রব্বুল মাশরিকাইনি ওয়া রব্বুল মাগরিবাইন।উচ্চারণ
দুই উদয়াচল ও দুই অস্তাচল-সব কিছুর মালিক ও পালনকর্তা তিনিই। ১৭ তাফহীমুল কুরআন
তিনিই দুই মাশরিক (উদয়াচল) ও দুই মাগরিব (অস্তাচল)-এর প্রতিপালক। মুফতী তাকী উসমানী
তিনিই দুই উদয়াচল ও দুই অস্তাচলের নিয়ন্তা।মুজিবুর রহমান
তিনি দুই উদয়াচল ও দুই অস্তাচলের মালিক।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
তিনিই দুই উদয়াচল ও দুই অস্তাচলের নিয়ন্তা। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তিনি দুই পূর্ব ও দুই পশ্চিমের* রব।আল-বায়ান
তিনিই দু’টি উদয় স্থান ও দু’টি অস্তাচলের নিয়ন্ত্রক,তাইসিরুল
তিনি দুই পূর্বের প্রভু, আর দুই পশ্চিমেরও প্রভু।মাওলানা জহুরুল হক
১৭
দুই উদয়াচল ও দুই অস্তাচলের অর্থ শীত কালের সবচেয়ে ছোট দিন এবং গ্রীষ্মকালের সবচেয়ে বড় দিনের উদয়াচল ও অস্তাচলও হতে পারে। আবার পৃথিবীর দুই গোলার্ধের উদয়াচল ও অস্তাচলও হতে পারে। শীত মৌসুমের সর্বাপেক্ষা ছোট দিনে সূর্য অত্যন্ত সংকীর্ণ একটি কোণ সৃষ্টি করে উদয় হয় এবং অস্ত যায়। প্রতিদিন এ উভয় কোণের মাঝে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের স্থান পরিবর্তিত হতে থাকে। এ কারণে কুরআনের অন্য এক স্থানে (সূরা আল মা’আরিজ আয়াত, ৪০) () বলা হয়েছে। অনুরূপ পৃথিবীর এক গোলার্ধে যখন সূর্য উদয় হয় ঠিক সে সময় অন্য গোলার্ধে তা অস্ত যায়। এভাবেও পৃথিবীর দু’টি উদয়চল ও অস্তাচল হয়ে যায়। আল্লাহ তা’আলাকে এ দু’টি উদয়াচল ও অস্তাচলের রব বলার কয়েকটি অর্থ আছে। এক, তাঁর হুকুমেই সূর্যের উদয় হওয়া ও অস্ত যাওয়া এবং সারা বছর ধরে তা ক্রমাগত পরিবর্তিত হতে থাকার এই ব্যবস্থা চালু আছে। দুই, পৃথিবী ও সূর্যের মালিক ও শাসক তিনি। এ দু’টির রব যদি ভিন্ন ভিন্ন হতো তাহলে ভূ-পৃষ্ঠে নিয়ামতান্ত্রিকভাবে সূর্যের এ উদয়াস্তের ব্যবস্থা কিভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারতো এবং স্থায়ীভাবে কি করে প্রতিষ্ঠিত থাকতে পারতো। তিন, দুই উদয়াচল ও অস্তাচলের মালিক ও পালনকর্তাও তিনি। উভয়ের মধ্যবর্তী স্থানে বসবাসকারী সমস্ত সৃষ্টি তাঁরই মালিকানাভুক্ত তিনিই তাদেরকে প্রতিপালিত করেছেন এবং প্রতিপালনের জন্যই তিনি ভূ-পৃষ্ঠে সূর্য অস্ত যাওয়ার এবং উদয় হওয়ার এ জ্ঞানগর্ভ ব্যাবস্থা চালু রেখেছেন।
‘মাশরিক’ মূলত আকাশের যেখান থেকে সূর্য উদিত হয় সেই দিগন্তকে বলে। এমনিভাবে মাগরিবও বলে সেই দিগন্তকে যেখানে গিয়ে সূর্য অস্ত যায়। যেহেতু শীত ও গ্রীষ্মকালে সূর্যের উদয় ও অস্ত যাওয়ার স্থান বদল হয়ে যায়, তাই সে স্থানসমূহকে দুই মাশরিক ও দুই মাগরিব নামে অভিহিত করা হয়েছে।
১৭. তিনিই দুই উদয়াচল ও দুই অস্তাচলের রব।(১)
(১) দুই উদয়াচল ও দুই অস্তাচলের অর্থ শীতকালের সবচেয়ে ছোট দিন এবং গ্ৰীষ্মকালের সবচেয়ে বড় দিনের উদয়াচল ও অস্তাচলও হতে পারে। আবার পৃথিবীর দুই গোলার্ধের উদয়াচল ও অস্তাচলও হতে পারে। শীত মৌসুমের সর্বাপেক্ষা ছোট দিনে সূর্য অত্যন্ত সংকীর্ণ একটি কোণ সৃষ্টি করে উদয় হয় এবং অস্ত যায়। অপর দিকে গ্ৰীষ্মের সর্বাপেক্ষা বড় দিনে অতি বিস্তৃত কোণ সৃষ্টি করে উদয় হয় এবং অস্ত যায়। প্রতি দিন এ উভয় কোণের মাঝে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের স্থান পরিবর্তিত হতে থাকে। এ কারণে কুরআনের অন্য এক স্থানে বলা হয়েছে, (فَلَا أُقْسِمُ بِرَبِّ الْمَشَارِقِ وَالْمَغَارِبِ إِنَّا لَقَادِرُونَ) (সূরা আল-মা'আরিজ: ৪০)। অনুরূপ পৃথিবীর এক গােলার্ধে যখন সূর্য উদয় হয় ঠিক সে সময় অন্য গোলার্ধে তা অস্ত যায়। এভাবেও পৃথিবীর দু'টি উদয়াচল ও অস্তাচল হয়ে যায়। (ইবন কাসীর; আত-তাহরীর ওয়াত তানিওয়ীর)
(১৭) তিনিই দুই উদায়াচল ও দুই অস্তাচলের প্রতিপালক। (1)
(1) একটি হল গ্রীষ্মকালের উদয়াচল এবং দ্বিতীয়টি হল শীতকালের উদয়াচল। অস্তাচলের ব্যাপারটাও অনুরূপ। এই কারণে উভয়কে দ্বিবচন শব্দে উল্লেখ করেছেন। ঋতু অনুযায়ী উদয়াচল ও অস্তাচলের ভিন্নতায় মানুষ ও জ্বিনদের জন্য রয়েছে বহু উপকারিতা। তাই এটাকেও নিয়ামত হিসাবে গণ্য করা হয়েছে।