ওয়াহুওয়াল্লাযী কাফফা আইদিয়াহুম ‘আনকুম ওয়াআইদিয়াকুম ‘আনহুম ব্বিাতনি মাক্কাতা মিম বা‘দি আন আজফারকুম ‘আলাইহিম ওয়া ক-নাল্লা-হু বিমা-তা‘মালূনা বাসীর-।উচ্চারণ
তিনিই সেই সত্তা যিনি মক্কা ভূমিতে তাদের হাত তোমাদের থেকে আর তোমাদের হাত তাদের থেকে ফিরিয়ে দিয়েছেন তাদের ওপর তোমাদেরকে আধিপত্য দান করার পর। তোমরা যা কিছু করছিলে আল্লাহ তা দেখছিলেন। তাফহীমুল কুরআন
আল্লাহই মক্কা উপত্যকায় তাদের হাতকে তোমাদের পর্যন্ত পৌঁছা হতে এবং তোমাদের হাতকে তাদের পর্যন্ত পৌঁছা হতে নিবৃত্ত রেখেছেন, তাদের উপর তোমাদেরকে ক্ষমতা দান করার পর। #%২২%# তোমরা যা-কিছু করছিলে আল্লাহ তা দেখছিলেন।মুফতী তাকী উসমানী
তিনি মাক্কা উপত্যকায় তাদের হাত তোমাদের হতে এবং তোমাদের হাত তাদের হতে নিবারিত করেছেন তাদের উপর তোমাদেরকে বিজয়ী করার পর। তোমরা যা কিছু কর আল্লাহ তা দেখেন।মুজিবুর রহমান
তিনি মক্কা শহরে তাদের হাত তোমাদের থেকে এবং তোমাদের হাত তাদের থেকে নিবারিত করেছেন তাদের উপর তোমাদেরকে বিজয়ী করার পর। তোমরা যা কিছু কর, আল্লাহ তা দেখেন।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
তিনি মক্কা উপত্যকায় এদের হাত তোমাদের হতে এবং তোমাদের হাত এদের হতে নিবারিত করেছেন, এদের ওপর তোমাদেরকে বিজয়ী করার পর, তোমরা যা কিছু কর আল্লাহ্ তা দেখেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর তিনিই মক্কা উপত্যকায় তোমাদেরকে তাদের উপর বিজয়ী করার পর তাদের হাত তোমাদের থেকে এবং তোমাদের হাত তাদের থেকে ফিরায়ে রেখেছেন। আর তোমরা যা আমল কর, আল্লাহ হলেন তার সম্যক দ্রষ্টা।আল-বায়ান
মক্কা উপত্যকায় তিনিই তাদের হাত তোমাদের থেকে আর তোমাদের হাত তাদের থেকে বিরত রেখেছিলেন তোমাদেরকে তাদের উপর বিজয়ী করার পর। তোমরা যা কিছু কর আল্লাহ তা দেখেন।তাইসিরুল
আর তিনিই সেইজন যিনি মক্কা উপত্যকায় তাদের হাতগুলো তোমাদের থেকে আর তোমাদের হাতগুলো তাদের থেকে ঠেকিয়ে রেখেছিলেন, তাদের উপরে তিনি তোমাদের বিজয় দান করার পরে। আর তোমরা যা করছ আল্লাহ্ সে-সবের সম্যক দ্রষ্টা।মাওলানা জহুরুল হক
হযরত উসমান রাযিয়াল্লাহু আনহু যখন মক্কা মুকাররমায় গিয়ে কুরাইশদেরকে সন্ধির প্রস্তাব দিচ্ছিলেন, তখন মক্কা মুকাররমার কাফেরগণ একটি দূরভিসন্ধি এঁটেছিল। তারা গোপনে তাদের পঞ্চাশজন লোককে এই মতলবে পাঠিয়েছিল যে, তারা গুপ্ত আক্রমণ চালিয়ে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে শহীদ করে ফেলবে। কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাদের সে দূরভিসন্ধি নস্যাৎ করে দিয়েছিলেন। তিনি সে দলটিকে মুসলিমদের হাতে গ্রেফতার করিয়ে দেন। কুরাইশরা যখন তাদের গ্রেফতার হয়ে যাওয়ার খবর শুনল, তারা হযরত উসমান (রাযি.) ও তাঁর সঙ্গীদেরকে মক্কায় আটকে ফেলল। মুসলিমগণ তখন সেই পঞ্চাশজনকে হত্যা করলে পাল্টা জবাবে কুরাইশগণও হযরত উসমান (রাযি.) ও তার সঙ্গীদেরকে হত্যা করত। আর তার ফল হত অনিবার্য যুদ্ধ। সুতরাং আল্লাহ তাআলা মুসলিমদের মনোভাবকে বন্দী হত্যা না করার অনুকূল করে দিলেন এবং তাদের হাতকে বন্দীদের হত্যা করা হতে নিবৃত্ত রাখলেন। অথচ বন্দীগণ তাদের আয়ত্তাধীন ছিল এবং মুসলিমগণ তাদেরকে হত্যা করতে পরিপূর্ণ সক্ষম ছিল। অপর দিকে মুসলিমদের সাথে যুদ্ধ করা হতে কুরাইশদের হাতকে আল্লাহ তাআলা এভাবে রুখে দিলেন যে, তিনি তাদের অন্তরে মুসলিমদের প্রতি ভীতি সঞ্চার করলেন। ফলে তারা যুদ্ধের পরিবর্তে সন্ধিতেই রাজি হয়ে গেল, অথচ তারা হযরত উসমান (রাযি.)কে সাফ জানিয়ে দিয়েছিল যে, কিছুতেই সন্ধি করবে না।
২৪. আর তিনি মক্কা উপত্যকায় তাদের হাত তোমাদের থেকে এবং তোমাদের হাত তাদের থেকে নিবারিত করেছেন তাদের উপর তোমাদেরকে বিজয়ী করার পর(১), আর তোমরা যা কিছু করা আল্লাহ তার সম্যক দ্রষ্টা।
(১) হাদীসে এসেছে, একবার মক্কার আশি জন কাফের রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে অতর্কিতে হত্যা করার ইচ্ছা নিয়ে তানয়ীম পাহাড় থেকে নীচে অবতরন করে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে জীবিত গ্রেফতার করেন এবং মুক্তিপণ ব্যতিরেকেই মুক্ত করে দেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সুরা ফাতহের এ আয়াত অবতীর্ণ হয়ঃ (وَهُوَ الَّذِي كَفَّ أَيْدِيَهُمْ عَنْكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ عَنْهُمْ بِبَطْنِ مَكَّةَ) (মুসলিমঃ ১৮০৮)
(২৪) তিনি মক্কা উপত্যকায় তাদের হাত তোমাদের হতে এবং তোমাদের হাত তাদের হতে নিবারিত করেছেন তাদের উপর তোমাদেরকে বিজয়ী করবার পর।(1) আর তোমরা যা কিছু কর, আল্লাহ তা দেখেন।
(1) যখন নবী করীম (সাঃ) এবং সাহাবায়ে কিরাম (রাঃ) হুদাইবিয়াতে ছিলেন, তখন কাফেররা ৮০ জনের একটি সশস্ত্র বাহিনীকে এই উদ্দেশ্য প্রেরণ করে যে, যদি তারা কোন সুযোগ পেয়ে যায়, তবে অতর্কিতে নবী করীম (সাঃ) এবং সাহাবা (রাঃ)গণের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। সুতরাং এই সশস্ত্র বাহিনী তানঈম পাহাড়ের নিকট দিয়ে হুদাইবিয়ায় উপস্থিত হল। এ দিকে মুসলিমরাও তাদের এই দুরভিসন্ধির কথা জানতে পারলেন এবং তাঁরা সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে তাদের সবাইকে বন্দী করে নবী করীম (সাঃ)-এর সামনে উপস্থিত করলেন। তাদের অপরাধ ছিল বড় কঠিন। যে শাস্তিই তাদেরকে দেওয়া হত, তা সঠিক হত। কিন্তু এতে আশঙ্কা এটাই ছিল যে, এতে যুদ্ধ অনিবার্যভাবে বেধে যেত। অথচ নবী (সাঃ) এ সময় যুদ্ধের পরিবর্তে সন্ধি চাচ্ছিলেন। কেননা, এতেই ছিল মুসলিমদের জন্য কল্যাণ। তাই তিনি তাদের সবাইকে ক্ষমা করে মুক্ত করে দিলেন। (সহীহ মুসলিমঃ জিহাদ অধ্যায়) بطن مكة হল হুদাইবিয়া। অর্থাৎ, হুদাইবিয়ায় আমি তোমাদেরকে কাফেরদের সাথে এবং কাফেরদেরকে তোমাদের সাথে লড়াই করা থেকে বিরত রাখি। এই কথাটা মহান আল্লাহ অনুগ্রহ হিসাবে উল্লেখ করেছেন।