لَأَنتُمۡ أَشَدُّ رَهۡبَةٗ فِي صُدُورِهِم مِّنَ ٱللَّهِۚ ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمۡ قَوۡمٞ لَّا يَفۡقَهُونَ

লাআনতুম আশাদ্দুরহবাতান ফী সুদূ রিহিম মিনাল্লা-হি যা-লিকা বিআন্নাহুম কাওমুল লাইয়াফকাহুন।উচ্চারণ

তাদের মনে আল্লাহর চেয়ে তোমাদের ভয়ই বেশী। ২৩ কারণ, তারা এমন লোক যাদের কোন বিবেব-বুদ্ধি নেই। ২৪ তাফহীমুল কুরআন

(হে মুসলিমগণ!) প্রকৃতপক্ষে তাদের অন্তরে আল্লাহর চেয়ে তোমাদের ভয়ই বেশি। তা এজন্য যে, তারা এমনই এক সম্প্রদায়, যাদের বুঝ-সমঝ নেই। #%১২%#মুফতী তাকী উসমানী

প্রকৃত পক্ষে, তাদের অন্তরে আল্লাহ অপেক্ষা তোমরাই অধিকতর ভয়ংকর। এটা এ জন্য যে, তারা এক নির্বোধ সম্প্রদায়।মুজিবুর রহমান

নিশ্চয় তোমরা তাদের অন্তরে আল্লাহ তা’আলা অপেক্ষা অধিকতর ভয়াবহ। এটা এ কারণে যে, তারা এক নির্বোধ সম্প্রদায়।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

প্রকৃতপক্ষে এদের অন্তরে আল্লাহ্ অপেক্ষা তোমাদের ভয়ই অধিকতর। এটা এইজন্যে যে, এরা এক অবুঝ সম্প্রদায়। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

প্রকৃতপক্ষে তাদের অন্তরে আল্লাহর চাইতে তোমাদের ভয় বেশী; এটা এ কারণে যে, তারা অবুঝ সম্প্রদায়।আল-বায়ান

তাদের অন্তরে আল্লাহর চেয়ে তোমাদের ভয়ই বেশি প্রবল। এর কারণ এই যে, তারা এক বিবেক-বুদ্ধিহীন সম্প্রদায়।তাইসিরুল

তোমরাই বরং তাদের অন্তরে আল্লাহ্‌র চাইতেও অধিকতর ভয়াবহ। এ এইজন্য যে তারা হচ্ছে এমন এক লোকদল যারা বুদ্ধি- বিবেচনা রাখে না।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

২৩

অর্থাৎ তারা যে তোমাদের মোকাবেলায় প্রকাশ্যে ময়দানে নামছে না তার কারণ এ নয় যে, তারা মুসলমান, তাদের মনে আল্লাহর ভয় আছে এবং এরূপ কোনআশঙ্কাও তাদের মনে আছে যে, ঈমানের দাবী করা সত্ত্বেও তারা যদি ঈমানদারদের বিরুদ্ধে কাফেরদের সাহায্য করে তাহলে আল্লাহ‌ তা’আলার কাছে তাদেরকে জবাবদিহি করতে হবে। বরং তোমাদের প্রকাশ্য মোকাবিলা করা থেকে যে জিনিস তাদের বিরত রাখে তা হলো, ইসলাম ও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য তোমাদের ভালবাসা, প্রাণপণ সংকল্প এবং আত্মত্যাগের স্পৃহা আর তোমাদের পারস্পরিক দৃঢ় ঐক্য দেখে তারা সাহস হারিয়ে ফেলে। তারা ভাল করেই জানে যে, তোমরা নগণ্য সংখ্যক হলেও শাহাদাতের যে অদম্য আকাঙ্ক্ষা তোমাদের প্রতিটি ব্যক্তিকে জান কবুল মুজাহিদ বানিয়ে রেখেছে এবং যে সাংগঠনিক ব্যবস্থাপনার কারণে তোমরা একটি ইস্পাত কঠিন দল ও সংগঠনে রূপান্তরিত হয়েছো তার সাথে সংঘর্ষ বাধলে ইহুদীদের সাথে তারা ধ্বংস হয়ে যাবে। এখানে এ বিষয়টি মনে রাখা দরকার যে, কারো অন্তরে আল্লাহর ভয়ের চেয়ে অন্য কারো ভয় অধিক থাকলে তা মূলত আল্লাহর ভয় না থাকারই নামান্তর। একথা সবারই জানা যে, যে ব্যক্তি দু’টি বিপদের একটিকে লঘু এবং অপরটিকে গুরুতর মনে করে সে প্রথমোক্ত বিপদটির পরোয়াই করে না। দ্বিতীয় বিপদটি থেকে রক্ষা পাওয়াই তার সমস্ত চিন্তা-ভাবনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়ায়।

