لَا يُقَٰتِلُونَكُمۡ جَمِيعًا إِلَّا فِي قُرٗى مُّحَصَّنَةٍ أَوۡ مِن وَرَآءِ جُدُرِۭۚ بَأۡسُهُم بَيۡنَهُمۡ شَدِيدٞۚ تَحۡسَبُهُمۡ جَمِيعٗا وَقُلُوبُهُمۡ شَتَّىٰۚ ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمۡ قَوۡمٞ لَّا يَعۡقِلُونَ

লা-ইউক-তিলূনাকুম জামী‘আন ইল্লা ফী কুরমমুহাসসনাতিন আও মিওঁ ওয়ারই জুদুরিন বা’ছুহুম বাইনাহুম শাদীদুন তাহছাবুহুম জামি‘আওঁ ওয়া কুলূবুহুম শাত্তা- যালিকা বিআন্নাহুম কাওমুল লা-ইয়া‘কিলূন।উচ্চারণ

এরা একত্রিত হয়ে (খোলা ময়দানে) কখনো তোমাদের মোকাবিলা করবে না। লড়াই করলেও দুর্গাভ্যন্তরে অবস্থিত জনপদে বা প্রাচীরের আড়ালে লুকিয়ে থেকে করবে। তাদের আভ্যন্তরীণ পারস্পরিক কোন্দল অত্যন্ত কঠিন। তুমি তাদের ঐক্যবদ্ধ মনে কর। কিন্তু তাদের মন পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন। ২৫ তাদের এ অবস্থার কারণ হলো তারা জ্ঞান ও বুদ্ধিহীন। তাফহীমুল কুরআন

তারা সকলে একাট্টা হয়েও তোমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করবে না, তবে এমন জনপদে (করবে), যা প্রাচীর দ্বারা সুরক্ষিত অথবা (করবে) দেওয়ালের আড়ালে লুকিয়ে। তাদের আপসের মধ্যে বিরোধ প্রচণ্ড। তুমি তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ মনে কর, অথচ তাদের অন্তর বহুধা বিভক্ত। #%১৩%# তা এজন্য যে, তারা এমনই এক সম্প্রদায় যাদের আকল-বুদ্ধি নেই।মুফতী তাকী উসমানী

তারা সবাই সমবেতভাবেও তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সমর্থ হবেনা, কিন্তু শুধু সুরক্ষিত জনপদের অভ্যন্তরে অথবা দুর্গ প্রাচীরের অন্তরালে থেকে, পরস্পরের মধ্যে তাদের যুদ্ধ প্রচন্ড। তুমি মনে কর তারা ঐক্যবদ্ধ, কিন্তু তাদের মনের মিল নেই; এটা এ জন্য যে, তারা এক নির্বোধ সম্প্রদায়।মুজিবুর রহমান

তারা সংঘবদ্ধভাবেও তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারবে না। তারা যুদ্ধ করবে কেবল সুরক্ষিত জনপদে অথবা দুর্গ প্রাচীরের আড়াল থেকে। তাদের পারস্পরিক যুদ্ধই প্রচন্ড হয়ে থাকে। আপনি তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ মনে করবেন; কিন্তু তাদের অন্তর শতধাবিচ্ছিন্ন। এটা এ কারণে যে, তারা এক কান্ডজ্ঞানহীণ সম্প্রদায়।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এরা সকলে সংঘবদ্ধভাবেও তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সমর্থ হবে না, কিন্তু কেবল সুরক্ষিত জনপদের অভ্যন্তরে বা দুর্গ-প্রাচীরের অন্তরালে থেকে; পরস্পরের মধ্যে এদের যুদ্ধ প্রচণ্ড। তুমি মনে কর এরা ঐক্যবদ্ধ, কিন্তু এদের মনের মিল নেই; এটা এইজন্যে যে, এরা এক নির্বোধ সম্প্রদায়। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তারা সম্মিলিতিভাবে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে না তবে সুরক্ষিত জনপদের মধ্যে অবস্থান করে বা দেয়ালের পেছন হতে; তারা নিজেরা নিজেদেরকে প্রবল শক্তিধর মনে করে; তুমি তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ মনে করছ অথচ তাদের অন্তরসমূহ বিচ্ছিন্ন। এটি এজন্য যে, তারা নির্বোধ সম্প্রদায়।আল-বায়ান

তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সমর্থ নয়, সুরক্ষিত জনপদে বা দেয়ালের আড়ালে অবস্থান ছাড়া। তাদের নিজেদের মধ্যেই আছে ভীষণ শত্রুতা। তুমি তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ মনে কর কিন্তু তাদের অন্তরগুলো ভিন্ন ভিন্ন। এর কারণ এই যে, তারা এক নির্বোধ সম্প্রদায়।তাইসিরুল

তারা সংঘবদ্ধ হয়ে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে না সুরক্ষিত জন-বসতির ভেতরে অথবা দেওয়াল দুর্গের আড়াল থেকে ব্যতীত। তাদের নিজেদের মধ্যে তাদের সংঘর্ষ অতি প্রচন্ড। তুমি তাদের ভাবতে পার ঐক্যবদ্ধ, কিন্ত তাদের অন্তর হচ্ছে বিচ্ছিন্ন। এ এইজন্য যে তারা হচ্ছে এমন এক জাতি যারা বুদ্ধিশুদ্ধি রাখে না।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

২৫

এখানে মুনাফিকদের দ্বিতীয় দুর্বলতার কথা বলা হয়েছে। তাদের প্রথম দুর্বলতা হলো, তারা ছিল ভীরু-আল্লাহকে ভয় করার পরিবর্তে মানুষকে ভয় করতো। ঈমানদারদের মত তাদের সামনে এমন কোন উন্নত লক্ষ ও আদর্শ ছিল না যা অর্জনের জন্য তাদের মধ্যে প্রাণপণ সংগ্রামে ঝাপায়ে পড়ার অনুপ্রেরণা সৃষ্টি হতো। তাদের দ্বিতীয় দুর্বলতা হলো মুনাফিকীর আচরণ ছাড়া তাদের মধ্যে আর কোন বিষয়ে মিল ছিল না যা তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ করে একটি মজবুত ও সুসংবদ্ধ দলে পরিণত করতে পারতো। যে বিষয়টি তাদের ঐক্যবদ্ধ করেছিল তাহলো, নিজেদের শহরে বহিরাগত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নেতৃত্ব ও শাসন চলতে দেখে তাদের কলিজা দগ্ধ হচ্ছিলো আর স্বদেশবাসী আনসার কর্তৃক মুহাজিরদের সসম্মানে গ্রহণ করতে দেখে তাদের মন মুখ ভারাক্রান্ত হয়ে উঠেছিল। এই হিংসার কারণে তারা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে এবং আশেপাশের ইসলাম বৈরীদের সাথে ষড়যন্ত্র ও যোগসাজশ করে এই বহিরাগত প্রভাব-প্রতিপত্তিকে খতম করে দিতে চাইতো। তাদেরকে পরস্পর ঐক্যবদ্ধ করার জন্য এই নেতিবাচক উদ্দেশ্য ছাড়া কোন গঠনমূলক জিনিস ছিল না। তাদের প্রত্যেক নেতার আলাদা আলাদা দল ও উপদল ছিল। প্রত্যেকেই নিজের মাতবরী ফলাতে চাইতো। তারা কেউ কারো অকৃত্রিম বন্ধু ছিল না। প্রত্যেকের মনে অন্যদের জন্য এতটা হিংসা-বিদ্বেষ ছিল যে, নিজেদের সাধারণ শত্রুর মোকাবিলায়ও তারা নিজেদের পারস্পরিক শত্রুতা ভুলতে কিংবা একে অপরের মূলোৎপাটন থেকে বিরত থাকতে পারতো না।

আল্লাহ তা’আলা এভাবে বনী নাযীর যুদ্ধের পূর্বেই মুনাফিকদের আভ্যন্তরীণ অবস্থা পর্যালোচনা করে মুসলমানদের জানিয়ে দিলেন যে, তাদের দিক থেকে বাস্তব কোন বিপদেরআশঙ্কা নেই। তাই বারবার এ খবর শুনে তোমাদের ঘাবড়ে যাওয়ার আদৌ কোন কারণ নেই যে, তোমরা বনী নাযীরকে অবরোধ করার জন্য যাত্রা করলেই এই মুনাফিক নেতা দুই হাজার লোকের একটি বাহিনী নিয়ে তোমাদের ওপর আক্রমণ করে বসবে এবং একই সঙ্গে বনী কুরাইযা ও বনী গাতফান গোত্র দু’টিকেও তোমাদের বিরুদ্ধে আক্রমণে উস্কে দেবে। এসবই লম্ফঝম্ফ মাত্র। চরম পরীক্ষা শুরু হতেই এর অন্তসারশূন্যতা প্রমাণিত হয়ে যাবে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

