ফাইয়াওমা ইযিল্লা-ইউছআলু‘আন যামবিহী ইনছুওঁ ওয়ালা-জান।উচ্চারণ
সে দিন কোন মানুষ ও কোন জিনকে তার গোনাহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করার প্রয়োজন হবে না। ৩৬ তাফহীমুল কুরআন
সেই দিন না কোন মানুষকে তার অপরাধ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে, না কোন জিন্নকে। #%১১%#মুফতী তাকী উসমানী
সেদিন মানুষকে তার অপরাধ সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করা হবেনা, আর না জিনকে।মুজিবুর রহমান
সেদিন মানুষ না তার অপরাধ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে, না জিন।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
সেদিন না মানুষকে তার অপরাধ সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করা হবে, না জিনকে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
অতঃপর সেদিন না মানুষকে তার অপরাধ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে, না জিনকে।আল-বায়ান
সে দিন না মানুষকে, না জ্বিনকে তার গুনাহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে।তাইসিরুল
অতএব সেদিন কোনো মানুষকেই প্রশ্ন করা হবে না তার অপরাধ সন্বন্ধে, না কোনো জিনকে।মাওলানা জহুরুল হক
৩৬
পরবর্তী আয়াতের অর্থাৎ “চেহারা দেখেই সেখানে অপরাধীদের চেনা যাবে” কথাটিই এর ব্যাখ্যা। অর্থাৎ সেই মহাসমাবেশে সমস্ত পূর্ববর্তী ও পরবর্তী মানুষকে একত্রিত করা হবে। অপরাধীদের চেনার জন্য সেখানে জনে জনে একথা জিজ্ঞেস করার দরকার হবে না যে, তারা কে কে অপরাধী কিংবা কোন জ্বীন ও মানুষকে সে অপরাধী কিনা একথা জিজ্ঞেস করার প্রয়োজন পড়বে না। অপরাধীদের শুষ্ক ম্লানমুখ ভীতি ভরা দু’টি চোখ, অস্থির অপ্রস্তুত ভাবভঙ্গি এবং ঘর্মসিক্ত হওয়াই তাদের অপরাধী হওয়ার গোপন রহস্য উদঘাটিত করে দেয়ার জন্য যথেষ্ট হবে। অপরাধী ও নিরপরাধ ও উভয় শ্রেণীর লোকের একটি দল যদি পুলিশের কবলে পড়ে তাহলে নিরপরাধ লোকদের চেহারা প্রশান্তি ও নিরুদ্বিগ্নতা এবং অপরাধীদের চেহারার অস্থিরতা ও উদ্বিগ্নতা প্রথম দর্শনেই বলে দেবে ঐ দলে কে অপরাধী আর কে নিরপরাধ। দুনিয়াতে এ নিয়ম কোন কোন সময় ভ্রান্ত প্রমাণিত হয়। কারণ দুনিয়ার পুলিশের ন্যায় নিষ্ঠতার ব্যাপারে মানুষ আস্থা রাখতে পারে না। তাদের হাতে বরং অপরাধীদের চেয়ে নিরপরাধরাই বারবার বেশী করে হয়রানির শিকার হয়। তাই পৃথিবীতে পুলিশের কবলে পড়ে ভদ্র ও নিরপরাধ লোকদের অধিক ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়া সম্ভব। কিন্তু আখেরাতে আল্লাহ তা’আলার ন্যায়বিচারের প্রতি প্রতিটি ভদ্র ও নিরপরাধ ব্যক্তিরই পূর্ণ আস্থা থাকবে। এ ধরনের অস্থিরতা ও উদ্বেগ থাকবে কেবল তাদেরই যাদের নিজের বিবেকই তাদের অপরাধী সম্পর্কে অবহিত থাকবে। হাশরের ময়দানে উপস্থিত হওয়া মাত্র তারা এ ব্যাপারে স্থির নিশ্চিত হয়ে যাবে যে, এখন তাদের সেই দুর্ভাগ্য এসে গিয়েছে যাকে তারা অসম্ভব ও সন্দেহজনক মনে করে দুনিয়াতে অপরাধ করে বেড়িয়েছে।
অর্থাৎ প্রশ্ন-উত্তর ও হিসাব-নিকাশের বিষয়টা তো আগেই শেষ হয়ে গেছে, যখন তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ চূড়ান্ত করার জন্য তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছিল। এখন তো তাদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপের সময়। কাজেই এখন তাদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপের জন্য তারা কি কি গুনাহ করেছিল তা জিজ্ঞেস করার কোন প্রয়োজন আল্লাহ তাআলার হবে না। কেননা তিনি নিজেই সব জানেন। আর ফেরেশতাদেরও জিজ্ঞাসার প্রয়োজন হবে না। কারণ পরের আয়াতে আসছে যে, অপরাধীদেরকে তাদের চেহারার আলামত দেখেই চেনা যাবে।
৩৯. অতঃপর সেদিন না মানুষকে তার অপরাধ সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করা হবে, না জিন্নকে!(১)
(১) অর্থাৎ সেদিন কোন মানব অথবা জিনকে তার অপরাধ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে না। এর এক অর্থ এই যে, তাদেরকে কিয়ামতে এই প্রশ্ন করা হবে না যে, তোমরা অমুক গোনাহ করেছ কি না? এ কথা তো ফেরেশতাদের লিখিত আমলনামায় এবং আল্লাহ তা'আলার জ্ঞানে পূর্ব থেকেই বিদ্যমান রয়েছে। বরং প্রশ্ন এই হবে যে, তোমরা অমুক গোনাহ কেন করলে? কোন কোন মুফাস্সির বলেন, এর অর্থ, অপরাধীদের শাস্তিদানে আদিষ্ট ফেরেশতাগণ অপরাধীদেরকে জিজ্ঞাসা করবে না যে, তোমরা এই গোনাহ করেছ কিনা? এর প্রয়োজনই হবে না। কেননা, প্রত্যেক গোনাহের একটি বিশেষ চিহ্ন অপরাধীদের চেহারায় ফুঠে উঠবে। ফেরেশতাগণ এই চিহ্ন দেখে তাদেরকে জাহান্নামে ঠেলে দেবে। (কুরতুবী; ইবন কাসীর)
(৩৯) সেদিন না মানুষকে তার অপরাধ সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করা হবে, না জ্বিনকে? (1)
(1) অর্থাৎ, যে সময় তারা কবর থেকে বের হবে। তাছাড়া পরে তো হিসাবের ময়দানে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ অবশ্যই করা হবে। কেউ কেউ এর অর্থ এই বর্ণনা করেছেন যে, গোনাহ সম্পর্কে তাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে না। কারণ, তাদের তো সম্পূর্ণ কর্মবিবরণী ফিরিশতাদের কাছেও থাকবে এবং আল্লাহর জ্ঞানেও। অবশ্য এ কথা জিজ্ঞাসা করা হবে যে, তোমরা এ কাজ কেন করেছিলে? অথবা অর্থ হল, তাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে না, বরং মানুষের অঙ্গ-প্রতঙ্গ স্বয়ং সমস্ত কিছু বলে দেবে।