وَٱعۡلَمُوٓاْ أَنَّ فِيكُمۡ رَسُولَ ٱللَّهِۚ لَوۡ يُطِيعُكُمۡ فِي كَثِيرٖ مِّنَ ٱلۡأَمۡرِ لَعَنِتُّمۡ وَلَٰكِنَّ ٱللَّهَ حَبَّبَ إِلَيۡكُمُ ٱلۡإِيمَٰنَ وَزَيَّنَهُۥ فِي قُلُوبِكُمۡ وَكَرَّهَ إِلَيۡكُمُ ٱلۡكُفۡرَ وَٱلۡفُسُوقَ وَٱلۡعِصۡيَانَۚ أُوْلَـٰٓئِكَ هُمُ ٱلرَّـٰشِدُونَ

ওয়া‘লামূআন্না ফীকুম রছূলল্লা-হি লাও ইউতী‘উকুম ফী কাছীরিম মিনাল আমরি লা‘আনিত্তুম ওয়ালা-কিন্নাল্লা-হা হাব্বাবা ইলাইকুমুল ঈমা-না ওয়া ঝাইয়ানাহূফী কুলূবিকুম ওয়া কাররহা ইলাইকুমুল কুফর ওয়ালফুছূকা ওয়াল ‘ইসইয়া-না উলাইকা হুমুররশিদূ ন।উচ্চারণ

ভাল করে জেনে নাও, আল্লাহর রসূল তোমাদের মাঝে বর্তমান। তিনি যদি বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই তোমাদের কথা মেনে নেন তাহলে তোমরা নিজেরাই অনেক সমস্যার মধ্যে পড়ে যাবে। কিন্তু আল্লাহ‌ তোমাদের মধ্যে ঈমানের প্রতি ভালবাসা সৃষ্টি করে দিয়েছেন এবং তা তোমাদের কাছে পছন্দনীয় করে দিয়েছেন। আর কুফরী, পাপাচার ও অবাধ্যতাকে তোমাদের কাছে ঘৃণিত করে দিয়েছেন। তাফহীমুল কুরআন

ভালোভাবে জেনে রাখ যে, তোমাদের মধ্যে আল্লাহর রাসূল আছেন আর বহু বিষয়ে সে যদি তোমাদের কথা মেনে নেয়, তবে তোমরা নিজেরাই সঙ্কটে পড়ে যাবে। কিন্তু আল্লাহ তোমাদের অন্তরে ঈমানের ভালোবাসা সঞ্চার করেছেন এবং তাকে তোমাদের অন্তরে করে দিয়েছেন আকর্ষণীয়। আর তোমাদের কাছে কুফর, গুনাহ ও অবাধ্যতাকে ঘৃণ্য বানিয়ে দিয়েছেন। এরূপ লোকেরাই সঠিক পথপ্রাপ্ত হয়েছেমুফতী তাকী উসমানী

তোমরা জেনে রেখ যে, তোমাদের মধ্যে আল্লাহর রাসূল রয়েছেন; তিনি বহু বিষয়ে তোমাদের কথা মেনে নিলে তোমরাই কষ্ট পাবে। কিন্তু আল্লাহ তোমাদের নিকট ঈমানকে প্রিয় করেছেন এবং উহা তোমাদের হৃদয়গ্রাহী করেছেন; কুফরী, পাপাচার ও অবাধ্যতাকে করেছেন তোমাদের নিকট অপ্রিয়। ওরাই সৎ পথ অবলম্বনকারী।মুজিবুর রহমান

তোমরা জেনে রাখ তোমাদের মধ্যে আল্লাহর রসূল রয়েছেন। তিনি যদি অনেক বিষয়ে তোমাদের আবদার মেনে নেন, তবে তোমরাই কষ্ট পাবে। কিন্তু আল্লাহ তোমাদের অন্তরে ঈমানের মহব্বত সৃষ্টি করে দিয়েছেন এবং তা হৃদয়গ্রাহী করে দিয়েছেন। পক্ষান্তরে কুফর, পাপাচার ও নাফরমানীর প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি করে দিয়েছেন। তারাই সৎপথ অবলম্বনকারী।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তোমরা জেনে রাখ যে, তোমাদের মধ্যে আল্লাহ্ র রাসূল রয়েছেন ; তিনি বহু বিষয়ে তোমাদের কথা শুনিলে তোমরাই কষ্ট পেতে। কিন্তু আল্লাহ্ তোমাদের নিকট ঈমানকে প্রিয় করেছেন এবং একে তোমাদের হৃদয়গ্রাহী করেছেন ; কুফরী, পাপাচার ও অবাধ্যতাকে করেছেন তোমাদের নিকট অপ্রিয়। এরাই সৎপথ অবলম্বনকারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর তোমরা জেনে রাখ যে, তোমাদের মধ্যে আল্লাহর রাসূল রয়েছেন। সে যদি অধিকাংশ বিষয়ে তোমাদের কথা মেনে নিত, তাহলে তোমরা অবশ্যই কষ্টে পতিত হতে। কিন্তু আল্লাহ তোমাদের কাছে ঈমানকে প্রিয় করে দিয়েছেন এবং তা তোমাদের অন্তরে সুশোভিত করেছেন। আর তোমাদের কাছে কুফরী, পাপাচার ও অবাধ্যতাকে অপছন্দনীয় করে দিয়েছেন। তারাই তো সত্য পথপ্রাপ্ত।আল-বায়ান

তোমরা জেনে রেখ যে, তোমাদের মধ্যে আল্লাহর রসূল বর্তমান আছে। সে যদি অধিকাংশ বিষয়ে তোমাদের কথা মেনে নিত, তাহলে তোমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হতে। কিন্তু আল্লাহ তোমাদের কাছে ঈমানকে প্রিয় করে দিয়েছেন। তোমাদের অন্তরে সেটিকে সুশোভিত করেছেন আর তোমাদের কাছে কুফুরী, পাপাচার ও অবাধ্যতাকে ঘৃণিত করেছেন। তারাই সত্য পথপ্রাপ্ত।তাইসিরুল

আর জেনে রেখো যে তোমাদের মধ্যে আল্লাহ্‌র রসূল রয়েছেন। তাঁকে যদি অধিকাংশ বিষয়ে তোমাদের মেনে চলতে হয়, তাহলে তোমরা নির্ঘাত বিপাকে পড়বে, কিন্তু আল্লাহ্ ধর্মবিশ্বাসকে তোমাদের কাছে প্রিয় করেছেন এবং তোমাদের হৃদয়ে এইটিকে চিত্তাকর্ষক করেছেন, আর তোমাদের কাছে অপ্রিয় করেছেন অবিশ্বাস ও সত্যত্যাগ ও অবাধ্যতা। এরা নিজেরাই সত্যানুগামী --মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

বনী মুসতালিক গোত্র সম্পর্কে ওয়ালিদ ইবনে উকবার খবরের ভিত্তিতে নবী ﷺ তাদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দ্বিধান্বিত ছিলেন। কিন্তু কিছু সংখ্যক লোক যে তাদের বিরুদ্ধে তৎক্ষনাৎ আক্রমণ পরিচালনার জন্য পীড়াপীড়ি করছিলো আয়াতের পূর্বাপর প্রসঙ্গ থেকেও এ বিষয়ে ইঙ্গিত পাওয়া যায় এবং কিছু সংখ্যক মুফাসসিরও আয়াতটি থেকে তাই বুঝেছেন। এ কারণে ঐ সব লোককে তিরস্কার করে বলা হয়েছে, আল্লাহর রসূল ﷺ নিজে তোমাদের মধ্যে বর্তমান, একথা ভুলে যেয়ো না। তিনি তোমাদের জন্য কল্যাণের বিষয়কে তোমাদের চেয়ে অধিক জানেন। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে যে সিদ্ধান্ত তোমাদের কাছে যথোপযুক্ত মনে হয় তিনি যেন সে অনুসারেই কাজ করেন তোমাদের এরূপ আশা করাটা অত্যন্ত দুঃসাহস। যদি তোমাদের কথা অনুসারে সব কাজ করা হতে থাকে তাহলে বহু ক্ষেত্রে এমন সব ভুল-ত্রুটি হবে যার ভোগান্তি তোমাদেরকেই পোহাতে হবে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

