وَإِن فَاتَكُمۡ شَيۡءٞ مِّنۡ أَزۡوَٰجِكُمۡ إِلَى ٱلۡكُفَّارِ فَعَاقَبۡتُمۡ فَـَٔاتُواْ ٱلَّذِينَ ذَهَبَتۡ أَزۡوَٰجُهُم مِّثۡلَ مَآ أَنفَقُواْۚ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ ٱلَّذِيٓ أَنتُم بِهِۦ مُؤۡمِنُونَ

ওয়া ইন ফা-তাকুম শাইউম মিন আঝওয়া-জিকুম ইলাল কুফফা-রি ফা‘আ-কাবতুম ফাআতুল্লাযীনা যাহাবাতা আঝওয়া-জুহুম মিছলা মাআনফাকূ ওয়াত্তাকুল্লা-হাল্লাযী আনতুম বিহী মু’মিনূন।উচ্চারণ

তোমাদের কাফের স্ত্রীদেরকে দেয়া মোহরানার কিছু অংশ যদি তোমরা ফেরত না পাও এবং পরে যদি তোমরা সুযোগ পেয়ে যাও তাহলে যাদের স্ত্রীরা ওদিকে রয়ে গিয়েছে তাদেরকে তাদের দেয়া মোহরানার সমপরিমাণ অর্থ দিয়ে দাও। ১৭ যে আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছো তাঁকে ভয় করে চলো। তাফহীমুল কুরআন

তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে কেউ যদি তোমাদের হাতছাড়া হয়ে কাফেরদের কাছে চলে যায়, তারপর তোমাদের সুযোগ আসে তবে যাদের স্ত্রীগণ চলে গেছে, তাদেরকে, তারা (তাদের স্ত্রীদের জন্য) যা ব্যয় করেছিল, তার সমপরিমাণ অর্থ দিয়ে দেবে। #%১০%# আল্লাহকে ভয় করে চলো, যার প্রতি তোমরা বিশ্বাসী।মুফতী তাকী উসমানী

তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যদি কেহ হাতছাড়া হয়ে কাফিরদের নিকট চলে যায় এবং তোমাদের যদি সুযোগ আসে তখন যাদের স্ত্রীরা হাতছাড়া হয়ে গেছে তাদের জন্য তারা (কাফিরেরা) যা ব্যয় করেছে তার সম পরিমাণ অর্থ প্রদান করবে। ভয় কর আল্লাহকে যাকে তোমরা বিশ্বাস কর।মুজিবুর রহমান

তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যদি কেউ হাতছাড়া হয়ে কাফেরদের কাছে থেকে যায়, অতঃপর তোমরা সুযোগ পাও, তখন যাদের স্ত্রী হাতছাড়া হয়ে গেছে, তাদেরকে তাদের ব্যয়কৃত অর্থের সমপরিমাণ অর্থ প্রদান কর এবং আল্লাহকে ভয় কর, যার প্রতি তোমরা বিশ্বাস রাখ।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যদি কেউ হাতছাড়া হয়ে কাফিরদের নিকট রয়ে যায় এবং তোমাদের যদি সুযোগ আসে তখন যাদের স্ত্রীগণ হাতছাড়া হয়ে গেছে তাদেরকে, তারা যা ব্যয় করেছে তার সমপরিমাণ অর্থ প্রদান করবে, ভয় কর আল্লাহ্্কে, যাতে তোমরা বিশ্বাসী। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যদি কেউ হাতছাড়া হয়ে কাফিরদের নিকট চলে যায়, অতঃপর যদি তোমরা যুদ্ধজয়ী হয়ে গনীমত লাভ কর, তাহলে যাদের স্ত্রীরা চলে গেছে, তাদেরকে তারা যা ব্যয় করেছে, তার সমপরিমাণ প্রদান কর। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যার প্রতি তোমরা বিশ্বাসী।আল-বায়ান

তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে কেউ যদি (কাফির হওয়ার কারণে তোমাদের) হাতছাড়া হয়ে কাফিরদের নিকট থেকে যায় এবং (তাদের কোন স্ত্রীলোক তোমাদের কাছে চলে আসার ফলে) তোমাদের যদি সুযোগ আসে, তখন (তোমাদের মধ্যে) যাদের স্ত্রীগণ হাতছাড়া হয়ে গেছে তাদেরকে তারা (তাদের স্ত্রীদের মোহর স্বরূপ) যা ব্যয় করেছে তার সমপরিমাণ অর্থ প্রদান করবে। তোমরা আল্লাহকে ভয় কর যার প্রতি তোমরা ঈমান এনেছ।তাইসিরুল

