عُرُبًا أَتۡرَابٗا

‘উরুবান আতর-বা-।উচ্চারণ

তারা হবে নিজের স্বামীর প্রতি আসক্ত ১৮ ও তাদের সময়বস্কা। ১৯ তাফহীমুল কুরআন

(স্বামীদের পক্ষে) প্রেমময়ী ও সমবয়স্কা। #%১১%#মুফতী তাকী উসমানী

সোহাগিনী ও সমবয়স্কা –মুজিবুর রহমান

কামিনী, সমবয়স্কা।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

সোহাগিনী ও সমবয়স্কা, ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সোহাগিনী ও সমবয়সী।আল-বায়ান

স্বামী ভক্তা, অনুরক্তা আর সমবয়স্কা,তাইসিরুল

সোহাগিনী, সমবয়স্কা, --মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১৮

মূল আয়াতে عُرُبًا শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। আরবী ভাষায় এ শব্দটি মেয়েদের সর্বোত্তম মেয়েসুলভ গুণাবলী বুঝাতে বলা হয়। এ শব্দ দ্বারা এমন মেয়েদের বুঝানো হয় যারা কমনীয় স্বভাব ও বিনীত আচরণের অধিকারিনী, সদালাপী, নারীসুলভ আবেগ অনুভূতি সমৃদ্ধ, মনে প্রাণে স্বামীগত প্রাণ এবং স্বামীও যার প্রতি অনুরাগী।

১৯

এর দু’টি অর্থ হতে পারে। একটি অর্থ হচ্ছে তারা তাদের স্বামীদের সমবয়সী হবে। অন্য অর্থটি হচ্ছে, তারা পরস্পর সমবয়স্কা হবে। অর্থাৎ জান্নাতের সমস্ত মেয়েদের একই বয়স হবে এবং চিরদিন সেই বয়সেরই থাকবে। যুগপৎ এ দু’টি অর্থই সঠিক হওয়া অসম্ভব নয়। অর্থাৎ এসব জান্নাতী নারী পরস্পরও সমবয়সী হবে এবং তাদের স্বামীদেরকেও তাদের সমবয়সী বানিয়ে দেয়া হবে। একটি হাদীসে বলা হয়েছেঃ يَدْخُلُ أَهْلُ الْجَنَّةِ الْجَنَّةَ جُرداً مُرْداً بِيضاً جِعَاداً مُكَحَّلِينَ أَبْنَاءَ ثَلاَثٍ وَثَلاَثِينَ-

“জান্নাতবাসীরা জান্নাতে প্রবেশ করলে তাদের শরীরে কোন পশম থাকবে না। মোচ ভেজা ভেজা মনে হবে। কিন্তু দাড়ি থাকবে না। ফর্সা শ্বেত বর্ণ হবে। কুঞ্চিত কেশ হবে। কাজল কাল চোখ হবে এবং সবার বয়স ৩৩ বছর হবে” (মুসনাদে আহমাদ, আবু হুরায়রার বর্ণিত হাদীস)।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

এর এক অর্থ হতে পারে এই যে, তারা তাদের স্বামীদের সমবয়স্কা হবে। কেননা সম বয়সীর সাথেই প্রণয়-প্রীতি জমে ভালো, সখ্য বেশি সুখকর হয়। দ্বিতীয় অর্থ হতে পারে, তারা সকলে পরস্পরে সমবয়স্কা হবে। কোন কোন হাদীসে আছে, জান্নাতবাসীদেরকে তেত্রিশ বছর বয়সী করে দেওয়া হবে। এটাই পূর্ণ যৌবনের বয়স (তিরমিযী, হযরত মুআয [রাযি.] থেকে)।

তাফসীরে জাকারিয়া

৩৭. সোহাগিনী(১) ও সমবস্কা(২),

(১) عرب শব্দটি عروبة এর বহুবচন। অর্থ স্বামী সোহাগিনী ও প্রেমিকা নারী। আরবী ভাষায় এ শব্দটি মেয়েদের সর্বোত্তম মেয়েসুলভ গুণাবলী বুঝাতে বলা হয়। এ শব্দ দ্বারা এমন মেয়েদের বুঝানো হয় যারা কামনীয় স্বভাব ও বিনীত আচরণের অধিকারিনী, সদালাপী, নারীসুলভ আবেগ অনুভূতি সমৃদ্ধা, মনে প্রাণে স্বামীগত প্রাণ এবং স্বামীও যার প্রতি অনুরাগী। (কুরতুবী; ইবন কাসীর)

(২) أتراب শব্দটি ترب এর বহুবচন। অর্থ সমবয়স্ক। এর দুটি অর্থ হতে পারে। একটি অর্থ হচ্ছে তারা তাদের স্বামীদের সমবয়সী হবে। অন্য অর্থটি হচ্ছে, তারা পরস্পর সমবয়স্ক হবে। অর্থাৎ জান্নাতের সমস্ত মেয়েদের একই বয়স হবে এবং চিরদিন সেই বয়সেরই থাকবে। যুগপৎ এ দু'টি অর্থই সঠিক হওয়া অসম্ভব নয়। অর্থাৎ এসব জান্নাতী নারী পরস্পরও সমবয়সী হবে এবং তাদের স্বামীদেরকেও তাদের সমবয়সী বানিয়ে দেয়া হবে। (ইবন কাসীর) “জান্নাতবাসীরা জান্নাতে প্ৰবেশ করলে তাদের শরীরে কোন পশম থাকবে না। দাড়ি থাকবে না। ফর্সা শ্বেত বর্ণ হবে। কুঞ্চিত কেশ হবে। কাজল কাল চোখ হবে এবং সবার বয়স ৩৩ বছর হবে” (তিরমিযী: ২৫৪৫, মুসনাদে আহমাদ: ২/২৯৫)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৩৭) প্রেমময়ী ও সমবয়স্কা। (1)

(1) عُرُبٌ হল عَرُوْبَةٌ এর বহুবচন। এমন নারী, যে তার রূপ-সৌন্দর্য ও অন্যান্য গুণের কারণে স্বীয় স্বামীর কাছে অত্যন্ত প্রিয়া। أَتْرَابٌ হল تِرْبٌ এর বহুবচন। অর্থ সমবয়স্কা। অর্থাৎ, যেসব নারীদেরকে জান্নাতবাসীরা স্ত্রীরূপে পাবে, তারা সবাই সমবয়স্কা হবে। যেমন হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, সকল জান্নাতী তেত্রিশ বছর বয়সের হবে। (তিরমিযী) অথবা অর্থ হল, নিজ নিজ স্বামীর সমবয়স্কা হবে। উভয় অবস্থাতে অর্থ একই।