ওয়া ‘আদাকুমুল্লা-হুমাগা-নিমা কাছীরতান তা’খুযূনাহা-ফা‘আজ্জালা লাকুম হা-যিহী ওয়া কাফফা আইদিয়ান্না-ছি ‘আনকুম ওয়া লিতাকূনা আ-ইয়াতালিললমু’মিনীনা ওয়া ইয়াহদিইয়াকুম সির-তাম মুছতাকীমা-।উচ্চারণ
আল্লাহর তোমাদরকে অঢেল গনীমতের সম্পদের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন যা তোমরা লাভ করবে। ৩৫ তিনি তোমাদেরকে তাৎক্ষণিকভাবে এ বিজয় দিয়েছেন ৩৬ এবং তোমাদের বিরুদ্ধে মানুষের হাত উত্তোলনকে থামিয়ে দিয়েছেন ৩৭ যাতে মু’মিনদের জন্য তা একটি নিদর্শন হয়ে থাকে। ৩৮ আর আল্লাহ তোমাদেরকে সোজা পথের হিদায়াত দান করেন। ৩৯ তাফহীমুল কুরআন
আল্লাহ তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রচুর গনীমতের, যা তোমরা হস্তগত করবে। #%১৭%# তিনি তোমাদেরকে তাৎক্ষণিকভাবে এই বিজয় দান করেছেন এবং মানুষের হাতকে তোমাদের থেকে নিবারিত করেছেন, #%১৮%# যাতে এটা মুমিনদের জন্য হয় এক নিদর্শন এবং যাতে তিনি তোমাদেরকে পরিচালিত করেন সরল পথে।মুফতী তাকী উসমানী
আল্লাহ তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যুদ্ধে লভ্য বিপুল সম্পদের যার অধিকারী হবে তোমরা। তিনি ইহা তোমাদের জন্য ত্বরান্বিত করেছিলেন এবং তিনি তোমাদের হতে মানুষের হস্ত নিবারিত করেছেন যেন তোমরা কৃতজ্ঞ হও এবং এটা মু’মিনদের জন্য এক নিদর্শন এবং আল্লাহ তোমাদেরকে পরিচালিত করেন সরল পথে।মুজিবুর রহমান
আল্লাহ তোমাদেরকে বিপুল পরিমাণ যুদ্ধলব্ধ সম্পদের ওয়াদা দিয়েছেন, যা তোমরা লাভ করবে। তিনি তা তোমাদের জন্যে ত্বরান্বিত করবেন। তিনি তোমাদের থেকে শত্রুদের স্তব্দ করে দিয়েছেন-যাতে এটা মুমিনদের জন্যে এক নিদর্শন হয় এবং তোমাদেরকে সরল পথে পরিচালিত করেন।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
আল্লাহ্ তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যুদ্ধে লভ্য বিপুল সম্পদের যার অধিকারী হবে তোমরা। তিনি এটা তোমাদের জন্যে ত্বরান্বিত করেছেন এবং তিনি তোমাদের হতে মানুষের হস্ত নিবারিত করেছেন যেন এটা হয় মু’মিনদের জন্যে এক নিদর্শন এবং আল্লাহ্ তোমাদেরকে পরিচালিত করেন সরল পথে; ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আল্লাহ তোমাদেরকে প্রভূত গনীমতের ওয়াদা দিয়েছেন যা তোমরা গ্রহণ করবে; অতঃপর এগুলি আগে দিয়েছেন; আর মানুষের হাত তোমাদের থেকে ফিরিয়ে রেখেছেন এবং যাতে এটি মুমিনদের জন্য একটি নিদর্শন হয়, আর তিনি তোমাদেরকে সরল পথ দেখান।আল-বায়ান
