وَلَوۡلَآ أَن كَتَبَ ٱللَّهُ عَلَيۡهِمُ ٱلۡجَلَآءَ لَعَذَّبَهُمۡ فِي ٱلدُّنۡيَاۖ وَلَهُمۡ فِي ٱلۡأٓخِرَةِ عَذَابُ ٱلنَّارِ

ওয়া লাওলাআন কাতাবাল্লা-হু ‘আলাইহিমুল জালাআলাআযযাবাহুম ফিদ্দুনইয়া- ওয়া লাহুম আ-খিরতি আযা-বুন্না-র।উচ্চারণ

আল্লাহ যদি তাদের জন্য দেশান্তর হওয়া নির্দিষ্ট না করতেন তাহলে তিনি দুনিয়াতেই তাদের শাস্তি দিতেন। আর আখেরাতে তো তাদের জন্য দোজখের শাস্তি রয়েছেই। তাফহীমুল কুরআন

আল্লাহ যদি তাদের ভাগ্যে নির্বাসন না লিখতেন, তবে দুনিয়াতেই তাদেরকে শাস্তি দিতেন। অবশ্য পরকালে তাদের জন্য জাহান্নামের শাস্তি রয়েছে।মুফতী তাকী উসমানী

আল্লাহ তাদের নির্বাসনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করলে তাদেরকে পৃথিবীতে অন্য শাস্তি দিতেন; পরকালে তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের শাস্তি।মুজিবুর রহমান

আল্লাহ যদি তাদের জন্যে নির্বাসন অবধারিত না করতেন, তবে তাদেরকে দুনিয়াতে শাস্তি দিতেন। আর পরকালে তাদের জন্যে রয়েছে জাহান্নামের আযাব।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আল্লাহ্ এদের নির্বাসনের সিদ্ধান্ত না করলে এদেরকে অবশ্যই পৃথিবীতে শাস্তি দিতেন; পরকালে এদের জন্যে রয়েছে জাহান্নামের শাস্তি। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর আল্লাহ যদি তাদের জন্য নির্বাসন লিপিবদ্ধ না করতেন, তবে তিনি তাদেরকে দুনিয়াতে শাস্তি দিতেন এবং তাদের জন্য আখিরাতে রয়েছে আগুনের শাস্তি।আল-বায়ান

আল্লাহ যদি তাদের জন্য নির্বাসন না লিখে দিতেন, তাহলে তিনি তাদেরকে দুনিয়াতেই অবশ্য অবশ্যই (অন্য) শাস্তি দিতেন, পরকালে তো তাদের জন্য জাহান্নামের শাস্তি আছেই।তাইসিরুল

আর যদি এ না হতো যে আল্লাহ্ তাদের জন্যে নির্বাসনের সিদ্ধান্ত করেছেন তাহলে তিনি অবশ্যই তাদের এই দুনিয়াতেই শাস্তি দিতেন। আর তাদের জন্য আখেরাতে রয়েছে আগুনের শাস্তি।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

দুনিয়ার আযাবের অর্থ তাদের নামনিশানা মুছে দেয়া। সন্ধি করে নিজেদের জীবন রক্ষা না করে যদি তারা লড়াই করতো তাহলে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতো। তাদের পুরুষরা নিহত হতো এবং নারী ও শিশুদের দাস-দাসী বানানো হতো। মুক্তিপণের বিনিময়ে তাদের উদ্ধার করারও কেউ থাকতো না।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

অর্থাৎ মুসলিমদের হাতে তাদেরকে নিপাত করাতেন।

তাফসীরে জাকারিয়া

৩. আর আল্লাহ তাদের নির্বাসনদণ্ড লিপিবদ্ধ না করলেও তিনি তাদেরকে দুনিয়াতে (অন্য) শাস্তি দিতেন(১); আর আখেরাতে তাদের জন্য রয়েছে। আগুনের শাস্তি।

(১) ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ইয়াহুদীদের মধ্যে বনু নাদ্বীর ও বনু কুরাইযা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বনু নদীরকে দেশত্যাগের নির্দেশ দিলেন, তখন তিনি বনু কুরাইযাকে তাদের স্বস্থানে থাকতে দিয়ে তাদের উপর দয়া দেখালেন। কিন্তু তারাও পরবর্তীতে রাসূলের সাথে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের পুরুষদেরকে হত্যা করলেন, মহিলা ও সন্তান-সন্ততিদেরকে মুসলিমদের মাঝে বন্টন করে দিলেন। তবে তাদের মাঝে কেউ কেউ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পক্ষ অবলম্বন করলে রাসূল তাদেরকে অভয় দিলেন, পরে তারা ঈমান এনেছিল। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইয়াহুদীদের বনু কাইনুকা, বনী হারেসা সহ যাবতীয় গোষ্ঠীকেই মদীনা থেকে তাড়িয়ে দিলেন। (মুসলিম: ১৭৬৬)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৩) আল্লাহ তাদের নির্বাসনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করলে, অবশ্যই তাদেরকে পৃথিবীতে (অন্য) শাস্তি দিতেন;(1) আর পরকালে তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের শাস্তি।

(1) অর্থাৎ, পূর্ব থেকেই যদি আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত ভাগ্যে তাদের দেশ ত্যাগ করার কথা লেখা না থাকত, তাহলে তাদেরকে দুনিয়াতেই কঠিন আযাবের মাধ্যমে ধ্বংস করে দেওয়া হত। যেমন, পরবর্তীতে তাদের ভাই ইয়াহুদীদের অপর এক গোত্র (বানু-কুরাইযা)-কে এমন কঠিন শাস্তি দেওয়া হয় যে, তাদের যুবক পুরুষদেরকে হত্যা করা হয়, অন্যদের বন্দী করা হয় এবং তাদের বিষয়-সম্পত্তিকে মুসলিমদের জন্য ‘মালে গনীমত’ বানিয়ে দেওয়া হয়।