ওয়ালা-তাজ‘আলূমা‘আল্লা-হি ইলা-হান আ-খার ইন্নী লাকুম মিনহু নাযীরুম মুবীন।উচ্চারণ
আল্লাহর সাথে আর কাউকে উপাস্য বানাবে না। আমি তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য স্পষ্ট সাবধানকারী। ৪৮ তাফহীমুল কুরআন
আল্লাহর সঙ্গে অন্য কাউকে মাবুদ বানিও না। নিশ্চয়ই আমি তাঁর পক্ষ হতে তোমাদের কাছে এক সুস্পষ্ট সতর্ককারী (হয়ে এসেছি)।মুফতী তাকী উসমানী
তোমরা আল্লাহর সাথে কোন মা‘বূদ স্থির করনা; আমি তোমাদের প্রতি আল্লাহ কর্তৃক প্রেরিত স্পষ্ট সতর্ককারী ।মুজিবুর রহমান
তোমরা আল্লাহর সাথে কোন উপাস্য সাব্যস্ত করো না। আমি তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য সুস্পষ্ট সতর্ককারী।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
তোমরা আল্লাহ্ র সঙ্গে কোন ইলাহ্ স্থির কর না; আমি তোমাদের প্রতি আল্লাহ্-প্রেরিত স্পষ্ট সতর্ককারী। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর তোমরা আল্লাহর সাথে কোন ইলাহ নির্ধারণ করো না; আমি তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য এক স্পষ্ট সতর্ককারী।আল-বায়ান
তোমরা আল্লাহর সঙ্গে কোন ইলাহ স্থির করো না, আমি তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য স্পষ্ট সতর্ককারী।তাইসিরুল
আর আল্লাহ্র সাথে অন্য কোনো উপাস্য দাঁড় করো না। নিঃসন্দেহ আমি তোমাদের নিকট তাঁর কাছ থেকে এক জন সুস্পষ্ট সতর্ককারী।মাওলানা জহুরুল হক
৪৮
এ বাক্যাংশ যদিও আল্লাহ তা’আলারই বাণী, কিন্তু এর বক্তা আল্লাহ তা’আলা নন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। ব্যাপারটা যেন এই যে, আল্লাহ তাঁর নবীকে মুখ দিয়ে বলাচ্ছেন যে, আল্লাহর দিকে দ্রুত অগ্রসর হও। আমি তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদের সাবধান করে দিচ্ছি। এ ধরনের কথার উদাহরণ কুরআন মজীদের সর্বপ্রথম সূরা অর্থাৎ সূরা ফাতিহায় বিদ্যমান যেখানে বক্তব্য আল্লাহর কিন্তু বক্তা হিসেবে বান্দা কথাগুলো পেশ করে। إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ – اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ সেখানে যেমন একথা বলা হয়নি যে, হে ঈমানদারগণ, তোমরা তোমাদের রবের কাছে এভাবে দোয়া করো। কিন্তু কথার ধরণ থেকে আপনা আপনি একথার ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, এটা একটা দোয়া যা আল্লাহ তা’আলা তাঁর বান্দাদের শিখিয়ে দিচ্ছেন। ঠিক তেমনি এখানেও বলা হয়নি যে, “হে নবী, তুমি এসব লোককে বলো।” কিন্তু কথার ধরণ থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে এতে আল্লাহ তা’আলার নির্দেশনা অনুসারে নবী ﷺ তাওহীদ গ্রহণের জন্য একটা আহবান পেশ করেছেন। সূরা ফাতিহা ছাড়াও কুরআন মজীদের আরো কতিপয় স্থানে এ ধরনের বাণী বিদ্যমান যেখানে বক্তব্য আল্লাহর কিন্তু বক্তা কোথাও ফেরেশতা এবং কোথাও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। ঐসব ক্ষেত্রে বক্তা কে তা সুস্পষ্টভাবে পেশ করা না হলেও কথার ধরণ থেকেই স্বতই প্রকাশ পায় যে, কার মুখ দিয়ে আল্লাহ তার বক্তব্য পেশ করছেন। উদাহরণ হিসেবে দেখুন, সূরা মারয়াম, ৬৪, ৬৫; আস সাফফাত, ১৫৯ থেকে ১৬৭ ও সূরা আশ শূরা, ১০।
৫১. আর তোমরা আল্লাহর সাথে কোন ইলাহ স্থির করো না; আমি তোমাদের প্রতি আল্লাহ প্রেরিত এক স্পষ্ট সতর্ককারী।
(৫১) তোমরা আল্লাহর সাথে অন্য কোন উপাস্য স্থির করো না; নিশ্চয় আমি তাঁর পক্ষ হতে তোমাদের জন্য স্পষ্ট সতর্ককারী।(1)
(1) অর্থাৎ, আমি তোমাদেরকে স্পষ্টভাবে সতর্ক ও ভীতি-প্রদর্শন করছি এবং তোমাদের শুভ কামনা করছি। তোমরা কেবল এক আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন কর। তাঁরই উপর আস্থা ও ভরসা রাখ এবং কেবল তাঁরই ইবাদত কর। তাঁর সাথে অন্য মনগড়া উপাস্যদেরকে শরীক করো না। এ রকম করলে মনে রেখো, জান্নাতের নিয়ামতসমূহ থেকে চিরকালের জন্য বঞ্চিত থেকে যাবে।