আল্লাহ তোমাদেরকে বিপুল পরিমাণ গানীমাতের ও‘য়াদা দিয়েছেন যা তোমরা লাভ করবে। এটা তিনি তোমাদেরকে আগেই দিলেন আর মানুষদের (অর্থাৎ মাক্কার কুরায়শদের) হাতকে তোমাদের (উপর পতিত হওয়া) থেকে সংযত করে রাখলেন যাতে তা মু’মিনদের জন্য একটা নিদর্শন হয় (যে প্রকৃত মু’মিনদেরকে আল্লাহ অতি সংকটময় মুহূর্তেও রক্ষা করতে পারেন), আর তিনি তোমাদেরকে সরল সঠিক পথে পরিচালিত করেন।তাইসিরুল
আল্লাহ্ তোমাদের জন্য ওয়াদা করছেন প্রচুর যুদ্ধেলব্ধ সম্পদ, তোমরা তা হস্তগত করবে, আর তোমাদের জন্য তিনি ত্বরান্বিত করেছেন এইটি, ফলে লোকেদের হাত তোমাদের থেকে তিনি ঠেকিয়ে রেখেছেন, আর যেন এটি মুমিনদের জন্য একটি নিদর্শন হতে পারে, আর যাতে তিনি তোমাদের পরিচালিত করতে পারেন সহজ-সঠিক পথে, --মাওলানা জহুরুল হক
৩৫
খায়বার বিজয়ের পর মুসলমানরা ক্রমাগত আর যেসব বিজয় লাভ করে এর দ্বারা সেসব বিজয়কে বুঝানো হয়েছে।
৩৬
এর অর্থ হুদাইবিয়ার সন্ধিচুক্তি। এ চুক্তিকেই সূরার প্রারম্ভে ফাকহে মুবীন’ (সুস্পষ্ট বিজয়) বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
৩৭
অর্থাৎ তিনি কাফের কুরাইশদের এতটা সাহস দেননি যে, হুদাইবিয়াতে তারা তোমাদের সাথে লড়াই বাধিয়ে বসতে পারতো। অথচ সমস্ত বাহ্যিক অবস্থার দিক থেকে তারা অনেক ভাল অবস্থানে ছিল এবং সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে তোমাদের পাল্লা তাদের চেয়ে অনেক বেশী দুর্বল বলে মনে হচ্ছিলো। এছাড়াও এর আরেকটি অর্থ হচ্ছে, সে সময় কোন শত্রুশক্তি মদীনার ওপর আক্রমণ করতে সাহস পায়নি। অথচ যুদ্ধক্ষম চৌদ্দ শ’ যোদ্ধা পুরুষ মদীনার বাইরে চলে যাওয়ার কারণে মদীনার যুদ্ধক্ষেত্র অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছিলো এবং ইহুদী ও মুশরিক ও মুনাফিকরা এ পরিস্থিতি কাজে লাগিয়ে লাভবান হতে পারতো।
৩৮
অর্থাৎ যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্যের নীতিতে স্থির সংকল্প থাকে এবং আল্লাহর প্রতি ভরসা করে ন্যায় ও সত্যের পক্ষ অবলম্বনের জন্য প্রস্তুত হয়ে যায়। আল্লাহ তাদের কতভাবে সাহায্য-সহযোগিতা দান করেন পুরস্কৃত করেন তার নিদর্শন।
৩৯
অর্থাৎ তোমরা আরো দূরদৃষ্টি ও দৃঢ় বিশ্বাস অর্জন করবে। ভবিষ্যতেও এভাবেই আল্লাহ ও রসূলের আনুগত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে এবং আল্লাহর ওপর ভরসা করে ন্যায় ও সত্যের পথে অগ্রসর হতে থাকবে। আর এসব অভিজ্ঞতা ও শিক্ষাদান করবে যে, আল্লাহর দ্বীন যে পদক্ষেপের দাবী করছে আল্লাহর ওপর নির্ভর করে সে পদক্ষেপ গ্রহণ করাই মু’মিনের কাজ। আমার শক্তি কতটা এবং বাতিলের শক্তি কত প্রবল এ বাছ বিচার ও দ্বিধা-দ্বন্দ্বের মধ্যে যেন সে পড়ে না থাকে।
