ওয়া ইযআখাযাল্লা-হু মীছাকাল্লাযীনা ঊতুল কিতা-বা লাতুবাইয়িনুন্নাহূ লিন্না-ছি ওয়ালাতাকতুমূনাহূ ফানাবাযূহু ওয়ারআ জুহূরিহিম ওয়াশতারও বিহী ছামানান কালীলান ফাবি’ছা মা-ইয়াশতারূন।উচ্চারণ
এ আহলি কিতাবদের সেই অঙ্গীকারের কথা স্মরণ করিয়ে দাও, যা আল্লাহ তাদের থেকে নিয়েছিলেন। তাতে বলা হয়েছিলঃ তোমরা কিতাবের শিক্ষা মানুষের মধ্যে প্রচার করবে, তা গোপন করতে পারবে না। ১৩২ কিন্তু তারা কিতাবকে পিছনে ফেলে রেখেছে এবং সামান্য দামে তা বিক্রি করে দিয়েছে। কতই না নিকৃষ্ট কারবার তারা করে যাচ্ছে! তাফহীমুল কুরআন
আর (সেই সময়ের কথা তাদের ভুলে যাওয়া উচিত নয়) যখন আল্লাহ ‘আহলে কিতাব’ থেকে এই প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলেন যে, তোমরা এ কিতাবকে অবশ্যই মানুষের সামনে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করবে এবং এটা গোপন করবে না। অতঃপর তারা এ প্রতিশ্রুতিকে তাদের পেছন দিকে ছুড়ে মারে এবং এর বিনিময়ে তুচ্ছ মূল্য অর্জন করে। কতই না মন্দ সেই জিনিস, যা তারা ক্রয় করছে।মুফতী তাকী উসমানী
আর আল্লাহ যখন যাদেরকে গ্রন্থ প্রদান করা হয়েছে তাদের কাছ থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন যে, তারা নিশ্চয়ই এটি লোকদের মধ্যে ব্যক্ত করবে এবং তা গোপন করবেনা; কিন্তু তারা ওটা তাদের পশ্চাতে নিক্ষেপ করল এবং ওটা অল্প মূল্যে বিক্রি করল। অতএব তারা যা ক্রয় করেছিল তা নিকৃষ্টতর।মুজিবুর রহমান
আর আল্লাহ যখন আহলে কিতাবদের কাছ থেকে প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করলেন যে, তা মানুষের নিকট বর্ণনা করবে এবং গোপন করবে না, তখন তারা সে প্রতিজ্ঞাকে নিজেদের পেছনে ফেলে রাখল আর তার কেনা-বেচা করল সামান্য মূল্যের বিনিময়ে। সুতরাং কতই না মন্দ তাদের এ বেচা-কেনা।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
স্মরণ কর, যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছিল আল্লাহ্ তাদের প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলেন : ‘তোমরা তা মানুষের নিকট স্পষ্টভাবে প্রকাশ করবে এবং তা গোপন করবে না।’ এর পরও তারা তা অগ্রাহ্য করে ও তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে ; সুতরাং তারা যা ক্রয় করে তা কত নিকৃষ্ট ! ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর স্মরণ কর, যখন আল্লাহ কিতাবপ্রাপ্তদের অঙ্গীকার নিয়েছিলেন যে, ‘অবশ্যই তোমরা তা মানুষের নিকট স্পষ্টভাবে বর্ণনা করবে এবং তা গোপন করবে না’। কিন্তু তারা তা তাদের পেছনে ফেলে দেয় এবং তা বিক্রি করে তুচ্ছ মূল্যে। অতএব তারা যা ক্রয় করে, তা কতইনা মন্দ!আল-বায়ান
(স্মরণ কর) আল্লাহ আহলে কিতাবদের নিকট থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলেন- তোমরা অবশ্যই তা (অর্থাৎ কিতাব) মানুষের কাছে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করবে আর তা গোপন করবে না, কিন্তু তারা তা অগ্রাহ্য করল এবং সামান্য মূল্যে বিক্রি করল, তারা যা ক্রয় করল সে বস্তু কতই না মন্দ!তাইসিরুল
আর স্মরণ করো! যাদের কিতাব দেওয়া হয়েছিল তাদের থেকে আল্লাহ্ অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন -- "তোমরা নিশ্চয় এর কথা লোকেদের কাছে প্রকাশ করবে, আর তা লুকিয়ে রাখবে না।" কিন্তু তারা এটি তাদের পিঠের পেছনে ফেলে রেখে দিয়েছিল, আর এর জন্য তারা বিনিময়ে স্বল্পমূল্য গ্রহণ করেছিল। অতএব মন্দ তারা যা কেনে।মাওলানা জহুরুল হক
১৩২
