وَكَأَيِّن مِّن قَرۡيَةٍ هِيَ أَشَدُّ قُوَّةٗ مِّن قَرۡيَتِكَ ٱلَّتِيٓ أَخۡرَجَتۡكَ أَهۡلَكۡنَٰهُمۡ فَلَا نَاصِرَ لَهُمۡ

ওয়া কাআইয়িম মিন কারইয়াতিন হিয়া আশাদ্দুকুওওয়াতাম মিন কারয়াতিকাল্লাতী আখরজাতকা আহলাকনা-হুম ফালা-না-সির লাহুম।উচ্চারণ

হে নবী, অতীতের কত জনপদ তো তোমার সে জনপদ থেকে অধিক শক্তিশালী ছিল, যারা তোমাকে বের করে দিয়েছিল। আমি তাদের এমনভাবে ধ্বংস করেছি যে, তাদের কোন রক্ষাকারী ছিল না। ১৮ তাফহীমুল কুরআন

এমন কত জনপদ ছিল, যা তারা তোমাকে তোমার যে জনপদ থেকে বের করে দিয়েছে তা অপেক্ষা বেশি শক্তিশালী ছিল, আমি তাদের সকলকে ধ্বংস করে দিয়েছি। তখন তাদের কোন সাহায্যকারী ছিল না।মুফতী তাকী উসমানী

তারা যে জনপদ হতে তোমাকে বিতাড়িত করেছে তা অপেক্ষা অতি শক্তিশালী কত জনপদ ছিল; আমি তাদেরকে ধ্বংস করেছি এবং তাদেরকে সাহায্য করার কেহ ছিলনা।মুজিবুর রহমান

যে জনপদ আপনাকে বহিস্কার করেছে, তদপেক্ষা কত শক্তিশালী জনপদকে আমি ধ্বংস করেছি, অতঃপর তাদেরকে সাহায্য করার কেউ ছিল না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এরা তোমার যে জনপদ হতে তোমাকে বিতাড়িত করেছে তা অপেক্ষা অতি শক্তিশালী কত জনপদ ছিল ; আমি এদেরকে ধ্বংস করেছি এবং এদের সাহায্যকারী কেউ ছিল না। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর তোমার জনপদ যা থেকে তারা তোমাকে বহিষ্কার করেছে তার তুলনায় শক্তিমত্তায় প্রবলতর অনেক জনপদ ছিল, আমি তাদেরকে ধ্বংস করে দিয়েছিলাম, ফলে তাদের কোনই সাহায্যকারী ছিল না।আল-বায়ান

তোমার যে জনপদ থেকে তারা তোমাকে বের করে দিয়েছে তার অপেক্ষা শক্তিশালী কত জনপদকে আমি ধ্বংস করে দিয়েছি, অতঃপর কেউ ছিল না তাদের সাহায্যকারী।তাইসিরুল

আর জনপদগুলোর কতটা যে -- যা ছিল আরো বেশি শক্তিশালী তোমার জনবসতির চাইতে যেটি তোমাকে বহিস্কার করেছে -- আমরা তাদের ধ্বংস করে দিয়েছিলাম, আর তাদের জন্য কোনো সাহায্যকারী ছিল না।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১৮

মক্কা ছেড়ে চলে যাওয়ার কারণে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মনে বড় দুঃখ ছিল। তিনি যখন হিজরত করতে বাধ্য হলেন তখন শহরের বাইরে গিয়ে তিনি শহরের দিকে ঘুরে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, “হে মক্কা! আল্লাহর কাছে তুমি দুনিয়ার সব শহরের চেয়ে প্রিয়। আর আল্লাহর সমস্ত শহরের মধ্যে আমি তোমাকে সবচেয়ে বেশী ভালবাসি। যদি মুশরিকরা আমাকে বের করে না দিতো তাহলে আমি কখনো তোমাকে ছেড়ে যেতাম না।” এ কারণে বলা হয়েছে যে, তোমাকে বহিষ্কার করে মক্কাবাসীরা মনে করেছে যে, তারা বড় রকমের সফলতা লাভ করেছে। অথচ এ আচরণের দ্বারা তারা প্রকৃতপক্ষে নিজেদের দুর্ভাগ্য ডেকে এনেছে। আয়াতটির বাচনভঙ্গি স্পষ্ট বলে দিচ্ছে যে, তা অবশ্যম্ভাবী রূপে হিজরতের পরপরই নাযিল হয়ে থাকবে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

মক্কা মুকাররমার কাফেরগণ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর ঘর-বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য করেছিল। এ আয়াতের ইশারা সেই দিকে। বলা হচ্ছে, তাদের সেই জুলুমবাজি দেখে কেউ যেন মনে না করে তারা শক্তিশালী হওয়ার কারণে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর বিজয়ী হয়েছে। আল্লাহ তাআলা তো তাদের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিমান জাতিকেও ধ্বংস করে দিয়েছেন। তাদের তুলনায় এরা তো হিসাবেই আসে না। সুতরাং শেষ পর্যন্ত মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামই জয়লাভ করবেন।

তাফসীরে জাকারিয়া

১৩. আর তারা আপনার যে জনপদ থেকে আপনাকে বিতাড়িত করেছে তার চেয়েও বেশী শক্তিশালী বহু জনপদ ছিল; আমরা তাদেরকে ধ্বংস করেছি অতঃপর তাদের সাহায্যকারী কেউ ছিল না।(১)

(১) মক্কা ছেড়ে চলে যাওয়ার কারণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মনে বড় দুঃখ ছিল। তিনি যখন হিজরত করতে বাধ্য হলেন তখন শহরের বাইরে গিয়ে তিনি শহরের দিকে ঘুরে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, “হে মক্কা! আল্লাহর কাছে তুমি দুনিয়ার সব শহরের চেয়ে প্ৰিয়। আর আল্লাহর সমস্ত শহরের মধ্যে আমি তোমাকে সবচেয়ে বেশি ভালবাসি। যদি মুশরিকরা আমাকে বের করে না দিতো তাহলে আমি কখনো তোমাকে ছেড়ে যেতাম না।” (মুসনাদে আহমাদ: ৪/৩০৫, তিরমিযী: ৩৯২৫, ইবন মাজাহ: ৩১০৮)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১৩) তোমার সেই জনপদ; যা তোমাকে বহিষ্কার করেছে, তা অপেক্ষা অতি শক্তিশালী কত জনপদ ছিল, আমি তাদেরকে ধ্বংস করেছি এবং তাদেরকে সাহায্য করার কেউ ছিল না।