ওয়া আসহা-বুল আইকাতি ওয়া কাওমুতুব্বা‘ইন কুল্লুন কাযযাবার রুছুলা ফাহাক্কা ওয়া‘ঈদ।উচ্চারণ
আইকাবাসী এবং তুব্বা কওমের ১৪ লোকেরাও অস্বীকার করেছিল। ১৫ প্রত্যেকেই রসূলদের অস্বীকার করেছিল ১৬ এবং পরিণামে আমার শাস্তির প্রতিশ্রুতি তাদের জন্য কার্যকর হয়েছে। ১৭ তাফহীমুল কুরআন
এবং আয়কাবাসী ও তুব্বা’ র সম্প্রদায়ও। এরা সকলেই রাসূলগণকে অস্বীকার করেছিল। ফলে আমি যে শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করেছিলাম, তা সত্যে পরিণত হয়।মুফতী তাকী উসমানী
এবং আইকাহর অধিবাসী ও তুব্বা সম্প্রদায়; তারা সবাই রাসূলদেরকে মিথ্যাবাদী বলেছিল। ফলে তাদের উপর আমার শাস্তি আপতিত হয়েছে।মুজিবুর রহমান
বনবাসীরা এবং তোব্বা সম্প্রদায়। প্রত্যেকেই রসূলগণকে মিথ্যা বলেছে, অতঃপর আমার শাস্তির যোগ্য হয়েছে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
এবং আয়কার অধিবাসী ও তুব্বা সম্প্রদায় ; এরা সকলেই রাসূলগণকে মিথ্যাবাদী বলেছিল, ফলে এদের ওপর আমার শাস্তি আপতিত হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আইকার অধিবাসী ও তুব্বা‘ সম্প্রদায়। সকলেই রাসূলদেরকে মিথ্যাবাদী বলেছিল।আল-বায়ান
আইকাবাসী ও তুব্বার জাতি। তারা সকলেই রসূলদেরকে মিথ্যা বলে অস্বীকার করেছিল, ফলে তাদের উপর আমার শাস্তি অবধারিত হয়েছিল।তাইসিরুল
আর আইকার অধিবাসীরা ও তুব্বার লোকদল; -- সবাই রসূলগণকে প্রত্যাখ্যান করেছিল, সুতরাং আমার ওয়াদা সত্য বর্তেছিল।মাওলানা জহুরুল হক
১৪
ব্যাখ্যার জন্য দেখুন, তাফহীমুল কুরআন, সূরা সাবার ব্যাখ্যা, টীকা ৩৭; সূরা দুখান, টীকা ৩২।
১৫
অর্থাৎ তারা সবাই তাদের রসূলের রিসালাতকে অস্বীকার করেছে এবং মৃত্যুর পরে তাদেরকে পুনরায় জীবিত করে উঠানো হবে তাঁদের দেয়া এ খবরও অস্বীকার করেছে।
১৬
যদিও প্রত্যেক জাতি কেবল তাদের কাছে প্রেরিত রসূলকেই অস্বীকার করেছিল। কিন্তু তারা যেহেতু এমন একটি খবরকে অস্বীকার করেছিল যা সমস্ত রসূল সর্বসম্মতভাবে পেশ করেছিলেন। তাই একজন রসূলকে অস্বীকার করা প্রকৃতপক্ষে সমস্ত রসূলকেই অস্বীকার করার নামান্তর। তাছাড়া এসব জাতির প্রত্যেকে কেবল তাদের কাছে আগমনকারী রসূলের রিসালাত অস্বীকার করেনি, বরং আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে মানুষের হিদায়াতের জন্য কোন মানুষ যে আদিষ্ট হয়ে আসতে পারে একথা মানতে তারা আদৌ প্রস্তুত ছিল না। সুতরাং তারা ছিল মূলত রিসালাতেরই অস্বীকারকারী এবং তাদের কারো অপরাধই শুধুমাত্র একজন রসূলের অস্বীকৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না।
১৭
এটা আখেরাতের সপক্ষে ঐতিহাসিক প্রমাণ উপস্থাপন। এর পূর্বের ৬টি আয়াতে আখেরাতের সম্ভাবনার প্রমাণ পেশ করা হয়েছে। আর এ আয়াতে পেশ করা হয়েছে আখেরাতের বাস্তবতার প্রমাণ। সমস্ত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম আখেরাত সম্পর্কিত যে আকীদা পেশ করেছেন তা যে সম্পূর্ণ সত্য ও বাস্তব তার প্রমাণ হিসেবে এ আয়াতে আরব ও তার আশেপাশের জাতিসমূহের ঐতিহাসিক পরিণতিকে পেশ করা হয়েছে। কারণ যে জাতিই তা অস্বীকার করেছে সে জাতিই চরম নৈতিক বিকৃতির শিকার হয়েছে। এমনকি পরিশেষে আল্লাহর আযাব এসে তাদেরকে পৃথিবী থেকে একেবারেই নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে। আখেরাতের অস্বীকৃতির সাথে