অর্থাৎ কোন কোন নবীকে অদৃশ্য আগুনে জ্বালিয়ে ভস্ম করে দেয়া কুরবানীর নিশানী হিসেবে দেয়া হয়েছিল, একথা তারা মনে রেখেছে। কিন্তু আল্লাহ নিজের কিতাব তাদের হাতে সোপর্দ করার সময় তাদের থেকে কি অঙ্গীকার নিয়েছিলেন এবং কোন মহাদায়িত্বের বোঝা তাদের মাথায় চাপিয়ে দিয়েছিলেন, সেকথা তারা ভুলে গেছে।
এখানে যে অঙ্গীকারের কথা বলা হয়েছে, বাইবেলের বিভিন্ন স্থানে তার উল্লেখ দেখা যায়। বিশেষ করে বাইবেলের “দ্বিতীয় বিবরণ” পুস্তকে হযরত মূসার (আ) যে শেষ ভাষণটি উদ্ধৃত হয়েছে তাতে তাঁকে বার বার বনী ইসরাঈলদের থেকে নিম্নোক্ত অঙ্গীকারটি নিতে দেখা যায়ঃ
যে বিধান আমি তোমাদের কাছে পৌঁছিয়ে দিয়েছি তা নিজেদের মনের পাতায় খোদাই করে নাও। তোমাদের ভবিষ্যৎ বংশধরদেরকে সেগুলো শিখিয়ে দিয়ো। ঘরে বসে থাকা ও পথে চলা অবস্থায় এবং ওঠা, বসা ও শয়ন করার সময় সেগুলোর চর্চা করো। নিজেদের ঘরের চৌকাঠে ও বাইরের দরজার গায়ে সেগুলো লিখে রাখো। (৬: ৪-৯) তারপর নিজের সর্বশেষ উপদেশ তিনি তাকিদ দিয়ে বলেনঃ ফিলিস্তীন সীমান্তে প্রবেশ করার পর সর্বপ্রথম যে কাজটি করবে সেটি হচ্ছে এই যে, ইবাল পর্বতের ওপর বড় বড় শিলা খণ্ড স্থাপন করে তার গায়ে তাওরাতের বিধানগুলি খোদাই করে দেবে। (২৭: ২-৪) এছাড়াও তিনি বনী লেভীকে এক খণ্ড তাওরাত গ্রন্থ দিয়ে এ নির্দেশ জারী করেন যে, প্রতি সপ্তম বছরের ‘ঈদে খিয়াম’ এর সময় জাতির নারী-পুরুষ শিশু সবাইকে বিভিন্ন স্থানে সমবেত করে সমস্ত তাওরাত গ্রন্থটির প্রতিটি শব্দ তাদেরকে শোনাতে থাকবে। কিন্তু এরপরও আল্লাহর কিতাব থেকে বনি ইসরাঈলরা দিনের পর দিন গাফিল হয়ে যেতে থাকে। এমনকি হযরত মূসার (আ) ইন্তিকালের সাতশো বছর পর হাইকেলে সুলাইমানীর গদীনশীন এবং জেরুসালেমের ইহুদী শাসনকর্তা পর্যন্তও জানতেন না যে, তাদের তাওরাত নামের একটি কিতাব আছে। (২-রাজাবলী ২২: ৮-১৩)
১৮৭. স্মরণ করুন, যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছিল আল্লাহ্ তাদের প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলেন: অবশ্যই তোমরা তা মানুষের কাছে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করবে এবং তা গোপন করবে না। এরপরও তারা তা তাদের পেছনে ফেলে রাখে (অগ্রাহ্য করে) ও তুচ্ছ মূল্যে বিক্রি করে; কাজেই তারা যা ক্রয় করে তা কত নিকৃষ্ট
(১৮৭) (স্মরণ কর) যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছিল, আল্লাহ তাদের নিকট প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলেন যে, তোমরা তা (কিতাব) স্পষ্টভাবে মানুষের কাছে প্রকাশ করবে এবং তা গোপন করবে না। এর পরও তারা তা পৃষ্ঠের পিছনে নিক্ষেপ করে (অগ্রাহ্য করে) ও তা স্বল্পমূল্যে বিক্রয় করে। সুতরাং তারা যা ক্রয় করে তা কত নিকৃষ্ট। (1)
(1) এখানে আহলে-কিতাবদেরকে তিরস্কার করা হচ্ছে। তাদের কাছ থেকে মহান আল্লাহ এই অঙ্গীকার নিয়েছিলেন যে, তাঁর কিতাবে (তাওরাত ও ইঞ্জীলে) যে কথাগুলো লিপিবদ্ধ রয়েছে এবং শেষ নবীর যে গুণাবলী তাতে উল্লিখিত হয়েছে, সেগুলো তারা মানুষের কাছে বর্ণনা করবে ও তার কোন কিছুই গোপন করবে না। কিন্তু তারা সামান্য পার্থিব স্বার্থের কারণে আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার ভঙ্গ করে ফেলে। অর্থাৎ, আলেম সমাজকে জ্ঞাত ও সতর্ক করা হচ্ছে যে, তাঁদের নিকট উপকারী যে জ্ঞান রয়েছে, যে জ্ঞান দ্বারা মানুষের যাবতীয় আকীদা ও আমলের সংশোধন হওয়া সম্ভব, সে জ্ঞান যেন তাঁরা মানুষের নিকট অবশ্যই পৌঁছে দেন। পার্থিব স্বার্থ ও লাভের খাতিরে তা গোপন করা হবে অতি বড় অপরাধ। কিয়ামতের দিন এই ধরনের আলেমকে আগুনের লাগাম পরানো হবে। (এ কথা হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।)