ওয়া লাও নাশাউ লাজা‘আলনা-মিনকুম মালাইকাতান ফিল আরদিইয়াখলুফূন।উচ্চারণ
আমি চাইলে তোমাদের পরিবর্তে ফেরেশতা সৃষ্টি করে দিতে পারি ৫৪ যারা পৃথিবীতে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত হবে। তাফহীমুল কুরআন
আমি চাইলে তোমাদের মধ্য হতে ফেরেশতা সৃষ্টি করতে পারতাম, যারা পৃথিবীতে একে অন্যের স্থলাভিষিক্ত হয়ে থাকত। #%২২%#মুফতী তাকী উসমানী
আমি ইচ্ছা করলে তোমাদের মধ্য হতে মালাইকা/ফেরেশতা সৃষ্টি করতে পারতাম, যারা পৃথিবীতে উত্তরাধিকারী হত।মুজিবুর রহমান
আমি ইচ্ছা করলে তোমাদের থেকে ফেরেশতা সৃষ্টি করতাম, যারা পৃথিবীতে একের পর এক বসবাস করত।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
আমি ইচ্ছা করলে তোমাদের মধ্য হতে ফেরেশতা সৃষ্টি করতে পারতাম, যারা পৃথিবীতে উত্তরাধিকারী হত।ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর যদি আমি চাইতাম, তবে আমি তোমাদের পরিবর্তে ফেরেশতা সৃষ্টি করে পাঠাতাম যারা যমীনে তোমাদের উত্তরাধিকার হত।আল-বায়ান
আমি ইচ্ছে করলে তোমাদের মধ্য হতে ফেরেশতা পয়দা করতে পারি যারা পর পর উত্তরাধিকারী হবে।তাইসিরুল
আর আমরা যদি চাইতাম তবে নিশ্চয়ই আমরা তোমাদের মধ্যে ফিরিশ্তাদের নিয়োগ করতাম পৃথিবীতে প্রতিনিধি হবার জন্য!মাওলানা জহুরুল হক
৫৪
আরেকটি অনুবাদ হতে পারে তোমাদের কোন কোন লোককে ফেরেশতা বানিয়ে দেবো।
হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের প্রসঙ্গ আসলে আল্লাহ তাআলা স্পষ্ট করে দিলেন যে, তিনি কখনও নিজেকে আল্লাহ বলে দাবি করেননি এবং আল্লাহ তাআলা তাঁকে নিজ পুত্রও সাব্যস্ত করেননি; বরং তিনি তাকে নিজ কুদরতের এক নিদর্শনরূপে পাঠিয়েছিলেন। তাঁকে সৃষ্টি করেছিলেন বিনা পিতায়। খ্রিস্টান সম্প্রদায় এ কারণেই তাঁকে আল্লাহর পুত্র বলে থাকে, অথচ বিনা পিতায় জন্ম নেওয়া ঈশ্বরত্বের প্রমাণ নয়। হযরত আদম আলাইহিস সালাম তো পিতা ও মাতা উভয় ছাড়াই সৃষ্টি হয়েছিলেন। তাঁকে তো কেউ খোদা বলে না। প্রকৃতপক্ষে তাঁর জন্ম ছিল আল্লাহ তাআলার কুদরতের প্রকাশ। আল্লাহ তাআলা চাইলে এর চেয়েও আশ্চর্যজনক ঘটনা ঘটাতে পারেন। তিনি মানুষ থেকে ফেরেশতার জন্ম দিতে পারেন, যারা মানুষেরই মত একে অন্যের স্থলাভিষিক্ত হবে।
৬০. আর যদি আমরা ইচ্ছে করতাম তবে তোমাদের পরিবর্তে ফেরেশতা সৃষ্টি করতে পারতাম, যারা যমীনে উত্তরাধিকারী হত।(১)
(১) অধিকাংশ তাফসীরবিদ এখানে منكم শব্দটির অর্থ করেছেন, بدلاً منكم বা তোমাদের পরিবর্তে। কেউ কেউ এর অর্থ করেছেন, আমি ইচ্ছা করলে এমন কাজও করতে পারি, যার নযীর এপর্যন্ত কায়েম হয়নি। অর্থাৎ মানুষের ঔরসে ফেরেশতাও সৃষ্টি করতে পারি। (ফাতহুল কাদীর)
আয়াতের শেষে বলা হয়েছে, يخلفون। এর অর্থ তারা যমীনের খলীফা বা প্রতিনিধির মর্যাদা লাভ করত। অথবা তোমাদের স্থলাভিষিক্ত হতো। আয়াতের আরেক অর্থ হচ্ছে, তারা তোমাদের মত বংশবিস্তার করত। ফেরেশতারা উত্তরাধিকার রেখে যেত। (ইবনে কাসীর, বাগভী)
(৬০) আমি ইচ্ছা করলে তোমাদের পরিবর্তে ফিরিশতাদেরকে পৃথিবীর উত্তরাধিকারী করতে পারতাম।(1)
(1) অর্থাৎ, তোমাদেরকে শেষ করে তোমাদের স্থানে ফিরিশতাদেরকে আবাদ করতাম। তারা তোমাদেরই মত পরস্পরের প্রতিনিধিত্ব করত। অর্থাৎ, ফিরিশতাদের আসমানে থাকা এমন কোন মর্যাদার ব্যাপার নয় যে, তাদের ইবাদত করা হবে। এটা কেবল আমি আমার ইচ্ছা ও ফায়সালায় ফিরিশতাদেরকে আসমানে এবং মানুষদেরকে যমীনে আবাদ করেছি। আমি ইচ্ছা করলে ফিরিশতাদেরকেও যমীনে আবাদ করতে পারি।