আর তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে থেকে যদি কিছু অবিশ্বাসীদের কাছে তোমাদের হাতছাড়া হয়ে যায়, তারপর যদি তোমাদেরও সুযোগ আসে তাহলে যাদের স্ত্রীরা চলে গেছে তাদের প্রদান করো তারা যা খরচ করেছিল তার সমতুল্য। আর আল্লাহ্‌কে ভয়ভক্তি করো যাঁর প্রতি তোমরা বিশ্বাসী হয়েছ।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১৭

এ ব্যাপারে দু’টি অবস্থা বিদ্যমান ছিল। এ দু’টি ক্ষেত্রেই এ আয়াতটি প্রযোজ্যঃ একটি অবস্থা ছিল এই যে, যেসব কাফেরের সাথে মুসলমানদের সন্ধিচুক্তি ছিল মুসলমানরা তাদের সাথে বিষয়টির ফায়সালা করতে চাচ্ছিল এভাবে যে, যেসব স্ত্রীলোক হিজরত করে আমাদের কাছে চলে এসেছে আমরা তাদের মোহরানা ফিরিয়ে দেব। আর আমাদের লোকদের যেসব কাফের স্ত্রী ওদিকে রয়ে গিয়েছে তোমরা তাদের মোহরানা ফিরিয়ে দাও। কিন্তু তারা এ প্রস্তাব গ্রহণ করল না। ইমাম যুহরী বলেনঃ আল্লাহ তা’আলার এই নির্দেশ অনুসারে আমল করার জন্য মুসলমানগণ সেই স্ত্রীদের মোহরানা ফিরিয়ে দিতে প্রস্তুত হয়ে গেল যারা মক্কায় কাফেরদের কাছে থেকে গিয়েছিল। কিন্তু যেসব স্ত্রীলোক হিজরত করে মুসলামানদের কাছে চলে এসেছিল মুশরিকরা তাদের মোহরানা ফিরিয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানাল। সুতরাং আল্লাহ তা’আলা নির্দেশ দিলেনঃ মুশরিকদেরকে মুহাজির মহিলাদের যে মোহরানা ফিরিয়ে দিতে হবে তা তাদের ফিরিয়ে দেয়ার পরিবর্তে মদীনাতেই জমা করা হোক এবং মুশরিকদের কাছে যেসব লোকের মোহরানা পাওনা আছে জমাকৃত এই অর্থ থেকে তাদের প্রত্যেককে কাফেরদের কাছে পাওনা অর্থের সমপরিমাণ অর্থ দিয়ে দেয়া হোক।

দ্বিতীয় অবস্থাটি ছিল এই যে, যেসব কাফেরদের সাথে মুসলমানদের সন্ধিচুক্তি ছিল না তাদের এলাকা থেকেও বেশ কিছু সংখ্যক লোক ইসলাম গ্রহণ করে দারুল ইসলামে এসেছিল এবং তাদের কাফের স্ত্রীরা সেখানেই রয়ে গিয়েছিল। একই ভাবে কিছু কিছু মহিলাও মুসলমান হয়ে হিজরত করে চলে এসেছিল। কিন্তু তাদের কাফের স্বামীরা সেখানেই রয়ে গিয়েছিল। তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেয়া হলো যে, দারুল ইসলামেই অদল-বদল করে বিষয়টি চুকিয়ে দেয়া হোক। কাফেরদের নিকট থেকে যখন কোন মোহরানা ফেরত পাওয়া যাচ্ছে না তখন তাদেরকেও কোন মোহরানা ফিরিয়ে দেয়া যাবে না। তার পরিবর্তে যেসব স্ত্রীলোক দারুল ইসলামে চলে এসেছে তাদের ফেরতযোগ্য মোহরানা সেই স্বামীদের দেয়া হোক যাদের স্ত্রীরা কাফেরদের সাথে তাদের এলাকায় রয়ে গিয়েছে।