২৪

ছোট এই আয়াতাংশে একটি বড় সত্য তুলে ধরা হয়েছে। বিবেক-বুদ্ধির অধিকারী ব্যক্তি জানে, মানুষের শক্তি নয়, প্রকৃত পক্ষে আল্লাহর শক্তিই ভয় করার মত। এ কারনে যেসব কাজে আল্লাহর সামনে তার জবাবদিহির ভয় থাকবে এ ধরনের সকল কাজ থেকে সে নিজেকে রক্ষা করবে। এক্ষেত্রে জবাব চাওয়ার মত কোন মানবীয় শক্তি থাক বা না থাক তা দেখার প্রয়োজন সে মনে করবে না। আর আল্লাহ‌ তা’আলা যেসব দায়িত্ব ও কর্তব্য তার ওপর ন্যস্ত করেছেন তা সমাধা করার জন্য সে তৎপর হয়ে উঠবে। গোটা দুনিয়ার সমস্ত শক্তি এ পথে বাধা হয়ে দাঁড়ালেও সে তার পরোয়া করবে না। কিন্তু একজন বুদ্ধি-বিবেকহীন মানুষের কাছে যেহেতু আল্লাহর শক্তি অনুভূত হয়না। কিন্তু মানুষের শক্তিসমূহ অনুভূত হয় তাই সমস্ত ব্যাপারে সে তার কর্মনীতি নির্ধারণ করে আল্লাহকে বাদ দিয়ে মানুষের শক্তির প্রতি লক্ষ রেখে। কোন কিছু থেকে দূরে থাকলে এ জন্য থাকে না যে, সেজন্য আল্লাহর কাছে পাকড়াও হতে হবে। বরং এ জন্য দূরে থাকে যে, সামনেই কোন মানবীয় শক্তি তার খবর নেয়ার জন্য প্রস্তুত আছে। আর কোন কাজ যদি সে করে তবে তাও এ জন্য করে না যে, আল্লাহ‌ তা’আলা তা করতে নির্দেশ দিয়েছেন কিংবা সেজন্য সে আল্লাহর পক্ষ থেকে পুরস্কারের প্রত্যাশী। বরং এ জন্য করে যে, কোন মানবীয় শক্তি তা করতে নির্দেশ দিচ্ছে কিংবা পছন্দ করছে এবং সে-ই এ জন্য পুরস্কৃত করবে। বুঝা ও না বুঝার এই পার্থক্যই প্রকৃতপক্ষে একজন ঈমানদার ও ঈমানদারের জীবন ও কর্মকে পরস্পর থেকে পৃথক করে দেয়।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলার গৌরব-গরিমা সম্পর্কে তাদের কোনো বুঝ নেই। তাঁর শক্তি ও ক্ষমতা সম্পর্কেও কোনো জ্ঞান নেই, যে কারণে আল্লাহ তা‘আলার চেয়ে তোমাদেরকে বেশি ভয় করে। সেই বুঝ থাকলে তারা তাঁকেই বেশি ভয় করত এবং মুনাফিকী ছেড়ে খাঁটি মনে ঈমান আনত। -অনুবাদক

তাফসীরে জাকারিয়া

১৩. প্রকৃতপক্ষে এদের অন্তরে আল্লাহর চেয়ে তোমাদের ভয়ই সবচেয়ে বেশী। এটা এজন্যে যে, এরা এক অবুঝ সম্প্রদায়।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১৩) প্রকৃতপক্ষে তাদের অন্তরে(1) আল্লাহ অপেক্ষা তোমরাই অধিকতর ভয়ংকর; এটা এই জন্য যে, তারা এক নির্বোধ সম্প্রদায়। (2)

(1) ইয়াহুদীদের অথবা মুনাফিকদের কিংবা ওদের সকলের অন্তরে।

(2) অর্থাৎ, তোমাদের এই ভয় তাদের অন্তরে প্রবেশ করার কারণ হল তাদের নির্বুদ্ধিতা। কেননা, তাদের যদি জ্ঞান-বুদ্ধি থাকত, তাহলে বুঝে নিত যে, মুসলিমদের জয় ও আধিপত্য মহান আল্লাহর পক্ষ হতে। কাজেই ভয় করতে হলে আল্লাহকেই করতে হয়, মুসলিমদেরকে নয়।