কাতাদা (রহ.) বলেন, “বাতিলপন্থীগণ পরস্পরে ভিন্ন ভিন্ন চিন্তা-চেতনা পোষণ করে। তাদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যও ভিন্ন-ভিন্ন এবং তাদের ‘আকীদা-বিশ্বাসেও দুস্তর ব্যবধান। তা সত্ত্বেও মুসলিমদের সাথে শত্রুতায় তারা সব একাট্টা।” এই অন্তঃসারশূন্য গাঁটছড়ার বিপরীতে ওহে হকপন্থীগণ! এক ‘আকীদা, এক চেতনা ও এক উদ্দেশ্যের হয়েও তোমরা কেন একতাবদ্ধ হতে পারবে না? -অনুবাদক

তাফসীরে জাকারিয়া

১৪. এরা সবাই সংঘবদ্ধভাবেও তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সমর্থ হবে না, কিন্তু শুধু সুরক্ষিত জনপদের ভিতরে অথবা দূর্গ-প্রাচীরের আড়ালে থেকে; পরস্পরের মধ্যে তাদের যুদ্ধ প্রচণ্ড। আপনি মনে করেন তারা ঐক্যবদ্ধ, কিন্তু তাদের মনের মিল নেই; এটা এজন্যে যে, এরা এক নির্বোধ সম্প্রদায়।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১৪) কেবলমাত্র সুরক্ষিত জনপদের অভ্যন্তরে অথবা দুর্গ-প্রাচীরের আড়ালে থেকে ছাড়া তারা সবাই সমবেতভাবেও তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সমর্থ হবে না।(1) পরস্পরের মধ্যে তাদের যুদ্ধ প্রচন্ড।(2) তুমি মনে কর তারা ঐক্যবদ্ধ, কিন্তু তাদের মনগুলি ভিন্ন ভিন্ন। (3) এটা এ জন্য যে, ওরা হল নির্বোধ সম্প্রদায়।(4)

(1) অর্থাৎ, এই মুনাফিক ও ইয়াহুদীরা আপোসে মিলিত হয়েও উবমুক্ত ময়দানে তোমাদের সাথে যুদ্ধ করার হিম্মত রাখে না। অবশ্য দুর্গে আবদ্ধ হয়ে অথবা দেওয়ালের পিছনে লুকিয়ে তোমাদের উপর আক্রমণ করতে পারে। আর এ থেকে পরিষ্কার যে, এরা অত্যধিক ভীরু এবং তোমাদের ভয়ে কম্পমান।

(2) অর্থাৎ, আপোসে এরা একে অপরের ঘোর বিরোধী। তাই এদের আপোসের গালি-গালাজ এবং ঝগড়া-বিবাদ একটি সাধারণ ব্যাপার।

(3) এই হল মুনাফিকদের আপোসের অন্তরের অবস্থা অথবা ইয়াহুদী ও মুনাফিকদের অবস্থা কিংবা মুশরিক ও কিতাবধারীদের অবস্থা। অর্থাৎ, সত্যের বিরোধিতায় তাদেরকে দেখে লাগে এক রকম। কিন্তু আসলে তাদের অন্তর এক রকম নয়। তারা একে অপর থেকে ভিন্ন এবং তাদের অন্তঃকরণ একে অপরের বিরুদ্ধে হিংসা ও বিদ্বেষে পরিপূর্ণ।

(4) অর্থাৎ, এই বিরোধ ও দ্বন্দ্বের কারণ হল তাদের নির্বুদ্ধিতা। যদি তাদের বুঝার মত জ্ঞান-বুদ্ধি থাকত, তাহলে তারা সত্যকে জেনে নিয়ে তা গ্রহণ করে নিত।