ٱلَّذِينَ قَالُوٓاْ إِنَّ ٱللَّهَ عَهِدَ إِلَيۡنَآ أَلَّا نُؤۡمِنَ لِرَسُولٍ حَتَّىٰ يَأۡتِيَنَا بِقُرۡبَانٖ تَأۡكُلُهُ ٱلنَّارُۗ قُلۡ قَدۡ جَآءَكُمۡ رُسُلٞ مِّن قَبۡلِي بِٱلۡبَيِّنَٰتِ وَبِٱلَّذِي قُلۡتُمۡ فَلِمَ قَتَلۡتُمُوهُمۡ إِن كُنتُمۡ صَٰدِقِينَ

আল্লাযীনা ক-লূইন্নাল্লা-হা ‘আহিদা ইলাইনাআল্লা-নু’মিনা লিরছূলিন হাত্তাইয়া’তিইয়ানা-বিকুরবা-নিন তা’কুলুহুন্না-রু কুল কাদ জাআকুম রুছুলুম মিন কাবলী বিলবাইয়িনা-তি ওয়াবিল্লাযী কুলতুম ফালিমা কাতালতুমূহুম ইন কুনতুম সা-দিকীন।উচ্চারণ

যারা বলেঃ “আল্লাহ্‌ আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন, আমরা কাউকে রসূল বলে স্বীকার করবো না যতক্ষণ না তিনি আমাদের সামনে এমন কুরবানী করবেন যাকে আগুন (অদৃশ্য থেকে এসে) খেয়ে ফেলবে।” তাদেরকে বলোঃ আমার আগে তোমাদের কাছে অনেক রসূল এসেছেন, তারা অনেক উজ্জ্বল নিদর্শন এনেছিলেন এবং তোমরা যে নিদর্শনটির কথা বলছো সেটিও তারা এনেছিলেন। এক্ষেত্রে (ঈমান আনার জন্য এ শর্ত পেশ করার ব্যাপারে) যদি তোমরা সত্যবাদী হও, তাহলে ঐ রসূলদেরকে তোমরা হত্যা করেছিলে কেন? ১২৯ তাফহীমুল কুরআন

(এরা) সেই লোক, যারা বলে, আল্লাহ আমাদের প্রতিশ্রুতি নিয়েছেন যে, আমরা কোনও নবীর প্রতি ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমান আনব না, যতক্ষণ না সে আমাদের কাছে এমন কোন কুরবানী উপস্থিত করবে, যাকে আগুন গ্রাস করবে। #%৮১%# তুমি বল, আমার আগেও তোমাদের নিকট বহু নবী সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী নিয়ে উপস্থিত হয়েছিল এবং সেই জিনিস নিয়েও, যার কথা তোমরা (আমাকে) বলছ। তা সত্ত্বেও তোমরা তাদেরকে হত্যা করলে কেন, যদি তোমরা সত্যবাদী হও?মুফতী তাকী উসমানী

যারা বলে থাকে, অবশ্যই আল্লাহ আমাদের থেকে অঙ্গীকার নিয়েছেন যে, অগ্নি যা গ্রাস করে, আমাদের জন্য এমন কুরবানী আনয়ন না করা পর্যন্ত আমরা যেন কোন নাবীর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন না করি; তুমি বলঃ নিশ্চয়ই আমার পূর্বে সমুজ্জ্বল নিদর্শনাবলী এবং তোমরা যা বল তৎসহ রাসূলগণ আগমন করেছিল; যদি তোমরা সত্যবাদী হও তাহলে কেন তোমরা তাদেরকে হত্যা করেছিলে?মুজিবুর রহমান

সে সমস্ত লোক, যারা বলে যে, আল্লাহ আমাদিগকে এমন কোন রসূলের ওপর বিশ্বাস না করতে বলে রেখেছেন যতক্ষণ না তারা আমাদের নিকট এমন কোরবানী নিয়ে আসবেন যাকে আগুন গ্রাস করে নেবে। তুমি তাদের বলে দাও, তোমাদের মাঝে আমার পূর্বে বহু রসূল নিদর্শনসমূহ এবং তোমরা যা আব্দার করেছ তা নিয়ে এসেছিলেন, তখন তোমরা কেন তাদেরকে হত্যা করলে যদি তোমরা সত্য হয়ে থাক।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যারা বলে, ‘আল্লাহ্ আমাদেরকে আদেশ দিয়েছেন, আমরা যেন কোন রাসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন না করি যতক্ষণ পর্যন্ত সে আমাদের নিকট এমন কুরবানী উপস্থিত না করবে যা অগ্নি গ্রাস করবে; তাদেরকে বল, ‘আমার পূর্বে অনেক রাসূল স্পষ্ট নিদর্শনসহ এবং তোমরা যা বলতেছ তাসহ তোমাদের নিকট এসেছিল, যদি তোমরা সত্যবাদী হও তবে কেন তাদেরকে হত্যা করেছিলে ?’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যারা বলে, ‘নিশ্চয় আল্লাহ আমাদেরকে অঙ্গীকার দিয়েছিলেন যে, আমরা যেন কোন রাসূলের প্রতি বিশ্বাস না করি, যতক্ষণ না সে আমাদের নিকট নিয়ে আসে এমন কুরবানী যাকে আগুন খেয়ে ফেলবে’। বল, ‘আমার পূর্বে রাসূলগণ তোমাদের নিকট এসেছে স্পষ্ট প্রমাণসমূহ নিয়ে এবং তোমরা যা বলছ তা নিয়ে। সুতরাং তোমরা তাদেরকে কেন হত্যা করেছিলে যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাক’?আল-বায়ান

