إِنَّآ أَنشَأۡنَٰهُنَّ إِنشَآءٗ

ইন্নাআনশা’না-হুন্না ইনশাআ।উচ্চারণ

তাদের স্ত্রীদেরকে আমি বিশেষভাবে নতুন করে সৃষ্টি করবো তাফহীমুল কুরআন

নিশ্চয়ই আমি সে নারীদেরকে দিয়েছি নব উত্থান। মুফতী তাকী উসমানী

তাদের জন্য আমি করেছি বিশেষ সৃষ্টি।মুজিবুর রহমান

আমি জান্নাতী রমণীগণকে বিশেষরূপে সৃষ্টি করেছি।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এদেরকে আমি সৃষ্টি করেছি বিশেষরূপে- ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নিশ্চয় আমি হূরদেরকে বিশেষভাবে সৃষ্টি করব।আল-বায়ান

তাদেরকে (অর্থাৎ ঐ হুরদেরকে) আমি সৃষ্টি করেছি এক অভিনব সৃষ্টিতে,তাইসিরুল

নিঃসন্দেহ আমরা ওদের সৃষ্টি করেছি বিশেষ সৃষ্টিতে;মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

কুরআন মাজীদ জান্নাতের নারীদেরকে বোঝানোর জন্য চমৎকার পন্থা অবলম্বন করেছে। সরাসরি তাদের নাম না নিয়ে কেবল সর্বনামের মাধ্যমে তাদের প্রতি ইশারা করে দিয়েছে। এর ভেতর যেমন সাহিত্যালংকারের স্বাদ রয়েছে, তেমনি নারীদের পর্দাশীলতার মর্যাদাও অক্ষুণ্ণ আছে। কোন কোন মুফাসসিরের মতে, জান্নাতবাসীদের জন্য যাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে বা সৃষ্টি করা হবে, এখানে সেই হুরদের কথাই বোঝানো হয়েছে। আবার কেউ বলেন, এরা হলেন নেককার লোকদের সেই জীবন সঙ্গিনীগণ, যারা নিজেরাও পুণ্যবতী। আখেরাতে তাদেরকে যে ‘নব উত্থান’ দেওয়া হবে, তার মানে দুনিয়ায় তাদের রূপ-লাবণ্য যেমনই থাকুক না কেন, আখেরাতে তাদেরকে তাদের স্বামীদের জন্য অপরূপ সুন্দরী বানিয়ে দেওয়া হবে, যেমন এক হাদীসে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এরূপ বর্ণিত আছে। এমনিভাবে দুনিয়ায় যেসব নারীর বিবাহ হয়নি, তাদেরকেও নতুন জীবন দিয়ে কোন না কোন জান্নাতবাসীর সঙ্গে বিবাহ দেওয়া হবে। হাদীসের বিভিন্ন বর্ণনার দিকে লক্ষ্য করলে বোঝা যায়, উভয় শ্রেণীর নারীই এ আয়াতের অন্তর্ভুক্ত, অর্থাৎ হুরগণও এবং দুনিয়ার পুণ্যবতী নারীগণও (বিস্তারিত দ্রষ্টব্য রূহুল মাআনী)।

তাফসীরে জাকারিয়া

৩৫. নিশ্চয় আমরা তাদেরকে সৃষ্টি করেছি বিশেষরূপে(১)—

(১) أنشأ শব্দের অর্থ সৃষ্টি করা। هُنَّ সর্বনাম দ্বারা জান্নাতের নারীদেরকে বোঝানো হয়েছে। পূর্বোক্ত আয়াতে فرش এর অর্থ জান্নাতে নারী হলে তার স্থলেই এই সর্বনাম ব্যবহৃত হয়েছে। এছাড়া শয্যা, বিছানা ইত্যাদি ভোগবিলাসের বস্তু উল্লেখ করায় নারীও তার অন্তর্ভুক্ত আছে বলা যায়। আয়াতের অর্থ এই যে, আমি জান্নাতের নারীদেরকে এক বিশেষ প্রক্রিয়ায় সৃষ্টি করেছি। (কুরতুবী) জান্নাতী হুরদের ক্ষেত্রে বিশেষ প্রক্রিয়া এই যে, তাদেরকে জান্নাতেই প্রজননক্রিয়া ব্যতিরেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। দুনিয়ার যেসব নারী জান্নাতে যাবে, তাদের ক্ষেত্রে বিশেষভঙ্গি এই যে, যারা দুনিয়াতে কুশ্ৰী, কৃষ্ণাঙ্গ অথবা বৃদ্ধ ছিল; জান্নাতে তাদেরকে সুশ্ৰী দূরবর্তী ও লাবণ্যময়ী করে দেয়া হবে। আয়েশা সিদ্দীকা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেনঃ একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গৃহে আগমন করলেন। তখন এক বৃদ্ধা আমার কাছে বসা ছিল। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন এ কে? আমি আরয করলামঃ সে সম্পর্কে আমার খালা হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রসচ্ছলে বললেনঃ “জান্নাতে কোন বৃদ্ধা প্রবেশ করবে না”। একথা শুনে বৃদ্ধ বিষন্ন হয়ে গেল। কোন কোন বর্ণনায় আছে কাঁদতে লাগল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে সান্ত্বনা দিলেন এবং স্বীয় উক্তির অর্থ এই বর্ণনা করলেন যে, বৃদ্ধারা যখন জান্নাতে যাবে, তখন বৃদ্ধা থাকবে না; বরং যুবতী হয়ে প্ৰবেশ করবে। অতঃপর তিনি উপরোক্ত আয়াত পাঠ করে শোনালেন। (শামায়েলে তিরমিযী: ২৪০)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৩৫) তাদেরকে (হুরীগণকে) আমি সৃষ্টি করেছি বিশেষরূপে।