এর দ্বারা খায়বার ছাড়া অন্যান্য বিজয়সমূহের দিকে ইশারা করা হয়েছে।
২০. আল্লাহ তোমাদেরকে ওয়াদা দিয়েছেন যুদ্ধে লভ্য বিপুল সম্পদের, যার অধিকারী হবে তোমরা।(১) অতঃপর তিনি এটা তোমাদের জন্য তরান্বিত করেছেন। আর তিনি তোমাদের থেকে মানুষের হাত নিবারিত করেছেন(২) যেন এটা হয় মুমিনদের জন্য এক নিদর্শন। আর তিনি তোমাদেরকে পরিচালিত করেন সরল পথে;
(১) এখানে কেয়ামত পর্যন্ত যেসব ইসলামী বিজয় ও যুদ্ধলব্ধ সম্পদ অর্জিত হবে, সেগুলো বোঝানো হয়েছে। (বাগভী, ফাতহুল কাদীর)
(২) আয়াতে খাইবরবাসী কাফের সম্প্রদায়কে বোঝানো হয়েছে। আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে এই জিহাদে অধিক শক্তি প্রদর্শনের সুযোগ দেননি। এমনকি গাতফান গোত্ৰ খাইবরের ইহুদিদের মিত্র ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক খাইবার আক্রমণের সংবাদ পেয়ে তারা ইহুদিদের সাহায্যার্থে অস্ত্ৰ-শস্ত্ৰে সজ্জিত হয়ে রওয়ানা হলো। কিন্তু আল্লাহ তা’আলা তাদের অন্তরে ভীতি সঞ্চার করে দিলেন। (দেখুন: আত-তাহরীর ওয়াত তানওয়ীর)
(২০) আল্লাহ তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যুদ্ধলব্ধ বিপুল সম্পদের, যা তোমরা হস্তগত করবে।(1) তিনি তা তোমাদের জন্য ত্বরান্বিত করেছেন(2) এবং তোমাদের (উপর) থেকে মানুষের হাত নিবারিত করেছেন।(3) আর যাতে তা বিশ্বাসীদের জন্য এক নিদর্শন হয়(4) এবং আল্লাহ তোমাদেরকে পরিচালিত করেন সরল পথে।(5)
(1) এটা হল অন্যান্য বিজয়সমূহে অর্জনীয় যুদ্ধলব্ধ সম্পদের শুভ সংবাদ, যা কিয়ামত পর্যন্ত মুসলিমরা অর্জন করতে থাকবে।
(2) অর্থাৎ, খায়বার বিজয় বা হুদাইবিয়ার সন্ধি। কেননা, এ দু’টোই অতি সত্বর মুসলিমরা লাভ করতে সক্ষম হন।
(3) হুদাইবিয়ায় কাফেরদের হাত এবং খায়বারে ইয়াহুদীদের হাত আল্লাহ নিবারণ ও রোধ করে দেন। অর্থাৎ, তাদের উদ্যম ও মনোবল দমিয়ে দেন; ফলে তারা মুসলিমদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হওয়ার সাহস করেনি।
(4) অর্থাৎ, মানুষ এই ঘটনার আলোচনা শুনে ও পড়ে অনুমান করবে যে, সংখ্যায় কম হওয়া সত্ত্বেও মহান আল্লাহ কিভাবে মুসলিমদের হিফাযত করেন এবং শত্রুদের উপর তাঁদেরকে বিজয় দান করেন। অথবা এই (শত্রুদের হস্ত) প্রতিহত করে দেওয়াটা হল রসূল (সাঃ) যে সকল প্রতিশ্রুতি দেন, তার সত্যতার একটি নিদর্শন।
(5) অর্থাৎ, সরল পথের উপর দৃঢ়তা দান করেন কিংবা এই নিদর্শন দ্বারা তোমাদের হিদায়াত আরো বৃদ্ধি করেন।