ইয়াখরুজূমিনহুমাল লু’লূউ ওয়াল মার জা-ন।উচ্চারণ
এই উভয় সমুদ্র থেকেই মুক্তা ও প্রবাল ২০ পাওয়া যায়। ২১ তাফহীমুল কুরআন
উভয় সাগর থেকে উৎপন্ন হয় মুক্তা ও পলা।মুফতী তাকী উসমানী
উভয় দরিয়া হতে উৎপন্ন হয় মুক্তা ও প্রবাল।মুজিবুর রহমান
উভয় দরিয়া থেকে উৎপন্ন হয় মোতি ও প্রবাল।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
উভয় দরিয়া হতে উৎপন্ন হয় মুক্তা ও প্রবাল। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
উভয় সমুদ্র থেকে উৎপন্ন হয় মণিমুক্তা ও প্রবাল।আল-বায়ান
এ সব দরিয়া হতে বের হয় মুক্তা ও প্রবাল,তাইসিরুল
তাদের দুইয়ের মধ্যে থেকে বেরিয়ে আসে মুক্তো ও প্রবাল।মাওলানা জহুরুল হক
২০
মূল আয়াতে مَرْجَان শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। ইবনে আব্বাস, কাতাদা, ইবনে যায়েদ ও দাহহাক (রা.) এর মতে এর অর্থ মুক্তা। কিন্তু হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ বলেনঃ আরবীতে এ শব্দটি প্রবাল অর্থে ব্যবহৃত হয়।
২১
মূল আয়াতের يَخۡرُجُ مِنۡهُمَا ব্যবহৃত শব্দ হচ্ছে () “উভয় সমুদ্র থেকেই পাওয়া যায়।” কেউ কেউ এতে আপত্তি উত্থাপন করে বলেন, মুক্তা ও প্রবাল পাথর তো কেবল লবণাক্ত পানিতেই পাওয়া যায়। সুতরাং লবণাক্ত ও সুপেয় উভয় প্রকারের পানি থেকেই এ দু’টি পাওয়া যায় তা কি করে বলা হলো? এর জবাব হচ্ছে, মিঠা ও লবণাক্ত উভয় প্রকার পানিই সমুদ্রে জমা হয়। অতএব যদি বলা হয়, একত্রে সঞ্চিত এ পানি থেকে এ গুলো পাওয়া যায় কিংবা যদি বলা হয়, তা উভয় প্রকার পানি থেকেই পাওয়া যায় তাহলে কথা একই থেকে যায়। তাছাড়া আরো গবেষণা ও অনুসন্ধানের ফলে যদি প্রমাণিত হয় যে মুক্তা ও প্রবাল পাথর সমুদ্র গর্ভে এমন স্থানে উৎপন্ন হয় যেখানে তার গভীর তলদেশে মিঠা পানির ধারা প্রবাহিত হচ্ছে এবং তার সৃষ্টি ও পরিণতি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে যুগপৎ উভয় প্রকার পানির ভূমিকা ও অবদান হচ্ছে তাহলে তাতেও বিস্ময়ের কিছু নেই। বাহরাইনে যেখানে সুপ্রাচীন কাল থেকে মুক্তা আহরণ করা হয় সেখানে উপসাগরের তলদেশে মিঠা পানির ঝর্ণা প্রবাহিত আছে বলে প্রমাণিত হয়েছে।
২২. উভয় সমুদ্র হতে উৎপন্ন হয় মুক্তা ও প্রবাল।(১)
(১) لؤلؤ শব্দের অর্থ মোতি এবং مَرْجَان এর অর্থ প্রবাল। এটাও মূল্যবান মণিমুক্তা। যা বৃক্ষের ন্যায় শাখাময়। এই মোতি ও প্রবাল সমুদ্র থেকে বের হয়- মিঠা পানি থেকে নয়। আয়াতে উভয় প্রকার পানি থেকে বের হওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর জওয়াব এই যে, মোতি উভয় প্রকার সমুদ্রেই উৎপন্ন হয়। কিন্তু মিঠা পানির স্রোতধারা প্রবাহমান হওয়ার কারণে তা থেকে মোতি বের করা সহজসাধ্য নয়। মিঠা পানির স্রোত প্রবাহিত হয়ে লোনা সমুদ্রে পতিত হয় এবং সেখান থেকেই মোতি বের করা হয়। এ কারণেই লোনা সমুদ্রকে মোতির উৎস বলা হয়ে থাকে। (দেখুন: ফাতহুল কাদীর; ইবন কাসীর)
(২২) উভয় দরিয়া হতে উৎপন্ন হয় মুক্তা ও প্রবাল। (1)
(1) مَرْجَانٌ থেকে ক্ষুদ্র মোতি বা প্রবাল বুঝানো হয়েছে। বলা হয় যে, আসমান থেকে যখন বৃষ্টি হয়, তখন ঝিনুকগুলো তাদের মুখ খুলে দেয়। পানির যে ফোঁটা তাদের মুখের ভিতরে পড়ে সেটাই মোতি হয়ে যায়। এটাই প্রসিদ্ধ আছে যে, মোতি ইত্যাদি মিঠা পানির সমুদ্র থেকে বের হয় না, বরং তা কেবল লোনা পানির সমুদ্র থেকেই বের হয়। কিন্তু কুরআন সর্বনাম দ্বিবচন ব্যবহার করেছে; যাতে বুঝা যায় যে, উভয় পানির সমুদ্র থেকেই মোতি বের হয়। তবে মোতি যেহেতু অধিকহারে লোনা পানির সমুদ্র থেকেই বের হয়, তাই তা বেশী প্রসিদ্ধ হয়ে গেছে। তবে মিঠা পানির সমুদ্র থেকে তার বের হওয়ার কথা অস্বীকার করা সম্ভব নয়। বরং সম্প্রতি কালের পরীক্ষাদি দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে যে, মিঠা পানির সমুদ্রেও মোতি থাকে।
অবশ্য এর পানি অব্যাহতভাবে প্রবাহিত থাকার কারণে এই দরিয়াগুলো থেকে মোতি বের করা বড়ই কঠিন ব্যাপার হয়। কেউ কেউ বলেছেন, (দ্বিবচন থেকে) উদ্দেশ্য সমষ্টি। এগুলোর মধ্যে কোন একটি থেকেও মোতি বের হয়ে থাকলে তার জন্য দ্বিবচন শব্দ প্রয়োগ করা সঠিক। কেউ বলেছেন, মিঠা পানির নদীও সাধারণতঃ সমুদ্রে গিয়ে পড়ে এবং সেখান থেকেই মোতি বের করা হয়। কাজেই লোনা পানির সমুদ্রই হল (মোতি বের হওয়ার) কেন্দ্রস্থল। কিন্তু অন্যান্য দরিয়ার অংশও তাতে শামিল আছে। তবে বর্তমান যুগের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এসব ব্যাখ্যা ও কষ্টকল্পনার কোন প্রয়োজন নেই। আর আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত।