فَلَا تَهِنُواْ وَتَدۡعُوٓاْ إِلَى ٱلسَّلۡمِ وَأَنتُمُ ٱلۡأَعۡلَوۡنَ وَٱللَّهُ مَعَكُمۡ وَلَن يَتِرَكُمۡ أَعۡمَٰلَكُمۡ

ফালা-তাহিনূওয়া তাদ‘ঊইলাছছালমি ওয়া আনতুমুল আ‘লাওনা ওয়াল্লা-হু মা‘আকুম ওয়ালাইঁ ইয়াতিরকুম আ‘মা-লাকুম।উচ্চারণ

তোমরা দুর্বল হয়ো না এবং সন্ধির জন্য আহ্বান করো না। ৪১ তোমরাই বিজয়ী থাকবে। আল্লাহ‌ তোমাদের সাথে আছেন। তিনি তোমাদের আমল কখনো নষ্ট করবেন না। তাফহীমুল কুরআন

সুতরাং (হে মুসলিমগণ!) তোমরা মনোবল হারিয়ে সন্ধির প্রস্তাব দিও না। #%১৮%# তোমরাই উপরে থাকবে। আল্লাহ তোমাদের সাথে। তিনি কখনই তোমাদের কর্মফল খর্ব করবেন না। #%১৯%#মুফতী তাকী উসমানী

সুতরাং তোমরা হীনবল হয়ো না এবং সন্ধির প্রস্তাব করনা, তোমরাই প্রবল; আল্লাহ তোমাদের সঙ্গে আছেন, তিনি তোমাদের কর্মফল কখনও ক্ষুন্ন করবেন না।মুজিবুর রহমান

অতএব, তোমরা হীনবল হয়ো না এবং সন্ধির আহবান জানিও না, তোমরাই হবে প্রবল। আল্লাহই তোমাদের সাথে আছেন। তিনি কখনও তোমাদের কর্ম হ্রাস করবেন না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

সুতরাং তোমরা হীনবল হয়ো না এবং সন্ধির প্রস্তাব কর না, তোমরাই প্রবল ; আল্লাহ্ তোমাদের সঙ্গে আছেন, তিনি তোমাদের কর্মফল কখনও ক্ষুণ্ণ করবেন না। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতএব তোমরা হীনবল হয়ো না ও সন্ধির আহবান জানিও না এবং তোমরাই প্রবল। আর আল্লাহ তোমাদের সাথেই রয়েছেন এবং কখনই তিনি তোমাদের কর্মফল হ্রাস করবেন না।আল-বায়ান

কাজেই তোমরা সাহস-হারা হয়ে যেও না আর সন্ধির আবেদন করে বসো না, প্রবল তো তোমরাই। আল্লাহ তোমাদের সঙ্গে আছেন, তিনি তোমাদের ‘আমাল কক্ষনো বিনষ্ট করবেন না।তাইসিরুল

অতএব তোমরা ঢিলেমি করো না এবং শান্তির প্রতি আহ্বান করো, আর তোমরাই তো উপরহাত হবে, আর আল্লাহ্ তোমাদের সঙ্গে রয়েছেন, আর তিনি কখনো তোমাদের কার্যাবলী তোমাদের জন্য ব্যাহত করবেন না।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৪১

এখানে এ বিষয়টি মনে রাখা দরকার যে, এমন এক সময় একথাটি বলা হয়েছিল, যখন মদীনার ক্ষুদ্র জনপদে মুহাজির ও আনসারদের একটি ক্ষুদ্র দল ইসলামের পতাকা বহন করেছিলো। তাদেরকে শুধু কুরাইশদের মত শক্তশালী গোত্রের মোকাবিলা করতে হচ্ছিলো না বরং গোটা আরবের ও মুশরিকদের মোকাবিলা করতে হচ্ছিলো। এমন এক পরিস্থিতিতে বলা হচ্ছে সাহস হারিয়ে এ দুশমনদের সন্ধির আহবান জানাবে না, বরং জীবন বাজি রাখার জন্য প্রস্তুত হয়ে যাও। মুসলমনারা কোন সময়ই সন্ধির জন্য আলোচনা করবে না এ কথার অর্থ তা নয়। বরং এর অর্থ হচ্ছে এমন পরিস্থিতিতে সন্ধির আলোচনা করা ঠিক নয় যখন তার অর্থ দাঁড়াবে নিজেদের দূর্বলতা প্রকাশ করা এবং তাতে শত্রু আরো দুঃসাহসী হয়ে উঠবে। মুসলমানদের উচিত প্রথমে নিজেদের শক্তিমত্তা দেখিয়ে দেয়া। এরপর সন্ধির জন্য আলোচনা করলে কোন ক্ষতি নেই।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