যারা ব’লে থাকে যে, ‘আল্লাহ আমাদের কাছে অঙ্গীকার নিয়েছেন, যেন আমরা আগুনে গ্রাস করে এমন কোন কুরবানী আমাদের সামনে না দেখানো পর্যন্ত কোন রসূলের প্রতি ঈমান না আনি’। বল, ‘আমার পূর্বে বহু রসূল বহু প্রমাণসহ তোমাদের নিকট এসেছিল এবং তোমাদের কথিত সেই মু’জিযা নিয়েও (এসেছিল)। যদি তোমরা সত্যবাদী হও, তাহলে কেন তোমরা তাদেরকে হত্যা করেছিলে?’তাইসিরুল

যারা বলেছিল -- "নিঃসন্দেহ আল্লাহ্ আমাদের কাছে অঙ্গীকার করেছেন যে আমরা কোনো রসূলের প্রতি ঈমান আনবো না যে পর্যন্ত না তিনি আমাদের কাছে এমন কুরবানি আনেন যাকে আগুন পুড়িয়ে থাকে।" তুমি বলো -- "নিশ্চয়ই আমার আগে তোমাদের কাছে রসূলগণ এসেছিলেন স্পষ্ট প্রমাণাবলী নিয়ে আর তোমরা যার কথা বলছো তা নিয়ে, তবে কেন তোমরা তাঁদের হত্যা করতে যাচ্ছিলে, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।"মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১২৯

বাইবেলের বিভিন্ন স্থানে একথা বলা হয়েছে, আল্লাহর কাছে কোন কুরবানী গৃহীত হবার আলামত এই ছিল যে, গায়েব থেকে একটি আগুন এসে তাকে পুড়িয়ে ছাই করে দিতো। (বিচারকর্তৃগণ ৬: ২০-২১, ১৩: ১৯-২০) এছাড়াও বাইবেলে এ আলোচনাও এসেছে যে, কোন কোন সময় কোন নবী পোড়া জিনিস কুরবানী করতেন এবং অদৃশ্য থেকে একটি আগুন এসে তা খেয়ে ফেলতো। (লেবীয় পুস্তক ৯: ২৪ এবং ২-বংশাবলী ৯: ১-২) কিন্তু বাইবেলের কোথাও এ ধরনের কুবরানীকে নবুওয়াতের অপরিহার্য আলামত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি বা একথাও বলা হয়নি যে, যে ব্যক্তিকে এ মুজিযাটি দেয়া হয়নি সে নবী হতে পারে না। এটা ছিল নিছক ইহুদীদের একটি মনগড়া বাহানাবাজী। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুওয়াত অস্বীকার করার জন্য তারা এ বাহানাবাজীর আশ্রয় নিয়েছিল। কিন্তু এদের সত্য বিরোধিতার এর চাইতেও বড় প্রমাণ রয়েছে। বনী ইসরাঈলদের মধ্যেও এমন কোন কোন নবী ছিলেন যারা এ অগ্নিদগ্ধ কুরবানীর মুজিযা দেখিয়ে ছিলেন; কিন্তু এরপরও এ পেশাগত অপরাধী লোকেরা তাদেরকে হত্যা করতে দ্বিধা করেনি। দৃষ্টান্ত স্বরূপ হযরত ইলিয়াসের কথা বলা যায়। বাইবেলে তাঁর সম্পর্কে বলা হয়েছেঃ তিনি বা’ল পূজারীদেরকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেন, সাধারণ লোকদের সমাবেশে তোমরা একটি গরু কুরবানী করবে এবং আমিও একটি গরু কুরবানী করবো, অদৃশ্য আগুন যার কুরবানী খেয়ে ফেলবে সে-ই সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত বলে প্রমাণিত হবে। কাজেই একটি বিপুল জনসমাবেশে এ মোকাবিলাটি হয়। অদৃশ্য আগুন হযরত ইলিয়াসের কুরবানী খেয়ে ফেলে। কিন্তু এরপরও ইসরাঈলী বাদশাহর বা’ল পূজারী বেগম হযরত ইলিয়াসের শত্রু হয়ে যায়। স্ত্রৈণ বাদশাহ নিজের বেগমের মনোরঞ্জনের উদ্দেশ্যে তাঁকে হত্যা করতে উদ্যত হয়। ফলে বাধ্য হয়ে তাঁকে দেশ ত্যাগ করে সাইনা উপদ্বীপের পার্বত্য অঞ্চলে আশ্রয় নিতে হয়। (১-রাজাবলী ১৮ ও ১৯) এ জন্য বলা হয়েছেঃ ওহে সত্যের দুশমনরা! তোমরা কোন মুখে অগ্নিদগ্ধ কুরবানীর মুজিযা দেখতে চাচ্ছো? যেসব পয়গম্বর এ মুজিযা দেখিয়েছিলেন, তোমরা কি তাঁদেরকে হত্যা করতে বিরত হয়েছিলে?

