লা-তাহছাবান্নাল্লাযীনা ইয়াফরহূনা বিমাআতাওঁ ওয়া ইউহিববূনা আইঁ ইউহমাদূবিমালাম ইয়াফ‘আলূফালা-তাহছাবান্নাহুম বিমাফা-ঝাতিম মিনাল ‘আযা-বি ওয়া লাহুম ‘আযা-বুন আলীম।উচ্চারণ
যারা নিজেদের কার্যকলাপে আনন্দিত এবং যে কাজ যথার্থই তারা নিজেরা করেনি সেজন্য প্রশংসা পেতে চায়, তাদেরকে তোমরা আযাব থেকে সংরক্ষিত মনে করো না। ১৩৩ আসলে তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি তৈরী রয়েছে। তাফহীমুল কুরআন
তুমি কিছুতেই মনে করো না যে, যারা নিজেদের কৃতকর্মের উপর বড় খুশী, আর যে কাজ করেনি তার জন্য প্রশংসার আশাবাদী, এরূপ লোকদের সম্পর্কে কিছুতেই মনে করো না যে, তারা শাস্তি হতে আত্মরক্ষায় সফল হবে। তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি (প্রস্তুত) রয়েছে। #%৮২%#মুফতী তাকী উসমানী
যারা স্বীয় কৃতকর্মে সন্তষ্ট এবং তারা যা করেনি তজ্জন্য প্রশংসা প্রার্থী এরূপ লোকদের সম্বন্ধে ধারণা করনা যে, তারা শাস্তি হতে বিমুক্ত, তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।মুজিবুর রহমান
তুমি মনে করো না, যারা নিজেদের কৃতকর্মের উপর আনন্দিত হয় এবং না করা বিষয়ের জন্য প্রশংসা কামনা করে, তারা আমার নিকট থেকে অব্যাহতি লাভ করেছে। বস্তুতঃ তাদের জন্যে রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
যারা নিজেরা যা করেছে তাতে আনন্দ প্রকাশ করে আর যা নিজেরা করে নাই এমন কাজের জন্যে প্রশংসিত হতে ভালবাসে, তারা শাস্তি হতে মুক্তি পাবে-এইরূপ তুমি কখনও মনে কর না। তাদের জন্যে মর্মন্তুদ শাস্তি আছে।ইসলামিক ফাউন্ডেশন
যারা তাদের কৃতকর্মের প্রতি খুশী হয় এবং যা তারা করেনি তা নিয়ে প্রশংসিত হতে পছন্দ করে, তুমি তাদেরকে আযাব থেকে মুক্ত মনে করো না। আর তাদের জন্যই রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব।আল-বায়ান
তোমরা এ সব লোককে আযাব থেকে সুরক্ষিত মনে করো না যারা নিজেদের কৃতকর্মের জন্য আনন্দিত এবং এমন কাজের জন্য প্রশংসিত হতে চায় মূলতঃ যা তারা করেনি, তাদের জন্য আছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।তাইসিরুল
তুমি মনে করো না যারা উল্লসিত হয় যা তাদের দেয়া হয়েছে সেজন্য, আর প্রশংসা পেতে ভালোবাসে যা করে নি তার জন্যেও, -- কাজেই তুমি তাদের ভেবো না যে তারা শাস্তি থেকে নিরাপদ, আর তাদের জন্য রয়েছে ব্যথাদায়ক শাস্তি।মাওলানা জহুরুল হক
১৩৩
যেমন নিজেদের প্রশংসায় তারা একথা শুনতে চায়ঃ তারা বড়ই মুত্তাকী-পরহেজগার, দ্বীনদার, সাধু-সজ্জন, দ্বীনের খাদেম, শরীয়াতের সাহায্যকারী, সংস্কারক, সুখী চরিত্রের লোক। অথচ তারা কিছুই নয়। অথবা নিজেদের পক্ষে এভাবে ঢোল পেটাতে চায়ঃ উমুক মহাত্মা অতি বড় ত্যাগী পুরুষ, জাতির বিশ্বস্ত নেতা। তিনি নিজের একনিষ্ঠ প্রচেষ্টায় জাতির বিরাট খেদমত করেছেন। অথচ আসল ব্যাপার তার সম্পূর্ণ বিপরীত।
