مَآ أُرِيدُ مِنۡهُم مِّن رِّزۡقٖ وَمَآ أُرِيدُ أَن يُطۡعِمُونِ

মাউরীদুমিনহুম মির রিঝকিওঁ ওয়ামাউরীদুআইঁ ইয়ুত‘ইমূন।উচ্চারণ

আমি তাদের কাছে কোন রিযিক চাই না কিংবা তারা আমাকে খাওয়াবে ৫৪ তাও চাই না। তাফহীমুল কুরআন

আমি তাদের কাছে কোন রকম রিযক চাই না এবং এটাও চাই না যে, তারা আমাকে খাবার দিক।মুফতী তাকী উসমানী

আমি তাদের নিকট হতে জীবিকা চাইনা এবং এও চাইনা যে, তারা আমার আহার যোগাবে।মুজিবুর রহমান

আমি তাদের কাছে জীবিকা চাই না এবং এটাও চাই না যে, তারা আমাকে আহার্য যোগাবে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আমি এদের নিকট হতে জীবিকা চাই না এবং এটাও চাই না যে, এরা আমার আহার্য যোগাবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি তাদের কাছে কোন রিয্ক চাই না; আর আমি চাই না যে, তারা আমাকে খাবার দিবে।আল-বায়ান

আমি তাদের থেকে রিযক চাই না, আর আমি এও চাই না যে, তারা আমাকে খাওয়াবে।তাইসিরুল

আমি তাদের থেকে কোনো জীবিকা চাই না, আর আমি চাই না যে তারা আমাকে খাওয়াবে।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৫৪

অর্থাৎ জ্বীন ও মানুষের কাছে আমার কোন উদ্দেশ্য বাঁধা পড়ে নেই যে, এরা আমার দাসত্ব করলে আমার প্রভুত্ব চলবে আর এরা আমার দাসত্ব থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলে আমি আর আল্লাহ‌ থাকতে পারবো না। আমি তাদের বন্দেগী বা দাসত্বের মুখাপেক্ষী নই। বরং আমার বন্দেগী করা তাদের প্রকৃতির দাবী। এ উদ্দেশ্যেই তাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে। নিজ প্রকৃতির বিরুদ্ধে লড়াই করা তাদের নিজেদেরই ক্ষতি।

“আমি তাদের কাছে রিযিক চাই না, কিংবা তারা আমাকে খাবার দান করুক তাও চাই না” একথাটির মধ্যে একটি সূক্ষ্ম ইঙ্গিত আছে। আল্লাহ‌ বিমুখ লোকেরা পৃথিবীতে যাদের বন্দেগী করছে তারা সবাই প্রকৃতপক্ষে এসব বান্দার মুখাপেক্ষী। এরা যদি তার প্রভুত্ব না চালায় তাহলে তা একদিনও চলবে না। সে এদের রিযিক দাতা নয় এরাই বরং তাকে রিযিক পৌঁছিয়ে থাকে। সে এদের খাওয়ায় না, এরাই তাকে খাইয়ে থাকে। সে এদের প্রাণের রক্ষক নয়, বরং এরাই তাদের প্রাণ রক্ষা করে থাকে। এরাই তাদের সৈন্য সামন্ত। এদের ওপর নির্ভর করেই তাদের প্রভুত্ব চলে। যেখানেই কেউ এ মিথ্যা প্রভুদের সহযোগী বান্দা হয়নি কিংবা বান্দারা তাদেরকে সহযোগিতা করা থেকে বিরত থেকেছে সেখানেই তাদের সব জৌলুস হারিয়ে গিয়েছে এবং দুনিয়ার মানুষ তাদের পতন দেখতে পেয়েছে। সমস্ত উপাস্যের মধ্যে একমাত্র মহান ও মহাপরাক্রমশালী আল্লাহই এমন উপাস্য, নিজের ক্ষমতায়ই যাঁর প্রভুত্ব চলছে। যিনি তাঁর বান্দাদের নিকট থেকে কিছু নেন না, বরং তিনিই তাদের সবকিছু দেন।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

৫৭. আমি তাদের কাছ থেকে কোন রিযিক চাই না এবং এটাও চাই না যে, তারা আমাকে খাওয়াবে।(১)

(১) অর্থাৎ আমি জিন ও মানবকে সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষের অভ্যাস অনুযায়ী কোন উপকার চাই না যে, তারা রিযিক সৃষ্টি করবে। আমার জন্যে অথবা আমার অন্যান্য সৃষ্টজীবের জন্যে। আমি এটাও চাই না যে, তারা আমাকে আহার্য যোগাবে। (দেখুন: তাবারী)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৫৭) আমি তাদের নিকট হতে জীবিকা চাই না এবং এও চাই না যে, তারা আমার আহার্য যোগাবে।(1)

(1) অর্থাৎ, আমার ইবাদত ও আনুগত্য থেকে আমার উদ্দেশ্য এ নয় যে, তারা আমাকে উপার্জন করে খাওয়াক; যেমন, অন্যান্য প্রভুদের উদ্দেশ্য হয়। বরং রুযীর সমস্ত ভান্ডার তো আমার কাছেই রয়েছে। আমার ইবাদত ও আনুগত্য করলে লাভ তাদেরই। এতে তাদের আখেরাত সুন্দর হয়ে যাবে। আমার কোন লাভ এতে নেই।