ছাইউহঝামুল জাম‘উ ওয়া ইউওয়াললূনাদ্দুবুর।উচ্চারণ
অচিরেই এ সংঘবদ্ধ শক্তি পরাজিত হবে এবং এদের সবাইকে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে পালাতে দেখা যাবে। ২৪ তাফহীমুল কুরআন
(সত্য কথা এই যে,) এই দল অচিরেই পরাস্ত হবে এবং তারা পিছন ফিরে পালাবে। #%১৫%#মুফতী তাকী উসমানী
এই দলতো শীঘ্রই পরাজিত হবে এবং পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে,মুজিবুর রহমান
এ দল তো সত্ত্বরই পরাজিত হবে এবং পৃষ্ঠপ্রদর্শন করবে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
এই দল তো শীঘ্রই পরাজিত হবে এবং পৃষ্ঠপ্রদর্শন করবে,ইসলামিক ফাউন্ডেশন
সংঘবদ্ধ দলটি শীঘ্রই পরাজিত হবে এবং পিঠ দেখিয়ে পালাবে।আল-বায়ান
এ সংঘবদ্ধ দল শীঘ্রই পরাজিত হবে আর পিছন ফিরে পালাবে।তাইসিরুল
শীঘ্রই এ লোকদল বিধবস্ত হবে এবং পৃস্প্রদর্শন করে ফিরে যাবে।মাওলানা জহুরুল হক
২৪
এটা একটা সুস্পষ্ট ভবিষ্যতবাণী। হিজরতের পাঁচ বছর পূর্বে এ ভবিষ্যৎবাণী করা হয়েছিল। এতে বলা হয়েছিল, কুরাঈশদের সংঘবদ্ধ শক্তি যে শক্তি নিয়ে তাদের গর্ব ছিল অচিরেই মুসলমানদের কাছে পরাজিত হবে। সে সময় কেউ কল্পনাও করতে পারতো না যে, অদূর ভবিষ্যতে কিভাবে এ বিপ্লব সাধিত হবে। সে সময় মুসলমানরা এমন অসহায় অবস্থার মধ্যে নিপতিত ছিল যে, তাদের একটি দল দেশ ছেড়ে হাবশায় আশ্রয় নিয়েছিল এবং অবশিষ্ট মুসলমান আবু তালেব গিরি গুহায় অবরুদ্ধ ছিল। কুরাইশদের বয়কট ও অবরোধ ক্ষুধায় তাদেরকে মৃতপ্রায় করে দিয়েছিল। এরূপ পরিস্থিতিতে কে কল্পনা করতে পারতো যে, মাত্র সাত বছরের মধ্যে অবস্থা পাল্টে যাবে। হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে আব্বাসের ছাত্র ইকরিমা বর্ণনা করেন যে, হযরত উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলতেন, যে সময় সূরা ক্বামারের এ আয়াত নাযিল হয় তখন আমি অস্থির হয়ে পড়েছিলাম যে, এটা কোন সংঘবদ্ধ শক্তি যা পরাজিত হবে। কিন্তু বদর যুদ্ধে যখন কাফেররা পরাজিত হয়ে পালাচ্ছিল সে সময় আমি দেখতে পেলাম রসূলুল্লাহ্ ﷺ বর্ম পরিহিত অবস্থায় সামনের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন এবং তাঁর পবিত্র জবান থেকে উচ্চারিত হচ্ছে سَيُهْزَمُ الْجَمْعُ وَيُوَلُّونَ الدُّبُرَ তখন আমি বুঝতে পারলাম এ পরাজয়ের খবরই দেয়া হয়েছিল। (ইবনে জারীর ইবনে আবী হাতেম)।
এ ভবিষ্যদ্বাণীটি এমন এক সময় করা হয়েছিল, যখন কাফেরদের বিপরীতে মুমিনগণ খুবই কমজোর ছিল। এমনকি নিজেরা কাফেরদের অত্যাচার থেকে আত্মরক্ষা পর্যন্ত করতে পারত না, কিন্তু জগত দেখতে পেয়েছে, কিভাবে আল্লাহ তাআলার এ ভবিষ্যদ্বাণী বদরের রণাঙ্গনে অক্ষরে অক্ষরে পূর্ণ হয়েছে। এ সময় মক্কা মুকাররমার বড়-বড় কাফের ও কাফেরদের সর্দারগণ মুমিনদের হাতে কতল হয়েছে, তাদের সত্তরজন গ্রেফতার হয়েছে এবং বাকিরা জান নিয়ে পালিয়েছে।
৪৫. এ দল তো শীঘ্রই পরাহিত হবে এবং পিঠ দেখিয়ে পালাবে(১),
(১) এটা একটি সুস্পষ্ট ভবিষ্যতবাণী। অর্থাৎ কুরাইশদের সংঘবদ্ধ শক্তি, যা নিয়ে তাদের গর্ব ছিল অচিরেই মুসলিমদের কাছে পরাজিত হবে। (কুরতুবী; ইবন কাসীর) আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাসের ছাত্র ইকরিমা বর্ণনা করেন যে, উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলতেন, যে সময় সূরা ক্বামারের এ আয়াত নাযিল হয় তখন আমি অস্থির হয়ে পড়েছিলাম যে, এটা কোন সংঘবদ্ধ শক্তি যা পরাজিত হবে? কিন্তু বদর যুদ্ধে যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বর্ম পরিহিত অবস্থায় সামনের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ছেন এবং তার পবিত্র জবান থেকে (سَيُهْزَمُ الْجَمْعُ وَيُوَلُّونَ الدُّبُرَ) উচ্চারিত হচ্ছে তখন আমি বুঝতে পারলাম এ পরাজয়ের খবরই দেয়া হয়েছিল। (দেখুন: বুখারী: ৪৮৭৫)
(৪৫) এই দল তো শীঘ্রই পরাজিত হবে এবং পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে।(1)
(1) আল্লাহ তাদের ভ্রান্ত ধারণার খন্ডন করলেন। জামাআত তথা দল বলতে মক্কার কাফেরদেরকে বুঝানো হয়েছে। সুতরাং বদরের যুদ্ধে তাদের পরাজয় হয় এবং তারা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে পলায়ন করে। শিরক ও কুফরীর নেতাদেরকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়। বদর যুদ্ধের সময় যখন নবী করীম (সাঃ) স্বীয় তাঁবুতে কাকুতি-মিনতি সহকারে দু’আয় মগ্ন ছিলেন, তখন আবূ বাকর (রাঃ) বললেন, حَسْبُكَ يَا رَسُوْلَ اللهِ! أَلْحَحْتَ عَلَى رَبِّكَ। ‘‘যথেষ্ট হয়েছে হে আল্লাহর রসূল! আপনি আপনার প্রতিপালকের নিকট অনুনয়-বিনয় খুব করলেন।’’ অতঃপর তিনি যখন তাঁবুর বাইরে এলেন, তখন তাঁর পবিত্র জবানে এই আয়াতটিই আবৃত্ত হচ্ছিল। (বুখারীঃ তাফসীর সূরা ক্বামার)