আতাওয়া-সাও বিহী বাল হুম কাওমুন তা-গূন।উচ্চারণ
এরা কি এ ব্যাপারে পরস্পর কোন সমঝোতা করে নিয়েছে? না, এরা সবাই বরং বিদ্রোহী। ৫০ তাফহীমুল কুরআন
তারা কি পরস্পরে এ কথার অসিয়ত করে আসছে? না, বরং তারা এক উদ্ধত সম্প্রদায়। #%২০%#মুফতী তাকী উসমানী
তারা কি একে অপরকে এই মন্ত্রণাই দিয়ে এসেছে? বস্তুতঃ তারা এক সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়।মুজিবুর রহমান
তারা কি একে অপরকে এই উপদেশই দিয়ে গেছে? বস্তুতঃ ওরা দুষ্ট সম্প্রদায়।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
এরা কি একে অপরকে এই যন্ত্রণাই দিয়ে এসেছে ? বস্তুত এরা সীমা-লংঘনকারী সম্প্রদায়। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তারা কি একে অন্যকে এ বিষয়ে ওসিয়াত করেছে? বরং তারা সীমালংঘনকারী কওম।আল-বায়ান
তারা কি বংশ পরম্পরায় এরই অসিয়ত (অর্থাৎ অন্তিম সবক) দিয়ে আসছে, বরং তারা সীমালঙ্ঘনকারী জাতি।তাইসিরুল
এরা কি এটিকেই মৌরুসি বিষয় বানিয়েছে? না, তারা হচ্ছে সীমালংঘনকারী জাতি।মাওলানা জহুরুল হক
৫০
অর্থাৎ একথা সুস্পষ্ট যে, হাজার হাজার বছর ধরে প্রতিটি যুগে বিভিন্ন দেশ ও জাতির লোকদের নবী-রসূলের দাওয়াতের মোকাবিলায় একই আচরণ করা এবং তাঁদের বিরুদ্ধে একই রকমের কথা বলার কারণ এ নয় যে, একটি সম্মেলন করে আগের ও পরের সমস্ত মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যখনই কোন নবী এসে এ দাওয়াত পেশ করবে তখনই তাঁকে এ জবাব দিতে হবে। স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে যে, তাহলে তাদের আচরণের এ সাদৃশ্য এবং একই প্রকৃতির জবাবের ক্রমাগত পুনরাবৃত্তি কেন? এর একমাত্র জবাব এই যে, অবাধ্যতা ও সীমালঙ্ঘন এদের সবার সাধারণ বৈশিষ্ট্য। তাছাড়া এ আচরণের আর কোন কারণ নেই। প্রত্যেক অজ্ঞ লোকেরাই যেহেতু আল্লাহর দাসত্ব থেকে মুক্ত ও তাঁর জিজ্ঞাসাবাদ সম্পর্কে বেপরোয়া হয়ে পৃথিবীতে লাগামহীন পশুর মত জীবন যাপন করতে আগ্রহী, তাই শুধু এ কারণে যিনিই তাদেরকে আল্লাহর দাসত্ব ও আল্লাহ ভীতিমূলক জীবন যাপনের আহবান জানিয়েছেন তাঁকেই তারা একই ধরাবাঁধা জবাব দিয়ে এসেছে।
এ আয়াত থেকে আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্যের ওপর আলোকপাত হয়। সেটি হচ্ছে, হিদায়াত ও গোমরাহী, নেক কাজ ও বদ কাজ, জুলুম ও ন্যায় বিচার এবং এ ধরনের আরো অনেক কাজ-কর্মের যেসব প্রবণতা ও উদ্দীপনা স্বভাবসুলভ ভাবেই মানুষের মধ্যে বিদ্যমান থাকে, উপায়-উপকরণের উন্নতির কারণে বাহ্যত তার রূপ-প্রকৃতি যত ভিন্নই প্রতীয়মান হোক না কেন, প্রত্যেক যুগে এ পৃথিবীর প্রতিটি কোণে একইভাবে তার বহির্প্রকাশ ঘটে। আজকের মানুষ ট্যাংক, বিমান ও হাইড্রোজেন বোমার সাহায্য যুদ্ধ করলেও এবং প্রাচীন যুগের মানুষ লাঠি ও পাথরের সাহায্যে