إِنَّآ أَرۡسَلۡنَا عَلَيۡهِمۡ رِيحٗا صَرۡصَرٗا فِي يَوۡمِ نَحۡسٖ مُّسۡتَمِرّٖ

ইন্নাআরছালনা-‘আলাইহিম রীহান সারসারন ফী ইয়াওমি নাহছিম মুছতামির।উচ্চারণ

আমি এক, বিরামহীন অশুভ দিনে ১৬ তাদের ওপর প্রচণ্ড ঝড়ো বাতাস পাঠালাম তাফহীমুল কুরআন

আমি তাদের উপর ছেড়ে দিয়েছিলাম প্রচণ্ড ঝড়ো হাওয়া একটানা অশুভ দিনে। মুফতী তাকী উসমানী

তাদের উপর আমি প্রেরণ করেছিলাম ঝঞ্ঝাবায়ু নিরবিচ্ছিন্ন দুর্ভোগের দিনে।মুজিবুর রহমান

আমি তাদের উপর প্রেরণ করেছিলাম ঝঞ্জাবায়ু এক চিরাচরিত অশুভ দিনে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এদের ওপর আমি প্রেরণ করেছিলাম ঝঞ্ঝাবায়ু নিরবচ্ছিন্ন দুর্ভাগ্যের দিনে, ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নিশ্চয় আমি তাদের ওপর পাঠিয়েছিলাম প্রচন্ড শীতল ঝড়ো হাওয়া, অব্যাহত এক অমঙ্গল দিনে।আল-বায়ান

আমি তাদের উপর পাঠিয়েছিলাম ঝঞ্ঝাবায়ু এক অবিরাম অশুভ দিনে,তাইসিরুল

নিঃসন্দেহ আমরা তাদের উপরে এক চরম দুর্ভাগ্যের দিনে পাঠিয়েছিলাম এক প্রচন্ড ঝড়-তোফান,মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১৬

অর্থাৎ এমন একটি দিন যার দুর্যোগ একাধারে কয়েকদিন ধরে চলেছিল। সূরা حام السجده এর ১৬ আয়াতে فِي أَيَّامٍ نَحِسَاتٍ কথাটি ব্যবহৃত হয়েছে এবং সূরা الحاقة আল হাক্কার ৭ আয়াতে বলা হয়েছে যে, এ ঝাঞ্চা বাত্যা একাধারে সাত রাত ও আট দিন পর্যন্ত চলেছিল। সাধারণভাবে প্রসিদ্ধ কথা হলো, এ আযাব যেদিন শুরু হয়েছিল সেদিন ছিল বুধবার। এ কারণে মানুষের মধ্যে এ ধারণা ছড়িয়ে পড়েছে যে, বুধবার দিনটি হচ্ছে অশুভ। তাই এ দিনে কোন কাজ শুরু করা উচিত নয়। এ বিষয়ে কিছু যয়ীফ হাদীসও উদ্ধৃত করা হয়েছে যার কারণে এ দিনটির অশুভ হওয়ার বিশ্বাস সাধারণের মন-মগজে বদ্ধমূল হয়ে গিয়েছে। উদাহরণ হিসেবে ইবনে মারদুইয়া ও খতীব বাগদাদীর বর্ণিত এ হাদীসটিও আছে যে, اخر اربعاء فى الشعر يوم نحس مستمر (মাসের শেষ বুধবার অশুভ, যার অশুভ প্রভাব একাধারে চলতে থাকে।) ইবনে জাওযী একে ‘মাওযু’ অর্থাৎ জাল ও মনগড়া হাদীস বলেছেন। ইবনে রজব বলেছেন, এ হাদীস সহীহ নয়। হাফেজ সাখাবী বলেনঃ এ হাদীস যতগুলো সূত্রে বর্ণিত হয়েছে তা সবই একেবারে ভিত্তিহীন। অনুরূপভাবে তাবারানী বর্ণিত এই হাদীস يوم الاربعاء يوم نحس مستمر (বুধবার দিনটি অশুভ দিন যার অকল্যাণ ক্রমাগত চলতে থাকে)। আরো কিছু সংখ্যক হাদীসে এ কথাও বর্ণিত হয়েছে যে, বুধবার দিন যেন ভ্রমণ না করা হয়, লেনদেন না করা হয়। নখ না কাটানো হয় এবং রোগীর সেবা না করা হয়। কুষ্ঠ ও শ্বেত রোগ এ দিনেই শুরু হয়। কিন্তু এসব হাদীসের সব কটিই যয়ীফ। এর ওপরে কোন আকিদা-বিশ্বাসের ভিত্তি স্থাপন করা যায় না। বিশেষজ্ঞ মুনাভী বলেনঃ