কিন্তু এভাবে যদি হিসেব সমান সমান না হয় এবং যেসব মুসলমানের স্ত্রীরা কাফেরদের সাথে রয়ে গিয়েছে তাদের পাওনা মোহরানা হিজরত করে আসা মুসলমান মহিলাদের মোহরানার পরিমাণ থেকে বেশী হয় তাহলে সেক্ষেত্রে নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে, কাফেরদের সাথে যুদ্ধের সময় যে গনীমতের মাল মুসলমানদের হস্তগত হবে তা দ্বারা অবশিষ্ট পাওনা পরিশোধ করতে হবে। ইবনে আব্বাস বর্ণনা করেন, যে ব্যক্তির অংশের মোহরানা পাওনা থেকে যেত নবী ﷺ গনীমতের মাল থেকে তার ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিতেন। (ইবনে জারীর) আতা, মুজাহিদ, যুহরী, মাসরূক, ইবরাহীম নাখয়ী, কাতাদা, মুকাতিল এবং দাহহাক এ নীতি গ্রহণ করেছেন। তাঁরা বলেন, যে লোকদের প্রাপ্য মোহরানা কাফেরদের কাছে রয়ে গিয়েছে কাফেরদের নিকট থেকে হস্তগত হওয়া গনীমতের মালের মোটের ওপর থেকে তার সমপরিমাণ অর্থ দিয়ে দিতে হবে। অর্থাৎ গনীমত বন্টনের পূর্বে তাদের হাতছাড়া হওয়া মোহরানা তাদের দিয়ে দিতে হবে এবং তারপর গনীমত বন্টিত হবে। আর তখন এসব লোকও অন্য সব মুজাহিদদের মত সমান অংশ লাভ করবে। কোন কোন ফকীহ একথাও বলেন যে, শুধু গনীমতের সম্পদ থেকেই নয়, বরং ‘ফাই’ এর অর্থ দ্বারাও এসব লোকের ক্ষতিপূরণ করা যেতে পারে। কিন্তু আলেমদের একটি বড় দল এই মতটি গ্রহণ করেননি।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

এটা বলা হচ্ছে সেই সকল মুসলিমকে, যারা ইসলাম গ্রহণকারিণী বিবাহিতা নারীদেরকে বিবাহ করেছে এবং তাদের প্রাক্তন স্বামীদের প্রদত্ত মোহরানা ফিরিয়ে দেওয়া তাদের অবশ্য করণীয় হয়ে গেছে। তাদেরকে বলা হচ্ছে যে, তারা মোহরানার অর্থ প্রাক্তন স্বামীদেরকে ফেরত না দিয়ে, বরং তা থেকে যে সকল মুসলিমের স্ত্রী কাফেরদের কাছে চলে গেছে, অথচ কাফেরগণ তাদের মোহরানা ফেরত দেয়নি, সেই মুসলিমদেরকে তাদের প্রদত্ত মোহরানার সমপরিমাণ অর্থ দিয়ে দেবে।

তাফসীরে জাকারিয়া

১১. আর তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যদি কেউ হাতছাড়া হয়ে কাফিরদের মধ্যে রয়ে যায় অতঃপর তোমরা যুদ্ধজয়ী হয়ে গনীমত লাভ কর, তাহলে যাদের স্ত্রীরা হাতছাড়া হয়ে গেছে তাদেরকে, তারা যা ব্যয় করেছে তার সমপরিমাণ প্রদান কর, আর আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর, যার উপর তোমরা ঈমান এনেছ।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১১) তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যদি কেউ হাত ছাড়া হয়ে অবিশ্বাসীদের নিকট চলে যায় এবং তোমাদের যদি প্রতিশোধ নেওয়ার কোন সুযোগ আসে,(1) তাহলে যাদের স্ত্রীরা হাত ছাড়া হয়ে গেছে তাদেরকে, তারা যা ব্যয় করেছে তার সমপরিমাণ অর্থ প্রদান কর, আর তোমরা সেই আল্লাহকে ভয় কর, যার প্রতি তোমরা বিশ্বাসী।

(1) فَعَاقَبْتُمْ (তোমরা শাস্তি দাও অথবা প্রতিশোধ নাও) এর একটি অর্থ হল, মুসলিম হয়ে আগমনকারী মহিলাদের প্রাপ্য মোহর যা তোমাদেরকে তাদের কাফের স্বামীদেরকে দিতে হত, সেটা তোমরা সেই মুসলিমদেরকে দিয়ে দাও, যাদের স্ত্রীরা কাফের হওয়ার কারণে কাফেরদের কাছে চলে গেছে এবং মুসলিমদের মোহরের পাওনা ফেরত দেয়নি। (অর্থাৎ, এটাও এক প্রকার সাজা।) দ্বিতীয় অর্থ হল, তোমরা কাফেরদের সাথে জিহাদ কর। অতঃপর যে গনীমতের মাল অর্জন কর, তা থেকে বণ্টনের পূর্বে প্রথমে যে মুসলিমদের স্ত্রীরা চলে গিয়ে কাফেরদের দলে মিলিত হয়েছে। তাদের ব্যয়কৃত অর্থের সমপরিমাণ তাদেরকে দিয়ে দাও। অর্থাৎ, গনীমতের মাল থেকে মুসলিমদের ক্ষতি পূরণ করা এটাও এক প্রকার শাস্তি বা প্রতিশোধ। (আইসারুত তাফাসীর ও ইবনে কাসীর) যদি গনীমতের মাল থেকে ক্ষতি পূরণ সম্ভব না হয়, তাহলে বাইতুল মাল থেকে সাহায্য করা হবে। (আইসারুত তাফাসীর)