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

পূর্ববর্তী নবীগণের সময়ে নিয়ম ছিল, কোনও ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি বিধানের লক্ষ্যে যখন কোনও পশু কুরবানী করত, তখন তাদের জন্য তা খাওয়া হালাল হত না; বরং তারা সে পশু যবাহ করে মাঠে বা টিলায় রেখে আসত। অতঃপর আল্লাহ তাআলা সে কুরবানী কবুল করলে আসমান থেকে আগুন এসে তা জ্বালিয়ে দিত। তাকে ‘দাহ্য কুরবানী’ বলা হত। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শরীয়তে সে নিয়ম রহিত করে দেওয়া হয়েছে। এখন কুরবানীর গোশত হালাল। ইয়াহুদীরা বলেছিল, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেহেতু এরূপ কুরবানী নিয়ে আসেননি, তাই আমরা তাঁর প্রতি ঈমান আনতে পারি না। আসলে এটা ছিল তাদের কালক্ষেপণের এক বাহানা। ঈমান আনার কোন উদ্দেশ্য তাদের আদৌ ছিল না। তাই তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, অতীতে এসব নিদর্শন তো তোমাদের কাছে এসেছিল। তখনও তোমরা ঈমান আননি; বরং নবীগণকে হত্যা করেছিলে।

তাফসীরে জাকারিয়া

১৮৩. যারা বলে, আল্লাহ্‌ আমাদেরকে আদেশ দিয়েছেন যে, আমরা যেন কোন রাসূলের প্রতি ঈমান না আনি যতক্ষন পর্যন্ত সে আমাদের কাছে এমন কুরবানী উপস্থিত না করবে যা আগুন খেয়ে ফেলবে। তাদেরকে বলুন, ‘আমার আগে অনেক রাসূল স্পষ্ট নিদর্শনসহ এবং তোমরা যা বলছ তা সহ তোমাদের কাছে এসেছিলেন, যদি তোমরা সত্যবাদী হও তবে কেন তাদেরকে হত্যা করেছিলে?

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১৮৩) যারা বলে, আল্লাহ আমাদেরকে আদেশ দিয়েছেন যে, আমরা যেন কোন রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন না করি, যতক্ষণ পর্যন্ত সে (এমন) কুরবানী না করবে, যাকে অগ্নি (অদৃশ্য হতে এসে) গ্রাস করবে। (হে নবী!) তাদেরকে তুমি বল, আমার পূর্বে অনেক রসূল স্পষ্ট নিদর্শনসহ এবং তোমরা যা বলছ, তা সহ তোমাদের নিকট এসেছিল; যদি তোমরা সত্যবাদী হও, তাহলে কেন তাদেরকে হত্যা করেছিলে? (1)

(1) এই আয়াতে ইয়াহুদীদের আর একটি কথাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা হচ্ছে; তারা বলতো যে, মহান আল্লাহ আমাদের নিকট থেকে এই প্রতিজ্ঞা নিয়েছেন যে, তোমরা কেবল সেই রসূলকেই বিশ্বাস করবে, যাঁর দু’আর ফলে আসমান থেকে আগুন এসে কুরবানী ও সাদাকাকে জ্বালিয়ে দিয়েছে। অর্থাৎ, হে মুহাম্মাদ! তোমার দ্বারা যেহেতু এই মু’জিযা সংঘটিত হয়নি, তাই আল্লাহর নির্দেশের ভিত্তিতে তোমার রিসালাতের উপর ঈমান আনা আমাদের জন্য জরুরী নয়। অথচ পূর্বের নবীদের মধ্যে এমন নবীও এসেছেন, যাঁর দু’আয় আসমান থেকে আগুন এসে ঈমানদারদের সাদাকা ও কুরবানী জ্বালিয়ে দিত। এর দ্বারা প্রথমতঃ প্রমাণিত হত যে, আল্লাহর রাস্তায় পেশ করা সাদাকা ও কুরবানী আল্লাহর নিকট কবুল হয়েছে। আর দ্বিতীয়তঃ প্রমাণ হত যে, নবী সত্য। তবে ইয়াহুদীরা এই নবী ও রসূলদেরকে মিথ্যুকই ভেবেছে। তাই মহান আল্লাহ বললেন, ‘‘যদি তোমরা তোমাদের দাবীতে সত্যবাদী হও, তাহলে তোমরা এমন নবীদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন কেন করলে এবং তাঁদেরকে হত্যাই বা কেন করলে, যাঁরা তোমাদের চাহিদা অনুযায়ী নিদর্শনসমূহ নিয়ে এসেছিলেন।’’