توقى الاربعاء على جهة الطيرة وظن اعتقاد المنجمين حرام شديد التحريم , اذ الايام كلها لله تعالى , لاتنفع ولا تضر بذاتها –

“অশুভ লক্ষণসূচক মনে করে বুধবারের দিনকে পরিত্যাগ করা এবং এক্ষেত্রে জ্যোতিষদের ন্যায় বিশ্বাস পোষণ করা কঠোরভাবে হারাম। কেননা, সব দিনই আল্লাহ‌র। কোন দিনই দিন হিসেবে কল্যাণ বা অকল্যাণ কিছুই সাধন করতে পারে না।”

আল্লামা আলুসী বলেনঃ “সবদিন সমান। বুধবারের বিশেষ কোন বৈশিষ্ট্য নেই। রাত ও দিনের মধ্যে এমন কোন মুহূর্ত নেই যা কারো জন্য কল্যাণকর এবং কারো জন্য অকল্যাণকর নয়। আল্লাহ‌ তা’আলা প্রতিটি মুহূর্তেই কারো জন্য অনুকূল এবং কারো জন্য প্রতিকূল অবস্থা সৃষ্টি করে থাকেন।”

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

বিস্তারিত জ্ঞাতার্থে দেখুন সূরা আরাফ (৭ : ৬৫)।

তাফসীরে জাকারিয়া

১৯. নিশ্চয় আমরা তাদের উপর পাঠিয়েছিলাম এক প্রচণ্ড শীতল ঝড়োহাওয়া নিরবচ্ছিন্ন অমঙ্গল দিনে,

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১৯) তাদের উপর আমি নিরবচ্ছিন্ন দুর্ভাগ্যের দিনে ঝড়ো হাওয়া প্রেরণ করেছিলাম।(1)

(1) বলা হয় যে, এই দিনটি ছিল বুধবারের সন্ধ্যা। যখন এই প্রবল ও শীতল বায়ু শাঁ শাঁ করে বইতে আরম্ভ হল, তখন লাগাতার সাত রাত ও আট দিন ধরে চলতে থাকল। এই বাতাস ঘর-বাড়ি ও দুর্গের মধ্যে আশ্রয়গ্রহণকারী লোকদেরকেও সেখান থেকে তুলে এনে এত জোরে যমীনে আছাড় দিয়ে ফেলতে লাগল যে, তাদের মাথা দেহ থেকে পৃথক হয়ে গেল। এই দিন শাস্তির দিক দিয়ে তাদের অশুভ ও দুর্ভাগ্যজনক প্রমাণিত হয়েছিল। তবে এর অর্থ এই নয় যে, বুধবার বা অন্য কোন দিনে অশুভ বা কুলক্ষণ আছে; যেমন, অনেকে মনে করে। مُسْتَمِرٌّ (একটানা, নিরবচ্ছিন্ন বা লাগাতার) এর অর্থ হল, এই আযাব সে পর্যন্ত চলতে থাকল, যে পর্যন্ত না সবাই ধ্বংস হয়ে গেল।