লড়াই করলেও যে মৌলিক কারণে মানুষে মানুষে লড়াই বাঁধে, তাতে চুল পরিমাণ পার্থক্যও আসেনি। আজ থেকে ৬ হাজার বছর পূর্বে কোন নাস্তিকের নাস্তিকতা গ্রহণের পেছনে যে চালিকা শক্তি কাজ করেছে বর্তমান যুগের কোন নাস্তিক তার নাস্তিকতার সপক্ষে যত যুক্তিই পেশ করুক না কেন, তাকে এ পথে পরিচালিত করার পেছনেও হুবহু সেসব চালিকা শক্তিই কাজ করে। যুক্তি-প্রমাণ পেশের ক্ষেত্রেও সে তার পূর্বাসূরীদের চেয়ে মৌলিকভাবে ভিন্ন কিছু বলে না।
অর্থাৎ পূর্ববর্তীগণ পরবর্তীদেরকে এই ওসিয়ত করে যায় নি যে, তারাও যেন তাদের মত রাসূলদেরকে অস্বীকার করে। বরং পূর্ববর্তীদের মত তারাও অত্যন্ত উদ্ধত এক জাতি। ঔদ্ধত্যই পূর্ববর্তীদেরকে অবিশ্বাস ও অবাধ্যতায় প্ররোচিত করেছিল। আর সেই একই চরিত্রের কারণে এরাও তাদের মত কর্মকাণ্ড করছে। -অনুবাদক
৫৩. তারা কি একে অপরকে এমন্ত্রণাই দিয়ে এসেছে? বরং এরা সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়।(১)
(১) অর্থাৎ একথা সুস্পষ্ট যে, হাজার হাজার বছর ধরে প্রতিটি যুগে বিভিন্ন দেশ ও জাতির লোকদের নবী-রাসূলদের দাওয়াতের মোকাবিলায় এই আচরণ করা এবং তাদের বিরুদ্ধে একই রকমের কথা বলার কারণ এ নয় যে, একটি সম্মেলন করে আগের ও পরের সমস্ত মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যখনই কোন নবী এসে এ দাওয়াত পেশ করবে তখনই তাকে এ জবাব দিতে হবে। স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে যে, তাহলে তাদের আচরণের এ সাদৃশ্য এবং একই প্রকৃতির জবাবের ক্রমাগত পুনরাবৃত্তি কেন? এর একমাত্ৰ জবাব এই যে, অবাধ্যতা ও সীমালংঘন এদের সবার সাধারণ বৈশিষ্ট্য। তাছাড়া এ আচরণের আর কোন কারণ নেই। প্রত্যেক যুগের অজ্ঞ লোকেরাই যেহেতু আল্লাহর দাসত্ব থেকে মুক্ত ও তাঁর জিজ্ঞাসাবাদ সম্পর্কে বেপরোয়া হয়ে পৃথিবীতে লাগামহীন পশুর মত জীবন যাপন করতে আগ্রহী তাই শুধু এ কারণে যিনিই তাদেরকে আল্লাহর দাসত্ব ও আল্লাহভীতিমূলক জীবন যাপনের আহবান জানিয়েছেন তাঁকেই তারা একই ধরাবাধা জবাব দিয়ে এসেছে। (দেখুন: কুরতুবী)
(৫৩) তারা কি একে অপরকে এই মন্ত্রণাই দিয়ে এসেছে?(1) বস্তুতঃ তারা এক সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়।(2)
(1) অর্থাৎ, পরবর্তী প্রত্যেক সম্প্রদায় এইভাবে রসূলদেরকে মিথ্যাজ্ঞান করে এবং তাঁদেরকে যাদুকর ও পাগল গণ্য করে। যেন পূর্ববর্তী জাতিরা পরবর্তী প্রত্যেক জাতিকে এই অসিয়ত করে গেছে। পরস্পর প্রত্যেক সম্প্রদায় এই মিথ্যাজ্ঞান করার পথই অবলম্বন করেছে।
(2) অর্থাৎ, একে অপরকে অসিয়ত করে যায়নি, বরং প্রত্যেক জাতিই স্ব-স্ব স্থানে সীমালংঘনকারী। এই জন্য তাদের অন্তরও একে অপরের মতনই এবং তাদের চাল-চলনও একই ধরনের। এই কারণে পরবর্তীরাও তাই করেছে এবং বলেছে, যা পূর্ববর্তীরা করেছে ও বলেছে।