وَيُدۡخِلُهُمُ ٱلۡجَنَّةَ عَرَّفَهَا لَهُمۡ

ওয়াইউদখিলুহুম জান্নাতা ‘আররফাহা-লাহুম।উচ্চারণ

এবং তাদেরকে সেই জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার পরিচয় তিনি তাদেরকে আগেই অবহিত করেছেন। ১১ তাফহীমুল কুরআন

তাদেরকে দাখিল করবেন জান্নাতে, যা তাদেরকে ভালোভাবে চিনিয়ে দিয়েছিলেন মুফতী তাকী উসমানী

তিনি তাদেরকে দাখিল করবেন জান্নাতে যার কথা তিনি তাদেরকে জানিয়েছিলেন।মুজিবুর রহমান

অতঃপর তিনি তাদেরকে জান্নাতে দাখিল করবেন, যা তাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তিনি তাদেরকে দাখিল করবেন জান্নাতে, যার কথা তিনি তাদেরকে জানিয়েছিলেন।ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর তিনি তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যার পরিচয় তিনি তাদেরকে দিয়েছেন।আল-বায়ান

অতঃপর তিনি তাদেরকে জান্নাতে প্রবিষ্ট করবেন যা তাদেরকে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন।তাইসিরুল

আর তাদের প্রবেশ করাবেন স্বর্গোদ্যানসমূহে, তিনি তাদের কাছে এটি পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১১

এটিই সেই মুনাফা যা আল্লাহর পথে জীবনদানকারীরা লাভ করবে তাদের তিনটি মর্যাদা বর্ণনা করা হয়েছে। এক, আল্লাহ তাদের পথপ্রদর্শন করবেন। দুই, তাদের অবস্থা সংশোধন করে দেবেন। তিন, তিনি তাদেরকে সেই বেহেশতে প্রবেশ করাবেন যার সম্পর্কে তিনি পূর্বেই তাদের অবহিত করেছেন। এখানে পথপ্রদর্শনের অর্থ স্পষ্টত জান্নাতের দিকে পথপ্রদর্শন করা। অবস্থা সংশোধন করার অর্থ জান্নাতে প্রবেশ করার পূর্বে আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে উপহার হিসেবে প্রদত্ত পোশাকে সজ্জিত করে সেখানে নিয়ে যাবেন এবং পার্থিব জীবনে যেসব কলূষ কালিমা তাদের লেগেছিল তা বিদূরিত করবেন। আর তৃতীয় মর্যাদাটির অর্থ হচ্ছে, কুরআন ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জবানীতে তাদেরকে ইতিপূর্বেই দুনিয়াতে জানিয়ে দেয়া হয়েছে যে, আল্লাহ তা’আলা তাদের জন্য যে জান্নাত প্রস্তুত করে রেখেছেন তা কেমন। তারা যখন সে জান্নাতে গিয়ে পৌঁছবে তখন সম্পূর্ণরূপে নিজেদের পরিচিত জিনিসের মধ্যে প্রবেশ করবে। তারা তখন জানতে পারবে তাদেরকে যে জিনিস দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল ঠিক তাই তাদের দেয়া হয়েছে। তাতে সামান্যতম পার্থক্যও নেই।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

এর দু’টি ব্যাখ্যা হতে পারে। (এক) আল্লাহ তাআলা নবী-রাসূলগণের মাধ্যমে দুনিয়াতেই তাদেরকে জান্নাত চিনিয়ে দিয়েছিলেন। তখন তারা জান্নাতের যে পরিচয় জানতে পেরেছিল এ জান্নাত সে অনুযায়ীই হবে। (দুই) তবে অধিকাংশ মুফাসসির এর দ্বিতীয় ব্যাখ্যা গ্রহণ করেছেন। তা এই যে, প্রত্যেক জান্নাতবাসীই তার জান্নাতের ঠিকানা সহজেই খুঁজে পাবে। আপন-আপন ঠিকানা খুঁজে পেতে তাদের কোন রকম কষ্ট করতে হবে না। আল্লাহ তাআলা সেজন্য অত্যন্ত সহজ ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা করে রেখেছেন। ফলে বিনা তালাশেই সকলে নিজ-নিজ জায়গায় পৌঁছে যাবে।

তাফসীরে জাকারিয়া

৬. আর তিনি তাদেরকে প্রবেশ করাবেন জান্নাতে, যার পরিচয় তিনি তাদেরকে জানিয়েছিলেন।(১)

(১) রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ এই আল্লাহর কসম, যিনি আমাকে সত্য ধর্মসহ প্রেরণ করেছেন, তোমরা দুনিয়াতে যেমন তোমাদের স্ত্রী ও গৃহকে চিন, তার চাইতেও বেশী জান্নাতে তোমাদের স্থান ও স্ত্রীদেরকে চিনবে (বুখারী: ৬৫৩৫)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৬) তিনি তাদেরকে প্রবেশ করাবেন জান্নাতে, যার কথা তিনি তাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন। (1)

(1) অর্থাৎ, কোন পথ প্রদর্শন ছাড়াই তা চিনে নিবে এবং যখন তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে, তখন তারা নিজে নিজেই আপন আপন ঘরে গিয়ে ঢুকে পড়বে। একটি হাদীস থেকেও এ কথার সমর্থন পাওয়া যায়; যাতে নবী করীম (সাঃ) বলেছেন; ‘‘সেই সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ আছে! একজন জান্নাতীর তার জান্নাতের ঘরের পথের জ্ঞান দুনিয়ার ঘরের চেয়েও অনেক বেশী হবে।’’ (বুখারী, রিক্বাক অধ্যায়ঃ)