছে কোন পাথেয় থাকত না। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই যতক্ষণ কোথাও থেকে কোন খাদ্য না পাওয়া যেতো ততক্ষণ তাদেরকে অভুক্ত থাকতে হতো। এদিক দিয়ে বিচার করলে রোযাও এক ধরনের দরবেশী। কারণ ইফতারের সময় না হওয়া পর্যন্ত রোযাদারও অভুক্ত থাকে। ইবনে জারীর সূরা তাওবার ১২ আয়াতের ব্যাখ্যায় হযরত আয়েশার (রাঃ) একটি উক্তি উদ্ধৃত করেছেন যে, سياحت রোযা এই উম্মাতের سياحة هذه الامة الصيام (অর্থাৎ দরবেশী) এক্ষেত্রে সৎকর্মশীল স্ত্রীদের প্রশংসায় তাদের রোযাদারীর কথা উল্লেখ করার অর্থ শুধু এ নয় যে, তারা রমযানের ফরয রোযা রাখে বরং এর অর্থ হচ্ছে, তার ফরয রোযা ছাড়াও নফল রোযাও রেখে থাকে।
“নবী ﷺ যদি তোমাদের তালাক দেন তাহলে আল্লাহ তা’আলা তোমাদের পরিবর্তে তাঁকে এমনসব স্ত্রী দান করবেন যাদের মধ্যে অমুক অমুক গুণাবলী থাকবে।” নবীর ﷺ পবিত্র স্ত্রীগণকে উদ্দেশ্য করে আল্লাহ তা’আলার এ কথা বলার অর্থ এ নয় যে, তাদের মধ্যে এসব গুণাবলী ছিল না। বরং এর অর্থ হলো, তোমাদের ত্রুটিপূর্ণ আচরণের কারণে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যে কষ্ট হচ্ছে তোমরা তা পরিত্যাগ করো এবং তার পরিবর্তে তোমাদের মধ্যে এসব গুণাবলী পূর্ণাঙ্গরূপে সৃষ্টির জন্য একান্তভাবে মনোনিবেশ করো।
৫. যদি নবী তোমাদের সকলকে তালাক দেয় তবে তার রব সম্ভবত তোমাদের স্থলে তাকে দেবেন তোমাদের চেয়ে উৎকৃষ্টতর স্ত্রী(১)—যারা হবে মুসলিম, মুমিন(২), অনুগত, তওবাকারী, ইবাদতকারী, সিয়াম পালনকারী, অকুমারী এবং কুমারী।
(১) বিভিন্ন বর্ণনায় এসেছে, উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রীগণ রাসূলের উপর অভিমান করে তার বিরুদ্ধে একজোট হয়ে পড়ে। তখন আমি তাদেরকে বললাম, এমনও হতে পারে যে, রাসূল যদি তোমাদেরকে তালাক দেন তবে তার রব তাকে তোমাদের পরিবর্তে উত্তম স্ত্রীসমূহ দান করবেন। তখনই এ আয়াত নাযিল হয়। (বুখারী: ৪৯১৬)
(২) মুসলিম এবং মুমিন শব্দ এক সাথে ব্যবহৃত হলে মুসলিম শব্দের অর্থ হয় কার্যত আল্লাহর হুকুম আহকাম অনুযায়ী আমলকারী ব্যক্তি এবং মুমিন অর্থ হয় এমন ব্যক্তি যে সরল মনে ইসলামী আকীদা বিশ্বাসকে গ্ৰহণ করেছে। (দেখুন: বাগভী; কুরতুবী)
(৫) যদি সে (নবী) তোমাদেরকে পরিত্যাগ করে, তবে তার প্রতিপালক সম্ভবতঃ তাকে দেবেন তোমাদের অপেক্ষা উৎকৃষ্ট স্ত্রী;(1) যারা হবে আত্মসমর্পণকারিণী, বিশ্বাসিনী, আনুগত্যশীলা, তওবাকারিণী, উপাসনাকারিণী, রোযা পালনকারিণী, অকুমারী এবং কুমারী। (2)
(1) এটা সতর্কতাস্বরূপ নবী (সাঃ)-এর পবিত্রা স্ত্রীদেরকে বলা হচ্ছে যে, মহান আল্লাহ তাঁর নবীকে তোমাদের চেয়েও উত্তম স্ত্রী দান করতে পারেন।
(2) ثَيِّبَاتٍ শব্দটি হল, ثَيِّبٌ এর বহুবচন। (অর্থ হল ফিরে আসা) অকুমারী পতিহীনা মহিলাকে ثَيِّبٌ এই জন্য বলা হয় যে, সে স্বামী থেকে ফিরে আসে এবং ঐরূপ স্বামীহীনা হয়ে যায়, যেমন সে বিবাহের পূর্বে ছিল। أَبْكَارٌ হল بِكْرٌ এর বহুবচন। অর্থ হল কুমারী মেয়ে। তাকে কুমারী এই জন্য বলা হয় যে, সে এখন পর্যন্ত সেই অবস্থাতেই থাকে, যার উপর তার সৃষ্টি হয়েছে। (ফাতহুল ক্বাদীর) কোন কোন বর্ণনায় এসেছে যে, ثَيِّبٌ বলতে আসিয়াহ (ফিরআউনের স্ত্রী)-কে এবং بِكْرٌ বলতে মারয়্যাম (ঈসা (আঃ)-এর মা)-কে বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ, জান্নাতে এই উভয় মহিলাকে নবী (সাঃ)-এর স্ত্রী বানিয়ে দেওয়া হবে। এরূপ হতে পারে। কিন্তু এই বর্ণনাগুলোর ভিত্তিতে এ রকম ধারণা পোষণ করা অথবা বর্ণনা করা ঠিক নয়। কেননা, সনদের দিক দিয়ে এই বর্ণনাগুলো নির্ভরযোগ্য নয়।