সূরার শুরুতে যে বিধান দেওয়া হয়েছিল এবং যার ব্যাখ্যা ১নং টীকায় গত হয়েছে, তার অর্থ এ নয় যে, সাহাবায়ে কেরাম কখনও কোনও বিষয়ে মত প্রকাশ করতে পারবেন না। বরং তাতে মত প্রকাশের পর তা মানার জন্য পীড়াপীড়ি করতেই নিষেধ করা হয়েছিল। এবার বলা হচ্ছে, প্রয়োজনস্থলে মতামত প্রকাশ দূষণীয় নয়। শুধু মনে রাখতে হবে, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য কারও মত অনুযায়ী কাজ করা জরুরি নয়। বরং তিনি বিচার-বিবেচনা করে যা ভালো মনে হয় সেই সিদ্ধান্ত দান করবেন। সে সিদ্ধান্ত তোমাদের মতামতের বিপরীত হলেও তোমাদের কর্তব্য তা খুশী মনে মেনে নেওয়া। কেননা তোমাদের প্রতিটি কথা গ্রহণ করে নিলে তাতে তোমাদের নিজেদেরই ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। যেমন হযরত ওয়ালীদ ইবনে উকবা (রাযি.)-এর ঘটনায় হয়েছে। তিনি তো মনে করেছিলেন বনু মুস্তালিক যুদ্ধ করতে প্রস্তুত হয়ে গেছে, তাই তাঁর মত তো তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করার পক্ষেই থাকবে, কিন্তু মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মত অনুযায়ী কাজ করলে মুসলিমদের কত বড়ই না ক্ষতি হয়ে যেত। সুতরাং এর পরেই আল্লাহ তাআলা সাহাবায়ে কেরামের প্রশংসা করে বলছেন, আল্লাহ তাআলা তাদের অন্তরে ঈমানের মহব্বত সঞ্চার করেছেন। তাই তারা আনুগত্যের এ নীতিই অনুসরণ করে থাকে।

তাফসীরে জাকারিয়া

৭. আর তোমরা জেনে রাখা যে, তোমাদের মধ্যে আল্লাহর রাসূল রয়েছেন; তিনি বহু বিষয়ে তোমাদের কথা শুনলে তোমরাই কষ্ট পেতে। কিন্তু আল্লাহ তোমাদের কাছে ঈমানকে প্রিয় করেছেন এবং সেটাকে তোমাদের হৃদয়গ্রাহী করেছেন। আর কুফরী, পাপাচার ও অবাধ্যতাকে করেছেন তোমাদের কাছে অপ্ৰিয়। তারাই তো সত্য পথপ্ৰাপ্ত।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৭) তোমরা জেনে রেখো যে, তোমাদের মধ্যে আল্লাহর রসূল রয়েছেন;(1) তিনি বহু বিষয়ে তোমাদের কথা শুনলে তোমরাই কষ্ট পাবে। কিন্তু আল্লাহ তোমাদের নিকট ঈমান (বিশ্বাস)কে প্রিয় করেছেন এবং ওকে তোমাদের হৃদয়ে সুশোভিত করেছেন। আর কুফরী (অবিশ্বাস), পাপাচার ও অবাধ্যতাকে তোমাদের নিকট অপ্রিয় করেছেন। ওরাই সৎপথ অবলম্বনকারী।

(1) আর এর দাবী এই যে, তোমরা তাঁর শ্রদ্ধা ও আনুগত্য কর। কেননা, তিনি তোমাদের ভালাই ও কল্যাণের ব্যাপারে বেশী জানেন। কারণ, তাঁর উপর অহী নাযিল হয়। অতএব তোমরা তাঁর পিছনেই চল। তাঁকে তোমাদের পিছনে চালাবার প্রচেষ্টা করো না। কেননা, তিনি যদি তোমাদের পছন্দনীয় কথাগুলো মানতে আরম্ভ করে দেন, তবে তোমরাই বেশী সমস্যায় পড়ে যাবে। যেমন, অন্যত্র বলেছেন, {وَلَوِ اتَّبَعَ الْحَقُّ أَهْوَاءَهُمْ لَفَسَدَتِ السَّمَاوَاتُ وَالْأَرْضُ وَمَنْ فِيهِنَّ} অর্থাৎ, সত্য যদি তাদের কামনা-বাসনার অনুগামী হত, তাহলে বিশৃংখল হয়ে পড়ত আকাশ-মন্ডলী, পৃথিবী এবং ওদের মধ্যবর্তী সবকিছুই। (সূরা মু’মিনূন ৭১ আয়াত)