অর্থাৎ ভীরুতার কারণে শত্রুর কাছে সন্ধির প্রস্তাব দিও না। এমনিতে সন্ধি নিষিদ্ধ নয়। সূরা আনফালে (৮ : ৬১) আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘তারা যদি সন্ধির দিকে ঝোঁকে তবে তোমরাও সন্ধির দিকে ঝুঁকবে।’ অর্থাৎ সন্ধি প্রস্তাব যদি কাপুরুষতার কারণে না হয়ে অন্য কোন উপযোগিতা বিবেচনায় হয়ে থাকে, তবে তা দূষনীয় নয়; বরং তা জায়েয হবে।

তাফসীরে জাকারিয়া

৩৫. কাজেই তোমরা হীনবল হয়ো না এবং সন্ধির প্রস্তাব করো না(১), যখন তোমরা প্রবল; আর আল্লাহ তোমাদের সঙ্গে আছেন(২) এবং তিনি তোমাদের কর্মফল কখনো ক্ষুন্ন করবেন না।(৩)

(১) এ আয়াতে কাফেরদেরকে সন্ধির আহবান জানাতে নিষেধ করা হয়েছে। (বাগভী) কুরআনের অন্যত্র বলা হয়েছে (وَإِنْ جَنَحُوا لِلسَّلْمِ فَاجْنَحْ لَهَا) অর্থাৎ কাফেররা যদি সন্ধির দিকে ঝুকে পড়ে, তবে আপনিও বুকে পড়ুন। (সূরা আল-আনফাল: ৬১)

(২) এখানে সঙ্গে থাকার অর্থ, সাহায্য-সহযোগিতা ও জ্ঞানে সাথে থাকা। নতুবা আল্লাহ তার আরশের উপরই রয়েছেন।

(৩) অৰ্থাৎ যখন তোমাদের মধ্যে তিনটি গুণ থাকবে তখন তোমাদের জন্য হীনবল হওয়া, কাফেরদের সাথে সন্ধি করা উচিত হবে না। আর সে গুণ তিনটি হলো: ১. যখন তোমাদের এ ঈমান থাকবে যে, তোমরা কাফেরদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ এবং তোমরা কাফেরদের উপর প্রবল ২. আল্লাহ সাহায্য-সহযোগিতাকারী হিসেবে তোমাদের সাথে আছেন বলে তোমাদের ঈমান থাকবে ৩. আর আল্লাহ তোমাদের কোন কাজের প্রতিদান দেয়ায় এতটুকুও কমতি করবেন না। (দেখুন: তবারী, বাগভী, ফাতহুল কাদীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৩৫) সুতরাং তোমরা হীনবল হয়ো না এবং সন্ধির প্রস্তাব করো না; যখন তোমরাই প্রবল(1) এবং আল্লাহ তোমাদের সঙ্গে আছেন। (2) আর তিনি তোমাদের কর্মফল কখনো নষ্ট করবেন না। (3)

(1) অর্থ হল, তোমরা যখন সংখ্যা ও শক্তি-সামর্থ্যের দিক দিয়ে শত্রুদের উপর প্রবল ও তাদের থেকে অনেক উন্নত, তখন এমতাবস্থায় কাফেরদের সাথে সন্ধির প্রস্তাব ও দুর্বলতা প্রদর্শন করো না। বরং কুফরীর উপর এমন কড়া আঘাত হান, যেন আল্লাহর দ্বীন উঁচু হয়ে যায়। প্রবল ও উন্নত থাকা অবস্থায় কুফরীর সাথে সন্ধিতে আসার অর্থ হবে, কুফরীর প্রভাব-প্রতিক্রিয়াকে আরো বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করা। আর এটা হল অতি বড় অন্যায়। তবে এর অর্থ এও নয় যে, কাফেরদের সাথে সন্ধি করার অনুমতি নেই। এর অনুমতি অবশ্যই আছে, কিন্তু সব সময় নয়। কেবল সেই সময় এর অনুমতি আছে, যখন মুসলিমরা সংখ্যায় এবং উপায়-উপকরণের দিক থেকে দুর্বল হবে। এ রকম অবস্থায় যুদ্ধ করার চেয়ে সন্ধি করাতেই লাভ বেশী। যাতে মুসলিমরা এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করে নেয়। যেমন স্বয়ং নবী করীম (সাঃ)ও মক্কার কাফেরদের সাথে দশ বছরের জন্য যুদ্ধ-বিরতির সন্ধি-চুক্তি করেছিলেন।

(2) এতে রয়েছে মুসলিমদের জন্য শত্রুর উপর জয়যুক্ত হওয়ার ও সাহায্য লাভের বড়ই সুসংবাদ। যার সাথে থাকেন আল্লাহ, তাকে কে পরাজিত করতে পারে?

(3) বরং তিনি তার পরিপূর্ণ বদলা দেবেন এবং তাতে কোন কমি করবেন না।