ওয়া ইন্নাহূলা‘ইলমুল লিছছা-‘আতি ফালা-তামতারুন্না বিহা-ওয়াত্তাবি‘ঊনি হা-যাসিরতুম মুছতাকীম।উচ্চারণ
আর প্রকৃতপক্ষে সে তো কিয়ামতের একটি নিদর্শন। ৫৫ অতএব সে ব্যাপারে তোমরা সন্দেহ পোষণ করো না এবং আমার কথা মেনে নাও। এটাই সরল-সোজা পথ। তাফহীমুল কুরআন
নিশ্চয়ই সে (অর্থাৎ ঈসা আলাইহিস সালাম) কিয়ামতের এক আলামত। #%২৩%# সুতরাং তোমরা সে সম্বন্ধে সন্দেহ করো না এবং আমার অনুসরণ কর। এটাই সরল পথ।মুফতী তাকী উসমানী
ঈসাতো কিয়ামাতের নিদর্শন; সুতরাং তোমরা কিয়ামাতে সন্দেহ পোষণ করনা এবং আমাকে অনুসরণ কর। এটাই সরল পথ।মুজিবুর রহমান
সুতরাং তা হল কেয়ামতের নিদর্শন। কাজেই তোমরা কেয়ামতে সন্দেহ করো না এবং আমার কথা মান। এটা এক সরল পথ।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
‘ঈসা তো কিয়ামতের নিশ্চিত নিদর্শন; সুতরাং তোমরা কিয়ামতে সন্দেহ কর না এবং আমাকে অনুসরণ কর। এটাই সরল পথ। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর নিশ্চয় সে (ঈসা) হবে কিয়ামতের এক সুনিশ্চিত আলামত। সুতরাং তোমরা কিয়ামত সম্পর্কে সংশয় পোষণ করো না। তোমরা আমারই অনুসরণ কর। এটিই সরল পথ।আল-বায়ান
‘ঈসা (’র দুনিয়াতে পুনরায় আগমন) ক্বিয়ামতের একটি নিশ্চিত নিদর্শন। অতএব তোমরা ক্বিয়ামতে সন্দেহ পোষণ করো না আর আমার অনুসরণ কর, এটাই সরল সঠিক পথ।তাইসিরুল
আর নিঃসন্দেহ এ-ই হচ্ছে ঘড়িধন্টা সন্বন্ধে নিশ্চিত জ্ঞান; সুতরাং এ-সন্বন্ধে তোমরা সন্দেহ করো না, আর আমাকে অনুসরণ করো। এটিই হচ্ছে সহজ-সঠিক পথ।মাওলানা জহুরুল হক
৫৫
এ আয়াতাংশের অনুবাদ এও হতে পারে যে তিনি কিয়ামত সম্পর্কে জ্ঞানের একটি মাধ্যম। এখানে এই মর্মে একটি প্রশ্ন দেখা দেয় যে, ‘সে’ শব্দ দ্বারা কি জিনিস বুঝানো হয়েছে? হযরত হাসান বাসারী এবং সাঈদ ইবনে জুবায়েরের মতে এর অর্থ ‘কুরআন মজীদ’। অর্থাৎ কিয়ামত আসবে কুরআন মজীদ থেকে মানুষ তা জানতে পারে। কিন্তু এ ব্যাখ্যা পূর্বাপর প্রসঙ্গের সাথে একেবারেই সম্পর্কহীন। কথার মধ্যে এমন কোন ইঙ্গিত বর্তমান নেই যার ভিত্তিতে বলা যাবে যে এখানে কুরআনের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। অন্য সব তাফসীরকারগণ প্রায় সর্বসম্মতভাবে এ মত পোষণ করেন যে, এর অর্থ হযরত ঈসা ইবনে মারয়াম এবং পূর্বাপর প্রসঙ্গের মধ্যে এটাই সঠিক। এরপর প্রশ্ন আসে, তাঁকে কোন অর্থে কিয়ামতের নিদর্শন অথবা কিয়ামত সম্পর্কিত জ্ঞানের মাধ্যম বলা হয়েছে? ইবনে আব্বাস, মুজাহিদ, ইকরিমা, কাতাদা, সুদ্দী, দাহহাক, আবুল আলিয়া ও আবু মালেক বলেন, এর অর্থ হয়রত ঈসা আলাইহিস সালামের দ্বিতীয় আগমন, যে সম্পর্কে বহু হাদীসে বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে আয়াতের অর্থ হচ্ছে, তিনি দ্বিতীয় বার যখন পৃথিবীতে আগমন করবেন তখন বুঝা যাবে কিয়ামত নিকটবর্তী হয়েছে। কিন্তু এসব সম্মানিত ব্যক্তিবর্গের মহাসম্মান সত্ত্বেও একথা মেনে নেয়া কঠিন যে, এ আয়াতে হযরত ঈসার পুনরাগমনকে কিয়ামতের নিদর্শন অথবা সে সম্পর্কে জ্ঞান লাভের মাধ্যম বলা হয়েছে। কেননা, পরের বাক্যই এ অর্থ গ্রহণের পথে প্রতিবন্ধক। তাঁর পুনরাগমন কিয়ামত সম্পর্কিত জ্ঞানের মাধ্যমে শুধু তাদের জন্য হতে পারে যারা সেই যুগে বর্তমান থাকবে অথবা সেই যুগের পরে জন্ম লাভ করবে। মক্কার কাফেরদের জন্য তিনি কিভাবে কিয়ামত সম্পর্কিত জ্ঞানের মাধ্যম হতে পারেন যার কারণে তাদেরকে সম্বোধন করে একথা বলা সঠিক হবে যে, ‘অতএব তোমরা সে ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করো না’। অতএব, অন্য কয়েকজন মুফাসসির এ আয়াতের যে ব্যাখ্যা পেশ করেছেন আমাদের মতে সেটিই সঠিক ব্যাখ্যা। তাঁদের মতে এখানে হযরত ঈসার বিনা বাপে জন্ম লাভ, মাটি দিয়ে জীবন্ত পাখি তৈরী করা এবং মৃতকে জীবিত করাকে কিয়ামতের সম্ভাবনার একটি প্রমাণ হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। আল্লাহর বাণীর তাৎপর্য এই যে, যে আল্লাহ বিনা বাপে সন্তান সৃষ্টি করতে পারেন এবং যে আল্লাহর এক বান্দা মাটির একটি কাঠামোর মধ্যে জীবন সঞ্চার করতে ও মৃতদের জীবিত করতে পারেন তিনি মৃত্যুর পর তোমাদের ও সমস্ত মানুষকে পুনরায় জীবিত করবেন তা তোমরা অসম্ভব মনে করো কেন?
অর্থাৎ বিনা পিতায় হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের জন্ম নেওয়াটা কিয়ামতে মানুষের পুনরায় জীবিত হওয়ারও একটা দলীল। কেননা পুনরায় জীবিত হওয়াকে কাফেরগণ কেবল এ কারণেই অস্বীকার করত যে, এটা অত্যন্ত বিস্ময়কর ও অস্বাভাবিক ব্যাপার। তো হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম যে বিনা পিতায় জন্মগ্রহণ করেছেন এটাও একটা বিস্ময়কর ও অস্বাভাবিক ব্যাপার ছিল, কিন্তু আল্লাহ তাআলার কুদরতে এটা ঘটেছে। এভাবেই আল্লাহ তাআলার কুদরতে মৃতগণ পুনরায় জীবিত হয়ে উঠবে। এটা আয়াতের এক ব্যাখ্যা। হযরত হাকীমুল উম্মত থানবী (রহ.) ‘বয়ানুল কুরআন’ গ্রন্থে এ ব্যাখ্যাই গ্রহণ করেছেন। অনেক মুফাসসির আয়াতটির ব্যাখ্যা করেছেন এ রকম যে, হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম কিয়ামতের অন্যতম আলামত। অর্থাৎ তিনি কিয়ামতের কাছাকাছি সময়ে আসমান থেকে পুনরায় পৃথিবীতে নেমে আসবেন। তাঁর পুনরায় আগমন দ্বারা বোঝা যাবে কিয়ামত খুব কাছে এসে গেছে।
৬১. আর নিশ্চয় ঈসা কিয়ামতের নিশ্চিত নিদর্শন; কাজেই তোমরা কিয়ামতে সন্দেহ করো না। আর তোমরা আমারই অনুসরণ করা। এটাই সরল পথ।
(৬১) নিশ্চয় ঈসা কিয়ামতের একটি নিদর্শন;(1) সুতরাং তোমরা কিয়ামতে অবশ্যই সন্দেহ পোষণ করো না এবং আমার অনুসরণ কর। এটিই সরল পথ।
(1) عِلْمٌ এর অর্থ নিদর্শন। অধিকাংশ মুফাসসেরের নিকট এর অর্থ হল, কিয়ামতের নিকটতম সময়ে তাঁর আসমান থেকে অবতরণ হবে। এ কথা অনেক সহীহ ও বহুধা সূত্রে বর্ণিত হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। আর এই অবতরণ এ কথার নিদর্শন হবে যে, কিয়ামত অতি নিকটে। এই জন্যই কেউ কেউ এটাকে আ’য়ন এবং লামে যবর দিয়ে (عَلَمٌ) পড়েছেন। যার অর্থ হয়, নিদর্শন। আবার কারো নিকট তাঁকে কিয়ামতের নিদর্শন গণ্য করা হয়েছে তাঁর জন্মের অলৌকিকতার ভিত্তিতে। অর্থাৎ, যেভাবে মহান আল্লাহ তাঁকে বিনা পিতায় সৃষ্টি করেছেন, তাঁর এই জন্ম প্রমাণ করে যে, আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন সমস্ত মানুষকে পুনরায় জীবিত করবেন। সুতরাং আল্লাহর অলৌকিক ক্ষমতার দিকে লক্ষ্য করলে কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার ব্যাপারে কোন সন্দেহের অবকাশ থাকে না। إِنَّهُ তে সর্বনাম থেকে উদ্দিষ্ট হলেন ঈসা (আঃ)।