নৈতিক বিকৃতির এ অনিবার্যতা যা ইতিহাসের আবর্তনের সাথে সাথে একের পর এক পরিলক্ষিত হয়---একথা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, এ দুনিয়ায় মানুষকে প্রকৃতপক্ষে দায়িত্বহীন ও কৃতকর্মের জবাবদিহি মুক্ত করে ছেড়ে দেয়া হয়নি, বরং কার্যকাল শেষ হওয়ার পর তাকে তার সমস্ত কাজ-কর্মের জবাব দিতে হবে। এ কারণে যখনই সে নিজেকে দায়িত্বমুক্ত মনে করে দুনিয়ায় কাজ করে তখনই তার গোটা জীবন ধ্বংসের পথে অগ্রসর হয়। যখন কোন কাজের ক্রমাগতভাবে খারাপ ফলাফল দেখা দিতে থাকে তখন তা অকাট্যভাবে প্রমাণ করে যে, কাজটি বাস্তবতার পরিপন্থী।
‘তুব্বা’ ইয়ামানের হিময়ার বংশীয় রাজাদের উপাধি। কুরআন মাজীদে যে তুব্বা’র কথা বলা হয়েছে তিনি ছিলেন এ বংশের সর্বপ্রধান শাসক। তার মূল নাম হাসসান ইবনে আস‘আদ। তাঁর শাসনকাল ছিল খৃ.পূ. দশম শতাব্দীতে। তিনি একজন ঈমানদার শাসক ছিলেন। নিজ কওমকে ঈমানের দাওয়াত দিয়েছিলেন, কিন্তু তারা তা গ্রহণ করেনি। বলা হয়ে থাকে তিনিই সর্বপ্রথম পবিত্র কাবায় গিলাফ পরিয়েছিলেন। -অনুবাদক
১৪. আর আইকার অধিবাসী(১) ও তুব্বা সম্প্রদায়(২); তারা সকলেই রাসূলগণের প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল(৩), ফলে তাদের উপর আমার শাস্তি যথার্থভাবে আপতিত হয়েছে।
(১) অর্থাৎ শু'আইব আলাইহিস সালামের জাতি। (ইবন কাসীর) এদের আলোচনা পূর্বেই সূরা আল-হিজর এর ৭৮ নং আয়াত ও সূরা আশ-শু'আরা এর ১৭৬ নং আয়াতের টিকায় করা হয়েছে। এ ছাড়াও এদের আলোচনা সূরা সাদ এর ১৩ নং আয়াতে এসেছে।
(২) ইয়ামনের সম্রাটদের উপাধি ছিল তোব্বা। (ইবন কাসীর) সূরা আদ-দোখানের ৩৭ নং আয়াতের ব্যাখ্যায় এ সম্পর্কে প্রয়োজনীয় আলোচনা করা হয়েছে।
(৩) অর্থাৎ তারা সবাই তাদের রাসূলের রিসালাতকে অস্বীকার করেছে এবং মৃত্যুর পরে তাদেরকে পুনরায় জীবিত করে উঠানো হবে তাদের দেয়া এ খবরও অস্বীকার করেছে। এখানে বলা হয়েছে যে, ‘তারা সকলেই রাসূলগণকে মিথ্যাবাদী বলেছিল’। যদিও প্রত্যেক জাতি কেবল তাদের কাছে প্রেরিত রাসূলকেই অস্বীকার করেছিল। কিন্তু তারা যেহেতু এমন একটি খবরকে অস্বীকার করছিল যা সমস্ত রাসূল সর্বসম্মতভাবে পেশ করছিলেন। তাই একজন রাসূলকে অস্বীকার করা প্রকৃতপক্ষে সমস্ত রাসূলকেই অস্বীকার করার নামান্তর। (ইবন কাসীর)
(১৪) এবং আয়কার অধিবাসী(1) ও তুব্বা’ সম্প্রদায়,(2) তারা সবাই রসূলদেরকে মিথ্যাবাদী বলেছিল,(3) ফলে তাদের উপর আমার শাস্তির প্রতিশ্রুতি সত্য হয়েছে।
(1) আয়কাবাসী সম্পর্কে জানার জন্য দেখুন, সূরা শুআ’রার১৭৬নং আয়াতের টীকা।
(2) তুব্বা’ সম্প্রদায়ের জন্য দেখুন, সূরা দুখানের ৩৭ আয়াতের টীকা।
(3) অর্থাৎ, এদের মধ্যে সকলেই নিজেদের নবীকে মিথ্যাজ্ঞান করেছে। এতে রয়েছে রসূল (সাঃ)-এর জন্য সান্ত্বনা। যেন তাঁকে বলা হচ্ছে যে, তোমাকে তোমার জাতির পক্ষ থেকে যে মিথ্যাবাদী মনে করা হচ্ছে তাতে দুঃখ করো না। কেননা, এটা কোন নতুন কথা নয়। তোমার পূর্বের নবীদের সাথে তাঁদের জাতিরাও এরূপ আচরণই করেছে। অন্য দিকে মক্কাবাসীদেরকে সতর্ক করা হচ্ছে যে, পূর্বের জাতিরা তাদের নবীদেরকে মিথ্যাবাদী মনে করার কারণে তাদের পরিণাম কি হয়েছে দেখে নাও? তোমরাও কি এ রকম পরিণাম পছন্দ করবে? যদি এ রকম পরিণাম পছন্দ না কর, তবে মিথ্যাভাবার পথ ত্যাগ কর এবং নবীর উপর ঈমান নিয়ে এসো।