ওয়ালাকাদ ইয়াছছারনাল কুরআ-না লিযযি করি ফাহাল মিম মুদ্দাকির।উচ্চারণ
আমি এ কুরআনকে উপদেশ লাভের সহজ উৎস বানিয়ে দিয়েছি। ১৫ এমতাবস্থায় উপদেশ গ্রহণকারী কেউ আছে কি? তাফহীমুল কুরআন
বস্তুত আমি কুরআনকে উপদেশ গ্রহণের জন্য সহজ করে দিয়েছি। সুতরাং আছে কি কেউ, যে উপদেশ গ্রহণ করবে?মুফতী তাকী উসমানী
কুরআন আমি সহজ করে দিয়েছি উপদেশ গ্রহণের জন্য, সুতরাং উপদেশ গ্রহণকারী কেহ আছে কি?মুজিবুর রহমান
আমি কোরআনকে সহজ করে দিয়েছি বোঝার জন্যে। অতএব, কোন চিন্তাশীল আছে কি?মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
কুরআন আমি সহজ করে দিয়েছি উপদেশ গ্রহণের জন্যে; অতএব উপদেশ গ্রহণকারী কেউ আছে কি? ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর আমি তো কুরআনকে সহজ করে দিয়েছি উপদেশ গ্রহণের জন্য। অতএব কোন উপদেশ গ্রহণকারী আছে কি?আল-বায়ান
আমি কুরআনকে সহজ করে দিয়েছি উপদেশ গ্রহণের জন্য, উপদেশ গ্রহণ করার কেউ আছে কি?তাইসিরুল
আর আমরা তো অবশ্যই কুরআনকে উপদেশগ্রহণের জন্য সহজবোধ্য করে দিয়েছি, কিন্তু কেউ কি আছে যে উপদেশপ্রাপ্তদের মধ্যেকার?মাওলানা জহুরুল হক
১৫
কেউ কেউ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ কথাটির ভুল অর্থ গ্রহণ করেছে। অর্থাৎ কুরআন একখানা সহজ গ্রন্থ। এ গ্রন্থ বুঝার জন্য কোন জ্ঞানের প্রয়োজন নেই। এমনকি আরবী ভাষা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ ছাড়াই যে কোন ব্যক্তি ইচ্ছা করলে এর তাফসীর করতে পারে এবং হাদীস ও ফিকাহ্র সাহায্য ছাড়াই কুরআনের আয়াত থেকে যে কোন আইন ও বিধান উদ্ভাবন করতে পারে। অথচ পূর্বাপর যে প্রসঙ্গে একথাটি বলা হয়েছে সে দিকে লক্ষ্য রেখে বিবেচনা করলে বুঝা যায়, একথাটির উদ্দেশ্য মানুষকে এ বিষয়টি উপলব্ধি করানো যে, উপদেশ ও শিক্ষা গ্রহণের একটি উৎস হচ্ছে বিদ্রোহী জাতিসমূহের ওপর নাযিল হওয়া দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং আরেকটি উৎস হলো এ কুরআন যা যুক্তি প্রমাণ ও ওয়াজ নসীহতের মাধ্যমে তোমাদেরকে সরল সহজ পথ দেখিয়ে দিচ্ছে। প্রথমোক্ত উৎসের তুলনায় নসীহতের এ উৎস অধিক সহজ। এতদত্ত্বেও কেন তোমরা এ থেকে কল্যাণ লাভ করছো না এবং আযাব দেখার জন্যই গোঁ ধরে আছ? এটা সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর মেহেরবানী যে, তিনি তাঁর নবীর মাধ্যমে এ কিতাব পাঠিয়ে তোমাদের সাবধান করে দিচ্ছেন যে তোমরা যে পথে চলছো তা চূড়ান্ত ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। তাছাড়া তোমাদের কল্যাণ কোন পথে তাও বলে দেয়া হয়েছে। নসীহতের এ পন্থা অবলম্বন করা হয়েছে এজন্য যাতে ধ্বংসের গহবরে পতিত হওয়ার আগেই তোমাদেরকে তা থেকে রক্ষা করা যায়। সহজভাবে বুঝানোর পরও যে ব্যক্তি মানে না এবং গর্তের মধ্যে পতিত হওয়ার পরই কেবল স্বীকার করে যে, এটি সত্যিই গর্ত তার চেয়ে নির্বোধ আর কে আছে?
১৭. আর অবশ্যই আমরা কুরআনকে সহজ করে দিয়েছি উপদেশ গ্রহনের জন্য(১); অতএব উপদেশ গ্রহনকারী কেউ আছে কি?
(১) ذكر এর অর্থ দ্বিবিধ (এক) মুখস্থ বা স্মরণ করা এবং (দুই) উপদেশ ও শিক্ষা অর্জন করা। এখানে উভয় অর্থ বোঝানো যেতে পারে। আল্লাহ তা'আলা কুরআনকে মুখস্থ করার জন্যে সহজ করে দিয়েছেন। ইতিপূর্বে অন্য কোন ঐশীগ্রন্থ এরূপ ছিল না। তাওরাত, ইঞ্জীল ও যাবুর মানুষের মুখস্থ ছিল না। (কুরতুবী)
(১৭) নিশ্চয় আমি কুরআনকে উপদেশ গ্রহণের জন্য সহজ করে দিয়েছি।(1) অতএব উপদেশ গ্রহণকারী কেউ আছে কি?
(1) অর্থাৎ, এর অর্থ ও তাৎপর্য উপলব্ধি করা, এ থেকে শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণ করা এবং তা মুখস্থ করা আমি সহজ করে দিয়েছি। অতএব, এটা বাস্তব যে, কুরআন কারীম অলৌকিকতা ও ভাষাশৈলীর দিক দিয়ে অতি উচ্চস্তরের কিতাব হওয়া সত্ত্বেও কোন আরবের মানুষ তার প্রতি একটু মনোযোগ ও গুরুত্ব দিলে ব্যাকরণ, অভিধান ও সাহিত্যের কোন বই-পুস্তক না পড়েই তা অনায়াসে বুঝে নেয়। অনুরূপ এটি পৃথিবীর এমন অনন্য গ্রন্থ যার প্রতিটি শব্দ (অর্থ না জেনেও) হুবহু মুখস্থ করে নেওয়া যায়। এ ছাড়া কোন ক্ষুদ্র পুস্তকও এইভাবে মুখস্থ করা ও রাখা অতি কঠিন হয়। মানুষ যদি তার অন্তর ও বিবেকের দুয়ার উন্মুক্ত রেখে কুরআনকে উপদেশ গ্রহণের দৃষ্টিতে পড়ে, নসীহতের কানে শোনে এবং উপলব্ধিকারী অন্তর দিয়ে এ নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করে, তবে দুনিয়া ও আখেরাতের সৌভাগ্যের দরজাসমূহ তার জন্য খুলে যায় এবং কুরআন তার অন্তরের গভীরে প্রবেশ করে কুফরী ও পাপাচরণের সমস্ত আবর্জনা পরিষ্কার করে দেয়।