ইয়াহুদীরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কিত সুসংবাদসমূহ গোপন করত এবং এটাকে একটা সফল চাতুর্য মনে করে আহ্লাদিত হত। আবার তারা গোমরাহীর উপর থাকা সত্ত্বেও কামনা করত, মানুষ যেন তাদেরকে হকপন্থী বলে প্রশংসা করে। একই চরিত্র ছিল মুনাফিকদেরও। এ কারণে আয়াতে তাদেরকে কঠিন শাস্তির সতর্কবাণী শোনানো হয়েছে। এর ভেতর মুমিনদের জন্যও শিক্ষা রয়েছে যে, কোন মন্দ কাজ করে তার জন্য খুশি না হয়ে তাওবা-ইসতিগফার করা উচিত এবং কোন ভালো কাজ না করে তার জন্য প্রশংসার আশাবাদী না হয়ে বরং সেই ভালো কাজে সচেষ্ট থাকা ও করার পর আল্লাহর শুকর আদায় করা উচিত। -অনুবাদক
১৮৮. যারা নিজেরা যা করেছে তাতে আনন্দ প্রকাশ করে এবং নিজেরা যা করেনি এমন কাজের জন্য প্রশংসিত হতে ভালবাসে(১), তারা শাস্তি থেকে মুক্তি পাবে- এরূপ আপনি কখনো মনে করবেন না। আর তাদের জন্য মর্মম্ভদ শাস্তি রয়েছে।
(১) আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে কিছু মুনাফেক তার সাথে যুদ্ধে যাওয়া থেকে পিছপা হত। এতে তারা নিজেদের মধ্যে আনন্দবোধ করত। তারপর যখন রাসূল ফিরে আসতেন, তখন তার কাছে ওযর পেশ করত এবং অন্যান্যভাবে নিজেদের প্রশংসা শুনতে চাইত। তখন আল্লাহ্ তা'আলা এ আয়াত নাযিল করেন। (বুখারীঃ ৪৫৬৭; মুসলিমঃ ২৭৭৭)
অন্য বর্ণনায় এসেছে, মারওয়ান ইবনে হাকাম তার দারওয়ানকে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাসের কাছে পাঠিয়ে বললেনঃ যদি কোন লোক কোন কাজ না করেও প্রশংসা পেতে ভালবাসার কারণে শাস্তিযোগ্য হয়, তাহলে আমরা সবাইতো শাস্তি পাব। তখন ইবনে আব্বাস বললেনঃ তোমার আর এ আয়াতের মধ্যে কি সম্পর্ক? এ আয়াতের ঘটনা হল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়াহুদী আলেমদেরকে কোন ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করার কারণে তারা সঠিক জবাব গোপন করে ভিন্ন জবাব দিয়ে রাসূলের প্রশংসা পাওয়ার চেষ্টা করল। এ প্রসঙ্গে আয়াতটি নাযিল হয়। (বুখারীঃ ৪৫৬৮; মুসলিমঃ ২৭৭৮)
(১৮৮) যারা নিজেরা যা করেছে, তাতে আনন্দ প্রকাশ করে এবং যা করেনি, এমন কাজের জন্য প্রশংসিত হতে ভালবাসে, তারা শাস্তি হতে মুক্তি পাবে, এরূপ তুমি কখনও মনে করো না; তাদের জন্য রয়েছে মর্মন্তুদ শাস্তি। (1)
(1) আলোচ্য আয়াতে এমন লোকদের জন্য কঠোর শাস্তির কথা ঘোষিত হয়েছে, যারা কেবল তাদের বাস্তব কৃতিত্ব নিয়েই খোশ নয়, বরং তারা চায় যে, তাদের খাতায় এমন কৃতিত্বও লেখা হোক বা প্রকাশ করা হোক, যা তারা করেনি। এই রোগ যেরূপ রসূল (সাঃ)-এর যুগে ছিল এবং যার কারণে আয়াত নাযিল হয়, অনুরূপ বর্তমানেও পদাভিলাষী ও যশান্বেষী প্রকৃতির মানুষের মধ্যে এবং প্রোপাগান্ডা ও আরো বিভিন্ন চালাকী ও চাতুর্যের মাধ্যমে নেতৃত্ব লাভকারী নেতাদের মধ্যেও ব্যাপকহারে এ রোগ পাওয়া যায়। আয়াতের প্রসঙ্গসূত্র থেকে এ কথাও প্রতীয়মান হয় যে, ইয়াহুদীরা আল্লাহর কিতাবে পরিবর্তন ও তা গোপন করার অপরাধে অপরাধী ছিল এবং তারা তাদের এই কুকৃতিত্বে আনন্দিতও ছিল। বর্তমানের বাতিলপন্থীদের অবস্থাও অনুরূপ। তারাও মানুষদেরকে পথভ্রষ্ট করে, ভুলপথ প্রদর্শন করে এবং আল্লাহর আয়াতের অর্থগত পরিবর্তন ও অস্পষ্ট ব্যাখ্যা করে বড়ই আনন্দবোধ করে এবং দাবী করে যে, তারাই হকপন্থী ও তাদেরকে তাদের এই প্রতারণার জন্য সাবাসীও দেওয়া হোক।
قَاتَلَهُمُ اللهُ أَنَّى يُؤْفَكُوْنَ